ভ্রমণপিপাসুদের অসাধারণ ৭টি গুণ!

পুরোটা পড়ার সময় নেই? ব্লগটি একবার শুনে নাও।

ভ্রমণ করতে ভালোবাসে না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া মুশকিল। পরিবার কিংবা বন্ধুদের সাথে পাহাড়-সমুদ্র দেখে বেড়ানোর মজাই অন্যরকম। আপাতদৃষ্টিতে ভ্রমণের পরে আমরা আনন্দ আর অভিজ্ঞতা নিয়েই ঘরে ফিরে আসি। তবে, ভ্রমণ করার ফলে অর্জিত আনন্দ কিংবা অভিজ্ঞতাই সবকিছু নয়। এগুলোর সাথে ভ্রমণপিপাসু মানুষেরা অর্জন করে অসাধারণ কিছু গুণ । যে গুণগুলোর কারণে সে হয় সবার থেকে আলাদা আর সেগুলোর প্রভাবে তার ব্যক্তিগত জীবনে আসে অসংখ্য ইতিবাচক পরিবর্তন।

তাহলে চলো, ভ্রমণের কারণে অর্জিত দারুণ সব গুণ সম্পর্কে চট করে জেনে নেই!

১) নিজেদের Comfort Zone ত্যাগ করতে পারে

আমরা প্রতিদিনই রাস্তায় বের হই, কর্মস্থলে যাই, সবার সাথে কথাবার্তা বলি, নিজেদের মতামত শেয়ার করি আরও কতো কিছু। এই রাস্তাঘাট, মানুষজন, পরিবেশ সব কিছুই কিন্তু তোমার পরিচিত। এটাই তোমার অভ্যাসের জায়গা এবং Comfort Zone কিন্তু যখন তুমি দেশ ছেড়ে বিদেশে ভ্রমণ করতে যাচ্ছো তখন কিন্তু এই  Comfort Zone তোমার সাথে যাচ্ছে না। সেখানে নতুন রাস্তাঘাট যার সবই তোমার অচেনা, মানুষজন কাওকেই তুমি চিনো না কেও তোমাকেও চেনে না। পরিবেশটাও অন্যরকম এমনকি তাদের সবার সাথে তোমার ভাষা পর্যন্ত মিলে না।

রাজধানীর নাম জানাটা সাধারণ জ্ঞানের একটা গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই ১০ মিনিট স্কুলের এই মজার কুইজটির মধ্যমে যাচাই করে নাও নিজেকে!

তবুও নিজের  Comfort Zone থেকে বেরিয়ে সকলের সাথে মানিয়ে নিয়ে ভ্রমণ শেষ করে আসে তারা। আমাদের মাঝে অনেকেরই এই সমস্যা হয় নিজেদের  Comfort Zone ত্যাগ করে নতুন কিছু করতে পারিনা।

একটা উদাহরণ দেয়া যাক, অনেকেই ধরো মাইক্রোসফট পাওয়ারপয়েন্ট ২০১৩ এডিশন এখনো ব্যবহার করে এবং তারা ব্যবহার করে এতোটাই অভ্যস্ত যে কখনোই আপডেট এডিশন ব্যবহার করতে রাজি হয় না। এগুলোই হলো Comfort Zone ত্যাগ করতে না চাওয়ার মন মানসিকতা। আমরা মাঝেমাঝেই এমন অভ্যাসের মাঝে আটকে যাই। আর নিজের গণ্ডির বাহিরে যেয়ে অবস্থান করার মতন বড় গুণ এমনি এমনিই তৈরি হয়ে যায় ভ্রমণ করার মাধ্যমে।

২) সমস্যা সমাধানের দক্ষতা

দেশের বাহিরে ভ্রমণের উদ্দেশ্যে রওনা দিলে সবারই এক্সপেকটেশন থাকে যেনো কোনো সমস্যা ছাড়া আবার দেশে ফেরত আসা যায়। কিন্তু সব সময় এমন হয়ে উঠে না। মাঝেমাঝেই ছোট বড় সমস্যার সম্মুখীন আসলে হতেই হয়।

যেমন, তোমার গ্রুপের কেও হারিয়ে গেলো অথবা কেও অনেক অসুস্থ হয়ে পড়লো, পাসপোর্ট হারিয়ে যাওয়া, এমন হতে পারে লোকেশন সম্পর্কে ধারণা না থাকার জন্যে ধরো পুরো গ্রুপকেই ট্যাক্সি ড্রাইভার অন্য একটা এলাকায় নিয়ে গিয়েছে এমন নানা ধরণের সমস্যা আসতে পারে প্রতিটা মুহূর্তে। কিন্তু এসব সময় বিচলিত না হয়ে সমস্যা সমাধানের চেষ্টায় মেতে ওঠে ভ্রমণকারীরা।

