ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় D unit: শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি

পুরোটা পড়ার সময় নেই? ব্লগটি একবার শুনে নাও

সামনেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ডি’ ইউনিটের পরীক্ষা। এই ইউনিটটাকে বলা হয় বিষয় পরিবর্তনের বিভাগ। তুমি যেই বিষয়ে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়ে এসেছো, সায়েন্স, কমার্স বা আর্টসের সেই বিষয়গুলো বাদে অন্য কোন বিষয় নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে চাইলে ‘ডি’ ইউনিট তোমার একমাত্র ভরসা।

ইতিমধ্যে বেশিরভাগ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা হয়ে গেছে। কেউ সফল হয়েছে, কেউ আবার ব্যর্থতা আর হতাশার বেড়াজালে আবদ্ধ হয়ে আছে। যাহোক, সফল-ব্যর্থ দুই শ্রেণীর জন্যই এখন এই ইউনিটটা খুব বেশি দরকারি। যারা দুর্ভাগ্যজনকভাবে বাদ পড়েছো, তোমাদের জন্যে বলতে গেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হবার শেষ সুযোগ এটা। আর যারা উত্তীর্ণ হয়েছো, তোমাদের জন্যেও আরো ভালো বিষয় পাবার সম্ভাবনাটা থেকেই যায় ‘ডি’ ইউনিট থেকে!

আর বেশিদিন বাকি নেই মহা কাজের এই পরীক্ষাটার। আজ তাই এই ইউনিটের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি নিয়ে লিখছি। জানোই তো, শেষ মুহূর্তে সঠিক প্রস্তুতিই তোমাকে এগিয়ে রাখতে পারে বাকিদের থেকে!

বাংলা:

ডি ইউনিটে ভর্তিপরীক্ষায় ভালো করতে হলে বাংলায় আলাদা করে বেশ ভালো নম্বর তুলতে হবে। কারণ এমন অনেক বিষয় আছে যেগুলোতে বাংলায় একটা ন্যূনতম নম্বর পেতে হয়, আর সেটি না পেলে সবমিলিয়ে অনেক ভালো নম্বর পেলেও কাঙ্ক্ষিত বিষয় পাওয়া যায় না। প্রস্তুতির শুরুটা তাহলে করা যাক বাংলা দিয়েই!

ব্যাকরণের ভয় করে ফেলো জয়!

বাংলা অংশে মোট ২৫টা প্রশ্ন থাকে, প্রতিটার নম্বর ১.২০ করে। এই ২৫টা প্রশ্নের একটা বড় অংশ থাকে খুব বেসিক ব্যাকরণ বিষয়ক জ্ঞান নিয়ে। না, এমন কোন প্রশ্ন থাকে না, যেখানে প্রাগৈতিহাসিক কালের কোন এক সন্ধিবিচ্ছেদ নিয়ে ইতিহাসবিদ এবং বাংলা বিশেষজ্ঞরা নিত্য কলহ করে চলেছেন। প্রশ্নগুলো হয় আমাদের চেনাজানা ব্যাকরণ থেকেই, প্রায়শই শব্দগুলোর দেখা মেলে তোমাদের পাঠ্যবইতে।

সমস্যা হলো যে, আমাদের প্রজন্ম ছোটবেলা থেকেই ব্যাকরণকে ভয় করে আসছে, আর তাদের এই ব্যাকরণ জুজুই মূলত ঘ ইউনিটে প্রায় প্রতিবারই বাংলা বিষয়ে বড় একটা অংশের ফেল করার কারণ বলা যায়। এই ভয়কে জয় করতে হবে ভর্তিযুদ্ধে জয়ী হতে হলে।

ব্যাকরণ এমন কঠিন কিছু নয়, শেষ মুহূর্তে এসে ব্যাকরণ নিয়ে বিগত বছরের প্রশ্নগুলো দেখতে থাকো আর কোন কোন টপিক বেশি দরকারি, সেগুলো খুব করে প্র্যাকটিস করতে থাকো। আর হ্যাঁ, পাশাপাশি নিয়মিত ব্যাকরণ নিয়ে মডেল টেস্ট দেবে, তাতে ব্যাকরণ চর্চাটা থাকবে।

সাফল্যের সূত্র গদ্য-পদ্যতেই!

বাংলা প্রথম পত্র আমাদের অনেকের কাছেই বেশ সোজা। মজাদার সব গদ্য-পদ্য থেকে প্রশ্ন আসে, মনে হয় এ আর এমন কি। মজার ব্যাপার হলো, এই গদ্য-পদ্য বিষয়ক প্রশ্নগুলোর শতভাগ সঠিক উত্তরই কিন্তু তোমার বাংলা নম্বরকে বাড়িয়ে তুলতে সহায়তা করতে পারে!

