ব্যবসায় শিক্ষার নতুন শিক্ষার্থীদের প্রতি পরামর্শ

পুরোটা পড়ার সময় নেই ? ব্লগটি একবার শুনে নাও !

তুমি যেহেতু এই মুহুর্তে এই লেখাটি পড়ছ তাহলে আমি ধারণা করে নিতেই পারি যে তুমি ব্যবসায় শিক্ষা শাখার সম্পূর্ন নতুন একজন শিক্ষার্থী তাই একজন পুরোনো শিক্ষার্থী হিসেবে প্রথমেই তোমাকে ব্যবসায় শিক্ষার শাখায় স্বাগতম জানাচ্ছি। বাইরের দেশগুলোতে অনেক প্রচলিত হলেও বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত ব্যবসায় শিক্ষা বিষয়টি সেভাবে পরিচিতি পায়নি তার উপরে আমরা বিজ্ঞান এবং মানবিক শাখার বিষয়গুলো সম্পর্কে আমাদের আগের ক্লাসগুলোতে কিছুটা ধারণা পেলেও ব্যবসায় শিক্ষা সম্পর্কে পাইনা আর এইসব কারনেই দেখা যায় এই শাখার শিক্ষার্থীরা শুরুতে একটু সমস্যার সম্মুখীন হয়। তবে আমি বলব যে নতুন বিষয় দেখে ভয় না পেয়ে যদি শুরু থেকে সঠিকভাবে পড়াশোনা কর তাহলেই আর কোনো সমস্যায় পড়তে হবেনা।

ব্যবসায় শিক্ষা খুবই ইন্টারেস্টিং!

মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক এবং স্নাতক যেকোনো স্তরে গিয়েই একজন শিক্ষার্থী ব্যবসায় শিক্ষায় অধ্যায়ন শুরু করতে পারে। মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক যেহেতু প্রাথমিক স্তর তাই আমি এই দুই স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য কোনো গুরুগম্ভীর উপদেশ নয় বরং নিচে কয়েকটা পয়েন্টের মাধ্যমে কিছু বন্ধুসুলভ পরামর্শ দিব। মাধ্যমিক স্তর দিয়ে শুরু করছি।

১। ব্যবসায় উদ্যোগ পড়ার উদ্যোগ:

তুমি যদি তোমার ব্যবসায় উদ্যোগ বইটি ইতোমধ্যে দেখে থাক তবে তুমি নিশ্চয় বুঝতে পেরেছ যে এই বিষয়টি তেমন কঠিন নয়। একটু বুঝে বুঝে পড়লেই হবে। তবে সমস্যাটা হচ্ছে, পুরোপুরি তাত্ত্বিক হওয়ায় এই বিষয় মার্ক্স ওঠানো বাংলার মতই কঠিন। কিন্তু তুমি খেয়াল করলে দেখবে যে, ব্যবসায় উদ্যোগ প্রশ্নের উদ্দীপকেই তার উত্তরের হিন্ট দেয়া থাকে। ইন্টারেস্টিং রাইট? তো সেই হিন্টটা ধরার জন্য তোমার বইটাতে যে পয়েন্ট গুলো দেয়া আছে সেগুলো ধরে বুঝে পড়তে হবে কারণ প্রশ্ন সেখান থেকেই হবে। আমি আরেকটু পরিষ্কার করি, সৃজনশীল সম্পর্কে তোমার আগে থেকেই ধারণা আছে। এই বিষয়ের সৃজনশীল গুলোর উদ্দীপকে একেকটা কাহিনী দেয়া থাকবে। ক এবং খ এর প্রশ্ন আগের মতই হবে মানে, ক-তে এক লাইনের জ্ঞান এবং খ-তে দু-তিন লাইনের অনুধাবন(এটাও অনেকটা জ্ঞানের মতই হবে তবে একটু ব্যাখ্যা করে লিখতে হবে)। গ-তে তোমাকে মূলত উদ্দীপকটা পড়ে ঐখানের যেই জিনিষের ব্যাখ্যা একটা কাহিনীর মাধ্যমে দেয়া আছে তা খুঁজে বের করে সেটাকে বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করতে হবে আর ঘ-তে মূলত গ-এর বিষয়টি কোনো সমস্যা হলে তার নিরসন খুঁজে বের করতে হবে।

সহজেই শিখে ফেলো মার্কেটিং-এর খুঁটিনাটি!!

