শেকড়ে যাত্রা : রিকশা আর্ট (ত্রিচক্রযানের রূপরহস্য)

পুরোটা পড়ার সময় নেই? ব্লগটি একবারে শুনে নাও!

 

সিলভিয়া। ইটালির নাগরিক। বয়স ২২। প্রথমবারের মত বাংলাদেশে এসেছে। গতকালই এলো। উদ্দেশ্য আন্তর্জাতিক আর্ট সামিটে অংশগ্রহণ করা।

হোটেল থেকে বের হয়েই উবার নিল সিলভিয়া। অচেনা দেশের অচেনা শহরের অচেনা রাস্তায় উবার এবং গুগল ম্যাপই ভরসা। গন্তব্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউট। সেখানে তার বন্ধু ত্রয়ী অপেক্ষা করছে। আজকে ত্রয়ী ওকে ঢাকা ঘুরাবে বলেছে। ত্রয়ী চারুকলার অংকন এবং চিত্রায়ন বিভাগে তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী।

আর্টিস্ট মানুষদের নাকি আশেপাশে যা কিছু আছে সবকিছু একদম গোয়েন্দার চোখে দেখতে হয়। গভীর পর্যবেক্ষণের সাথে। কারণ আশেপাশের জিনিসগুলোর মধ্যেই নাকি লুকিয়ে আছে একেকটা মাস্টারপিস আঁকার বিষয়। সিলভিয়াও তাই ঢাকার বিখ্যাত জ্যামের মধ্যে বসে বসে সেই কাজটিই করছিল। কিন্তু তার বারবার চোখ আটকে যাচ্ছিল ঢাকার রিকশাগুলোর দিকে। রিকশার পিছনের “আঁকিবুঁকি”গুলো খুব অবাক করছে তাকে। প্রতিটা রিকশাই যেন একেকটা গল্প বলছে। রিকশার পিছনের ওই আঁকিবুঁকি দেখতে দেখতেই সে গন্তব্যে পৌঁছে গেল। ত্রয়ী বাইরে দাঁড়িয়েই ছিল।

দারুণ সব লেখা পড়তে ও নানা বিষয় সম্পর্কে জানতে ঘুরে এসো আমাদের ব্লগ সেকশন থেকে!

“আসতে কোনো অসুবিধা হয়নি তো?” ইংরেজিতে জিজ্ঞেস করল ত্রয়ী।

“নাহ। একদমই না। আমি তো তোমাদের রিকশার পিছনে কীসব আঁকাআঁকি খেয়াল করতে করতে আসলাম”, সিলভিয়ার উত্তর।

“ওটাকে রিকশা আর্ট বলে”, ত্রয়ী বলল।

“আমাকে খুবই মুগ্ধ করেছে”, সিলভিয়ার বিস্ময় এখনো কাটছে না।

“তাহলে তো তোমাকে রিকশাতে চড়াতেই হয়। চলো, আজকে আমরা পুরোটা দিন রিকশা করে ঘুরব”, বলেই ত্রয়ী রিকশাওয়ালা মামাকে ঢাকল।

রিকশায় উঠেই সিলভিয়া জিজ্ঞেস করল, “কই যাচ্ছি আমরা?”

ত্রয়ী রহস্যের হাসি হেসে বলল, “আরে দেখোই না!”

ঘুরে আসুন: নেলসন ম্যান্ডেলা: মহানুভবতা দিয়ে দেশ বদলেছেন যিনি

১.

রিকশায় চড়তে সিলভিয়ার ভালোই লাগছে।

“রিকশার আদি নিবাস হচ্ছে জাপানে। ২য় বিশ্বযুদ্ধের সময় জ্বালানি সংকট দেখা দিলে এর জনপ্রিয়তা আরো বেড়ে যায়। তবে বর্তমানে রিকশার শহর বলতে ঢাকাকেই চেনা হয়। ১৯১৯ সালে তৎকালীন ভারতবর্ষে রিকশার প্রচলন শুরু হয়। কথিত আছে, বার্মা থেকে নাকি চট্টগ্রামে আসে রিকশা। তবে রিকশার ব্যবহার চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় হয় নি। ঢাকাতে রিকশা আসে কলকাতা থেকে। ইউরোপীয় বণিকদের হাত ধরে। সেটি সেই ১৯৩০-এর দিকের ঘটনা”, বলে একটু দম নিল ত্রয়ী।

সেই সুযোগে সিলভিয়া বলল, “তাহলে তো রিকশা এখানে সেই ১৯১৯ থেকেই অনেক বিখ্যাত, তাই না?”

