এমিনেম: নির্যাতিত কিশোর থেকে ‘র‍্যাপ গড’ হয়ে ওঠা


পুরোটা পড়ার সময় নেই? ব্লগটি একবার শুনে নাও।

জীবন শুধু রং আর রঙধনুর খেলায় নয়। জীবনের একটি না একটি পর্যায়ে তোমাকে ভয়ংকর চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতেই হবে, দুঃখ-দুর্দশার তোমার সঙ্গী হবেই। তখন হয়তো মনে হবে সাফল্যের মুখ দেখা তোমার কখনোই হবে না, ইচ্ছে হবে হাল ছেড়ে দিতে। কিন্তু সত্য কথা হচ্ছে, সেই খারাপ সময়টগুলোই তোমার জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সময়। কারণ এই সময়গুলোই তোমাকে সবচেয়ে বেশি শেখায়, শক্তির সঞ্চার করে। এবং একসময় যখন পেছনে তাকাবে, দেখবে এই সময়গুলোই তোমাকে তৈরি করেছে। আপনার সুখের সময়গুলো নয়।

এই সংগ্রামের মধ্য দিয়ে নিজেকে তৈরি করা, খারাপ সময়কে পুঁজি করেই নিজের শক্তিকে প্রকাশ করার অন্যতম বড় উদাহরণ হচ্ছে “র‍্যাপ গড”-খ্যাত এমিনেম। এক হাড় জিরজিরে স্বল্পভাষী কিশোর হিসেবে সমাজ থেকে পরিবার থেকে পরিত্যক্ত হয়েছিলেন যিনি, তিনি এখন বিশ্বব্যাপী উদযাপিত একজন শিল্পী। একসময় যিনি থালাবাসন মেজে জীবিকা নির্বাহ করেছেন, বাস্তুহীন জীবন কাটিয়েছেন, তিনিই এখন বিশ্বসেরা হিপহপ আর্টিস্ট। তাই আজ যখন চারপাশের হাজার হাজার তরুণের প্রতিদিনের সঙ্গী হতাশা, এমিনেমের গল্পই আমাদের চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় জীবনের সম্ভাবনাকে, সংগ্রামের সৌন্দর্যকে।

শুধু তাই নয়, এই প্রতিবন্ধকতাপূর্ণ জীবনের একটু গভীরে তাকাতে গেলে, সেখানে শুধুই একজন প্রতিভাবান শিল্পীকে পাওয়া যায় না, পাওয়া যায় একজন স্নেহময় নিবেদিত পিতাকে, একজন সৎ এবং সাহসী ব্যক্তিত্বকে। অনেক চড়াই উতরাই পেরোনো এই মানুষটার জীবনের গল্পটা তাই আমাদের সবার জন্যই হতে পারে অনুপ্রেরণাদায়ক এবং শিক্ষণীয়।

দারুণ সব লেখা পড়তে ও নানা বিষয় সম্পর্কে জানতে ঘুরে এসো আমাদের ব্লগের নতুন পেইজ থেকে!

শুরুর গল্পটা

মার্শাল ব্রুস ম্যাথার্স থ্রি ওরফে এমিনেমের জন্ম ১৯৭২ সালের অক্টোবর এর ১৭ তারিখ, যুক্তরাষ্ট্রের মিসৌরির সেন্ট জোসেফে। তার মায়ের বয়স তখন পনের, বাবা ইতোমধ্যেই ঘরছাড়া হয়েছেন।

মার্শালের জন্মটা তার মায়ের কাছে ছিল একটা বোঝার মত, এত অল্প বয়সে তিনি আর কতটাই বা বুঝতেন। মার্শালকে নিয়ে তিনি মিসৌরি থেকে মিশিগানের মধ্যে বারবার স্থানান্তরিত হয়েছেন, তাই নিজেদের ঘর বলে আসলে কিছুই ছিল না কখনো মার্শালের। বাস্তুহীনদের জন্য বিভিন্ন সরকারি আবাসন প্রকল্পে গিয়ে তারা থাকতেন, তার মা নিজের মাসকাসক্তির সাথে মোকাবেলা করে আবার জীবিকাও নির্বাহ করতে হিমশিম খেয়ে কোনোখানেই থিতু হতে পারতেন না। শেষপর্যন্ত তারা ডেট্রয়েটে স্থায়ী হন, কিন্তু সেখানকার পরিবেশ মোটেও ভালো ছিল না। সেখানকার বিভিন্ন সন্ত্রাসীর গ্যাং-রা মার্শালের উপর নির্যাতন করতো, কেন করতো তা কখনোই তার কাছে বোধগম্য হয়নি।