শেষ এই সময়টায় বাংলা গদ্য-পদ্যের শব্দার্থের পেছনে সময় দিলে সেটা অনেক কাজে দেবে। পাশাপাশি কবি ও লেখকদের জন্ম-মৃত্যু আর তাঁদের অসামান্য কৃতিত্বের কথাগুলো জেনে নিলে ভালো হয়। চেষ্টা করবে টীকা বা ব্যাখ্যাগুলো পড়ে নেয়ার। পুরো বাংলা বই পড়তে গেলে শেষ মুহূর্তে একদম সময় মিলবে না, তাই এই সময়টায় গদ্য-পদ্যের শব্দার্থ আর ব্যাখ্যা পড়ে নিলে দুটো কাজই একসাথে হয়ে যাবে!

ভুল ধরতে ভুল করো না!

খুব মজাদার কিছু প্রশ্ন থাকে ভর্তি পরীক্ষায়। যেমন, একটা ভুল বাক্য দেয়া থাকে, তার ভুল বের করতে বলা হয়। অদ্ভুত ব্যাপার হলো, অনেকেই সবগুলো ভুল ধরে ফেলতে পারে না। আর এখানেই তারা নেগেটিভ নম্বর পায় ভুল দাগিয়ে। এই ভুলটা করা যাবে না।

শেষ এই সময়ে ভুল ধরার বিদ্যা রপ্ত করায় বেশি করে গুরুত্ব দেয়া উচিত। এতে শুধুমাত্র যে ওই প্রশ্নের উত্তর দেয়া যাবে তা-ই নয়, পুরো ব্যাকরণ সম্পর্কে সহজ একটা ধারণা তৈরি হয়ে যাবে। তাতে লাভটা হলো যে অন্যান্য ব্যাকরণ-নির্ভর প্রশ্নের উত্তর দিতে অনেক কাজে লাগবে এই জ্ঞান। নিয়মিত অনুশীলন করলে নিশ্চিতভাবেই এই বিদ্যায় অসামান্য হয়ে উঠতে পারবে তুমি।

ইংরেজি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডি ইউনিটে পাসের হার শতকরা দশ ভাগের হার পেরিয়ে আর বেশিদূর এগোতে না পারার একটা কারণ হলো ইংরেজি। হ্যাঁ, ইংরেজি একটা বিদেশী ভাষা, এটা শিখতে ও এ নিয়ে পরীক্ষা দেয়াটা অবশ্যই কঠিন একটা কাজ। কিন্তু তবুও বিশাল সংখ্যক পরীক্ষার্থীদের ইংরেজির কারণে অকৃতকার্য হওয়ার ব্যাপারটায় পরিবর্তন আনা দরকার। আর সে পরিবর্তন আনতে পারো তুমিই, সঠিকভাবে প্রস্তুতি নিয়ে!

বুঝে বুঝে গ্রামার পড়ো!

ইংরেজি পরীক্ষার প্রায় প্রতিটা অংশেই রয়েছে গ্রামারের ছোঁয়া। তাই গ্রামারের বেসিক ভালো না হলে ইংরেজিতে ভালো নম্বর তোলা খুব কষ্টকর একটা বিষয় হয়ে দাঁড়াবে। ভর্তি পরীক্ষার্থীদের একটা বড় সমস্যা হলো, যে তারা গ্রামারের নিয়মগুলো একটানা মুখস্ত করতে থাকে। যারা ইংরেজিতে একটু কাঁচা তাদের এই সমস্যাটা আরো বেশি প্রকট।

বাস্তবতা হলো, একটানা এতগুলো নিয়ম মুখস্থ করে বেশিরভাগ সময়েই প্রশ্নপত্র হাতে পেয়ে কিছুই মনে থাকে না। সদ্য মুখস্ত হওয়া নিয়মগুলো জট পাকিয়ে যায়, চোখের সামনে অন্ধকার দেখে এসব শিক্ষার্থীরা। আর এজন্যেই একটানা মুখস্থ না করে বুঝে বুঝে গ্রামার পড়া উচিত। ইংরেজি গ্রামার খুব ইন্টারেস্টিং একটা বিষয়, তাই অর্থ বুঝে বুঝে পড়লে গ্রামারে কোন সমস্যাই হবে না তোমার! শেষ মুহূর্তে এটা করতে পারো তুমি।

