শেয়ারিং হোক সাবধানে, নিরাপদ থাকো অনলাইনে!


পুরোটা পড়ার সময় নেই? ব্লগটি একবার শুনে নাও।

অনলাইনে আমাদের জীবন নিয়ে লেখা এই ব্লগ শুরু করার আগে, চলো একটু গল্প করা যাক। আজকে আমি তোমাদের আমার কোনো বন্ধুর গল্প বলবো না। আজকে তোমাদের সাথে যেই ঘটনাটা শেয়ার করবো, সেটা আমার নিজের সাথেই ঘটে যাওয়া।

ঘটনাটা খুব বেশি আগের না। ফেসবুকে মেসেজ রিকুয়েস্টগুলো চেক করতে করতে হঠাৎ করে একটা মেসেজ চোখে পড়লো, যেখানে লেখা, “আপু একটা জিনিস জানার ছিল।” আমি যেহেতু সবাইকে সাহায্য করতে ভালোবাসি, তাই ফিরতি মেসেজে লিখলাম, “জ্বী বলুন আপনাকে কীভাবে সাহায্য করতে পারি?” কিন্তু এই মেসেজ রিকুয়েস্ট এক্সেপ্ট করাটাই ছিল আমার সবচেয়ে বড় ভুল! এরপর সে আমাকে ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট এক্সেপ্ট করার জন্য জোর করতে থাকে। আর আমি যখন বলেছি যে বেশি বাড়াবাড়ি করলে ব্লক করে দেবো, তখনই আমার সব ছবি ইনবক্সে দিয়ে বলে এগুলো এডিট করে নাকি বিভিন্ন পেইজ থেকে আপ্লোড দেবে! এরপর তো নানান কাহিনী করে এই ঝামেলা থেকে মুক্তি পেয়েছিলাম।

আচ্ছা, তোমাদের কি মনে হয় না যে, এমন বিব্রতকর অবস্থায় তোমরাও একসময় কেউ না কেউ পড়েছো? কিন্তু দেখা যায় বেশিরভাগ সময়ই আমরা এটা নিয়ে কেউ কোনো কথা বলি না৷ ভয়ে চুপ করে থাকি। আর এটাই কিন্তু সাইবার ক্রাইম বা অনলাইনে সংঘটিত অপরাধের অন্তর্ভুক্ত।

এখন আমরা কেউই ইন্টারনেট ছাড়া এক মুহূর্তও থাকতে পারি না। বিল পরিশোধ, টাকা দেওয়া নেওয়া থেকে শুরু করে সবকিছুতেই আমাদের ইন্টারনেটের দরকার। আর এইজন্য আমাদের বিভিন্ন সাইটে একাউন্ট খোলা লাগে। আর ভুল সাইটে একাউন্ট খুলে ফেললে কিন্তু বিপদ! তাই ইন্টারনেট ব্যবহার করার পাশাপাশি এর ক্ষতিকর দিকগুলো সম্পর্কে জানতে হবে। প্রত্যেক মুদ্রার যেমন এপিঠ-ওপিঠ আছে, ইন্টারনেটেরও ভাল-মন্দ দু’টো দিকই আছে। কিন্তু তার মানে এই না যে সাঁতার কাটতে পারি না দেখে সমুদ্র দেখতে যাবো না!

তাহলে চলো অনলাইনে কীভাবে নিজেকে সুরক্ষিত রাখা যায়, সেই উপায়গুলো জেনে আসি!

১. একাধিক অ্যাকাউন্টের জন্য ভিন্ন ভিন্ন পাসওয়ার্ড:

এই ভুলটা আমরা কম-বেশি সবাই করে থাকি। দেখা যায় বিভিন্ন কাজের সূত্রে আমাদের অনেক সাইটে অ্যাকাউন্ট খুলতে হয়৷ আর ঝামেলা এড়াতে আমরা সব জায়গায় একই পাসওয়ার্ড ব্যবহার করি৷ কেননা ভিন্ন ভিন্ন পাসওয়ার্ড আমাদের জন্য মনে রাখা কষ্টকর। তাই পাসওয়ার্ড মনে রাখার দরকার হলে আমরা বিভিন্ন পাসওয়ার্ড ম্যানেজার যেমন:  LastPass, Dashlane, Sticky Password ও KeePass ব্যবহার করতে পারি। এই অ্যাপ্লিকেশনগুলো আমাদের পাসওয়ার্ডকে একত্রিত করে সুরক্ষিত রাখে।

২. বুলেটপ্রুফ(!) পাসওয়ার্ড ব্যবহার:

