নেটওয়ার্কিং চ্যাম্প হতে চাও? পন্থাগুলো জেনে নাও!

‘নেটওয়ার্কিং’ শব্দটির সাথে আমরা সবাই কম-বেশি পরিচিত। কারণ, বর্তমান যুগের সাথে তাল মেলাতে গেলে যেই দক্ষতাটির সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, তা হলো নেটওয়ার্কিং। ওহ! দাঁড়াও এক মিনিট! আমি কিন্তু কম্পিউটার নেটওয়ার্ক বা টপোলজির কথা বলছি না(!), আমি বলছি যোগাযোগ দক্ষতার কথা, যাকে এক কথায় বলা হয় নেটওয়ার্কিং।

নেটওয়ার্কিংয়ের সূচনা:

আচ্ছা, তোমরা কি জানো যে এই নেটওয়ার্কিং কবে থেকে শুরু হয়েছে? আমরা যদি একটু চিন্তা করে দেখি, তাহলে বোঝা যাবে, নেটওয়ার্কিং এর সূচনা কিন্তু সে-ই আদিকাল থেকেই। কী, বুঝতে পারছো না ব্যাপারটা? চলো একটু খুলেই বলা যাক।

প্রাচীনকালে যখন ভাষা আবিষ্কার হয়নি, তখনও কিন্তু মানুষ আকার-ইঙ্গিতের মাধ্যমে, মুখ দিয়ে বিভিন্ন শব্দ করে তার আশেপাশের সঙ্গী-সাথীদের সাথে যোগাযোগ করতো। কোনো বিপদের লক্ষণ দেখা দিলে সেটা সাথে সাথে একজন অন্যদের কাছে ছড়িয়ে দিতো, আস্তে আস্তে পুরো গোষ্ঠীই দূর্ঘটনার আগাম বার্তা পেয়ে যেত। আর এই সম্পূর্ণ কাজটা কিন্তু নেটওয়ার্কিং এর মাধ্যমেই সম্ভব হয়েছে।

এরপর মানুষ উন্নত হতে শুরু করে। ভাষার সাহায্যে কথা বলে মনের ভাব প্রকাশ করে। লিখেও মনের ভাব প্রকাশ করা শুরু হয়। টেলিফোনে, টেলিগ্রামের মাধ্যমে, চিঠি পাঠিয়ে আমরা পরিচিত মানুষদের খোঁজ নেওয়া শুরু করি। এরপর মানুষ যতই  উন্নত এবং আধুনিক হচ্ছে, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি তত তাড়াতাড়িই ঘটছে। এখন ফেসবুক, মেসেঞ্জার, লিংকড ইন, ই-মেইল, হোয়াটস অ্যাপের মাধ্যমে খুব সহজেই নানান রকম মানুষের সাথে আমাদের পরিচয় ঘটছে এবং সম্পর্ক রক্ষা করাও সম্ভব হয়ে গিয়েছে।

দারুণ সব লেখা পড়তে ও নানা বিষয় সম্পর্কে জানতে ঘুরে এসো আমাদের ব্লগের নতুন পেইজ থেকে!

পরিবার থেকেই হোক নেটওয়ার্কিংয়ের সূত্রপাত:

একটা শিশু তার পরিবারের কাছ থেকে শুধু চারিত্রিক গুণাবলীগুলোই অর্জন করে না। এর পাশাপাশি নেটওয়ার্কিং বা যোগাযোগ দক্ষতাটাও কিন্তু পরিবার থেকেই আসে। ছোট শিশুরা যখন কথা বলা শেখে না, তখন ইশারা বা কান্নার মাধ্যমে তার মনের ভাব প্রকাশ করে। একটু বড় হওয়ার পর কথা বলে বলেই পরিবারের সকল সদস্যের সাথে মতবিনিময় করে।

তুমি কি কখনো খেয়াল করে দেখেছো, তোমার কোনো কিছু দরকার হলে তুমি যখন তোমার মা বা বাবার সাথে কথা বলে থাকো, এটাও কিন্তু এক ধরণের নেটওয়ার্কিং।

অর্থাৎ নেটওয়ার্কিং কিন্তু শুরু হয় পরিবার থেকেই!

নেটওয়ার্কিং কেন গুরুত্বপূর্ণ:

ছাত্রজীবন ও কর্মজীবন- এই দুই ক্ষেত্রেই নেটওয়ার্কিংয়ের ক্ষমতা ব্যাপক। কারণ, জীবনের এই দুই ধাপে আমাদের নানান ধরণের ও কাজের মানুষের সাথে পরিচিত হতে হয়। এই পরিচয় কিন্তু পরবর্তীতে আমাদের সাফল্যের চূড়ায় পৌছাতে সহায়তা করে!