“আসলে সেটা না। প্রথম প্রথম রিকশা কিছুটা কুখ্যাতই ছিল বটে। অনেকেই অমানবিক মনে করতেন একে। তখনকার সময়ের রিকশাগুলো ছিল খুব সাদামাটা ধরনের। কিছু প্রাথমিক রং ব্যবহার করা হতো শুধু। সিটগুলো ছিল চামড়ার, উপরে ছিল খাকি রং এর হুড। এইতো।“

“তাহলে রিকশা পেইন্টিং-এর প্রচলন শুরু হল কখন থেকে এবং কীভাবে?” ভ্রূ কুঁচকে প্রশ্ন করল সিলভিয়া।

“সেটার চল শুরু হয়েছে ১৯৫০ সালের দিকে। প্রথমত এই রিকশা পেইন্টিং-এর মূল উদ্দেশ্যই ছিল রিকশাকে অনেক আকর্ষণীয় করে তোলা যাতে করে যাত্রীরা আরো বেশি আকৃষ্ট হয়।” ১৯৫০-এর দিকে ঘোড়ার গাড়ি, টমটম এসবও জনপ্রিয় ছিল। এদেরকে টেক্কা দিয়ে জনপ্রিয়তার তুঙ্গে উঠার জন্য রিকশা মালিকরা করলেন কী, রিকশাকে আরো সুন্দর করে তোলার জন্য কিছু রুপি বেশি খরচ করতে শুরু করলেন। আর সেভাবেই করেই রিকশা পেইন্টিং-এর সূচনা হল বলা যেতে পারে, যা এখন আমাদের লোকশিল্পের অন্যতম ধারক ও বাহক হয়ে আছে।“

“আচ্ছা, তাহলে এই রিকশা পেইন্টিং-এর পরবর্তীতে এত জনপ্রিয় হয়ে ওঠার পিছনে কারণ কী?” আবার সিলভিয়ার কৌতূহলী প্রশ্ন।

“সেটা জানতেই তো আমারা পুরান ঢাকা যাচ্ছি। একটু ধৈর্য ধরো।“ হেসে উত্তর দিল ত্রয়ী।

 

কথায় বলে, MUN is fun!

বর্তমান সময়ের বহুল আলোচিত একটি কম্পিটিশানের নাম MUN বা Model United Nations।

কিন্তু কি এই মডেল ইউনাইটেড নেশন্স? কিভাবে ভালো করতে হয় এটিতে?

নিজেই দেখে নাও এই প্লে-লিস্ট থেকে!
১০ মিনিট স্কুলের MUN সিরিজ!

২.

রিকশা থামল। তারা নামল ছোট্ট একটা বাসার সামনে।

ত্রয়ী হালকা করে উঁকি দিয়ে জিজ্ঞেস করলো, “চাচা আছেন?“

ঘরের ভিতরের মধ্যবয়স্ক লোকটি ত্রয়ীর পূর্বপরিচিত মানুষ।। মাঝেমাঝে রং-এর খোঁজে ত্রয়ীর আসা হয় এখানে। একসময় অনেক রিকশা পেইন্টিং করতেন তিনি। এই শিল্প সম্পর্কে জ্ঞানের ভান্ডারও তাই বড়। যখন শুনলেন তারা দুইজন রিকশা আর্ট নিয়ে জানতে এসেছে তিনি সাদরে তাদের বসতে দিলেন এবং নিজেও খুব আয়েশ করে বসে বললেন, “বলো কী জানতে চাও তোমরা?”

ত্রয়ী বলল, “চাচা, আমরা রিকশা আর্টের প্রচলন এবং বর্তমান অবস্থা নিয়ে জানতে চাচ্ছিলাম।“

চাচা বলা শুরু করলেন। ত্রয়ী দোভাষীর দায়িত্ব নিল।

“রিকশা আর্টের পথিকৃৎ বলতে গেলে সবার আগে আর কে দাসের কথা বলতে হয়। রাজ কুমার দাস। আরো ছিলেন, পীতলরাম বসু, আলাউদ্দিন, আলী নুর, দাউদ ওস্তাদ । তাঁদের হাত ধরেই যাত্রা শুরু হয় রিকশা আর্টের। ‘৫০-এর দিকের কথা সেটা। তাঁরা তাঁদের নিজস্বতা, সৃজনশীলতাকে দিয়ে রিকশা আর্টকে নিয়ে গিয়েছেন অন্য পর্যায়ে।