ছোট্ট মার্শাল, source: twitter.com

স্কুলেও ছোট্ট মার্শাল কখনো সুবিধা করতে পারেন নি। বারবার থাকার জায়গা বদলানোর কারণে তিনি সবসময়ই ছিলেন ‘নতুন ছেলেটা।’ এ কারণে তার খুব একটা বন্ধুও ছিল না, নিজেকে নিয়েই ব্যস্ত থাকতেন। বুদ্ধিমান ছিলেন তিনি ছোটবেলা থেকেই, কিন্তু পড়াশুনায় কখনো আহামরি ভালো করতেন না। তবে সেখানে ছিল শুধু একটি ব্যতিক্রম- ইংরেজি। ইংরেজি ছিল তার প্রিয় বিষয়, কিছু শব্দ দিয়ে বাক্য সাজিয়ে যে কত চমৎকার জিনিস তৈরি করে ফেলা যায় তা সবসময়ই তাকে মুগ্ধ করতো। ডিকশনারি পড়ে পড়ে তিনি নিজের শব্দভাণ্ডার বাড়াতেন, আর পড়তেন অনেক অনেক কমিক বুকস। তার স্বপ্ন ছিল তিনি একসময় নিজের কমিক তৈরি করবেন।

ছোট বয়সে তার লাজুক ও চুপচাপ স্বভাবের কারণে তিনি উঁচু ক্লাসের ছাত্রদের টার্গেটে পরিণত হয়ে গিয়েছিলেন। হলওয়েতে কোণায় আটকে মারা হতো তাকে, লকারের ভিতর আটকে রাখা হতো, মাঝে মাঝে বাথরুমে নিয়ে বেধরক মার দেয়া হতো তাকে। একবার এভাবে তাকে এতটা নির্যাতন করা হলো যে তিনি রীতিমত অচেতন হয়ে গেলেন। তাও পাঁচ দিনের জন্য! পরে এই ব্যাপারটা নিয়েই শ্রোতারা এমিনেমের একটি বিখ্যাত গান উপহার পান। গানটির নাম ‘ব্রেইন ড্যামেজ’, এমিনেম ফ্যান মাত্রই চিনবে।

এই নির্যাতন যতদিন চলেছে, মার্শাল রাতে দেখেছেন দুঃস্বপ্ন, সারাদিন তাকে সেসব স্মৃতি তাড়া করে বেড়িয়েছে। একারণে মার্শাল পরে স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দেবার সিদ্ধান্ত নেন। তার গ্রেড তখন অনেক দ্রুত নামতে থাকে, অকৃতকার্য হতে থাকেন তিনি। তখন তিনি ভাবেন, তার হয়তো কোনো মূল্যই নেই এই পৃথিবীতে, তিনি এই পৃথিবীর জন্য অযোগ্য, বেমানান তিনি এখানে। তারপর একদিন, তার মামা রনি পোলকিংটন তাকে একটি গান শোনায়। গায়ক আইস-টি এর গাওয়া ‘রেকলেস।’ জীবনে প্রথমবারের মত র‍্যাপ গান শুনে মার্শাল মুগ্ধ হয়ে যা্ন, এর শব্দের কারুকাজ, বিট আর আবেগের অভিব্যক্তি তাকে তৎক্ষণাৎ নাড়িয়ে দেয়। তিনি খুঁজে পা্ন তার উদ্দেশ্যকে, আর সেখান থেকেই শুরু ছিমছিমে কিশোর মার্শালের আজকের ‘এমিনেম’ হয়ে ওঠা।

জেনে নাও জীবন চালানোর সহজ পদ্ধতি!

