ইন্টারনেটে সময় ব্যয়, কমাবার কী উপায়?

পুরোটা পড়ার সময় নেই? ব্লগটি একবার শুনে নাও।

প্রযুক্তির এই যুগে নানান ধরনের গেজেট বা ইলেকট্রনিক ডিভাইস আমাদের নিত্যসঙ্গী। প্রতিনিয়তই আমরা কোন না কোন ডিভাইস বা যন্ত্র ব্যবহার করছি। যন্ত্রের যাঁতাকলে জীবনটাই যান্ত্রিক হয়ে যাচ্ছে। এর সাথে যোগ হয়েছে ইন্টারনেটের সহজলভ্যতা ও অতিরিক্ত ব্যবহার। দিনের উল্লেখযোগ্য একটা সময় আমরা এখন অনলাইনে ব্যয় করি।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং তথ্য-প্রযুক্তির গ্যাঁড়াকলে হারিয়ে যাচ্ছে অফুরন্ত সময়। নষ্ট হচ্ছে সামাজিক ও পারিবারিক সম্পর্কের ভিত। শুধু তাই নয়, ইন্টারনেট-আসক্তি কমিয়ে দিচ্ছে কর্মস্পৃহা এবং সৃষ্টিশীলতা। আর এসব কারণে জীবনের প্রকৃত অর্থই যেন আজ বিলীন হতে বসেছে। আমরা সবাই কম বেশী অনুভব করি এ থেকে আমাদের বের হয়ে আসতে হবে। কিন্তু কীভাবে?

রাজধানীর নাম জানাটা সাধারণ জ্ঞানের একটা গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই ১০ মিনিট স্কুলের এই মজার কুইজটির মধ্যমে যাচাই করে নাও নিজেকে!

চলুন,পরিবারের সবাই মিলে কিংবা বন্ধুরা ইন্টারনেট-আসক্তি থেকে বিরত থাকার কিছু উপায় জেনে নেয়া যাক:

১। বদলে ফেলুন ঘরের পরিবেশ:

ইন্টারনেট থেকে দূরে থাকার পূর্বশর্ত হচ্ছে ইন্টারনেট ব্যবহার করা যায় এমন ডিভাইস থেকে দূরে থাকা।

  • কম্পিউটার অথবা ল্যাপটপ নিজের বেডরুমে না রেখে কম্পিউটার রুম অথবা অফিসে রাখুন।
  • যে কোন চার্জার রুমের বাহিরে রাখুন। কারণ কোন প্রকার শব্দ অথবা ভাইব্রেশন রুমের পরিবেশ-এ বিঘ্ন ঘটাতে পারে।
  • ইলেকট্রনিক্ ডিভাইস এর নীল আলো অনেক সময় অনিদ্রার কারণ হতে পারে। তাই ঘুমানোর বেশ আগেই মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ অথবা টেলিভিশন ব্যবহার করতে হবে।
ঘুরে আসুন: গড়ে উঠুক দারুণ এক অভ্যাস!

২। সময়  কাটুক অ-ডিজিটাল কার্যালাপে:

অবসর সময়টুকু অনলাইনে না কাটিয়ে অন্য কোন কাজ করতে পারেন।

    • অনলাইনে বন্ধুদের সাথে আড্ডা না দিয়ে কারো বাসায় বা বাইরে অন্য কোথাও দেখা করতে পারেন। এতে করে বন্ধুত্বের সম্পর্ক আরও মধুর হয়ে উঠবে।
    • পরিবারের সবাই মিলে কিংবা বন্ধুরা একসাথে দর্শনীয় কোন স্থানে ঘুরে আসতে পারেন। ভ্রমণ আপনার মনকে আনন্দময় ও প্রফুল্ল করে তুলবে।
    • অবসর সময়ে বা ছুটির দিনগুলোতে বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করতে পারেন।
চল স্বপ্ন ছুঁই!

আমাদের ছোট-বড় অনেকরকম স্বপ্ন থাকে। কিন্তু বাস্তবায়ন করতে পারি কতগুলো?