যেমন আমরা যদি কোনো ইভেন্টে যাই, তাহলে সেখানে ইভেন্টটির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের পাশাপাশি ইভেন্টের স্পনসররাও থাকবেন। তাদের সাথে কথা বলার মাধ্যমে আমরা তাদের কাজ সম্পর্কে জানবো, কীভাবে কাজটা করতে হয় সেটা বুঝতে পারবো এবং ভবিষ্যতে আমাদের কোনো ইভেন্টের কাজের জন্য তাদের সাহায্যও নিতে পারবো!

 

ঠিক তেমনি ভাবে ভলান্টিয়ারিংয়ের মাধ্যমেও আমাদের যোগাযোগ দক্ষতা বাড়বে। কেননা ভলান্টিয়ারিংয়ের মাধ্যমে একটা প্রতিষ্ঠানের জন্য আমরা ভিন্ন বৈশিষ্ট্যের ও বিভিন্ন বিষয়ে পারদর্শী ব্যক্তিদের সাথে পরিচয় ঘটে। এভাবে ধীরে ধীরে একটা বড় সার্কেল গড়ে ওঠে।

কিন্তু শুধু কথা বললেই কি নেটওয়ার্ক তৈরি হয়ে যায়? নিশ্চয়ই নেটওয়ার্ক তৈরির জন্য বেশকিছু বিষয় রপ্ত করাটাও দরকার। তাহলে চলো সেই সব বিষয়গুলো জেনে আসি-

Be Yourself:

তুমি তোমার পরিবারের সদস্যেদের সামনে যেমন, বাইরের মানুষদের সাথেও সেভাবেই নিজেকে উপস্থাপন করবে। নিজেকে কখনোই অতিরঞ্জিতভাবে সবার সামনে উপস্থাপন করবে না, এতে করে তুমি সকলের হাসির খোড়াক হয়ে উঠতে পারো! যতটা সম্ভব নিজেকে স্বাভাবিক রাখতে চেষ্টা করো এবং তোমার চিন্তা ভাবনা ও কথা বলার স্টাইল যেন পরিচ্ছন্ন এবং বাস্তববাদী হয়। আর তোষামোদ করা থেকে সবসময় দূরে থাকবে! কারণ, যারা সত্যিকারের আদর্শবান মানুষ, তারা কিন্তু চাটুকারদের খুব একটা পাত্তা দেন না!

সময়ের আগেই উপস্থিত হও:

তুমি যদি কাউকে নিজের সাথে দেখা করতে আসার জন্য অনুরোধ করো, তাহলে খেয়াল রাখবে তাকে যেন তোমার কারণে অপেক্ষা করতে না হয়। কেননা সেই ব্যক্তিটা কিন্তু তোমার প্রয়োজনেই তোমাকে সময় দিচ্ছে। তাই চেষ্টা করবে নির্ধারিত সময়ের ৫-১০ মিনিট আগেই নির্দিষ্ট স্থানে এসে পড়তে (এর মানে এই না যে ৩০ মিনিট আগেই হাজির হবে!)।

বিচক্ষণের মত প্রশ্ন করো:

“I never learn anything talking. I only learn things when I ask questions.”

– Lou Holtz

একটা ভালো প্রশ্ন করার মাধ্যমেই কিন্তু তুমি যার সাথে কথা বলতে ইচ্ছুক, তার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারবে। তাই চেষ্টা করবে তাকে তার কাজ সম্পর্কিত যত ভালো প্রশ্ন করা যায়। ফলে সে ততই  তোমার সাথে কথা বলার জন্য আগ্রহী হয়ে উঠবে। যেমন কেউ যদি লিখালিখির সাথে যুক্ত থাকে, তাহলে তাকে জিজ্ঞেস করতে পারো তিনি কীভাবে লিখা শুরু করেছিলেন, তার লিখার কোনো নিজস্ব ধরণ আছে নাকি, নিজের এমন ধরণ কী করে আনলেন- এমন প্রশ্ন করলে যাকে প্রশ্ন করেছো, সে নিজেই আগ্রহী হয়ে তোমার প্রশ্নের উত্তর দিবে।

কিন্তু তুমি যদি তাকে জিজ্ঞেস করো তিনি কত টাকা কামাই করেন, তার মাসিক আয় কত- এইসব প্রশ্ন জিজ্ঞেস করলে তিনি উত্তর তো দেবেনই না, বরং তোমাকে এড়িয়ে যাবেন। তাই সবসময় খেয়াল রাখবে যে একটা ভালো প্রশ্নই কিন্তু তোমাকে অন্যদের থেকে আলাদা করে দিতে পারে।

