এসো, গড়ে তুলি দারুণ সব ‘অভ্যাস’!

পুরোটা পড়ার সময় নেই ? ব্লগটি একবার শুনে নাও !

আচ্ছা, এমন কয়বার হয়েছে যে সকালবেলায় জলদি ঘুম থেকে ওঠার প্র্যাকটিস করতে গিয়ে তিন দিনের দিন তুমি হাল ছেড়ে দিয়েছ? কিংবা এখন থেকে পরীক্ষার আগের রাতে না পড়ে প্রতিদিন কম করে হলেও এক ঘণ্টা পড়বে- এই প্রতিজ্ঞা করার এক সপ্তাহের মাথায় বই খাতায় আবার ধুলো জমে গেছে? কিংবা রুটিন করে ব্যায়াম করার অভ্যাস করতে গিয়ে অলসতাটা আরও বেশি জাপটে ধরেছে?

এরকম হয়, তাই না? হ্যাঁ আমারো হয়। মাঝে মধ্যে বেশ বিরক্তি লাগে, মনে হয় ধুর আমাকে দিয়ে বোধহয় কিছুই হবে না। কিন্তু একটু বুঝেশুনে এগোলে কিন্তু এই নতুন করে শুরু করা ভালো অভ্যাস গুলো আমরা ধরে রাখতে পারি। সেটা কীভাবে করবে? চলো দেখে নেই।

দারুণ সব লেখা পড়তে ও নানা বিষয় সম্পর্কে জানতে ঘুরে এসো আমাদের ব্লগের নতুন পেইজ থেকে!

১। এগুলি করে হবেটা কী?

খুবই ভালো প্রশ্ন। আসলেই তো, এতসব ভালো অভ্যাস দিয়ে কাজটা কী? এইটাই তোমার জানতে হবে। সকালবেলা জলদি ঘুম থেকে উঠলে তোমার লাভটা কী এটা তোমাকে ভালোমতো জানতে হবে। তুমি ডায়েট কেন করতে চাও সেটা তোমাকে ভালোমতো বুঝতে হবে। সপ্তাহে দুইদিন জিমে গেলে তোমার কী কী উন্নতি হওয়ার চান্স আছে সেটাও জানতে হবে। ভেবে দেখো, প্রতিদিন দুইতিন ঘণ্টা করে পড়ার অভ্যাস করলে সেটা তোমার বর্তমান আর ভবিষ্যৎ জীবনে কী প্রভাব ফেলতে যাচ্ছে। আগে জানা, তারপরে কাজ।

২। সময় ঠিক করে নেই

রুটিন ব্যাপারটা আমাদের অনেকের কাছেই বোরিং শোনায় জানি। জীবনে আর কোনো রুটিন না থাকলে অন্তত এই নতুন ভালো অভ্যাসটা তৈরি করে নেয়ার জন্যে দিনের মধ্যে একটু সময় বের করে নাও। ধরো সারাদিনে অন্য কোন রুটিন মেইনটেইন করছো না, তবু যে দুইতিন ঘণ্টা পড়বে ঠিক করেছো ঐটা একটা ডেইলি রুটিন করে ফেলো। সারাদিনে আর যাই করো না কেন, যে দুইতিন ঘণ্টা পড়বে, সেই সময়টা আসার সাথে সাথে সম্পূর্ণ মনোযোগ কেবল সেইদিকে দাও।

৩। একুশ দিনের সময়সীমা

এখন অনেকেই হয়তো বলবে রুটিন না হয় করলাম কিন্তু সেটা কতদিন ফলো করা যায়? ভালো লাগে না তো!

হ্যাঁ আমি তো তাই বলি! কতদিন আর ভালো লাগে? বেশিদিন ভালো লাগাতে হবে না। একুশ দিন ভালো লাগিয়ে দেখো। বিশেষজ্ঞরা বলেন, নতুন অভ্যাস বানাতে কমবেশি ২১ দিন সময় লাগে। একুশ দিন শেষ হলে পরে অভ্যাসটা কন্টিনিউ করা বেশ সহজ হয়ে যায়।

একুশ দিনের জন্য কোমর বেঁধে ফেলো তাহলে?

৪। এটার সাথে আর কোন কোন অভ্যাসের সম্পর্ক আছে?

একটা অভ্যাস তৈরি করতে চাচ্ছি কিন্তু হচ্ছে না। কেন হচ্ছে না একটু ভেবে দেখি। আমরা সকাল ছয়টায় উঠে ফজরের নামাজ পড়তে চাই? কিন্তু রাতে ঘুমাই তিনটার পরে? তাহলে তো ব্যাপারটা কঠিন হয়ে যাচ্ছে না?