এই দ্বিধা থেকে মুক্তি পেতে চল ঘুরে আসি ১০ মিনিট স্কুলের এই এক্সক্লুসিভ প্লে-লিস্ট থেকে!

লাইফ হ্যাকস সিরিজ!

  • সম্ভব হলে সপ্তাহে অন্তত একদিন নিজেকে ভার্চুয়াল জগত থেকে দূরে রাখুন।
  • ইন্টারনেট ব্যবহার কমিয়ে তার বদলে বেছে নিতে পারেন শখের কোন কাজ। যেমন: ছবি আঁকা, বই পড়া, গান শেখা, দাবা খেলা ইত্যাদি।

৩। না বলুন ইন্টারনেট আসক্তিকে!

গবেষণায় বলা হয়েছে, সপ্তাহে ৩০ ঘণ্টার বেশি ইন্টারনেট ব্যবহার করলে তাকে ইন্টারনেট আসক্তি বলা হয়। ইন্টারনেট আসক্তিকে না বলার কিছু উপায় হল:

কিছু ওয়েবসাইট আছে যাতে আপনার অ্যাকাউন্ট রাখার তেমন কোন দরকারই নেই

কোনো সমস্যায় আটকে আছো? প্রশ্ন করার মত কাউকে খুঁজে পাচ্ছ না? যেকোনো প্রশ্নের উত্তর পেতে চলে যাও ১০ মিনিট স্কুল লাইভ গ্রুপটিতে!
    • ইন্টারনেট ব্যববহারের জন্য একটি নির্দিষ্ট সময় নির্বাচন করুন, যে সময়ে আপনি ই-মেইল পাঠানো, মেইল বা অন্য কোন নোটিফিকেশন চেক করা সহ অনলাইনের যাবতীয় কাজ করবেন।
    • সারাদিন অনলাইনে না থেকে নির্দিষ্ট পরিমান সময় অনলাইনে ব্যয় করুন।
ঘুরে আসুন: পড়াশোনার সময় কীভাবে “না” বলবে মোবাইল ফোনকে
  • কিছু পরিবারের সবাই মিলে কিংবা বন্ধুরা সফটওয়্যার সময় বেঁধে দেয়া (time lock) সমর্থন করে। আপনার বাসার অন্য কাউকে পাসওয়ার্ডটি সেট করতে বলুন যাতে করে শুধুমাত্র জরুরী (emergency) ক্ষেত্রেই আপনি এটাকে আনলক করতে পারেন, নিজের যখন ইচ্ছা তখন নয়। এতে করে ইন্টারনেট আসক্তি অনেক কমে যাবে।
  • কিছু সোশ্যাল মিডিয়া আছে যেগুলোতে একাউন্ট না থাকলেও কিন্তু চলে। যেমন: স্ন্যাপ চ্যাট , ইন্সট্রাগ্রাম ইত্যাদি। এ অ্যাকাউন্টগুলো কেবলমাত্র সময়ের অপচয়ই নয় বরং আসক্তিকরও বটে।তাই এগুলো থেকে সম্ভব হলে দূরে থাকাই ভালো।এ ছাড়া কিছু ইন্সট্যান্ট ম্যাসেজিং অ্যাপ রয়েছে যেগুলো অনেকটা একই ধরনের কাজ করে যেমন: হোয়াটস অ্যাপ, ভাইবার, ইমো ইত্যাদি। তাই সবগুলো অ্যাপ ব্যবহার না করে যে কোনো একটি অ্যাপ ব্যবহার করার চেষ্টা করুন।

১০ মিনিট স্কুলের লাইভ এডমিশন কোচিং ক্লাসগুলো অনুসরণ করতে সরাসরি চলে যেতে পারো এই লিঙ্কে: www.10minuteschool.com/admissions/live/

১০ মিনিট স্কুলের ব্লগের জন্য কোনো লেখা পাঠাতে চাইলে, সরাসরি তোমার লেখাটি ই-মেইল কর এই ঠিকানায়: [email protected]

লেখাটি ভালো লেগে থাকলে বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করতে ভুলবেন না!
What are you thinking?