Frustration, পড়াশোনা এবং কিছু কথা

পুরোটা পড়ার সময় নেই? ব্লগটি একবারে শুনে নাও!

স্কুল কিংবা কলেজে পাশে বসা “আমি-সব-প্রশ্নের-উত্তর-জানি” কিংবা “ঈশ্বর-প্রদত্ত-মেধাসম্পন্ন” বলে নামডাক ছড়ানো পরিচিত ছেলে কিংবা মেয়েটার দিকে তাকিয়ে কম বেশি আমরা সবাই একটা সময় বেশ frustrated হতাম, বা এখনো হই। অনেকে আবার হয়ত ভাবা শুরু করে “ছেলেটা/মেয়েটা গ্যালাক্সির অন্যপ্রান্ত থেকে আসা কোনো অ্যালিয়েন নয় তো!” হুম্, বেশ চিন্তার বিষয়! কিন্তু যত ভাবনা চিন্তাই করা হোক না কেন তার সকল রহস্য উদ্ঘাটনে, খুব কম ছাত্রছাত্রীই আছে যারা নিজ থেকে যেয়ে কথা বলে সেইসব ‘অ্যালিয়েন’দের সাথে তাদের ‘অস্বাভাবিক’ ফলাফলের কারণ জানতে।

তোমার স্বপ্নের পথে পা বাড়ানোর ক্ষেত্রে তোমার ইংরেজির জ্ঞান কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারে! তাই আর দেরি না করে, আজই ঘুরে এসো ১০ মিনিট স্কুলের এই এক্সক্লুসিভ প্লে-লিস্টটি থেকে!

এ তো গেল সমস্যার একটা অংশ। অনেকে আবার নিজের শোচনীয় অবস্থার কথা চিন্তা করে ভেঙ্গে পড়ে, হতাশায় ডুবতে থাকে একটু একটু করে…আর facebook এ pissed off স্ট্যাটাস দিয়েই সকল দায়িত্ব শেষ বলে মনে করে। আসলেই কি তাই? কিছুই কি করার নেই ‘হতাশা’ নামক বিষয়টা কাটিয়ে উঠার?

আমাদের দেশের গতানুগতিক শিক্ষাব্যবস্থার একঘেয়ে স্টাইলের বদৌলতে ‘পড়াশোনা’ মানেই এক বিভীষিকা ছাত্রছাত্রীদের কাছে। ‘পড়তে বসতে হবে’-এ কথা ভাবলেই যেখানে জ্বর উঠে যাবার উপক্রম হয় সবার, সেখানে হতাশ হওয়াটাই বোধ করি স্বাভাবিক। কিন্ত বাস্তবতা কি বলে?

ঘুরে আসুন: Life Quotes by Famous People that will Brighten your Day

নাহ। মোটেই না। হয়তবা যারা এই লেখাটা পড়ছ/পড়ছেন, ইতিমধ্যেই তাদের নাক-ভ্রূ কুঁচকে গেছে। ‘পড়ালেখা’ বিষয়টা পবিত্র। জোর করে যেমন কিছু হয় না, এটাও ঠিক তাই। একে শ্রদ্ধা করতে হয়, ভালোবাসতে হয়, যত্ন করতে হয়, একটু একটু করে সখ্যতা গড়ে তুলতে হয় এর সাথে। অদ্ভুত লাগছে কথাগুলো? বাস্তবতা কিন্তু এটাই। তোমরা যাদের “ঈশ্বর-প্রদত্ত-মেধাসম্পন্ন” বলে মনে কর, তারা ঠিক এই কাজটাই করে।

অ্যালবার্ট আইনস্টাইনের অনেক উক্তির মাঝে একটা আমার বেশ পছন্দ। “Insanity: doing the same thing over and over again and expecting different results.একদম খাঁটি কথা। অর্থাৎ তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, প্রতিনিয়ত একই কাজ দিনের পর দিন করে গেলে এই প্রচেষ্টা থেকে কখনো ভালো ফল আশা করা যায় না, আর যদি আশা করে থাক তবে তুমি insane বা উন্মাদ বৈ আর কিছুই নও!