ইনফরমেশন শেয়ার করো:

সবসময় শুধু অন্যের কাছ থেকে তথ্য নেওয়ার চেষ্টা করবে না, এর বদলে নিজেও তাকে কিছু তথ্য দেবে। যেমন তুমি কোন সেক্টরে কাজ করো, কীভাবে এই কাজে এসেছো, তোমার সিভিতে থাকা কোন ইনফরমেশনটির জন্য তোমাকে সিলেক্ট করা হয়েছে- এমন আরো নানান তথ্য দিয়ে তোমার আশেপাশের সেসব মানুষদের সাহায্য করো, যাদের সাথে তুমি নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে চাও। তাহলে দেখবে ধীরে ধীরে তারাও তোমার সাথে তথ্য আদানপ্রদান করছে৷ এতে করে তুমি এবং সে, দুইজনই একইসাথে উপকৃত হচ্ছো!

সবার সাথে কথা বলার দরকার নেই:

আমাদের মধ্যে যাদের নেটওয়ার্কিং সম্পর্কে ধারণা কম, তারা যেই ভুলটা সবচেয়ে বেশি করি, সেটা হলো সবার সাথে কথা বলা। হ্যাঁ, নেটওয়ার্কিংয়ের ক্ষেত্রে কোনো ভেদাভেদ হবে না ঠিকই, কিন্তু তোমাকে খুব ভাল এবং সূক্ষ্মভাবে বাছাই করে নিতে হবে যে কার সঙ্গ পেলে তুমি লাভবান হবে। ধরো তুমি কোনো একটা ওয়ার্কশপে গেলে। সেটা হতে পারে যেকোনো বিষয়ের উপর৷ এখন তোমার কাছে কি পর্যাপ্ত সময় থাকবে সকলের সাথে কথা বলার? নিশ্চয়ই না! আর সবার সাথে তুমি কথা বলতে পারবে ঠিকই, কিন্তু কারো সাথে হয়তো ঠিকভাবে কথা বলতে পারবে না।

Quality is better than quantity. তাই বেশি মানুষকে টার্গেট করার চেয়ে অল্প কিন্তু উপকারী মানুষদের সাথে কথা বলো৷ এটাই তোমার নেটওয়ার্ককে শক্তিশালী করে তুলবে।

নির্দিষ্ট বিষয় নিয়ে কথা বলো:

কারো যদি রাজনীতি নিয়ে আগ্রহ না থাকে, কিন্তু তুমি যদি রাজনীতি নিয়ে তার সাথে কথা বলেই যাও, তাহলে কিন্তু তার এবং তোমার নিজের; দুইজনের সময়ই নষ্ট হচ্ছে। আর যার সাথে কথা বলছো সেও কিন্তু তোমার সাথে কথা বলার আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে।

আবার তুমি হয়তো কারো সাথে ইন্টার্নশিপ নিয়ে কথা বলছো, আবার একটু পরেই টপিক ঘুরিয়ে খেলাধুলা রিলেটেড কথা বলছো- এমন করলে তুমি খেই হারিয়ে ফেলবে এবং অনেকসময় মূল বিষয় থেকেই সরে যাবে। তাই কারো সাথে যখন কথা বলতে যাবে, তখনই ঠিক করে নাও যে তুমি তার সাথে কোন বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে চাও।

ভিজিটিং কার্ড বা বিজনেস কার্ড যত্নসহকারে রেখে দাও:

আমাদের সাথে প্রতিদিনই নতুন নতুন মানুষের  পরিচয় ঘটে। আমরা তাদের সাথে কথা বলে পরিচিত হই। এদের মধ্যে যাদের ভিজিটিং বা বিজনেস কার্ড থাকে, তারা আমাদেরকে তাদের কার্ড দেয়। এরপর বাসায় এসে আমরা সেই কার্ড ফেলে দিই কিংবা এমন জায়গায় রেখে দিই, যেখান থেকে দরকারের সময় কার্ডটা খুঁজে পাওয়া যাবে না!

