Introvert দের ৭ গুণ জীবন করে তোলে আরো দারুণ!

পুরোটা পড়ার সময় নেই ? ব্লগটি একবার শুনে নাও ।

“আমি তো খুব introvert! কীভাবে আর সফল হব জীবনে! তোরাই যা, দুনিয়া দাপিয়ে বেড়া! ”

Introvert বন্ধুগুলোর কাছ থেকে এ ধরনের কথা না জানি কতবার শুনতে হয় আমাদের।

পরের কথায় যাবার আগে তোমাদের একটু জানিয়ে রাখতে চাই যে, Bill Gates, Mark Zuckerberg, Emma Watson, J. K. Rowling, Abraham Lincoln, Alber Einstein, Mahatma Gandhi, Warren Buffet, Eleanor Roosevelt, Elon Musk, Barack Obama, Michael Jordan, Hillary Clinton প্রমুখ ব্যক্তিবর্গের প্রত্যেকেই কিন্ত অন্তর্মুখী স্বভাবের মানুষ।

১০ মিনিট স্কুলের পক্ষ থেকে তোমাদের জন্য আয়োজন করা হচ্ছে অনলাইন লাইভ ক্লাসের! তা-ও আবার সম্পূর্ণ বিনামূল্যে!

জানি অবাক হয়েছ। তবে এটাই কিন্তু সত্যি!  Introvert দের নিয়ে আমাদের প্রচলিত ভাবনাগুলো যে একেবারেই মিছে, তার প্রমাণ আমরা দেখতে পাই এই মানুষগুলোর জীবনের দিকে তাকিয়েই। সেরা ব্যক্তিত্বের তালিকায় তারা প্রত্যেকেই ছিলেন এবং আছেন।

দুনিয়া দাপিয়ে বেড়ানোর ক্ষমতা যে শুধু extrovert দের কাছেই, তা বললে নিতান্তই ভুল হবে। Extrovert মানুষগুলোর রাজত্ব হয়তো আমরা চোখে দেখতে পাই বেশি, তবে পর্দার আড়ালে থেকে স্বাচ্ছন্দ্যে কাজ করে যাওয়া introvert মানুষগুলোর অবদান একেবারেই অতুলনীয়!

তাদের একদম কাছ হতে অনুধাবন করলে আমরা এমন কিছু গুণের সন্ধান পাই, যা প্রত্যেকটি মানুষের জন্যই অত্যন্ত  শিক্ষণীয় ও অনুসরণীয়।  এমনই ৭টি গুণ নিয়ে সাজানো হয়েছে এ লেখাটি। দেখে নাও তবে কোন গুণগুলো আমাদের প্রত্যেকেরই রপ্ত করা চাই-ই চাই!

১। নিজের সাথে সময় কাটানো:

এটিই সম্ভবত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যা অন্তর্মুখী মানুষগুলো আমাদের শেখায়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই তারা একা থাকতে পছন্দ করে তবে একা থাকা কিন্তু কখনোই তাদেরকে একাকীত্বের অনুভূতি দেয় না। একা থাকার প্রতিটি মুহূর্তে তারা নিজেদের নিয়ে চিন্তা করে, নিজেকে জানার প্রচেষ্টায় মগ্ন হয়। নিজেকে গভীরভাবে জানা কি সকলেরই কর্তব্য নয় ?

নিজের সাথে সময় কাটানোর মুহূর্তগুলোতে তারা বই পড়তে, গান শুনতে কিংবা কোন বিষয় নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করতে ভালোবাসে। এজন্যেই হয়তো তাদের মধ্য দিয়েই বেড়িয়ে আসে সমাজের বিখ্যাত সব চিন্তাবিদেরা!

বাহ্যিক কর্মকাণ্ডে তুলনামূলক কম মনোনিবেশ করে আত্মোপলব্ধিতে সময় ব্যয় করলে কিন্তু প্রতিটি মানুষই লাভবান হয়। নিজেকে যদি নিজেই না চিনি, তাহলে অন্য একজন মানুষ কীভাবে বুঝবে আমাদের?

