ডিএনএ একই অথচ যমজ নয়!


পুরোটা পড়ার সময় নেই? ব্লগটি একবার শুনে নাও।

ছোটবেলায় অনেকেই ভাবতাম “জমজ হলে কি একজন ব্যথা পেলে অন্যজনেরও কষ্ট হয়?” অবশ্য এরকম অদ্ভুত চিন্তার পেছনের কারণটা ছিল বিভিন্ন সিনেমার দৃশ্য। বড় হওয়ার সাথে সাথে এই ধারণাটা যে একেবারেই ভিত্তিহীন সেটি বোঝা গেলেও, আরেকটা ধারণা কিন্তু পরিষ্কার হয় না অনেকেরই। কী সেটা? সেটা হলো “জমজ হলেই সবকিছু একরকম হবে”।একদম হুবহু একই রকম জমজ অর্থাৎ আইডেন্টিকাল টুইন এর ক্ষেত্রে এই ধারণা ভীষণ প্রচলিত!  কিন্তু আসলেই কি তাই? আসলেই কি আইডেনটিকাল টুইন মানেই সব একই রকম?

শুধু ডিএনএ একজন মানুষের সকল বৈশিষ্ট্যের নিয়ন্ত্রক না

আইডেন্টিকাল টুইন কী?

এই সম্পর্কে জানার আগে আমাদের বুঝতে হবে আইডেন্টিকাল টুইন কেন জন্ম নেয়। একটি শিশু মায়ের গর্ভে প্রথমে ভ্রূণ হিসেবে থাকে। সাধারণত একটি ভ্রূণ থেকে একটি শিশুই জন্ম নেওয়ার কথা। কিন্তু কোন এক অজানা কারণে ভ্রূণ ভাগ হয়ে দুটো আলাদা ভ্রূণে পরিণত হয়। এক্ষেত্রে ভ্রূন দু’টির ডিএনএ কিন্তু একই! কারণ কী বলো তো? যেই জাইগোট থেকে ভ্রূণ দুইটি তৈরি হয়েছিল, তা একই ডিম্বাণু ও শুক্রাণুর মিলনে তৈরি। এ কারণে তাদের ডিএনএ একই হবে। তাদের শরীরের অবস্থিত জিন গুলোও একই হবে।

দারুণ সব লেখা পড়তে ও নানা বিষয় সম্পর্কে জানতে ঘুরে এসো আমাদের ব্লগের নতুন পেইজ থেকে!

কিন্তু….

কিন্তু তাদের বাহ্যিক বৈশিষ্ট্য বা শারীরিক অবস্থা যে একই রকমের হবে তার কোনো নিশ্চয়তা দেওয়া সম্ভব না। কেন? কারণ শুধু ডিএনএ একজন মানুষের সকল বৈশিষ্ট্যের নিয়ন্ত্রক না! শুনতে অদ্ভুত শোনালেও এটাই সত্যি। ডিএনএর সাথে সাথে পরিবেশের প্রভাবও রয়েছে।

টুইন বেবির রহস্য!

টুইন বেবির নাম জানলেও এটি নিয়ে পরিষ্কার ধারণা আছে ক’জনের? টুইন বেবি আর তার ডিএনএ এর সাতসতেরো জানতে দেখে নাও এই ভিডিওটি!

জীববিজ্ঞান আরো ভালোভাবে বুঝতে দেখে এসো এই প্লে-লিস্টটি!
১০ মিনিট স্কুলের Bio Hacks ভিডিও সিরিজ


বৈশিষ্ট্য যেভাবে প্রকাশ পায়ঃ

ডিএনএ তে যেই জিনগুলো বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণ করে তাদের একটা প্রোমোটার থাকে। এই প্রোমোটারগুলো অনেকটা সুইচের মতন। যেকোনো কিছু চালু করতে হলে যেমন সুইচ অন করা প্র‍য়োজন তেমনি এই জিন গুলো কাজ করার জন্যেও প্রোমোটার চালু করার প্রয়োজন। এখন প্রশ্ন হচ্ছে প্রোমোটার কি সবসময় কাজ করে না? উত্তরটা হচ্ছে, না। প্রোমোটার গুলো আবার কিছু সংকেতের অপেক্ষায় থাকে। এই সংকেত গুলো সে পায় পরিবেশ থেকে। পরিবেশ অনুযায়ী এগুলোর কাজ করার ধরণও বদলে যেতে পারে। অনেকসময় কখনোই জিনগুলো কাজ নাও করতে পারে!

কোনো সমস্যায় আটকে আছো? প্রশ্ন করার মত কাউকে খুঁজে পাচ্ছ না? যেকোনো প্রশ্নের উত্তর পেতে চলে যাও ১০ মিনিট স্কুল লাইভ গ্রুপটিতে!

এ নিয়ে একটা গল্প বলা যায়। আদিব আর আসিফ জমজ ভাই। মজার ব্যাপার হচ্ছে এরা আইডেন্টিকাল টুইন হলেও একজন ভীষণ মোটা আর আরেকজন অত মোটা নাহলেও হৃদরোগে আক্রান্ত। আবার চেহারার মধ্যেও খুব বেশি মিল নেই।  কারণটা খুঁজতে গিয়ে জানা গেল, আদিব তার জীবনের বিশাল অংশ কাটিয়েছে আমেরিকায়। আর আসিফ ছোটোবেলা থেকে বাংলাদেশেই ছিল। গবেষণায় দেখা যায় আমেরিকার লোকদের মধ্যে স্থূলতা প্রকট আকার ধারণ করেছে। এর প্রধান কারণ হল খাদ্যাভ্যাস। আবার বাংলাদেশের মানুষ অতটা ফাস্টফুড এর উপর নির্ভরশীল না হলেও উচ্চ রক্তচাপ আর হৃদরোগের শিকার। এর কারণ হচ্ছে জীবনযাপনের পদ্ধতি।
এখন কি বুঝতে পারছ আদিব আর আসিফের মধ্যে এত পার্থক্য থাকার কারণ? আদিব আমেরিকার পরিবেশ আর আসিফ বাংলাদেশের পরিবেশ দ্বারা প্রভাবিত হওয়ার ফলেই এটা ঘটেছে।

এবার বিশ্বাস হচ্ছে তো, ডিএনএ একইরকম হলেও আইডেন্টিকাল টুইনদের সবকিছু কিন্তু একরকম না!


১০ মিনিট স্কুলের লাইভ এডমিশন কোচিং ক্লাসগুলো অনুসরণ করতে সরাসরি চলে যেতে পারো এই লিঙ্কে: www.10minuteschool.com/admissions/live/

১০ মিনিট স্কুলের ব্লগের জন্য কোনো লেখা পাঠাতে চাইলে, সরাসরি তোমার লেখাটি ই-মেইল কর এই ঠিকানায়: write@10minuteschool.com

লেখাটি ভালো লেগে থাকলে বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করতে ভুলবেন না!
Author

Sabiha Tasnim Nishy

A flower enthusiast, dreamer, explorer, loves to do ambigram,wants to be a travel blogger someday! But right now trying to be an agriculturist and is scribbling on everyone's slate unintentionally.
Sabiha Tasnim Nishy

Latest posts by Sabiha Tasnim Nishy (see all)

এই লেখকের অন্যান্য লেখাগুলো পড়তে এখানে ক্লিক করুন
What are you thinking?