যে ৫টি উপায়ে গড়ে উঠবে যেকোন অভ্যাস!

পুরোটা পড়ার সময় নেই? ব্লগটি একবারে শুনে নাও!

 

অ্যালবার্টের ঘড়িতে অ্যালার্ম বেজে উঠেছে। তার চোখে এখনও ঘুম লেগে রয়েছে। কিন্তু তাতে কী! তাকে যে এখন মর্নিং ওয়াকে যেতে হবে। তাই, তাড়াতাড়ি করে বিছানা ছেড়ে উঠে তিনি আগের রাতে গুছিয়ে রাখা জামাকাপড় পরে বেরিয়ে পড়েন। বিগত এক বছর ধরে তিনি এভাবেই সপ্তাহে তিন দিন মর্নিং ওয়াক করেন।

মানুষ মনে করে, অভ্যাস অলঙ্ঘনীয়। আর অভ্যাস পরিবর্তন করা খুবই কঠিন ব্যাপার। কিন্তু যদি বলা হয়, ধারণাটি ভুল!

অভ্যাস বদলানো যায়। শুধু তাই না, আপনি এই কাজটাকে যতটা কঠিন ভাবেন এটা সে তুলনায় অনেক সহজ!

একটি খারাপ অভ্যাস গড়ে তোলা যত সোজা, একটি ভালো অভ্যাস গড়ে তোলা যেন ততটাই কঠিন। সেটা সকালে ঘুম থেকে ওঠা হোক বা মিথ্যা বলা ত্যাগ করা, সময়ের কাজ সময়ে করা হোক কিংবা ধূমপান ছেড়ে দেয়া- সমস্ত ভালো অভ্যাস গড়ে তুলতেই যেন আমাদের রাজ্যের আলসেমি। আপনার দোষ নেই, এটাই মানব মনের ধর্ম। তবে, নতুন কোনো অভ্যাস গড়ে তোলারও রয়েছে সহজ কিছু উপায়।

চলুন, জেনে নেই!

Step 1: ছোট আকারে শুরু

খুব ছোট আকারে শুরু করুন। কোনো অভ্যাস গড়ে তোলার জন্য এই ধাপটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। একবারে কেবল একটি অভ্যাস শুরু করুন এবং তা খুব ছোট আকারে শুরু করুন। কিন্তু কত ছোট? মেডিটেশন করতে চান? মাত্র ২ মিনিট করুন।

life hacks, life tips, Skill Development

লেখক হতে চান? প্রতিদিন মাত্র ৫ মিনিট লিখুন। পুশআপ শুরুতে প্রতিদিন মাত্র ৫টা করে দিন। প্রতিদিন মাত্র ১ ধরনের সবজি খাওয়া শুরু করুন। যদি খুব ছোট আকারে শুরু করেন, তাহলে শুরু করার জড়তা কেটে যাবে সহজে। শুরু করার এই জড়তা বা আলসেমি কাটানোটাই সবচেয়ে কঠিন কাজ।

লিও বাবুয়াটা নামক আমেরিকার বিখ্যাত ব্লগার ও জার্নালিস্ট বলেন, আমি নিজেকে বলতাম: জাস্ট জুতাটা পড়ে নাও আর দরজা খুলে বের হও, আর এভাবেই আমি দৌড়ানোর অভ্যাস গড়ে তুলেছিলাম। এভাবে খুব ছোট আকারে শুরু করেছিলাম বলেই আমি শেষমেশ অনেকগুলি ম্যারাথন আর একটি আল্ট্রাম্যারাথন দৌড়ে শেষ করতে পেরেছিলাম। মেডিটেশনের জন্য আমি নিজেকে বলতাম, জাস্ট কুশনের উপর বসে পড়ো।

“It won’t always be easy, but once you start locking down those small wins, then the sky is the limit.”

Step 2: টার্গেট সেট করা

প্রথমত, আপনি আপনার কোন অভ্যাসটি পরিবর্তন করতে চান বা নতুন কোন অভ্যাসটি গড়ে তুলতে চান তা শনাক্ত করতে হবে। একবার একটি নির্দিষ্ট অভ্যাস সনাক্ত করার পর, সে অভ্যাসটির সাথে নিজেকে খাপ খাইয়ে নেয়ার জন্য আপনাকে একটি রুটিন তৈরী করতে হবে এবং সে অনুযায়ী কাজ করতে হবে। কী করবেন আর কতদিনে করবেন, সেই টার্গেট সেট করে রাখুন।

ধরুন, আপনি রাত জাগার অভ্যাস দূর করে “Early to bed and early to rise” এই মন্ত্রে নিজেকে দীক্ষিত করতে চান। তাহলে, প্রথমেই আপনাকে যা করতে হবে তা হল, এক সপ্তাহের জন্য নিজেকে একটি টার্গেট ফিক্সড করে দিতে হবে যে, আগামী এক সপ্তাহ আপনি রাত ১১টার পর আর জাগবেন না। এভাবে এক সপ্তাহ নিজেকে টার্গেট ফিক্সড করে দিয়ে ঘুমানোর চেষ্টা করলে দেখবেন, সত্যিই রাত জাগার অভ্যাসটা আপনার অনেকাংশেই কমে গেছে!