তোমার প্রত্যেক একাউন্টের জন্য যেমন আলাদা আলাদা পাসওয়ার্ড তৈরি করতে হবে, ঠিক তেমনি পাসওয়ার্ড কঠিনও হতে হবে। তোমার পাসওয়ার্ড যেন কখনোই 123456, তোমার ডাক নাম, ফোন নম্বর, জন্ম সাল না হয়।

কিন্তু কীভাবে শক্তিশালী আবার সহজেই মনে রাখা যায়, এই ধরণের পাসওয়ার্ড তৈরি করবে? পাসওয়ার্ড হতে হবে কমপক্ষে ১২ অক্ষরের, যেখানে নাম্বার, স্পেশাল ক্যারেক্টার (@#%), আপার কেস (–), লোয়ার কেস (_) সংবলিত, এবং এমন শব্দ, যা ডিকশনারিতে নেই। অর্থাৎ সম্পূর্ণ নিজের একধরণের পাসওয়ার্ড বানাতে হবে। সেটা হতে পারে প্রিয় কোনো গানের লাইন যেমন- [email protected][email protected]_me_d0। প্রিয় উক্তি- [email protected]@[email protected]@nc0metrue

কিংবা  I Love Biriyani Ice Cream And 22 Others Food Item- প্রত্যেকটা শব্দের প্রথম অক্ষর দিয়ে তৈরি নতুন শব্দ যেমন-  ILBICA22OFI। অনলাইনে সুরক্ষিত থাকতে সুরক্ষিত পাসওয়ার্ড অবশ্যই দরকার।

৩. জরুরি সফটওয়্যার এবং অ্যাপ্লিকেশন নিয়মিত আপডেট করা:

সফটওয়্যার নির্মাতারা নিয়মিত তাদের সফটওয়্যার হালনাগাদ করেন যাতে করে ব্যবহারকারীদের কোনো তথ্য বেহাত না হয় এবং কোনো ম্যালওয়্যার যাতে তাদের ডিভাইসে আক্রমণ করতে না পারে। কিন্তু আমাদের সফটওয়্যার হালনাগাদ না করার ফলে তাতে নতুন ফাংশন ও সুযোগ সুবিধা থাকে না। পুরোনো সিস্টেমে হ্যাকাররা সহজেই আক্রমণ করে আমাদের ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নিতে পারে। তাই আমরা সবসময় অটো আপডেট অপশন অন করে রাখবো। এতে করে যখনই সফটওয়্যারটির নতুন ভার্সন আসবে, তখন অটোমেটিকালি আপডেটেড হয়ে যাবে।

ওয়েব ব্রাউজারের ক্ষেত্রে অটোমেটিক সিকিউরিটি আপডেট নেয় এমন ধরনের ব্রাউজার ব্যবহার করতে হবে। এক্ষেত্রে ক্রোম বা ফায়ারফক্স ব্যবহার করলে ভালো হয়। এছাড়া তুমি তোমার কম্পিউটারে Secunia PSI নামক অ্যাপ্লিকেশনটি ইন্সটল করে রাখতে পারো। এটি তোমার কম্পিউটারে থাকা সমস্ত অ্যাপ্লিকেশনের মধ্যে যেগুলোর আপডেট দিতে হবে সেগুলোর নাম জানিয়ে দেবে। আপডেটেড সফটওয়্যার অনলাইনে তোমাকে নিরাপদ থাকতে সাহায্য করবে। 

 
এবার বাংলা শেখা হবে আনন্দের!
আমাদের প্রতিটি প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বাংলা ভাষা চর্চার গুরুত্ব অপরিসীম!

৪. কোনো লিংকে ক্লিক করার আগে যাচাই করে নাও:

“কোন নায়িকার সাথে আপনার চেহারা মেলে, দেখে নিন কেমন কাটবে আপনার ২০১৮ সাল, আপনার এইচএসসি রেজাল্ট কী হবে, আপনি কোন ইউনিভার্সিটিতে পড়বেন”- এমন আরো অসংখ্য লিংক অনলাইনে আমাদের চোখে পড়ে। কৌতূহলবশত হোক আর ঠাট্টাচ্ছলেই হোক, আমরা সেইসব লিংকে ক্লিক করে ফেলি। কিন্তু কখনো কি খেয়াল করেছো ফলাফল দেখানোর আগে এরা আমাদের প্রোফাইল, মেসেজ, ফ্রেন্ডলিস্টের এক্সেস চায়? এমনকি মেইল এবং ফেসবুক পাসওয়ার্ডও নিয়ে থাকে। তাই ভুলেও এইসব লিংকে ক্লিক করবে না। কারণ একবার তোমার ইমেইল এবং ইমেইলের পাসওয়ার্ড জেনে গেলে সহজেই তোমার অন্য অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে ফেলতে পারে।