সাধারণ দৃষ্টিতে মনে হতে পারে এ সমস্যাগুলোয় তো বিচলিত হওয়ার মতন আসলেই কিছু নেই। দেশের ভিতরে ভ্রমণ করলে সমস্যাগুলো হয়তোবা খুব বেশি কঠিন না। ভাষার বাঁধা না থাকায় সহজেই মানুষজনের সাহায্য নিয়ে নেয়া যায়। কিন্তু দেশের বাহিরে ভিন্ন পরিবেশে নিজের Comfort Zone থেকে বের হয়ে এসব সমস্যা মোকাবেলা করা আসলেই বেশ কঠিন। যারা মাঝেমাঝেই ভ্রমণ করেন তারা এসব সমস্যায় অভ্যস্ত হয়ে যান এবং তাদের সমস্যা সমাধানের দক্ষতা বাড়তে থাকে প্রতিনিয়ত। ভ্রমণ শেষে পরবর্তীতে এই সমস্যা সমাধানের দক্ষতা তাদের ব্যক্তিগত জীবনকেও ব্যাপক ভাবে প্রভাবিত করে।

৩) Quick Learner

Travelling is a continuous learning process. আমার এখনো মনে আছে আমি যখন প্রথম দেশের বাহিরে ভ্রমণের জন্যে গিয়েছিলাম তখন এয়ারপোর্টে কী কী করা লাগে সে সম্পর্কে অনেক কিছু শিখেছিলাম। এয়ারপোর্টে দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা আগে উপস্থিত হয়ে প্রত্যেক প্যাসেঞ্জারের জন্যে একটা করে ফর্ম পূরণ করতে হয় তারপরে বোডিং কার্ড সংগ্রহ করতে হয় কীভাবে, স্ক্রিন থেকে ফ্লাইট নাম্বার দেখে বোঝা যায় যে প্লেন কখন আসছে, লেট হবে কিনা ইত্যাদি সম্পর্কে অনেক কিছুই শেখা যায়। অনেকের কাছে এগুলো সাধারণ মনে হতে পারে কিন্তু এগুলোও শেখারই বিষয়।

নতুন কোনো দেশে গেলে তাদের ভাষার অনেক কিছুই অল্প সময়ের মধ্যে শিখে ফেলা যায়। নতুন জায়গায় নতুন মানুষের সংস্কৃতি, খাবার-দাবার, দেশের আইন কানুন, রাস্তায় চলাচলের নিয়ম এগুলো থেকে অনেক কিছুই সহজেই শিখে নেয়া যায়। নতুন পরিবেশে মানিয়ে নিতে হলে দ্রুত শেখার গুণ থাকতেই হয়। এই গুণ পরবর্তীতে মানুষের ব্যক্তিগত জীবনে বিভিন্ন সময় সহায়তা করে।

চল স্বপ্ন ছুঁই!

আমাদের ছোট-বড় অনেকরকম স্বপ্ন থাকে। কিন্তু বাস্তবায়ন করতে পারি কতগুলো?

এই দ্বিধা থেকে মুক্তি পেতে চল ঘুরে আসি ১০ মিনিট স্কুলের এই এক্সক্লুসিভ প্লে-লিস্ট থেকে!

লাইফ হ্যাকস সিরিজ!

৪) Communication Skill

খুব বেশি দিন হয়নি আমার খুব কাছের বন্ধু তার খালামনির সাথে সিলেটে বেড়াতে যায়। আমার কাছে সব থেকে মজার বিষয় যেটা মনে হয়েছে তা হলো তারা ফেসবুকে একটা গ্রুপের মাধ্যমে প্রায় ৫০জন মানুষ একত্রে সিলেটে যায়! আমি জানি না কেন কিন্তু প্রথমে আমি বিষয়টা শুনে অবাক হয়ে যাই। ৫০জন অপরিচিত মানুষ!