 

Step 3: কাল নয়, আজই

টার্গেট সেট করার পরেও বিলম্বের কারণে অনেক সময়ই নির্দিষ্ট কাজটা আর করা হয়না। তাই কাল করবো পরশু করবো করে ভালো অভ্যাস কখনোই গড়ে তোলা হয় না। সুতরাং, কোন আগামীকাল নয়। যা করতে চান সেটা আজ থেকেই। বরং এই মুহূর্ত থেকেই করতে শুরু করুন। একবার শুরু করে ফেললে কঠিন পর্বটাই সাড়া হয়ে গেলো।

একটু একটু করে সফল হবেন আর নিজেকে পুরস্কার দেবেন।

প্রতিদিন কী করবেন প্ল্যান করে রাখুন এবং যা করতে হবে সেটা কোন অবস্থাতেই বাদ দেবেন না। মস্তিষ্ককে বুঝিয়ে ফেলুন যে, এটা না করলে বিশাল ক্ষতি হয়ে যাবে আপনার। মস্তিষ্ক তাহলে নিজেই আপনাকে সচেতন করবে।

Step 4: জবাবদিহিতা

অভ্যাস গড়ার ক্ষেত্রে জবাবদিহিতা তৈরি করুন। জবাবদিহিতার জন্য একজন পার্টনার খুঁজে নিন। সেটা কোনো বন্ধুদের গ্রুপ হতে পারে। কিংবা হাঁটার বা দৌড়ানোর পার্টনারও হতে পারে। জবাবদিহি বাধ্য থাকলে আপনি অনেক সহজেই কাজটি করবেন। আলসেমি বা অন্যান্য জড়তা কাটাতেও এই ব্যাপারটি সাহায্য করবে।

life hacks, life tips, Skill Development
Via: quotefancy

Step 5: উপভোগ করা

যা করছেন তা উপভোগ করুন। বাধ্য হয়ে করছেন এমন যেন মনে না হয়। কাজটাকে উপভোগ করার চেষ্টা করুন। আপনি যদি কোনো কাজ উপভোগ করেন এবং কাজটি করার মুহূর্তে ভালো লাগা বোধ করেন তবে তা অভ্যাসে পরিণত হবে সহজে। কেবল টু-ডু লিস্টে রয়েছে বলে যদি আপনি কাজটা করেন, তবে সেই কাজে মোটিভেশন ফুরিয়ে যাবে অল্প কয়দিনেই!

একটু একটু করে সফল হবেন আর নিজেকে পুরস্কার দেবেন। আর পুরস্কার হতে হবে পরম আকাঙ্ক্ষিত কিছু। যেমন প্রতিজ্ঞা করুন যে, ১০ দিন সিগারেট ছাড়া থাকতে পারলে নিজেকে একটা শখের জিনিস কিনে দেবেন। নিজে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে কোন কাছের মানুষের সাথে নিজের নতুন অভ্যাসটি গড়ে তোলার ব্যাপারটি শেয়ার করতে পারেন।

গ্রাফিক্স ডিজাইনিং, পাওয়ারপয়েন্ট প্রেজেন্টেশান ইত্যাদি স্কিল ডেভেলপমেন্টের জন্য 10 Minute School Skill Development Lab নামে ১০ মিনিট স্কুলের রয়েছে একটি ফেইসবুক গ্রুপ।

বলা হয়ে থাকে, মানুষ অভ্যাসের দাস। কিন্তু যেই অভ্যাসের দাস আপনি হবেন, চাইলে সেই অভ্যাসকেও নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব; যদি শুধুমাত্র আপনার ইচ্ছা থাকে!

“Anything you want to change, you can.”


১০ মিনিট স্কুলের লাইভ এডমিশন কোচিং ক্লাসগুলো অনুসরণ করতে সরাসরি চলে যেতে পারো এই লিঙ্কে: www.10minuteschool.com/admissions/live/

১০ মিনিট স্কুলের ব্লগের জন্য কোনো লেখা পাঠাতে চাইলে, সরাসরি তোমার লেখাটি ই-মেইল কর এই ঠিকানায়: [email protected]

লেখাটি ভালো লেগে থাকলে বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করতে ভুলবেন না!
What are you thinking?