৫. সফটওয়্যার ডাউনলোড হোক অথেনটিক সোর্স থেকে:

গুগলে যদি কোনো সফটওয়্যারের নাম লিখে সার্চ দেওয়া হয়, তাহলে অনেকগুলো নাম স্ক্রিনে ভাসে। কিন্তু সবগুলোই কি অথেনটিক? এরমধ্যে ফিশিং সাইটও তো থাকতে পারে। আমরা যারা অরিজিনাল সফটওয়্যার কিনে ব্যবহার করতে পারি না, তাদের কাছে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য সাইট হলো Torrent। কিন্তু Torrent এর সব লিংকই কি আসল? এর মধ্যে এমন অসংখ্য লিংক রয়েছে, যেগুলোতে একবার ক্লিক করার সাথে সাথে তোমার ডিভাইস ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হবে এবং তোমার সব তথ্য মুছে ফেলা হবে! তাই চেষ্টা করবে নির্ভরযোগ্য সাইট থেকে সফটওয়্যার ডাউনলোড করতে এবং সর্বাধিক সংখ্যক মানুষ যেই লিংক থেকে সফটওয়্যার ডাউনলোড করেছে, তুমিও সেই লিংক থেকেই সফটওয়্যার ডাউনলোড করবে।

৬. স্প্যামিং ও ফিশিং হতে সাবধান!:

আমরা অনলাইনে হরহামেশাই নানান লটারি বা অফারের পোস্ট দেখি। অনেকসময় আমাদের ইমেইলে ১০ লক্ষ ডলার লটারি জেতার মেইলও আসে। সেখানে লেখা থাকে টাকা পেতে হলে এই লিংকে ক্লিক করুন। কিন্তু এই লিংকে একবার ক্লিক করলেই ধরা! ইমেইলে এমন ভুয়া লিংক পাঠানোকে বলা হয় স্প্যামিং। আজকাল গণহারে স্প্যামিংয়ের মাধ্যমে মানুষের তথ্য হাতানো হচ্ছে। আর বর্তমানে ম্যালওয়্যার ছড়ানোর সবচেয়ে সহজ রাস্তা হলো ইমেইল। তাই শুধু বিশ্বস্ত কোনো সূত্র থেকে আসা মেইলগুলোই চেক করতে হবে।

এছাড়া বর্তমানে ফিশিংয়ের মাধ্যমেও ছোট-খাটো হ্যাকিং করা সম্ভব। আমরা কীভাবে বুঝবো যে এটা একটা ফিশিং সাইট? যদি কোনো সাইটে ক্লিক করার আগে তার  URL যেটা থাকবে, ক্লিক করার পর যদি অন্য আরেকটা URL আসে, তাহলে বুঝতে হবে এটা ফিশিং সাইট।

আমাদের কাছে এরকম অপ্রত্যাশিত মেইল আসে যে, “এই লিংকে ক্লিক করো, তোমার অনেক আজেবাজে ছবি এই লিংক দিয়ে ছড়ানো হচ্ছে।” ক্লিক করার পর তুমি দেখবে তোমাকে লগ ইন করতে বলছে। আর এই লগ ইন করার মাধ্যমেই হ্যাকাররা তোমার পাসওয়ার্ড আর ইমেইল অ্যাড্রেস বা ফোন নম্বরটাও পেয়ে যাচ্ছে। তাই অনলাইনে নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে এইসব ফিশিং সাইট থেকে দূরে থাকবে এবং কোনো লিংকে ক্লিক করার আগে ১০ বার ভেবে নেবে।

৭. অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার ব্যবহার:

আমরা ভাবি শুধু কম্পিউটারেরই হয়তো অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার প্রয়োজন। কিন্তু শুধু কম্পিউটারই না, যেসব ডিভাইসে আমরা ইন্টারনেট ব্যবহার করে থাকি, সেই সব ধরণের ডিভাইসেই অ্যান্টিভাইরাস এবং অ্যান্টি ম্যালওয়্যার সফটওয়্যার প্রয়োজন। ৬০০ মিলিয়নের চেয়েও বেশি সংখ্যক ম্যালওয়্যার তোমার ডিভাইসে হামলা করার জন্য ওঁত পেতে রয়েছে! Avast Antivirus, Bitdefender Antivirus, AVG Antivirus, Malwarebytes Anti-Malware হলো বেশকিছু ভালো মানের অ্যান্টিভাইরাস ও অ্যান্টি ম্যালওয়্যার সফটওয়্যারের নাম।