রিকশা পেইন্টিং-এ মূলত, পাখি, ফল, কাল্পনিক দৃশ্য, সিনেমার পোস্টার ইত্যাদি আঁকা হয়। ১৯৫০-৬০এর দিকে রিকশা আর্টের অনেক চাহিদা ছিল। তাই দলে দলে মানুষ এসে যোগদান করতে শুরু করেছিল এই ক্ষেত্রটিতে। এবং বিপুল সংখ্যক মানুষজন তাঁদের নিজস্বতা দিয়ে তুলির আঁচড়ে গড়ে তুলতেন একেকটা শিল্প। দিনরাত পরিশ্রম করতে হত তাঁদের। মাসের পর মাস ও লেগে যেত।”

কৌতূহলী সিলভিয়ার একটা প্রশ্নকে বাংলা করে চাচাকে জিজ্ঞেস করল ত্রয়ী, “আচ্ছা চাচা, শুধু রিকশার পিছনে আঁকার জন্য এতদিন লেগে যেত কেন?”

চাচা আফসোসের সুরে বললেন, “আহা! এইখানেই তোমরা ভুল করো। আমরা অনেকেই মনে করি রিকশার পিছনে যে চিত্রকর্ম দেখি ওইটাই শুধু রিকশাচিত্র। ব্যাপারটা কিন্তু ঠিক সেটা না। পুরো রিকশা জুড়েই আমরা যা যা দেখি সবটুকুই রিকশা আর্ট। রিকশার হুডে, যাত্রী সিটে, ধাতব চাকায়, পিছনের বোর্ডে, হ্যান্ডেলে যেসব কারুকার্য করা হয় সবকিছু মিলেই আসলে রিকশা আর্ট। আর জানো, একটা রিকশা বানানো থেকে শুরু করে রাস্তায় নামানো পর্যন্ত ছয়জন মানুষের হাতে যায়।

প্রথমজন, হুডি মিস্ত্রি। এঁদের দায়িত্ব হল রিকশার হুড অলংকরণ করা। তাঁরা রিকশার হুডের জন্য ব্যবহৃত রেক্সিনের উপর অ্যাপ্লিকের নকশা করেন। নকশাগুলো উজ্জ্বল রং এর পাতা, ফুল, পাখি এসব হয়ে থাকে।

দ্বিতীয়জন, বডি মিস্ত্রি। যিনি রিকশার মূল কাঠামো নির্মাণ করেন।

তৃতীয়জন, বাতা মিস্ত্রি। রিকশার হুডের বাঁশের বাতা বা ফ্রেম বানান।

চতুর্থজন, পেইন্টার। রিকশার পিছনের বোর্ডে যিনি স্বকীয়তা উজাড় করে দেন। তিনি মূলত আঁকাআঁকির কাজটি করেন।

পঞ্চমজন, রংমিস্ত্রি। ধাতব অংশে আলপনা আঁকেন।

ষষ্ঠজন, ফিটিং মিস্ত্রি। রিকশার বিভিন্ন অংশে যন্ত্র লাগানোর কাজ করে থাকেন তারা।

আর এভাবে করেই অনেক মানুষ তাদের হাতের ছোঁয়ায় আমাদের লোকশিল্পকে ফুটিয়ে তুলেন।“

ত্রয়ী যখন ইংরেজিতে চাচার বলা কথাগুলো সিলভিয়াকে শুনালো তখন তার বিস্ময়ের সীমা রইল না।

চাচা ওদের হাঁ করা মুখ দেখে বললেন, “দাড়াও, তোমাদের কিছু রিকশা পেইন্টিং দেখাই।“

ছবিগুলো দেখাতে দেখাতে চাচা স্মৃতিকাতর হয়ে গেলেন। বললেন, “রিকশার মধ্যে ফুটে উঠতো, দুর্গা-কালি, মহাভারত, রামায়ণের কাহিনী। আবার বিদেশের আরব্য রজনীর গল্প, দরগাহ, বোরাক,তাজমহল, এরাবিক ক্যালিগ্রাফি এসব ও চিত্রায়িত হত।“