ভোকাবুলারি জুজু তাড়াও

ভোকাবুলারি! নাম শুনলেই কেন যেন বেশিরভাগ ভর্তি পরীক্ষার্থীর হাজার ভোল্টের বৈদ্যুতিক শক লাগে! সবাই একবাক্যে বলে বসে, ভোকাবুলারি মহা জ্বালা। এই ভীতি কাটানো শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি হিসেবে অনেক কাজে দেবে।

বিগত বছরের প্রশ্নগুলো ফলো করলে কিন্তু দেখা যাবে, পৃথিবীর সবথেকে বড় শব্দ আসেনি ভোকাবুলারি হিসেবে, কিংবা অ্যাংলো স্যাক্সন উপভাষা থেকে উঠে আসা কোন শব্দের অর্থও জানতে চাওয়া হয় নি প্রশ্নে। সাধারন যেসব ভোকাবুলারি, বিভিন্ন মডেল টেস্টে যেসব ভোকাবুলারি নিয়ে পরীক্ষা দিয়েছো, বারবার সেগুলোই দেখতে থাকো। শেষ মুহূর্ত, তাই হুট করে নতুন কিছু শিখতে যাবে না। যা শিখেছো এতদিনে, সেই ভোকাবুলারিগুলোই বার বার করে ঝালিয়ে নাও, ভীতি তাড়াও!

মন দিয়ে প্যাসেজ পড়ো

ইংরেজি পরীক্ষার বড় একটা নম্বর থাকে সিন কম্প্রিহেনশন এর মতো একটা প্যাসেজে। প্যাসেজ নিয়ে বেশকিছু প্রশ্ন হয়, আদতে সেটা ইংরেজিতে ভালো নম্বর তুলবার জন্য দারুণ কার্যকর একটা সুযোগ বলা যায়। যেহেতু প্রশ্নের মাঝেই উত্তর, তাই প্যাসেজ পড়লেই সেখান থেকে উত্তর খুঁজে নেয়া যাবে।

প্রশ্ন উঠতেই পারে, প্যাসেজ তো অনেক বড়, পুরোটা পড়ে শেষ করতে করতে তো অনেক সময় চলে যাবে! এই সমস্যার সমাধান করবে নিয়মিত প্র্যাকটিস। প্যাসেজ নিয়ে খোদ ১০ মিনিট স্কুলেই বেশ কিছু কার্যকর মডেল টেস্ট রয়েছে, সেগুলো থেকেও প্র্যাকটিস করতে পারো তুমি। মোদ্দা কথা, বুঝে বুঝে সময় মানিয়ে পুরো প্যাসেজটা পড়লেই এই বিষয়ে পূর্ণ নম্বর পাওয়া যাবে বলে আমার বিশ্বাস।

সাধারন জ্ঞান

ডি ইউনিটে নম্বর তোলার কারখানা বলা যেতে পারে সাধারন জ্ঞানের এই সেক্টরটিকে। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন তথ্য সম্পর্কে জানা থাকলে ভালো করা যায় এখানে। মোটমাট ৫০টা প্রশ্নের ঠিকঠাক উত্তর দিতে পারলে খুব সহজেই প্রচুর নম্বর পেয়ে এগিয়ে থাকা যায় অন্যদের থেকে। তাই নম্বর তুলতে সাধারন জ্ঞানে অসাধারন হতেই হয়!

মন দাও সাম্প্রতিকে

সাধারন জ্ঞানে ভালো করার একটা একশো ভাগ কার্যকর উপায় হচ্ছে সাম্প্রতিক বিষয়গুলো খুব ভালোভাবে রপ্ত করে যাওয়া। সাম্প্রতিক বিষয় থেকে বেশকিছু প্রশ্ন আসে, তাই অতি সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোয় মনোনিবেশ করতে হবে। কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স হতে পারে শেষ সময়ে তোমার প্রস্তুতির অস্ত্র। পাশাপাশি নিয়মিত খবরের কাগজের পাতায় চোখ বুলিয়ে নিতে হবে। মনে রাখবে, আজকের সংবাদপত্রই আগামী দিনের সিলেবাস!

শেষ সময়ে আরেকটা কাজ করতে পারো। বইয়ের দোকানগুলোতে তথ্যবহুল সব মানচিত্র পাওয়া যায়। বাংলাদেশ আর বিশ্বের দুটো মানচিত্র কিনে নাও। এবার দেখবে এতদিনে পড়া অনেক ভৌগোলিক প্রশ্নের উত্তর তোমার চোখের সামনেই! জটিল প্রণালী আর কঠিন পর্বতমালা মনে রাখা হবে আরো সহজ!