ব্যবসায় শিক্ষার ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য মার্কেটিং-এর খুঁটিনাটি বিষয়গুলো সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা রাখা অত্যন্ত জরুরি।

তাই ১০ মিনিট স্কুল তোমাদের সকলের জন্য নিয়ে এসেছে মার্কেটিং-এর উপর এক্সক্লুসিভ এই প্লে-লিস্ট!

যদি কারো চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য হয় তবে তা নৈতিক কি অনৈতিক, এর জন্য কি কি সমস্যা/সুবিধা হতে পারে তা বের করতে হবে, এবং বেশীরভাগ সময় এ ব্যপারে তোমার মতামত দিতে হবে। গ এর প্রশ্নের উত্তরে প্রথমে একলাইনে যে জিনিষটা চেয়েছে তার নাম লিখতে হবে(জ্ঞানের মত), তারপর দু-তিন লাইনে ছোট একটা ব্যাখ্যা দিতে হবে(অনুধাবনের মত) এবং সব শেষে তা বিস্তারিত ব্যাখ্যা করতে(প্রয়োগ) হবে। ঘ এর উত্তরও অনেকটা একইভাবে লিখতে হবে শুধু একদম শেষে প্রয়োগের অংশটা সংক্ষিপ্ত করে ঘ-এর প্রশ্নে যা চেয়েছে তা যুক্তিসহকারে লিখতে হবে সেক্ষেত্রে কিছু পয়েন্ট দেয়া গেলে ভাল হয়। উত্তর যথাসম্ভব সংক্ষিপ্ত, গোছানো এবং যৌক্তিক হতে হবে কারণ শিক্ষকরা বড় উত্তর দেখতে পছন্দ করেননা। গ এবং ঘ এর উত্তর যথাক্রমে ১-১.৫ এবং ১.৫-২ পৃষ্ঠার মাঝে লিখতে হবে।

২। হিসাববিজ্ঞানের হিসাব:

ব্যবসায় শিক্ষা শাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং তোমার জন্য একটি সম্পূর্ণ নতুন বিষয়। এ ব্যপারে আমি শুরুতেই বলব যে, হিসাববিজ্ঞান খুব-ই চমৎকার একটি বিষয় যদি তুমি একে ভালবাসতে পার আর এরজন্য শুরু থেকেই চর্চা করতে হবে। তোমার যেটা করতে হবে, নবম শ্রেণির শুরু থেকেই হিসাববিজ্ঞানের তাত্ত্বিক বিষয় গুলো একটু একটু করে পরে ফেলতে হবে। যদি কিছু বুঝতে পার তবে গণিতও শুরু থেকেই শুরু করতে পার কিন্তু যদি মনে হয় যে, ‘না পারছিনা’ তবে নিজে নিজে চেষ্টা না করে কারো সাহায্য নিবে নাহলে বিষয়টা তোমার কাছে আরো জটিল হয়ে যাবে।

মনে রাখবে, হিসাববিজ্ঞানে তত্ত্বীয় অংশ থেকে শুধুমাত্র নৈর্বেত্তিক আসবে। সৃজনশীল প্রশ্ন হবে পুরোপুরি গণিত দিয়ে। এ কারণে শুরু থেকে সময় হিসাব করে গণিত করার চেষ্টা করবে যাতে পরীক্ষার সময় সমস্যা না হয়। আর পরীক্ষার সময় যেটা পারবেনা সেটা নিয়ে বসে না থেকে আনুমানিক একটা ছক এঁকে(হিসাববিজ্ঞানের সব গণিত ছকে করতে হয়) পরের প্রশ্নে চলে যাবে। হিসাববিজ্ঞানের প্রশ্ন কিন্তু অনেক ঘুরিয়ে করা সম্ভব তাই যাতে যেকোনো প্রশ্নের উত্তর দিতে পার সেভাবে নিজেকে প্রস্তত করবে।

2

৩। ফিন্যান্স এর সূত্র:

নবম শ্রেণির জন্য একে একটি নতুন সংযোজিত বিষয় বলা যায়। ফিন্যান্সের তাত্ত্বিক অংশটা অনেক ইন্টারেস্টিং হলেও গণিতগুলো একটু কঠিন মনে হতে পারে তবে নিয়মিত চর্চা করলে এগুলোকে পিস অফ কেক মনে হবে। ফিন্যান্স হচ্ছে একটি সুত্রের খেলা। যত বেশি সূত্র মনে রাখতে পারবে ফিন্যান্স তত বেশি সহজ মনে হবে। আর সুত্র মনে রাখার জন্য ওগুলোকে একটি কাগজে বড় করে লিখে তুমি যেই ঘরে লেখাপড়া বাদে অন্য কোনো কাজ কর সেই ঘরে লাগিয়ে রাখবে যাতে করে ওটাতে বারবার চোখ পড়ে এবং মনে গেঁথে যায়।

3

 

৪। এবং অন্যান্য:

অন্যান্য বিষয়গুলো নিয়ে কি করব? অন্যান্য বিষয়গুলো যেহেতু তুমি ছোট থেকেই পড়ে আসছো সেহেতু নতুন করে কিছু বলার নেই তবে এইটুকু বলব যে, এসএসসি পাশের পর ব্যবসায় শিক্ষা শাখার শিক্ষার্থীদের সাধারণ গণিতটা আর করা হয়না কিন্তু বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা থেকে শুরু করে বিসিএস এবং যেকোনো পাবলিক পরীক্ষায় এখান থেকেই প্রশ্ন হবে তাই এই দুবছরেই যদি সাধারণ গণিত অনেক ভালভাবে আয়ত্তে আনতে পার তবে ভবিষ্যতে এই নিয়ে আর ঝামেলা হবেনা। পাশাপাশি, ইংরেজীটাও এই দুইবছরে অনেক ভালভাবে পড়ে ফেলবে কারণ বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা শাখার ভর্তি পরীক্ষাগুলোতে ইংরেজীতে পারদর্শিতাকে অনেক গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হয়। বাংলা ব্যাকারণের বেশিরভার প্রশ্নও মাধ্যমিকের বাংলা বই থেকে করা হয়।

এবার বাংলা শেখা হবে আনন্দের!

ঘ ইউনিটে পরীক্ষা দেয়ার ক্ষেত্রে বাংলা ভাষা চর্চার গুরুত্ব অপরিসীম!

তাই আর দেরি না করে, আজই ঘুরে এস ১০ মিনিট স্কুলের এক্সক্লুসিভ বাংলা প্লে-লিস্টটি থেকে!

এখন, যারা মাধ্যমিকে অন্য বিভাগে পড়ে উচ্চমাধ্যমিকে ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় এসেছো তাদের উদ্দেশ্যে প্রথমেই বলব উপরের ১ ও ৩ নম্বর পয়েন্ট দুটো পড়ে আসতে। এখানে ১ নম্বর পয়েন্টে যেটা করতে হবে ‘ব্যবসায় উদ্যোগ’ এর জায়গায় ‘ব্যবস্থাপনা’ এবং ‘মার্কেটিং’ অথবা ‘ব্যাংকিং ও বিমা’(যেই বিষয় তোমার থাকে) বসাতে হবে। উচ্চমাধ্যমিকের হিসাববিজ্ঞান বিষয়টা একটু জটিল। তাই শুরুতেই উচ্চমাধ্যমিকের বইটা না পড়ে মাধ্যমিকের বইটা থেকে এর বিষয়বস্তু সম্পর্কে ধারণা নিতে হবে এবং ফিন্যান্স ও হিসাববিজ্ঞান উভয় বিষয়ের পেছনেই একটু বেশি সময় ব্যয় করতে হবে। আর হ্যাঁ, ইংরেজীতে কোনোপ্রকার অবহেলা চলবেনা!

…সবশেষে বলব, ব্যবসায় শিক্ষা খুবই ইন্টারেস্টিং একটা বিষয় তবে এটা পুরোপুরি তোমার উপর নির্ভর করে যে তুমি এর সাথে বন্ধুত্ব করবে নাকি একে শত্রু বানাবে। হ্যাপি লার্নিং!


১০ মিনিট স্কুলের  অনুসরণ করতে সরাসরি চলে যেতে পারো এই লিঙ্কে: www.10minuteschool.com/admissions/live/

১০ মিনিট স্কুলের ব্লগের জন্য কোনো লেখা পাঠাতে চাইলে, সরাসরি তোমার লেখাটি ই-মেইল কর এই ঠিকানায়: [email protected]

শেয়ার কর! ?

লেখাটি ভালো লেগে থাকলে বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করতে ভুলবেন না!
What are you thinking?