জটিল প্রশ্নের সরল উত্তর: পর্ব ১

পুরোটা পড়ার সময় নেই? ব্লগটি একবার শুনে নাও।

আমরা প্রায়ই অনেক জটিল বিষয় নিয়ে জটিল সব প্রশ্ন করি জটিল প্রশ্নের উত্তর পাওয়া কিন্তু খুব একটা কঠিন নয় কিন্তু আমাদের চারপাশের দৈনন্দিন জিনিস প্রায়ই আমাদের প্রশ্নের নজর এড়িয়ে যায় আবার নজরে এলেও সেই প্রশ্নের উত্তর সহজে মেলে না এমনই কিছু প্রশ্ন নিয়েই সাজানো এই ব্লগটি:

১। কি-বোর্ডের কি-গুলো কেন অ্যালফাবেটিক্যালি বা বর্ণানুক্রমে সাজানো থাকে না?

উ: বর্তমান কি-বোর্ডের লে-আউট এসেছে টাইপরাইটার থেকে একেবারে শুরুর টাইপরাইটারগুলোতে বর্ণানুক্রমেই কি-গুলো সাজানো ছিল কিন্তু এতে কিছু সমস্যা দেখা গেলো ইংরেজি ভাষায় ২৬টি বর্ণের সবগুলোর সমান সংখ্যক ব্যবহার হয় না। কিছু বর্ণের ব্যবহার অন্যগুলোর তুলনায় অনেক বেশি।

এখন বেশি ব্যবহৃত বর্ণের কি-গুলো যদি একসাথে থাকে তাহলে যান্ত্রিক কি-বোর্ড জ্যাম হয়ে যায়। ফলে টাইপরাইটিং-এর গতি কমে যায় অনেকাংশে। এজন্যই qwerty লে-আউট ব্যবহার শুরু হয় যেখানে বেশি ব্যবহৃত বর্ণগুলোর অবস্থান অনেক দূরে দূরে।

১০ মিনিট স্কুলের পক্ষ থেকে তোমাদের জন্য আয়োজন করা হচ্ছে অনলাইন লাইভ ক্লাসের! তা-ও আবার সম্পূর্ণ বিনামূল্যে!

২। অনেক পোশাকে Elbow Patch  বা কনুইয়ের কাছে তালি থাকে কেন?

উ: “এলবো প্যাচ” ফ্যাশন ট্রেন্ড হওয়ার আগে এর আবির্ভাব ঘটে মূলত সামরিক পোশাকে যুদ্ধের ময়দানে শত্রুপক্ষের নজর এড়িয়ে এগিয়ে যাওয়ার অন্যতম কৌশল হামাগুড়ি দেয়া এর ফলে কনুইয়ের কাপড় ছিঁড়ে যাওয়ার অনেক সম্ভাবনা থাকে এজন্য কনুইয়ে অতিরিক্ত কাপড় তালি লাগিয়ে দেয়ার প্রচলন শুরু হয়

ঘুরে আসুন: শ্রোডিঞ্জারের বিড়ালঃ কোয়ান্টাম মেকানিক্সে বিড়ালের কী কাজ?

পরবর্তীতে ’৫০ এর দশকে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া তরুণ-তরুণীরা এই ধারণা ফ্যাশনের জগতে নিয়ে আনে

৩। আইফোনের পেছনের এই কালো ডটটির কাজ কী?

উ: এই কালো ডটকে প্রায় সব মোবাইলেই দেখা যায় মূলত ব্যাক ক্যামেরা ও ফ্ল্যাশের আশেপাশে এটি মূলত “নয়েজ ক্যান্সেলিং মাইক্রোফোন” এর মূল কাজ শব্দ রেকর্ড ও তার পাশাপাশি রেকর্ডের সময় চারপাশের সব শব্দদের মধ্যে থেকে অপ্রয়োজনীয় শব্দ বাছাই করা যাতে তুমি যখন মোবাইলে কথা বল বা ভিডিও কর, তখন তা যেন সুন্দর শোনায় এই মাইক্রোফোনের জন্য কোলাহলপূর্ণ পরিবেশে কথা বলা সম্ভব হয়ে থাকে


৪। কোন আইসক্রিম কেন ওয়াফেলের কোনের মধ্যে বিক্রি করা হয়ে থাকে?