আমাদের বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের একটা বড় সমস্যা হতাশা আর বিষণ্ণতা।

দেখে নাও আজকের প্লে-লিস্টটি আর শিখে নাও কীভাবে এসব থেকে বের হয়ে সাফল্য পাওয়া যায়!

১০ মিনিট স্কুলের Life Hacks সিরিজ

যেভাবে মার্শাল ম্যাথার্স হয়ে উঠলেন “এমিনেম”

নাইন্থ গ্রেডের পরপর তিনবছর অকৃতকার্য হবার পর ১৭ বছর বয়সে স্কুল থেকে ড্রপ-আউট হয়ে গেলে মার্শালের মা মার্শালকে হুমকি দেন বাসা থেকে বের করে দিবেন। কিন্তু এখন মার্শাল আর হতবিহবল হন না, কারণ তিনি তার একটি উদ্দেশ্য খুঁজে পেয়েছেন, পৃথিবীতে খুঁজে পেয়েছে্ন তার অবস্থান। তার এখন চিন্তা একটাই- “মিউজিক।”

বয়স যখন ১৪ তখন থেকেই মার্শাল র‍্যাপিং শুরু করেছিলেন তার হাইস্কুলের এক বন্ধুর সাথে। তারা প্রায়ই ক্লাস ফাঁকি দিয়ে স্কুলভিত্তিক বিভিন্ন “ফ্রিস্টাইল র‍্যাপ ব্যাটেল”-এ অংশ নিতে যেতেন। তারপর একসময় মার্শালের মনে হলো, শুধু হাই স্কুলের মনোরঞ্জন করলে হবে না। সেসময় বিভিন্ন ওপেন মাইক কন্টেস্ট হতো, বড় বড় র‍্যাপ ব্যাটেল হতো, তিনি ভাবলেন তিনি সেগুলোয় অংশ নিবেন। নিজের নামের আদ্যোক্ষর নিয়ে তিনি নিজের একটি ছদ্মনাম দিলেন, “এম অ্যান্ড এম।” এই “এম অ্যান্ড এম”-ই মুখে মুখে ফিরতে ফিরতে “এমিনেম” হয়ে উঠে।

এই ‘র‍্যাপ ব্যাটেল’ ব্যাপারটা কী তা একটু বলি। বক্সাররা যেভাবে প্রতিপক্ষের উপর একের পর এক আঘাত হানতে থাকে ঘুষির মাধ্যমে, র‍্যাপ ব্যাটেলে র‍্যাপাররা তা করে শব্দবাণের মাধ্যমেে। একটি ব্যাটেল শেষ হয় এক পক্ষের আত্মসমর্পণ করলে। দর্শকের প্রতিক্রিয়াই অনেকটা ঠিক করে দেয় কে জয়ী হলো।

শনিবারগুলোতে এমিনেম এবং আরো কয়েকজন উদীয়মান র‍্যাপাররা মিলে ওয়েস্ট সেভেন মাইলের হিপহপ শপে র‍্যাপ দিতে যেতেন। কিন্তু হিপহপের জগতটা তখন ছিল মূলত কৃষ্ণাঙ্গদের জগত, সেখানে সাদা চামড়ার এমিনেম প্রথমে গিয়ে একদমই সুবিধা করতে পারলেন না। প্রতিদিনই তিরস্কৃত হতে থাকলেন। কিন্তু এই তিরস্কার করতে করতেই দর্শকরা খেয়াল করলেন, এই সাদা চামড়ার র‍্যাপারটি একবারও কোনো র‍্যাপ ব্যাটেলে হারছেন না। একসময় দেখা গেল তিনি তিরস্কারের জায়গায় সমীহ পেতে শুরু করলেন। তার সৃজনশীলতা এবং মোক্ষম ছন্দ সবসময়ই প্রতিপক্ষকে হার মানতে বাধ্য করতো।  