“৬০-৭০ দশক হচ্ছে রিকশা আর্টের স্বর্ণযুগ। জনপ্রিয়তা তখন একদম তুঙ্গে। আমি তো ষাটের দশককে সিনেমার দশক বলব। সব রিকশা রিকশাতে সিনেমার পোস্টার আঁকা থাকতো। সিনেমার ডায়লগ লেখা থাকত। ইন্ডিয়ান অভিনেতা অভিনেত্রী যেমন, উত্তম কুমার, সুচিত্রা সেন, নার্গিস, মধুবালা, দিলীপ কুমার কারো ছবির পোস্টার বাদ যেত না। এমনকি বাংলাদেশের অভিনেতা রাজ্জাককে নিয়েও রিকশা পেইন্টারদের আগ্রহের কমতি ছিল না। মাঝে মাঝে রিকশাগুলোতে শোভা পেতো কোনো সিনেমার দৃশ্য। ঐ যে হয় না টানটান উত্তেজনার দৃশ্য।“ বলেই হেসে উঠলেন চাচা।

 

“জাপানের ফুকুয়োকা এশিয়ান আর্ট মিউজিয়ামে রিকশা পেইন্টিং-এর বড় সংগ্রহ আছে।”

 

এবার ত্রয়ী প্রশ্ন করল, “চাচা মুক্তিযুদ্ধের সময় এর কোনো অবদান ছিল?”

চাচা বললেন, “আলবত ছিল। মুক্তিযুদ্ধের সময় এই বিষয়ক অনেক আঁকাআঁকি হয়েছিল। এমনকি এখনো দেখবে, শহীদ মিনার, দোয়েল চত্বর, স্মৃতিসৌধ এসবের চিত্র পাওয়া যায় রিকশার পিছনে। আবার স্বাধীন দেশের নতুন রাজধানী ঢাকা হওয়ার পর কাল্পনিক শহর বা কাল্পনিক দৃশ্য আঁকারও ধুম পড়েছিল।”

হুট করে চাচা হাসতে হাসতে একটা ছবি দেখালেন। আর বললেন, “এটা দেখো।                                    

’৭০ এর মাঝামাঝিতে তৎকালীন সরকার রিকশাতে মানুষের ছবি আঁকার উপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিলেন। কিন্তু তারপরও রিকশা পেইন্টাররা দমে যান নি। তাঁরা মানুষের বদলে প্রাণী আঁকা শুরু করলেন। যেমন, একটা বানর ধান বুনছে কিংবা একটা হাতি ট্র্যাফিক নিয়ন্ত্রণ করছে। তারপর অবশ্য নিষেধাজ্ঞা তুলে দেওয়া হয়। তখন আমরা আবার ৯০-এর দশকে সিনেমার পোস্টার দেখতে পাই। সালমান শাহ, টাইটানিক কিছুই বাদ যায় নি। সিনেমা নিয়ে রিকশা পেইন্টারদের মনে একটা প্রিয় জায়গা আছে সেটা বোঝাই যায় এসব চিত্রকর্ম দেখলে।“

হুট করে চাচা একটু দুঃখ করে বললেন, “আগের সেই সোনালি দিন এখন আর নেই। এখন কেউ আর তেমন আসতে চায় না এই লাইনে। অথচ এটাই আমাদেরকে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও সম্মান এনে দিয়েছিল। দাড়াও সালটা একটু মনে করি।“

day, history, may, ইতিকথা, ইতিহাস, দিবস, মে

কিছুক্ষণ ভেবে বললেন, “১৯৮৮ সালে লন্ডনের মিউজিয়াম অফ ম্যানকাইন্ডে (যেটা ব্রিটিশ মিউজিয়ামের অন্তর্গত) শিরিন আকবরের কিউরেটিং-এ রিকশাচিত্রের প্রদর্শনী হয়েছিল। শিরোনাম ছিল, “ট্রাফিক আর্ট : রিকশা আর্ট ফ্রেম বাংলাদেশ”। জাপানের ফুকুয়োকা এশিয়ান আর্ট মিউজিয়ামে রিকশা পেইন্টিং-এর বড় সংগ্রহ আছে।”

এবার ত্রয়ী বলল, “চাচা, ১৯৯৯ তে তো আলিয়স ফ্রঁসেজে অনেক বড় প্রদর্শনী হয়েছিল রিকশা আর্টের।”

চাচা উচ্ছ্বসিত হয়ে বললেন, “ ও হ্যাঁ। ৫০০ জন রিকশা পেইন্টারের চিত্রকর্ম প্রদর্শিত হয়েছিল। অনেক জ্ঞানী-গুণী রিকশা পেইন্টারের চিত্রকর্ম ছিল। এখনো আছেন অনেকে অবশ্য। যেমন সৈয়দ আহমদ হোসেন। তাঁর শিক্ষক ছিলেন স্বয়ং আর কে দাস। জাপান, আমেরিকা, নেপাল অনেক জায়গায় তাঁর চিত্রকর্ম প্রদর্শিত হয়। এছাড়াও অনেকে আছেন, এস এম সামসু। তাঁর চিত্রকর্ম ও ছিল সেদিন। আরেহ, সেই  ’৯৯ তেই তো উনি জার্মানিতে পুরস্কার পেয়েছিলেন রিকশা পেইন্টিং কম্পিটিশনে। রফিকুল ইসলাম, ধীরেন্দ্রনাথ চন্দ্র ও রিকশা পেইন্টার হিসেবে খ্যাত।”