যারা নিজেদের এতদিন হতাশার সাগরে ডুবিয়ে রেখেছিলে, বুঝতেই পারছ কি দরকার তোমাদের। YOU NEED CHANGE. যদি ভালো কিছু করতে চাও তোমার বর্তমান অবস্থা থেকে, পরিবর্তন আন। হতে পারে সেটা তোমার পড়ার স্টাইলে কিংবা পড়াশোনার প্রতি তোমার দৃষ্টিভঙ্গিতে। আর তোমাদের কথা মাথায় রেখে এই ‘change’ এর সুবিধার্থে কিছু গুটিকয়েক পরামর্শ।

লাগাতার পড়া: ঠিক তো?

কখনো কি এমন হয়েছে, তুমি পড়তে বসেছ ঘন্টাখানেক আগে কিন্তু যতই সময় বাড়ছে ততই মাথায় যেন কিছুই ঢুকছে না? তুমিও আর না পেরে রাগ করে ‘আমাকে দিয়ে কিছুই হবে না’ ভাবতে ভাবতে উঠে পড়লে পড়া থেকে…কিংবা হয়তবা তুমিও ক্ষান্ত দেবার পাত্র নয়! লেগেই আছ পড়াটা নিয়ে……যদি এমনটা হয়ে থাকে তবে দুটোই ছিল তোমার ভুল! আমাদের অনেক সাধারণ ভুল পদ্ধতির একটা হল লাগাতার পড়ে সব শেষ করে ফেলার ঝোঁক। আমরা সবাই ভাবি একটানা পড়লেই বোধহয় পড়ার flow তে সব শেষ হয়ে যাবে। গবেষণা কিন্তু ভিন্ন কথা বলে। তুমি একটানা না পড়ে যদি  বিশ্রাম নিয়ে নিয়ে একই পড়াটা বিভিন্ন interval-এ পড়, তাহলে পড়াটা মনে থাকে বেশী। আমি কিন্তু এসব নিজ থেকে বলছি না। এগুলো সবই হল বিভিন্ন গবেষনাপ্রাপ্ত ফলাফল।

এখন প্রশ্ন আসতে পারে, “এত এত পড়া, interval নিয়ে পড়তে গেলে তো কিছুই শেষ হবে না!” একটু খেয়াল কর। আমি কিন্তু বলেছি “বিশ্রাম নিয়ে নিয়ে একই পড়াটা বেশ বিভিন্ন interval এ পড়”- আমি কিন্তু বলিনি ‘বিভিন্ন পড়া’! অর্থাৎ বিশ্রাম বলতে হতে পারে তুমি এতক্ষণ পদার্থবিজ্ঞান পড়ছিলে, এখন সেটা রেখে ইংরেজী পড়লে কিছুক্ষণ। আশা করি বুঝতে পেরেছ।

সঙ্গীতে মনচর্চা

আমার এক বন্ধু আছে। সারাদিন তো গান শুনেই, পড়ার মাঝে তো অবশ্যই। ওর মূলমন্ত্রই যেন, “Earphones in. Volume up. Ignore the world”। এটা নাকি ওর mind refresh করে পড়ার মাঝে। এ কথা শোনার পর আমি বেশ ঘাটাঘাটি করলাম বিষয়টা নিয়ে আর আবিষ্কার করলাম আসলেই তাই! আমরা তো সবাই জানি যে ‘music cheers people up’। কিন্তু পড়াশোনার সাথে যে এর এত ঘনিষ্ট সম্পর্ক আর এটা নিয়ে যে ইতিমধ্যেই শত শত গবেষণা হয়ে গেল, তা আর কয়জনই বা জানতাম আমরা। তো পড়ার মাঝে কিংবা বিরতির ফাঁকে ফাঁকে যদি গান শোন, আশা করি উপকৃত হবে।

এবার বাংলা শেখা হবে আনন্দের!

আমাদের প্রতিটি প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বাংলা ভাষা চর্চার গুরুত্ব অপরিসীম!