৮. Two Step Verification ব্যবস্থা চালু:

তোমার অ্যাকাউন্ট সুরক্ষিত রাখার আরেকটি উপায় হলো Two Step Verification সুবিধা চালু করা। গুগল থেকে শুরু করে ফেসবুক, ড্রপবক্স, টুইটার সহ বেশিরভাগ কোম্পানির এই 2 Step Verification সুবিধা রয়েছে। এই সুবিধাটি চালু করলে তুমি যেই ফোন নম্বর দিয়ে তোমার একাউন্ট খুলেছো, প্রতিবার নতুন করে লগ ইন করার সময় তোমার সেই ফোন নম্বরে একটি নতুন এককালীন ব্যবহারযোগ্য কোড চলে যাবে। আর সেই কোড দিয়েই তোমাকে লগ ইন করতে হবে। এই পদ্ধতির ফলে কেউ যদি তোমার আইডিতে ঢুকতে চায়, তাহলে সে ব্যর্থ হবে কারণ, যেই কোডটি তার প্রয়োজন তা তো আসবে তোমার নম্বরে!

১০. ইউ টু এফ সিকিউরিটি পেনড্রাইভ:

আমরা অনেক সময় নানান কাজে অন্যের ল্যাপটপ বা কম্পিউটার ব্যবহার করি। যার ফলে কোথাও লগ ইন করতে হলে তাদের ডিভাইসটা থেকেই আমাদের লগ ইন করতে হয়। এরফলে আমাদের সব তথ্য জমা হয়ে থাকে সেই ডিভাইস দিয়ে ঢোকা ওয়েবসাইটগুলোয়। তাই ঝামেলা এড়াতে ব্যবহার করতে পারো ইউ এফ টু ( UF2) সিকিউরিটি পেনড্রাইভ। এই পেনড্রাইভের মাধ্যমে আমাদের বিভিন্ন তথ্য যেমন ইমেইল আইডি, বিভিন্ন আইডির পাসওয়ার্ড স্টোর করা থাকে। দরকারের সময় ল্যাপটপের ইউএসবি পোর্টে পেনড্রাইভ ঢুকিয়ে ব্যবহার করার পর আবার কাজ শেষে মেমরি ক্লিয়ার করে বের করে আনলেই আর কোনো ভয় থাকে না।

১১. পাবলিক ওয়াইফাই ব্যবহার করো বুঝে শুনে:

আমার তো  মনে হয় আজকাল ফ্রি খাবারের চেয়ে ফ্রি ওয়াইফাইয়ের চাহিদা সবচেয়ে বেশি(!) তাই তো শপিং মল, রেস্টুরেন্ট এমন কি কারো বাসায় বেড়াতে গেলেও লজ্জাশরম ভুলে তাদের ওয়াইফাইয়ের পাসওয়ার্ড চেয়ে বসি! আর পাবলিক ওয়াইফাই হলে তো কথাই নেই! সাথে সাথে নিজের ডিভাইসটির সাথে ওয়াইফাই কানেক্ট করে নানান ফাইল ডাউনলোড করা শুরু করে দিই। আর এভাবেই আমরা মারাত্মক ভুল করে বসি।

পাবলিক ওয়াইফাই এর নেটওয়ার্ক হয় খুবই দুর্বল। হ্যাকাররা পাবলিক ওয়াইফাইয়ের মাধ্যমে আমাদের ডিভাইস থেকে তথ্য চুরি করার জন্য ওত পেতে আছে। তাই যতটা সম্ভব নিজেদের পাবলিক ওয়াইফাই ইউজ করা থেকে বিরত রাখবো। যদি অনেক প্রয়োজন হয়, তাহলে VPN দিয়ে ব্যবহার করবো। VPN তোমার ও হ্যাকারের মধ্যে একটা পর্দা সৃষ্টি করবে।

গ্রাফিক্স ডিজাইনিং, পাওয়ারপয়েন্ট প্রেজেন্টেশান ইত্যাদি স্কিল ডেভেলপমেন্টের জন্য 10 Minute School Skill Development Lab নামে ১০ মিনিট স্কুলের রয়েছে একটি ফেইসবুক গ্রুপ।

এই ১১টি বিষয় ছাড়াও আরো কিছু ছোট ছোট জিনিস আমাদের মাথায় রাখতে হবে।

    • ম্যালওয়ারের আক্রমণ থেকে বাঁচতে  Adblocker ব্যবহার করা যেতে পারে। এগুলো শুধু ম্যালওয়্যার থেকেই না, অপ্রত্যাশিত এবং বিরক্তিকর এডভার্টাইজমেন্টের হাত থেকেও আমাদের রক্ষা করবে