অনেকক্ষণ ধরে মনোযোগ দিয়ে তারা শুনছিল চাচার কথা। এবার বিদায় নেবার পালা। চাচা বললেন, “তোমরাই পারো রিকশা পেইন্টিংকে বাঁচিয়ে রাখতে। নাহলে রিকশার বিলুপ্তির সাথে সাথে আমাদের এই শিল্প, ঐতিহ্যটাও চলে যাবে।”

রাজধানীর নাম জানাটা সাধারণ জ্ঞানের একটা গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই ১০ মিনিট স্কুলের এই মজার কুইজটির মধ্যমে যাচাই করে নাও নিজেকে!

৩.

সিলভিয়া এবং ত্রয়ী একটা দেশীয় ফ্যাশন হাউজে। সিলভিয়া কিনছে একটা রিকশা পেইন্টের ডিজাইন করা চশমা। চাচার বাসা থেকে ফেরত আসার সময় ত্রয়ী ওকে বলেছে যে এখন রিকশা পেইন্টিং-এর নতুন যুগ শুরু হয়েছে। নতুন এক মাত্রায় চলে গিয়েছে রিকশা আর্ট। এখন চেয়ারে, বক্সে, কাপড়ে, পর্দায়, মোবাইলের কভারে এমনকি চশমার ফ্রেমেও শোভা পাচ্ছে রিকশা পেইন্টিং। আনছে বৈচিত্র্য। নতুনত্ব। দেশীয় ফ্যাশন হাউজগুলো এতে অগ্রণী ভূমিকা রাখছে। তাই তাকে ত্রয়ী এখানে নিয়ে এল।

ঘুরে আসুন:  কাজ আর জীবনের মধ্যে ভারসাম্য কীভাবে রাখবে?

সিলভিয়া যখন চশমাটা পরে নিজেক কেমন লাগছে আয়নায় সেটি দেখতে ব্যস্ত ছিল তখনই তড়িঘড়ি করে এসে ত্রয়ী বলল, “চলো চলো। দেরি হয়ে যাচ্ছে।”

সিলভিয়া আগ্রহের সাথে জিজ্ঞেস করল, “আমাদের পরবর্তী গন্তব্য কোথায়?”

ত্রয়ী হেসেই বলল, “রিকশাতে চড়ালাম। এবার মঞ্চনাটক দেখাতে নিয়ে যাচ্ছি তোমাকে।”

“বাহ! তাই। কারা কারা অভিনয় করছে? আমি তোমাদের এখানে কয়েকজনকে চিনি”, সিলভিয়া বলল।

“নাটকে কোনো মানুষ অভিনয় করছে না”, হেসে উত্তর দিল সে।

সিলভিয়া চমকে গিয়ে বলল, “তাহলে?”

“আরেহ চলই না। দেখতে পাবে…” বলেই ত্রয়ীর সেই রহস্যময়ী হাসি হেসে সে আরেকটা রিকশা ডাকল।

———————————————————————————–তথ্যসূত্র :

.  www.rickshaw-paint.net

. Rickshaw art of Bangladesh ।। Jupitar Pradhan www.jupitarpradan.wordpress.com

. বাংলাদেশের রিকশাচিত্র ।। দৈনিক প্রথম আলো।

. বিস্কুট ফ্যাক্টরি

এই লেখাটির অডিওবুকটি পড়েছে মনিরা আক্তার লাবনী


১০ মিনিট স্কুলের লাইভ এডমিশন কোচিং ক্লাসগুলো অনুসরণ করতে সরাসরি চলে যেতে পারো এই লিঙ্কে: www.10minuteschool.com/admissions/live/

১০ মিনিট স্কুলের ব্লগের জন্য কোনো লেখা পাঠাতে চাইলে, সরাসরি তোমার লেখাটি ই-মেইল কর এই ঠিকানায়: [email protected]

লেখাটি ভালো লেগে থাকলে বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করতে ভুলবেন না!
What are you thinking?