শুধু চিন্তা করো তুমি এমন একটা ট্রিপে যাচ্ছো যেখানে এতোগুলো মানুষ যাদের তুমি চেনো না। নতুন নতুন এতো মানুষ দেখে শংকায় না পড়ে যদি তাদের সাথে কথা বলো এবং পরিচিত হতে থাকো তাহলে দেখবে তুমি তোমার কমিউনিকেশন স্কিলকে অন্য একটা মাত্রায় নিয়ে গেছো। নতুন নতুন এতো মানুষের সাথে থাকার কিন্তু অনেক উপকার আছে। তোমার সাথে নানান শ্রেণির মানুষের পরিচয় হবে যার ফলে তোমার ভালো নেটওয়ার্কিং হয়ে যাবে। আবার পেয়ে যেতে পারো ভালো অনেক ভ্রমণপাগল বন্ধুও যাদের সাথে কিনা পরবর্তীতে ছোট-বড় ট্যুরেও যাওয়া যাবে।

এরকম ভ্রমণের ফলে তোমার মাঝে অপরিচিত মানুষের সাথে কথা বলার, পরিচিত হওয়ার মন মানসিকতা এবং আত্মবিশ্বাস তৈরি হয়। ভ্রমণ শেষে বাস্তব জীবনে এই মন মানসিকতা ও আত্মবিশ্বাসের গুণ তোমাকে কর্মজীবনে অনেক ক্ষেত্রেই সহায়তা করবে।

কোনো সমস্যায় আটকে আছো? প্রশ্ন করার মত কাউকে খুঁজে পাচ্ছ না? যেকোনো প্রশ্নের উত্তর পেতে চলে যাও ১০ মিনিট স্কুল লাইভ গ্রুপটিতে!

৫) নতুন চ্যালেঞ্জ নিতে ভয় পায় না

যে আসলেই ভ্রমণ করতে ভালোবাসে তার মাথায় সব সময় একটা জিনিস কাজ করে “আবার কবে নতুন কোথাও ঘুরতে যাবো?” আর ৩-৪দিনের পরপর ছুটি পেলেই কিছু টাকা জমিয়ে ব্যাগ বোচকা গুছিয়ে বেরিয়ে পরে নতুন কোনো জায়গার উদ্দেশ্যে। বাসে, ট্রেনে, লঞ্চে কিংবা প্লেনে সাগর কিংবা আকাশ পাড়ি দিয়ে পৌঁছে যায় সেখানে।

খুবই কম সময়ে নতুন পরিবেশে যাওয়ার জন্যে বেরিয়ে পড়া কম চ্যালেঞ্জিং না আসলে। আবার যদি কখনো প্ল্যান করা হয় বড় কোনো পাহাড়ে উঠে সূর্যাস্ত দেখবে তাহলে এগুলোও কোনো ব্যপারই না ভ্রমণপিপাসুদের জন্যে। অনেক সময় নেপালে যেয়ে বাঞ্জি জাম্পিং করে নতুন একটা অভিজ্ঞতা অর্জন করার ক্ষেত্রেও পিছপা হয় না তারা। জীবনের প্রতিটা মুহূর্তে তারা দুঃসাহসিক সব চ্যালেঞ্জ নিতেও ভয় পায়না কখনোই। এই চ্যালেঞ্জ নেয়ার মন মানসিকতার জন্যে তারা সফল হতে পারে অনেক ক্ষেত্রেই। এই গুণ ভবিষ্যত জীবনেও অনেক উপকারে লাগে। 

৬) সহনশীলতা

অনেকে মিলে কোথাও ভ্রমণে গেলে অনেক কিছুর সাথেই আসলে মানিয়ে নিতে হয়। হয়তো তুমি দার্জেলিং-এ ঘুরতে গিয়েছো অথবা রাজস্থানে। তুমি যে আবহাওয়ায় থেকে অভ্যস্ত সেই আবহাওয়া না পেয়েও অ্যাডজাস্ট করে চলার মন মানসিকতা তৈরি হয় ভ্রমণের ফলে। যেখানে ভ্রমণ করতে গিয়েছো সেখানে হয়তোবা ডাল, ভাত, মাছ এতোটা জনপ্রিয় না কিন্তু তবুও সেখানকার মানুষজন যে ধরণের খাবার খায় সে ধরণের খাবারের সাথে মানিয়ে নেয়ার ক্ষমতা আসে ভ্রমণের ফলে।

গ্রুপ করে ভ্রমণে গেলে অনেক সময় দেখা গেলো ডবল বেডে তিন ফ্রেন্ড গাদাগাদি করে ঘুমালে কিংবা শেষের দিন শপিং করে একটু টাকার শর্ট পড়ায় এসি রুমের বদলে নন-এসি রুমে রাতটা পার করে দিলে। এমন নানান পরিস্থিতি যা মানুষকে আরও বেশি সহনশীল করে তোলে। আমাদের দৈনন্দিন জীবনে সব সময় সব কিছু যে নিয়ম মাফিক হয় এমনটা কিন্তু না। রাস্তায় অতিরিক্ত ট্রাফিক কিংবা হঠাৎ বৃষ্টিতে পানি জমে যাওয়া আমাদের মাথা বিগড়ে দেয়। খুব সামান্য কিছুতেই বড় করে রিয়্যাক্ট করে ফেলা আমাদের অনেকের মাঝেই দেখা যায়।