তুমি কিন্তু কখনোই জানবে না যে কোন সময় তোমার কাকে প্রয়োজন! তাই প্রতিটি কার্ডই কার্ড হোল্ডার বা এমন কোনো বক্সে রেখে দাও, যেখান থেকে দরকারের সময় খুব সহজেই কার্ডগুলো পাওয়া যাবে।

আমি অনেক আগে একবার নিউমার্কেটে গিয়েছিলাম কিছু রঙ কিনতে। সেখানে যেয়ে আমার সাথে দোকানদার আংকেলের খুব ভাল সম্পর্ক তৈরি হয়ে গিয়েছিল। যার ফলে উনি আমাকে উনার একটা বিজনেস কার্ড দিয়েছিলেন, যাতে করে কোনো দরকারে আমি তার সাথে যোগাযোগ করতে পারি। এরপর হঠাৎ করে কয়েকদিন আগে আমার কিছু রঙের দরকার পড়লো। মার্কেটে যেয়ে নিয়ে আসার সময়ও নেই। তখন আংকেলের দেওয়া বিজনেস কার্ডের কথা মনে পড়ে গেলো। সাথে সাথে তাকে ফোন দিয়ে বললাম আমার কিছু জিনিসের প্রয়োজন, বাসায় এসে দিয়ে যাওয়া সম্ভব নাকি। উনি লোক পাঠিয়ে আমার বাসায় জিনিসগুলো পৌছিয়ে দিয়েছিলেন। তাই প্রতিটি কার্ডই যত্ন করে রেখে দাও। কেননা একদিন না একদিন তো তোমার এগুলোর দরকার পড়তেই পারে।  

গণিতের ভয়কে কর জয়!
 

বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ:

কারো সাথে কথা বলার সময় বিরক্ত হলে সেটা কখনো চেহারায় প্রকাশ করবে না। চেষ্টা করবে হাসিমুখে এবং আন্তরিকভাবে কথা বলার। মনে করো তুমি কারো সাথে কথা বলছো, এখন তোমাদের দুইজনের মাঝে তৃতীয় কোনো ব্যক্তি চলে আসলো, তাও তুমি মুখটা হাসি হাসি করেই রাখবে। নেটওয়ার্কিং জোরদার করতে বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ খুব গুরুত্বপূর্ণ। 

অর্থপূর্ণ কথোপকথন এবং মনোযোগ সহকারে শোনা:

খাপছাড়া কথা কারোরই দৃষ্টি আকর্ষণ করবে না। তাই যার সাথে কথা বলছো, তার এবং তার কাজ সম্পর্কিত কথা বলাটাই শ্রেয়। এর পাশাপাশি সংযতভাবে নিজের গুণাবলীগুলোও তার কাছে প্রমোট করবে। কিন্তু কথা বলার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হলো কথা শোনা। বিজ্ঞ ব্যক্তিরা বলেন কম এবং শোনেন বেশি। আর তুমি যদি কারোর কথা মনোযোগ দিয়ে শুনো, তাহলে যিনি কথা বলছেন তিনি বুঝতে পারেন যে তুমি তার সাথে কথা বলার জন্য আগ্রহী। এবং তুমি তার কথাগুলো বুঝতেও পারছো। এভাবে নেটওয়ার্কিং এর জগতটা ধীরে ধীরে বিস্তৃত হতে থাকবে।

নিজের এলিভেটর স্পিচ রেডি রাখো:

তোমরা কি এলিভেটর স্পিচ সম্পর্কে জানো? এলিভেটর স্পিচ হলো ৩০ সেকেন্ডের এমন ছোট্ট কিন্তু পরিষ্কার কিছু কথা, যেটা দ্বারা তোমার সম্পর্কে ‘কমার্শিয়াল’ একটা ধারণা পাওয়া যায়৷ ৩০ সেকেন্ড সময় এইজন্য যে লিফটে করে কোনো বিল্ডিংয়ের নিচতলা থেকে উপরতলায় যেতে সাধারণত ৩০ সেকেন্ডই লেগে থাকে। এলিভেটর স্পিচের মাধ্যমে তুমি কে, তুমি কী করো এবং তোমার কোনো দক্ষতা থাকলে কোম্পানি সেটা কীভাবে কাজে লাগাতে পারে- এই বিষয়গুলো প্রকাশ করে থাকে।

 

যখন আমার সাথে আয়মান সাদিক ভাইয়ার প্রথম দেখা হয়, তখন উনার সাথে ভালোভাবে কথা বলার মতন সময় ছিল না, কারণ উনি বেশ ব্যস্ত ছিলেন। তখন আমার মাথায় এলিভেটর স্পিচের ব্যাপারটা মাথায় আসলো৷ সাথে সাথে তাঁর কাছে যেয়ে তাকে সালাম দিয়ে বললাম, “ভাইয়া, আমি মুসাররাত আবির জাহিন৷ এইবার ভিকারুননিসা নূন স্কুল থেকে এসএসসি দিলাম, এখন ১০ মিনিট স্কুলেই ব্লগ ইন্টার্ন হিসেবে আছি।”

এই দুইটি বাক্য দিয়ে কিন্তু উনি আমার সম্পর্কে অনেক তথ্য পেলেন।

১. আমার নাম

২. আমি কোথায় পড়াশুনা করছি

৩. কোন ক্লাসে পড়ছি

৪. কোথায় কাজ করছি এবং

৫. কোন বিভাগে আছি

তাহলে বুঝতেই পারছো একটা এলিভেটর স্পিচ দিয়ে নিজেকে কতভাবে প্রকাশ করা যায়! তাই তোমরাও তোমাদের এলিভেটর স্পিচ রেডি করে ফেলো!