উ: ১৯ শতকের শেষ পর্যন্ত আইসক্রিম বিক্রি করা হত কাচের গ্লাসে যাকে বলা হত– “পেনি লিক আইসক্রিম গ্লাস” যেগুলো একজন ব্যবহারের পর ধুয়ে পুনরায় ব্যবহার করা যেতো এরফলে রোগ-জীবাণুও ছড়িয়ে পড়তো অনেক সহজে

১৯০৪ সালে এর এক সমাধান পায় বিশ্ব সেই গ্রীষ্মের  একদিন আইসক্রিমের দোকানে প্রচন্ড ভীড় ছিল কিন্তু কাচের গ্লাস একটাও অব্যবহৃত ছিল না দোকানদারের কাছে তখন পাশের ভীড়হীন এক ওয়াফেলের দোকানদার এগিয়ে এলেন সাহায্যে তিনি তার ওয়াফেল মুড়িয়ে কোণাকৃতি বানিয়ে আইসক্রিমের দোকানদারকে দেন

এভাবে ধীরে ধীরে গ্লাসের পরিবর্তে ওয়াফেলের কোনে খাওয়া শুরু হয় আইসক্রিম

খোঁজ রাখো চারপাশের দুনিয়ার বেপারে!

আমাদের ছোট-বড় অনেকরকম স্বপ্ন থাকে। কিন্তু বাস্তবায়ন করতে পারি কতগুলো?

এই দ্বিধা থেকে মুক্তি পেতে চল ঘুরে আসি ১০ মিনিট স্কুলের এই এক্সক্লুসিভ প্লে-লিস্ট থেকে!

লাইফ হ্যাকস সিরিজ!

৫। স্নিকার্সে আঙুলের ওপরে রাবারের অতিরিক্ত আবরণ থাকে কেন?

উ: স্নিকার্স মূলত ছিল বাস্কেটবল খেলোয়াড়দের জুতা এই জুতায় আঙুলের কাছে রাবারের আবরণ খেলোয়াড়দের দুর্ঘটনা প্রতিরোধের জন্যই দেয়া এজন্য এই আবরণে অনেক শক্ত রাবার ব্যবহার করা হয়

ঘুরে আসুন: ভিনদেশীদের থেকে শেখার আছে অনেক কিছু!

এই রাবারের আবরণ শুরুতে ছিল কালো বা অনুজ্জ্বল রঙের পরবর্তীতে বর্তমান স্নিকার্সে তা সাদা করা হয় মূলত সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য

৬। চার্জারের শেষ প্রান্তের সিলিন্ডার আকৃতির এই জিনিসের কাজ কী?

উ: মোবাইল, ল্যাপটপ – বর্তমানের প্রায় সব ধরনের ইলেকট্রনিক ডিভাইসের চার্জারের শেষ প্রান্তে এই জিনিসটি দেখা যায় অনেকের মাঝেই প্রশ্ন এই জিনিসের কাজ কী? এটি হল – “ফেরাইট বিড” এটি ইলেকট্রনিক সার্কিটের উচ্চ কম্পাঙ্কের তড়িৎ-চুম্বকীয় তরঙ্গের ব্যতিচার দমন করে যাতে কাছাকাছি বেশ কয়েকটি ইলেকট্রনিক ডিভাইসের কম্পাঙ্ক একে অন্যের কাজে বাধা না দিতে পারে  

রাজধানীর নাম জানাটা সাধারণ জ্ঞানের একটা গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই ১০ মিনিট স্কুলের এই মজার কুইজটির মধ্যমে যাচাই করে নাও নিজেকে!

৭। শার্টের পেছনে লুপ থাকে কেন?

উ: এই প্রশ্নের কোনো সর্বজনস্বীকৃত মতামত নেই জিন্সের ছোট পকেটের মতো এই ডিজাইনটিও বহু বছর ধরেই চলে আসছে সবচেয়ে জনপ্রিয় মতামত হচ্ছে, মূলত আংটায় ঝুলানোর জন্য এই লুপের ব্যবহার ছিল আরেকটি জনপ্রিয় মতামত হচ্ছে, টাই বাঁধার ক্ষেত্রে এই লুপটি ব্যবহৃত হতো   


১০ মিনিট স্কুলের লাইভ এডমিশন কোচিং ক্লাসগুলো অনুসরণ করতে সরাসরি চলে যেতে পারো এই লিঙ্কে: www.10minuteschool.com/admissions/live/

১০ মিনিট স্কুলের ব্লগের জন্য কোনো লেখা পাঠাতে চাইলে, সরাসরি তোমার লেখাটি ই-মেইল কর এই ঠিকানায়: write@10minuteschool.com

লেখাটি ভালো লেগে থাকলে বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করতে ভুলবেন না!
What are you thinking?