 

    • বানান ও গ্রামার ভুল আছে, এমন পোস্টের লিংকে ক্লিক করা থেকে নিজেদের বিরত রাখবো।

 

    • সার্চ ইঞ্জিন থেকে কুকি ( খাওয়ার কুকি নয় কিন্তু!) এবং সার্চ হিস্টোরি ডিলিট করবো।

 

    • সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের ব্যক্তিগত তথ্য যেমন বাসার ঠিকানা, ফোন নম্বর পাব্লিক না করা।

 

    • http ( Hyper Text Transfer Protocol) দিয়ে শুরু হওয়া লিংক এড়িয়ে চলতে হবে। কেননা এই প্রটোকল তোমার তথ্যগুলোকে কখনোই ১০০% নিরাপত্তা দিবে না। একটু খেয়াল করলে দেখা যাবে এখনকার সব লিংকই https (Hyper Text Transfer Protocol Secure) দিয়ে শুরু। এবং এর পাশে একটি ছোট্ট তালার সাইনও আছে। এরমানে হলো লিংকটি ইন্সক্রিপ্টেড।

 

    • অনলাইনে পরিচিত হওয়া ব্যক্তিদের সাথে একা দেখা করতে না যাওয়া। দেখা করার দরকার পড়লে কাউকে সাথে নিয়ে যেতে হবে। যদি কাউকে নিয়ে যেতে না পারো তাহলে অন্তত কাউকে জানিয়ে রাখ যে তুমি অমুকের সাথে এক জায়গায় দেখা করতে যাচ্ছো। আর কাউকেই ইনবক্সে নিজের ছবি, কোনো আইডি কার্ড, ফোন নম্বর ও বাসার ঠিকানা দেওয়া ঠিক না।

 

    • তুমি যদি সাইবার অপরাধের শিকার হও তাহলে সেই আপত্তিকর কন্টেন্টটির স্ক্রিনশট নিয়ে (এমনভাবে স্ক্রিনশট নেবে যাতে এড্রেসবারের URL টি দেখা যায়) নিকটস্থ থানায় জিডি করবে।

 

    • ইমেইলের মাধ্যমে অভিযোগ করতে হলে [email protected] এখানে সব প্রমাণ দিতে হবে।

 

    • এছাড়াও গুগল প্লেস্টোর থেকে ‘Hello CT’ অ্যাপটি ডাউনলোড করেও সাইবার অপরাধের বিরুদ্ধে মামলা করা যাবে।

 

  • যখনই তুমি সাইবার আক্রমণের শিকার হবে, তখনই ফোন করে সাহায্য চাও এই নম্বরে—০১৭৬৬৬৭৮৮৮৮। এই হেল্পলাইন সপ্তাহের সাত দিন, ২৪ ঘণ্টা সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে। তুমি চাইলে যেকোনো সময় এখানে ফোন করে অভিযোগ জানাতে পারবে।

আমাদের মধ্যে অনেকেরই এই ধারণা আছে যে আমরা তো কোনো সেলিব্রেটি বা পাবলিক ফিগার না যে আমাদের একাউন্ট হ্যাক হবে। আজকাল হ্যাকাররা শুধু বড় বড় ব্যক্তিদেরই নয়, সব ধরণের মানুষদের তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার জন্য টার্গেট করছে। আর এই সাইবার জগতটা হলো অনেক জটিল। তাই আমরা নিজেদেরকে সুরক্ষিত রেখেই ইন্টারনেটের সুবিধা ভোগ করবো। কেননা,

Technology trust is a good thing, but control is a better one.”
         -Stephane Nappo

সূত্র:  1. https://ideas.ted.com/5-ways-to-keep-your-data-safe-right-now/?utm_campaign=social&utm_medium=referral&utm_source=facebook.com&utm_content=ideas-blog&utm_term=technology

  1. https://security.berkeley.edu/resources/best-practices-how-to-articles/top-10-secure-computing-tips
  2. http://mentalfloss.com/article/542006/privacy-policy-phrases-you-should-know-terms-of-service
  3. https://www.lifehack.org/536562/5-things-that-make-you-susceptible-hackers
  4. https://www.wikihow.com/Be-Safe-on-the-Internet
  5. https://blog.emsisoft.com/en/28800/stay-safe-online-top-tips-internet-safety/

১০ মিনিট স্কুলের ব্লগের জন্য কোনো লেখা পাঠাতে চাইলে, সরাসরি তোমার লেখাটি ই-মেইল কর এই ঠিকানায়: [email protected]

লেখাটি ভালো লেগে থাকলে বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করতে ভুলবেন না!
What are you thinking?