মেয়ের সাথে এমিনেম, source: people’s magazine

জীবনে এ পর্যায়ে এমিনেমের জীবনে প্রেমও এসেছে। ২৪ বছর বয়সে তার সেসময়ের গার্লফ্রেন্ড কিম্বারলি অ্যান স্কটের গর্ভে আসে এমিনেমের প্রথম সন্তান। এসময়ে তিনি নিজের উপর প্রত্যাশার চাপ অনুভব করতে শুরু করেন এবং সে চাপ থেকেই তিনি প্রকাশ করেন তার প্রথম অ্যালবাম- ‘ইনফিনিট।’ তাড়াহুড়োয় বের করা অ্যালবামটির প্রায় পুরোটাই থাকে তার মেয়েকে নিয়ে। স্থানীয় রেডিও এবং ডিজেরা কেউই সেই অ্যালবামকে পছন্দ করে না। তাকে বলা হয় র‍্যাপ বাদ দিয়ে রক অ্যান্ড রোলে যেতে। এমিনেম না হয়ে অন্য কেউ হলে হয়তো এখানেই তার র‍্যাপ ক্যারিয়ারের ইতি ঘটিয়ে ফেলতো। কিন্তু এমিনেম হাল ছাড়েননি। বরং ধরেছেন আরো শক্ত করে।

ইংরেজি ভাষা চর্চা করতে আমাদের নতুন গ্রুপ- 10 Minute School English Language Club-এ যোগদান করতে পারো!

সংগ্রাম এখনো চলছেই

প্রথম অ্যালবাম প্রকাশের পর সবাই যখন তার ক্ষমতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করতে শুরু করেছে, তখনো এমিনেম হাল ছাড়েন নি। বরং সেই ক্রোধকে পুঁজি করে নতুনভাবে গান লিখতে শুরু করেছেন। তার অনুশীলন কখনো থামে নি। এ সময় জীবিকার জন্য তিনি এক রেস্টুরেন্টে চাকরি নেন তিনি, সেখানে তিনি ফুড অর্ডারগুলোকে নিয়েও তিনি র‍্যাপ করতেন। মানুষ তাকে খাবারের তালিকা ধরিয়ে দিত, সেগুলো নিয়েই তৎক্ষণাৎ গান বানিয়ে ফেলতেন তিনি। তার মেয়ে হেইলির জন্মের পর তিনি সপ্তাহে ৬০ ঘন্টা করে কাজ করতে শুরু করেন। রান্না করতেন, বাসন মাজতেন। কিন্তু এর মধ্যেই হঠাৎ করে এই চাকরিটা হারিয়ে ফেলেন তিনি। কিম্বারলিও তাকে ছেড়ে চলে যায়।

একে তো বেকার, ব্যর্থ ক্যারিয়ার, গার্লফ্রেন্ড-ও ছেড়ে চলে গিয়েছে; এমিনেমের জীবনের অন্যতম খারাপ সময়টা ছিল তখন। এবার তিনি গান লেখাও বন্ধ করে দিলেন। দিন কাটাতেন পেইনকিলার খেয়ে। কিম্বারলি তার মেয়েকেও তার থেকে নিয়ে নিয়েছিলেন, তাই মেয়েকে না দেখতে পেয়ে এমিনেম তার জীবনের অর্থ হারিয়ে ফেললেন। তারপর একদিন নিজেকে শেষ করার উদ্দেশ্যে অনেকগুলো পেইন কিলার মুখে পুরলেন তিনি।  

কিন্তু সৌভাগ্যবশত তাই আত্মহত্যার এই চেষ্টাটি ব্যর্থ হলো। এমিনেম অনেকটা নতুন জীবন পেলেন। এবার তিনি বুঝলেন, এই দুঃসময়কে তার মোকাবেলা করতে হবে সংগীত দিয়েই। তিনি তখন নিজের নতুন একটি শিল্পী সত্ত্বা তৈরি করলেন, যে সাধারণ এমিনেমের তুলনায় রাগী, স্পষ্টভাষী এবং বেপরোয়া। নাম দিলেন “স্লিম শেডি।” স্লিম শেডি হিসেবে গান লিখতে গিয়ে সেখানে তিনি ঢেলে দিতে লাগলেন তার সব হতাশা, তার সব ক্রোধ।  