এছাড়াও নেটওয়ার্কিংয়ের ক্ষেত্রে আরো বেশ কিছু ছোট ছোট ব্যাপার খেয়াল রাখতে হবে।

যেমন: যার সাথে কথা বলবে তাকেও তোমার সাথে কথা চালিয়ে যাওয়ার জন্য উৎসাহিত করো। এক হাতে কিন্তু তালি বাজে না! তালি বাজাতে হলে যেমন দুটো হাতই দরকার, তেমনিই কথা চালিয়ে যাওয়ার জন্য দুইজনের মুখেই কথা থাকা প্রয়োজন।

সাহায্য দিয়েই শুরু হোক নেটওয়ার্কিং। ধরো, রাস্তায় কেউ একজন কারো বাসার ঠিকানা খুঁজছে, কিন্তু সে পাচ্ছে না। এখন তুমি যদি তাকে তার কাঙ্ক্ষিত ঠিকানায় নিয়ে যাও, তখন সে তোমাকে ধন্যবাদ দেবে, কোথায় কাজ করো এগুলো জানতে চাইবে; আর এভাবেই গড়ে উঠবে নেটওয়ার্কিং।

কারো সাথে কথা বলার সময় খেয়াল রাখবে যে কার সাথে কথা বলছো। কথা বলার আগে চিন্তা করে নেবে যে তুমি যেটা বলতে চাচ্ছো, সেটা বলা আদৌ ঠিক নাকি। কেননা “First impression is the last impression.”।

শুরুতেই কারো কাছে তার কার্ড চেয়ে বসবে না। আগে তার সাথে ভালোভাবে পরিচিত হয়ে নাও। এরপর তাকে বলো যে তুমি তার সাথে যোগাযোগ রাখতে চাও, তখনই তার ভিজিটিং কার্ড বা বিজনেস কার্ড চেয়ে নেবে।

আমাদের একটা সমস্যা হচ্ছে আমরা কোনো কাজ করার সময় কারো সাহায্য ঠিকই নিই, কিন্তু কাজটা হয়ে যাওয়ার পর আবার তাকে ভুলে যাই। এগুলো কিন্তু অকৃতজ্ঞের লক্ষণ। তাই সবসময় কথা না বললেও তার জন্মদিনে তাকে ছোট্ট সুন্দর একটা মেসেজ লিখে পাঠিয়ে দাও। কিংবা যদি জানো যে সে অসুস্থ, তাহলে তার সুস্থতা কামনা করে খুদে বার্তা পাঠিয়ে দিতে পারো।

আরেকটা জিনিস, যেটা করলে সবচাইতে ভাল হয়, তা হলো নিজের সিভি রেডি করে রাখা। আজকাল মোবাইলে নানান ধরণের সিভি মেকার অ্যাপ পাওয়া যায়। এরমধ্যে থেকে একটা অ্যাপ ইন্সটল করে নিজের সিভি বানিয়ে সেটা নিজের ড্রাইভ অ্যাকাউন্টে রেখে দাও। কারণ যেকোনো সময়েই তোমার সিভির দরকার হতে পারে।

এই সব ছোট ছোট বিষয়গুলো চর্চা করলে তোমার নেটওয়ার্ক হয়ে উঠবে অনেক শক্তিশালী ও বড়। তাই নিয়মিত বিভিন্ন ইভেন্টে যাও, যেয়ে সবার সাথে পরিচিত হও। তাহলেই না তুমি হয়ে উঠবে একজন নেটওয়ার্কিং চ্যাম্প!

 

সূত্র: 1. https://www.inc.com/minda-zetlin/8-things-power-networkers-do-make-connections.html

  1. https://www.forbes.com/sites/theyec/2014/07/28/how-to-network-the-right-way-eight-tips/
  2. https://www.wikihow.com/Network

১০ মিনিট স্কুলের ব্লগের জন্য কোনো লেখা পাঠাতে চাইলে, সরাসরি তোমার লেখাটি ই-মেইল কর এই ঠিকানায়: [email protected]

লেখাটি ভালো লেগে থাকলে বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করতে ভুলবেন না!
What are you thinking?