২। বাইরের প্রভাব থেকে মুক্ত থেকে নিজের কাজে মনোনিবেশ করা:

যেহেতু তারা একা থাকতে পছন্দ করে, সেহেতু যেসব কাজে অনেক বেশি ব্যক্তি স্বাধীনতা ও নির্জনতা প্রয়োজন হয়, অন্তর্মুখী মানুষগুলো সেসব কাজে খুব ভালো করে। তারা নিজেদের উদ্যোগেই, খুব সীমিত দিকনির্দেশনা নিয়েই যেকোনো কাজ শুরু করতে পারে। আর্টিস্ট, লেখক, উদ্ভাবক ইত্যাদি মানুষগুলো সাধারণত অন্তর্মুখী স্বভাবের হয়ে থাকে।  বলা হয়, যেকোনো distraction এড়িয়ে গিয়ে নিজের কাজে মনোযোগ দেওয়ার কাজটা অন্তর্মুখী মানুষদের চেয়ে ভালো আর কেউ পারে না!

৩। নিজের মাঝেই অনুপ্রেরণা খোঁজা:   

আমরা প্রায় সময়ই অনুপ্রেরণা পাবার জন্য অন্য কাউকে খুঁজে থাকি। তাই যদি হয়, তাহলে আমাদের নিজেদের মধ্যেই যে অনুপ্রেরণামূলক সত্তাটি রয়েছে, তার কী হয়? অন্তর্মুখী মানুষগুলো কিন্তু নিজেদের এই সত্তা হতেই অনুপ্রেরণা নিয়ে থাকে। বলা হয়, তারা নিজেরাই তাদের হিরো! নিজেদের চিন্তা ও অনুভূতিগুলোকে বিশ্লেষণ করতে তারা ভালবাসে। আর তাই,  এতদিন পর্যন্ত তারা যেভাবে বাঁধা-বিপত্তি উত্তরণ করে এসেছে, সেখান থেকেই খুঁজে নেয় অনুপ্রেরণা।

হয়তো একারণেই যেকোনো সমস্যা-সমাধানমূলক কাজে তাদের সৃজনশীলতা হয় লক্ষণীয়!  

৪। কথা কম, কাজ বেশি:

বলা হয়, “Introverts are good listeners”।  তারা হয়তো কথা খুবই কম বলতে পছন্দ করে তবে তারা যেটা খুব ভালো পারে তা হল অপরের কথা মন দিয়ে শোনা

গবেষণার তথ্যানুসারে, ঠিক এ গুণটির জন্যই অনেক অন্তর্মুখী মানুষই নেতা হিসাবে খুব ভালো হয়, বিশেষ করে যদি তার টিমের কর্মীরা সক্রিয়(proactive) হয়।

চল স্বপ্ন ছুঁই!

আমাদের ছোট-বড় অনেকরকম স্বপ্ন থাকে। কিন্তু বাস্তবায়ন করতে পারি কতগুলো?

এই দ্বিধা থেকে মুক্তি পেতে চল ঘুরে আসি ১০ মিনিট স্কুলের এই এক্সক্লুসিভ প্লে-লিস্ট থেকে!

লাইফ হ্যাকস সিরিজ!

অনেক সময় এমন হয় যে, একজন extrovert leader তার নিজের মনের ভাব ও আইডিয়া প্রকাশে এতই ব্যস্ত হয়ে যায় যে সে তার টিমের দেওয়া আইডিয়াগুলো শোনার কথা বা বাস্তবায়নের কথা  ভুলেই যায়। অপরদিকে, একজন introvert leader তার টিমের প্রত্যেকের কথা ও আইডিয়া গুরুত্বের সাথে শোনার ক্ষমতা রাখে এবং তা বাস্তবায়নে তৎপরও হতে পারে।

তারা আমাদের শেখায় যে আমাদের যে কোন সম্পর্ক আরও অনেক গভীর ও অর্থবহ হতে পারে যদি আমরা নিজেরা কম কথা বলে অপর পাশের মানুষকে আমাদের কাছে মন খুলে কথা বলার সুযোগটি দেই।

নিজের সঙ্গী কিংবা আপনজনদের সাথে অন্তরঙ্গতা গড়ে তুলতে তাদের এই গুণটি সহায় হয়।

কখনোই মনে করবে না যে অন্তর্মুখী হওয়া ‘খারাপ’ একটি ব্যাপার

৫। যেকোন পরিস্থিতিকে সামলে নেয়া:

নতুন পরিস্থিতিতে কীভাবে নিজেকে সময় নিয়ে সামলে নিতে হয় তার শিক্ষা আমরা পাই এই introvert মানুষগুলোর কাছ থেকেই।

যেকোনো একটা নতুন পরিবেশ বা পরিস্থিতিতে কেমন আচরণ করা উচিত, কোনটি বলা উচিত আর কোনটি না ইত্যাদি সবকিছু নিয়েই তারা আগে ভাগে চিন্তা করে রাখে। বিবেচনা ছাড়াই ঝট করে একটি কিছু করে ফেলা বা বলে ফেলার মধ্যে অন্তর্মুখী মানুষগুলো পড়ে না। বরং তারা পর্যবেক্ষণ করে, বুঝার চেষ্টা করে এবং সবশেষে নিজের উত্তরটিকে যতটুকু বেশি সম্ভব গুছিয়ে নিয়ে এরপর বলে।

এজন্যেই হয়তো Introvert মানুষগুলোর জীবনে ‘বিবাদ’ শব্দটির বিস্তৃতি অনেকটাই কম!