যে ঘটনায় মোড় ঘুরলো জীবনের

পরের বছর, অর্থাৎ এমিনেমের বয়স যখন ২৫, তখন এমিনেম সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি লস অ্যাঞ্জেলসের র‍্যাপ অলিম্পিক্সে অংশ নিবেন। প্রথম প্রাইজ ছিল ৫০০ ডলার এবং একটি রোলেক্স ঘড়ি। তার টার্গেট ছিল প্রথম প্রাইজটাই। এর আগের রাতেই এমিনেমকে নিজের বাসা থেকে বের করে দেয়া হলো তিনি ভাড়া দেননি বলে। সে রাতে তিনি বাইরে শুয়ে কাটালেন, শুধু পরদিন ভালো কিছু হতে পারে সেই আশায়।

পরদিন স্টেজে উঠলেন তিনি অলিম্পিকে জেতার আশা নিয়ে। এমিনেম সবসময় প্রতিভাবান ছিলেন সত্য, কিন্তু আত্মবিশ্বাসটা তার কম ছিল সেসময়। অগণিত মানুষের সামনে স্টেজে গিয়ে তিনি কাঁপতে শুরু করেছিলেন। কিন্তু মাইক হাতে নেবার পরই তার মধ্যে অন্য এক সত্ত্বা যেন ভর করলো। দর্শকরা যদিও তাকে অনেক পছন্দ করলেন, বিচারকদের চোখে তিনি হলেন দ্বিতীয়।

এমিনেম আরো ভেঙ্গে পড়লেন এবার। বাসাও হারিয়েছেন আগের রাতে। নিরুপায় হয়ে তিনি ফিরে আসলেন তার মায়ের রাস্তার ধারের বাসায়। সেখানে তার গার্লফ্রেন্ড এবং মেয়েও থাকতো। অপমানে সাথে তিনি বাস করতে লাগলেন সেখানে। কিন্তু তিনি জানতেন না যে তার অলিম্পিকের পারফরমেন্স রেকর্ড হয়ে একটি ক্যাসেট এখন বিভিন্ন র‍্যাপারদের হাতে ঘুরে বেড়াচ্ছে। সেই ক্যাসেট একসময় বিখ্যাত র‍্যাপ প্রডিউসার ডক্টর ড্রে এর হাতে পড়লো। ড্রে রীতিমত মুগ্ধ হলেন, সাথে সাথে ডেকে পাঠালেন এমিনেমকে।

এমিনেম যেন আকাশের চাঁদ হাতে পেলেন। দৌড়ে গেলেন ড্রে এর স্টুডিওতে। সাদা চামড়ার বাদামী চুলের এক তরুণকে দেখে ড্রে কিছুটা সন্দীহান হয়ে পড়লেন। এ-ই সেই র‍্যাপার? কিন্তু এমিনেম যখন প্রথম চেষ্টাতেই তার “মাই নেম ইজ” গানটি শুনিয়ে দিলেন ড্রে-কে, ড্রেও বুঝলেন, কী রত্ন তিনি খুঁজে বের করেছেন। এই “মাই নেম ইজ” গানটি পরবর্তীতে শিল্পী এমিনেমের বিখ্যাত একটি গানে পরিণত হয়।

ডক্টর ড্রে এবং এমিনেম, source: billboard.com

২৭ বছর বয়সে এমিনেমের দ্বিতীয় অ্যালবাম “স্লিম শেডি এলপি” বের হয়। র‍্যাপের জগতকে উলটপালট করে দেয় তার এই অ্যালবাম। স্লিম শেডির মাঝে দেখতে পায় মানুষ একজন বিপ্লবীকে, যে একই সাথে একজন কমেডিয়ান। তার গান মানুষকে হাসায়, আবার হৃদয়ে গিয়ে নাড়া দেয়। সবগুলো গান-ই উঠে এসেছে তার হৃদয়ের অন্তঃস্থল থেকে। সব তার জীবনেরই কাহিনী।

এই অ্যালবামটি বের হবার সাথে সাথেই সফলতার মুখ দেখতে শুরু করে, বিক্রি হয় ত্রিশ লাখ কপি। এমিনেম একটি গ্র্যামিও বাগিয়ে নেন। এই অ্যালবাম বের হওয়ার আগে তিনি তার মায়ের সেই বাসার ভাড়াটাই দিতে পারছিলেন না। এখন তিনি দেখেন যে তার শেষ পর্যন্ত সচ্ছল জীবনযাপনের সুযোগ এসেছে। এবং অর্থ হাতে পেয়ে তার প্রথম কাজটাই ছিল তার পরিবারের জন্য ভালো একটা জায়গায় বাড়ি কেনা।