তাই আর দেরি না করে, আজই ঘুরে এস ১০ মিনিট স্কুলের এক্সক্লুসিভ বাংলা প্লে-লিস্টটি থেকে!

১০ মিনিট স্কুলের বাংলা ভিডিও সিরিজ

কঠিন বিষয়গুলো আগে

‘Human psychology’ বড্ড অদ্ভুত এক জিনিস। প্রতিটি মানুষ তার নিজের মত করে সব কিছু পেতে চায়, নিজের comfort zone থেকে বের হতে চায় না। এক্ষেত্রেও একই। সবাই চায় কঠিন বিষয়গুলো শেষে পড়তে। শুরুটা করতে চায় সহজ কোন topic দিয়ে। কিন্তু একটা জিনিস খেয়াল কর। পড়তে বসার শুরুর দিকে আমাদের মনোযোগ বল আর পড়ার স্পৃহাই বল, দুটোই বেশি থাকে। ‘পরে পড়ব, এখন না’- এরকম করতে করতে হয়তবা শেষে আর সময়ই পাবে না ভালোভাবে পড়ার। আর তাই কঠিন বিষয়গুলো আগে পড়াই সঠিক সিদ্ধান্ত। যদি তুমি ইতিমধ্যেই কঠিন বিষয়গুলো আগে পড়ায় অভ্যস্ত হয়ে থাক, তাহলে তো ভালোই। আর যদি এখনো না হও, তবে আজ থেকেই শুরু কর দাও!

আমি জানি আমি কি করছি 

এটা বেশ গুরুত্বপূর্ণ। নিশ্চয়ই তোমার বাবা-মা কিংবা বাসার প্রাইভেট টিউটর তোমার থেকে ভালো জানবেন না তোমার পড়াশোনার অবস্থা কিংবা কোন বিষয়ে তোমার বেশি নজর দেওয়া উচিত। এটা তুমি জানবে ভালো, যদি না তুমি ক্লাস থ্রি-ফোর এর হও! একটা কথা চিন্তা কর। যদি তুমি পড়াশোনা নিয়ে হতাশ হয়ে সব ছেড়ে দাও কিংবা মন খারাপ করে বসে থাক তাহলে কিন্তু নিজেরই ক্ষতি। তোমার জীবনের দায়-দায়িত্বতো নিশ্চয়ই আর কেও নিবে না! আর এভাবে থাকলে কিন্তু তোমার পড়ালেখার কোন উন্নতি হবে না, বরং দিন দিন খারাপ হবে। তাই তুমি কি করছ, সেটা ঠিক কিনা- এসব নিয়ে নিজের খুব ভালো ধারণা থাকা ভীষণ জরুরী। নাহলে কিন্তু তোমার সব চেষ্টা, আমার এত কথা- সবই বৃথা যাবে।

 

পুরষ্কার এখন হাতের মুঠোয়!

এটা কিন্তু বেশ উপকারী। পুরষ্কার কিংবা খানিকটা বাহবা পেতে কে না ভালোবাসে। তাই বলে সেটা তো আর সবসময় পাওয়া সম্ভব নয়। আসলেই? কেমন হয় যদি বলি নিজের পুরষ্কার নিজের থেকেই নাও! এও কি সম্ভব? অবশ্যই। মনে কর তোমার রসায়নের তিনটা অধ্যায় পড়ে শেষ করতে হবে। কিন্তু তোমার যে “মন বসে না পড়ার টেবিলে” টাইপ অবস্থা! কি করবে? এভাবে তো আর থাকা যায় না। তো তুমি নিজের মনেই ঠিক করে ফেল, ‘আমি এই তিনটা অধ্যায় শেষ করতে পারলেই আমার প্রিয় সিরিজের দুটো এপিসোড দেখবো, অন্যথায় না!’ পড়তে তো তোমাকে হবেই তখন, কারণ তুমি নিশ্চই এটা মিস করতে চাইবে না!