৬। ভাবিয়া করিও কাজ, করিয়া ভাবিও না:

কোন কিছু বলার আগে ‘অতিরিক্ত চিন্তা করা’ এবং ‘একেবারেই কোন চিন্তা না করা’ – দুটোই কিন্তু সমান ভাবে বিপজ্জনক হতে পারে এবং ক্ষতিকরও বটে!

তবে অন্তর্মুখী মানুষগুলো ঠিক এ জায়গাতে এসেই শেখায় যে, কোন কিছু বলার আগে অবশ্যই পরিমিত পরিমাণ চিন্তা করে নেওয়া উচিত। তোমার কথা, উচ্চারিত কোন নির্দিষ্ট শব্দ অন্য কারোর উপরে কীভাবে প্রভাব বিস্তার করবে- তা কিন্তু তোমাকে বুঝে নিতে হবে।  নিত্যদিনের জীবনে তুমি যেই ভাষায়, গলার যে টোনে কথা বলে থাকো, তা তোমার সম্পর্কগুলোকে অনেকটুকু প্রভাবিত করে। আর তাই, introvert রা তাদের শব্দচয়নের দিকে খুব খেয়াল রাখে। এমনটাই কি হওয়া উচিত নয়?

দারুণ সব লেখা পড়তে ও নানা বিষয় সম্পর্কে জানতে ঘুরে এসো আমাদের ব্লগ সেকশন থেকে!

৭। গভীর সম্পর্ক গড়ে তোলা:

Introvert মানুষগুলোর সাধারণত অনেক বেশি মানুষের সাথে বন্ধুত্ব কিংবা সখ্যতা না থাকলেও, যে কয়জনের সাথে থাকে, তাদের সাথে সম্পর্কগুলো খুব দৃঢ় হয়। বন্ধু কিংবা সঙ্গী হিসাবে তারা সাধারণত খুবই বিশ্বাসযোগ্য ও উদার হয়ে থাকে। তারা সর্বদা অন্যদের কথা বলার সুযোগ দেয় এবং এর মাধ্যমে পারস্পরিক সম্প্রীতি, ভালবাসা ও শ্রদ্ধা গড়ে তুলতে পারে। তারা আমাদের শেখায় যে একটি সম্পর্ককে আরও অর্থবহ ও গভীর ভাবাপন্ন করতে হলে কীভাবে  অপর পাশের মানুষটিকে শ্রদ্ধা করতে হয়, সময় দিতে হয়, তাদের কথা শুনতে হয়। তাই আত্মিক সম্পর্ক গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এ মানুষগুলো যেন আদর্শ!

তোমরা যারা অন্তর্মুখী স্বভাবের, তারা কখনোই মনে করবে না যে অন্তর্মুখী হওয়া ‘খারাপ’ একটি ব্যাপার। বরং তোমাদের কাছ থেকেই শেখার আছে অনেক কিছু! তোমরা অতুলনীয়, অনবদ্য! সাহস নিয়ে এগিয়ে যাও জীবনে এবং দেখবে একদিন আলোর মশাল জ্বলবে তোমাদের হাতেও!

Intorvert মানুষগুলোকে নিয়ে যদি তোমাদেরও কোন সুন্দর উপলব্ধি থেকে থাকে, তবে তা নিচের কমেন্ট সেকশনে লিখে ফেলো। সবার জন্য শুভ কামনা!


১০ মিনিট স্কুলের লাইভ এডমিশন কোচিং ক্লাসগুলো অনুসরণ করতে সরাসরি চলে যেতে পারো এই লিঙ্কে: www.10minuteschool.com/admissions/live/

১০ মিনিট স্কুলের ব্লগের জন্য কোনো লেখা পাঠাতে চাইলে, সরাসরি তোমার লেখাটি ই-মেইল কর এই ঠিকানায়: write@10minuteschool.com

লেখাটি ভালো লেগে থাকলে বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করতে ভুলবেন না!
What are you thinking?