তবু পিছু ছাড়েনি সংগ্রাম

পরের বছরগুলোতে, এমিনেম বেশকিছুই অ্যালবাম বের করেন। সবগুলোই টপ চার্টে ছিল। উল্লেখযোগ্য হিসেবে আসে ‘মার্শাল ম্যাথার্স এলপি’ (২০০ও) এবং ‘দ্যা এমিনেম শো’ (২০০২)।কিন্তু গানের কথাগুলো অনেক সময়ই ছিল বেশি-ই ক্ষুরধার। জনপ্রিয়তা বাড়লো, সাথে বাড়লো নিন্দুকও। আইনের সাথে জড়াতে হলো ঝামেলায়, শুধুমাত্র তার গানের কথার জন্য!

২০০২ সালে তিনি ‘৮ মাইল’ নামক একটি ছবিতে কাজ করেন। যে ছবি তাকে সঙ্গীতের জন্য অস্কার এনে দেয়। কিন্তু এ ছবিতে কাজ করার সময় তিনি আবার হতাশায় পড়ে যান। তখন তিনি রিহ্যাবের সাহায্য নেন। বিখ্যাত শিল্পী স্যার এলটন জন জীবনের একটি পর্যায়ে তাকে অনেক সাহায্য করেন। ২০০৮ সালে তিনি স্বাভাবিক হয়ে আবার ফিরে আসেন সংগীতের জগতে। এরপর তিনি একের পর এক অ্যালবাম বের করেই যাচ্ছেন। প্রত্যেকটি অ্যালবামই থাকছে ১ নাম্বারে। তার মোট গ্র্যামির সংখ্যা ১৫টি।

গ্র্যামি হাতে এমিনেম; source: billboard.com

সারাজীবনই যুদ্ধ করে উপরে উঠার পর এখন এমিনেমের সংগীত জগতের কিংবদন্তি। তিনি এখন একজন সফল র‍্যাপার, লেখক, প্রযোজক এবং অভিনেতাও বটে। এবং এখনো তিনি তার মেয়ের দিকে সবসময় খেয়াল রাখেন, এই ভালোবাসা যেন অন্তহীন। এছাড়াও তিনি বিপর্যস্ত তরুণদের জন্য কাজ করেন, একটি নিজস্ব দাতব্য সংস্থাও চালান।

এমিনেমের গান তোমার যেমন-ই লাগুক, এমিনেমের জীবনের গল্প সবার জন্যই অনুপ্রেরণার, শিক্ষার। তার প্রতিটি গানেই পাওয়া যায় স্বকীয়তার জয়গান, হাল না ছাড়ার অনুপ্রেরণা, আর এর সবটুকুই এসেছে তার জীবন থেকেই। তাই আমাদের সবারই উচিত এমিনেমের ইতিবাচক দিকগুলোকে নিজেদের মাঝে নেবার চেষ্টা করা, খারাপ সময়ে হাল না ছেড়ে সেসময়ের সংগ্রামকেই পুঁজি করে নিজেকে গড়ে তোলা।

তথ্যসূত্র:

https://www.biography.com/people/eminem-9542093

https://www.thefamouspeople.com/profiles/eminem-3985.php

https://www.lifeinsp.com/blog/eminem-inspirational-life-story/

https://www.youthkiawaaz.com/2018/06/the-inspirational-journey-of-eminem/


১০ মিনিট স্কুলের লাইভ এডমিশন কোচিং ক্লাসগুলো অনুসরণ করতে সরাসরি চলে যেতে পারো এই লিঙ্কে: www.10minuteschool.com/admissions/live/

১০ মিনিট স্কুলের ব্লগের জন্য কোনো লেখা পাঠাতে চাইলে, সরাসরি তোমার লেখাটি ই-মেইল কর এই ঠিকানায়: [email protected]

লেখাটি ভালো লেগে থাকলে বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করতে ভুলবেন না!
What are you thinking?