ঘুরে আসুন: ৬টি উপায়ে মানসিকতা হোক আরো সুন্দর

এটা তো গেল একটা সাধারণ উদাহরণ। তুমি কি পুরষ্কার নিবে সেটা তো তুমি নিজেই ভালো জান। দেখবে একবার দুবার এরকম করলেই নিজের মাঝে একটা প্রফুল্লতা তো অনুভব করবেই, পড়াশোনাটাও ঠিকমত হবে। কথা একটাই- JUST FOCUS ON WHAT YOU REALLY NEED TO DO; DO ANYTHING TO MAKE THAT HAPPEN.

কোনো সমস্যায় আটকে আছো? প্রশ্ন করার মত কাউকে খুঁজে পাচ্ছ না? যেকোনো প্রশ্নের উত্তর পেতে চলে যাও ১০ মিনিট স্কুল লাইভ গ্রুপটিতে!

BUILD YOUR OWN STYLE

এটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। অনেকে তোমাকে অনেক কথাই বলবে। এই যেমন এতক্ষণ যাবত আমিও বলে গেলাম। সবকিছুর পরেও তোমার নিজস্ব একটা স্টাইল থাকা উচিত। যেমন মনে কর, আমার কলেজের সবচেয়ে মেধাবী বন্ধু অয়নের স্টাইলটা ছিল একদম অন্যরকম। অয়ন এক-দেড় ঘন্টা পড়ার পর পর আধ ঘন্টার মত ঘুমিয়ে নিত। এতে তার নাকি মনে রাখতে সুবিধা হত। এটা ছিল তার পড়ার স্টাইল। অনেকের রুটিন করে পড়লে পড়া ভালো হয়, অনেকেই আবার রুটিনটার জন্য চাপ অনুভব করে (যদিও রুটিন করে পড়াটা অধিকাংশ সময়ই উপকারী)। রাত জেগে পড়াটা অনেকের জন্য ভালো, অনেকেই আবার জিনিসটার সাথে মানিয়ে নিতে পারে না। কোনভাবে পড়লে তুমি আগের থেকে ভালোভাবে পড়তে পারবে, বেশী পড়তে পারবে- এটা একটু চিন্তা করেই বের করা সম্ভব। তবে যেভাবেই পড় না কেন, কিছু সাধারণ বিষয় মাথায় রাখা জরুরী। এই যেমন দিনে পর্যাপ্ত ঘুম। রাতে দেরী করে ঘুমালে সকালে হয় দেরীতে উঠতে হবে না হয় দুপুরে কিছুক্ষণ ঘুমিয়ে নিতে হবে। আমরা যাই পড়ি না কেন, মস্তিষ্কে সেসব সংরক্ষণের কাজ হয় এই ঘুমের মাঝে। আর তাই এর অনিয়ম কোনোভাবেই না।

এই তো। একেবারে শেষে চলে এসেছি। পড়াশোনা নিয়ে হতাশ হওয়ার কোন কারণই নেই। একটু নিয়মিত আর মাথা খাটিয়ে পড়লেই দেখবে ফল ভালো হওয়া শুরু করেছে, ইনশাআল্লাহ! তাছাড়াও youtube এ এসব নিয়ে অনেক ভিডিও পাবে। সেসব দেখলেই পুরো পড়ালেখা বিষয়টার প্রতি ভীতিই বল কিংবা ‘হতাশ’ মানসিকতাই বল, চলে যাবে।

এখন তো তুমি জেনেই গেলে, “ঈশ্বর-প্রদত্ত-মেধাসম্পন্ন”এর পেছনের কথা। তাহলে আজ থেকেই লেগে পড়!!!


১০ মিনিট স্কুলের লাইভ এডমিশন কোচিং ক্লাসগুলো অনুসরণ করতে সরাসরি চলে যেতে পারো এই লিঙ্কে: www.10minuteschool.com/admissions/live/

১০ মিনিট স্কুলের ব্লগের জন্য কোনো লেখা পাঠাতে চাইলে, সরাসরি তোমার লেখাটি ই-মেইল কর এই ঠিকানায়: write@10minuteschool.com

লেখাটি ভালো লেগে থাকলে বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করতে ভুলবেন না!
What are you thinking?