আমরা বই পড়ার অভ্যাস করতে চাই কিন্তু বারবার মনোযোগ ফেসবুকের নোটিফিকেশনে চলে যায়?

আসল সমস্যাটা চিহ্নিত করে সেটা অনুযায়ী কাজ করে দেখো

আগে আগে উঠতে চাইলে আগে আগে ঘুমাতে হবে। শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া। বই পড়ার অভ্যাস করতে চাইলে বই পড়ার সময়টুকু ফোন থেকে দূরে থাকতে হবে। কোনটা বেশি চাও জানোতো, তাইনা?

৫। আগে থেকে সম্ভাব্য সমস্যা চিহ্নিত করি

স্বাভাবিকভাবেই নতুন কোনো কিছু ট্রাই করতে গেলে হরেকরকম সমস্যা দেখা দেবে। কী কী সমস্যা দেখা দিতে পারে সেটা আগে থেকে একটু ধারণা করে নিলে ভালো হয়। যেমন প্রথম প্রথম সকাল সকাল উঠতে গিয়ে দেখলে সারাদিন কেবল হাই তুলছো। এরকম হতেই পারে।

 
ফটোশপকে নিয়ে আসো হাতের মুঠোয়!
ফটোশপের জগতটা খুব ইন্টারেস্টিং। একটা ছবি থেকে কতোকিছু যে করা যায় ফটোশপের সাহায্যে!

তাই বলে হাল ছেড়ে না দিয়ে, ঘুমটা যাতে ভাল হয় সেদিকে খেয়াল রাখো। ভালো ঘুম আর বেশি ঘুম এক জিনিস না। হাই তুলছি মানে কম ঘুম হয়েছে, এমন না। ভালো ঘুম হয়নি, এমন হতে পারে। এভাবে আসল সমস্যাটা চিহ্নিত করে সেটা অনুযায়ী কাজ করে দেখো।

৬। রেকর্ড রাখি

ক্যালেন্ডারে দাগ দিয়ে রেকর্ড রাখা ব্যাপারটা খুব কাজে দেয়। যেমন প্রপার ডায়েট করতে গিয়ে তুমি কোনদিন ডায়েট চার্ট ঠিকমতো ফলো করছ, ক্যালেন্ডারে সেদিনের পাশে টিক চিহ্ন দাও। কোনদিন লোভ সামলাতে না পেরে বড় এক টুকরো চকোলেট কেক খেয়ে ফেলছ, ক্যালেন্ডারে সেদিনের পাশে একটা ক্রস চিহ্ন দাও। এভাবে কোনদিন কী করছ তার ট্র্যাক রাখো, মাস/সপ্তাহের শেষে দেখো টার্গেট পূরণ হয়েছে কিনা।

৭। পাতি টিপস

নিজেকে নিজে রিওয়ার্ড দেয়ার  সিস্টেম চালু করো। দুই সপ্তাহের সফল ডায়েট প্ল্যান ফলো করার পর দুইটা কুকিজ খাওয়া যেতেই পারে। তবে রিওয়ার্ড দিতে গিয়ে যেটুকু উন্নতি হয়েছে সেটার আবার বারোটা বাজিয়ে বোস না যেন।

নতুন অভ্যাসের শুরুটা সিম্পল রাখো। ছোট ছোট Goal সেট করো নিজের জন্যে। এক লাফে এভারেস্টে উঠতে না চাওয়াই ভালো!

কোন একজন ভালো বন্ধুকে তোমার এই নতুন অভ্যাস প্রজেক্টের ব্যাপারে জানিয়ে রাখো। এতে দায়িত্ববোধ বাড়বে।

good habits. life hacks, shortcuts

আর সব কথার মূল কথা হল ধৈর্য। ধৈর্য না থাকলে নতুন অভ্যাস গড়ে তোলা কঠিন।

তোমার নতুন ভালো অভ্যাস গড়ে তোলার জন্যে থাকলো অনেক অনেক শুভকামনা!


১০ মিনিট স্কুলের লাইভ এডমিশন কোচিং ক্লাসগুলো অনুসরণ করতে সরাসরি চলে যেতে পারো এই লিঙ্কে: www.10minuteschool.com/admissions/live/

১০ মিনিট স্কুলের ব্লগের জন্য কোনো লেখা পাঠাতে চাইলে, সরাসরি তোমার লেখাটি ই-মেইল কর এই ঠিকানায়: [email protected]

লেখাটি ভালো লেগে থাকলে বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করতে ভুলবেন না!
What are you thinking?