ফোকাস করো তোমার কোথায় দুর্বলতা, আর সেখানেই জোর দাও

আস্থা রাখো ইতিহাসে

বাংলাদেশের ইতিহাস এমন এক বিস্তৃত বিষয় যে এ নিয়ে পড়তে গেলে কূলকিনারা খুঁজে পাওয়া কঠিন। তবে ঘ ইউনিটের ইতিহাসের সিলেবাস অনুসারে এগুলে খুব ভালোভাবেই প্রস্তুতি নেয়া হয়ে যায়। বাংলাদেশের ইতিহাস ও সংস্কৃতি থেকে প্রশ্ন আসেই, আর এগুলো নিয়ে ভালো জ্ঞান রাখাটা জরুরি।

ইতিহাসের কাহিনী গল্পের মতো করে পড়া যায়। কোন রাজার পরে কোন রাজা, কে কী করলেন, সব একদম গল্পের ছলে মনে রাখা যায়। শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে তাই গল্পের মতো করে হলেও ইতিহাসের দখল বাড়াও, অনেক কাজে দেবে।

বাদ যাবে না একটি সালও

ভর্তিপরীক্ষার্থীরা সালের নাম শুনলেই কেন যেন আঁতকে ওঠে। তাদের কাছে সালগুলো মনে রাখা বড্ড কঠিন মনে হয়। অথচ এই সালগুলো মনে রাখলে এগুলোর সঠিক প্রয়োগ তোমার ভর্তিপরীক্ষায় ভালো ফল এনে দিতে পারে।

শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে সালগুলো মনে রাখার প্রজেক্ট হাতে নাও। একটা খাতায় গুরুত্বপূর্ণ সালগুলো সিরিয়াল সাজিয়ে লিখে ফেলো। এরপরে পাশে সালগুলো কেন বিখ্যাত- সেটাও লিখে ফেলো। তাহলে পুরো ব্যাপারটা মনে রাখতে অনেক সহায়ক হবে।

এই লেখাটা তুমি যখন পড়ছো তখন ডি ইউনিটে ভর্তি পরীক্ষার আর সম্ভবত চার দিন বা তারও কম সময় হাতে আছে তোমার। এই স্বল্প সময়টাতে হুলস্থুল করে একগাদা পড়া করতে গেলে ফলাফল ভালো না হওয়াই স্বাভাবিক। অল্প সময় আছে, তাই নিজের মতো করে পড়া শুরু করে দাও এখনই। ফোকাস করো তোমার কিসে দুর্বলতা, আর সেখানেই জোর দাও। বার বার সেগুলোই পড়তে থাকো।

আর হ্যাঁ, প্র্যাকটিস চালিয়ে যেতে হবে। বাজারে বিভিন্ন মডেল টেস্টের বই কিনতে পাওয়া যায়, আমাদের ১০ মিনিট স্কুলেও কিন্তু ভর্তি পরীক্ষার জন্যে রয়েছে আলাদা সেগমেন্ট, যেখানে শয়ে শয়ে মডেল টেস্ট রয়েছে। শেষ এই সময়ে নিজেকে বার বার ঝালাই করে নাও এসব মডেল টেস্ট দিয়ে।

এইটুকু মাথায় রাখো, যে একটা প্ল্যান করে প্রস্তুতি নেয়া উল্টোপাল্টা বই খুলে বসে থাকার চেয়ে অনেক বেশি কাজের। তাই শেষ এই সময়টায় এগুতে থাকো নিজের মতো করে। এই লেখার টিপসগুলো মাথায় রেখে নিজের অক্ষমতাগুলোকে খুঁজে নিয়ে গোছানোভাবে শুরু করো শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। বিজয় তোমার হবেই!

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে টিএসসির চায়ের দাওয়াত রইলো।


১০ মিনিট স্কুলের লাইভ এডমিশন কোচিং ক্লাসগুলো অনুসরণ করতে সরাসরি চলে যেতে পারো এই লিঙ্কে: www.10minuteschool.com/admissions/live/

১০ মিনিট স্কুলের ব্লগের জন্য কোনো লেখা পাঠাতে চাইলে, সরাসরি তোমার লেখাটি ই-মেইল কর এই ঠিকানায়: [email protected]

লেখাটি ভালো লেগে থাকলে বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করতে ভুলবেন না!
What are you thinking?