কিন্তু সহনশীলতা, মেনে নেয়ার গুণ থাকলে ঠান্ডা মাথায় এসব পরিস্থিতি সামাল দেয়া যায়। মেনে নিয়ে এগিয়ে চলার গুণ আপনা আপনিই তৈরি হয় ভ্রমণের মাধ্যমে।

আমাদের বাঙালিদের মাঝে সময়ের কাজ সময়ে করা এবং সময়কে শ্রদ্ধা করার প্রবণতা অনেক কম দেখা যায়। যার সময়ের প্রতি শ্রদ্ধা নেই সে অগোছালো জীবন যাপন করে। অন্যদিকে যে মানুষের সময়ের প্রতি শ্রদ্ধা যতো বেশি তার জীবন ততই গোছালো। ভ্রমণকারীদের মাঝে সময়নিষ্ঠতা এবং গোছানো জীবন উভয়ই দেখা যায়।

তুমি যদি ইন্ডিয়াতে বেড়াতে যাও তাহলে তোমার আগেই একটা প্ল্যান থাকবে প্রথমে কলকাতায় নামবে তারপরে সেখানে কত দিন থাকবে তা ঠিক করো। এই সময়ে কোথায় কোথায় যাবে, কবে কোথায় যাবে, একদিনে কোন কোন জায়গায় যাবে এসব হিসাব করেই বের  হও। যেমন আজকে আমি ৩টা জায়গাতে ঘুরতে চাচ্ছি তাহলে সকালে ৩ঘণ্টা প্রথম জায়গাতে তারপরে আরেক জায়গাতে যেয়ে লাঞ্চ সহ চার ঘণ্টা থাকবো তারপরে আরেক জায়গার উদ্দেশ্যে রওনা দিবো।

এরকম শিডিউল করে নিলে তোমার মাঝে এমনি এমনিই সময়ের খেয়াল থাকে এবং তুমি একসময় সময়ানুবর্তী মানুষে পরিণত হও। ভ্রমণের এসব অভিজ্ঞতা বাড়িতে এসে নিজের জীবনেও প্রয়োগ করা শুরু করলে ধীরে ধীরে তুমিও একটা গোছালো জীবন পার করতে শুরু করবে।

এই সাতটি গুণের বাইরে সব থেকে সুন্দর যে জিনিসটা ভ্রমণের মাধ্যমে অর্জন করা যায় তা হলো স্মৃতি অথবা গল্প। যখন আমাদের বয়স হয়ে যাবে তখন পিছনে ফিরে তাকালেই দেখা যাবে আমাদের নানান অভিজ্ঞতা। তোমার নাতি-নাতনির সাথে করতে পারবে এসব মজার মজার ভ্রমণের গল্প। অসংখ্য ছবি আর ভিডিও ক্লিপ করে তুলবে নস্টালজিক।

এই পৃথিবীতে খালি হাতে যেমন মানুষ এসেছিলো তেমনই খালি হাতে মানুষকে চলে যেতে হবে। তাই অর্থ সম্পদ এর মতন বস্তুগত জিনিসের প্রতি ভালোবাসা প্রদর্শন না করে এই স্বল্পদৈর্ঘ্যের জীবনে মজার অভিজ্ঞতা আর স্মৃতিকে সাথে নিয়ে যাওয়াই ভালো। তাই সময় সুযোগ পেলেই দ্বিধা করো না কোথাও ঘুরতে যেতে।


১০ মিনিট স্কুলের লাইভ এডমিশন কোচিং ক্লাসগুলো অনুসরণ করতে সরাসরি চলে যেতে পারো এই লিঙ্কে: www.10minuteschool.com/admissions/live/

১০ মিনিট স্কুলের ব্লগের জন্য কোনো লেখা পাঠাতে চাইলে, সরাসরি তোমার লেখাটি ই-মেইল কর এই ঠিকানায়: write@10minuteschool.com

লেখাটি ভালো লেগে থাকলে বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করতে ভুলবেন না!
Author

Mustakim Ahmmad

Currently, Mustakim Ahmmad is a student of Dhaka City College. Although he is only an intermediate second year student, he is 6 feet tall! But his dreams are much more higher than his height. A Sherlock Holmes fan, loves watching TV series and listening to rock music.
Mustakim Ahmmad
এই লেখকের অন্যান্য লেখাগুলো পড়তে এখানে ক্লিক করুন
What are you thinking?