“না” বলব? কী করে?

পুরোটা পড়ার সময় নেই? ব্লগটি একবারে শুনে নাও!

 

বাংলা একটা প্রবাদ আছে, “অনুরোধে ঢেঁকি গেলাঅর্থাৎ, অনুরোধ রক্ষার্থে অসম্ভব কিছু করে ফেলা। মানুষ এক আজব জীব! অনায়াসে এত কঠিন কঠিন কথা বলে ফেলতে পারলেও পৃথিবীর সবচেয়ে ছোট এবং সহজ শব্দনাএকদম বলতেই পারে না। এই একটা শব্দ হুট করে বলে ফেলাটা আসলেই অনেক কঠিন, কারণ, মানুষের সাধারণ স্বভাবই হচ্ছে মহানুভবতা প্রকাশ। কোনো মানুষই কারো কষ্ট বা বিরক্তির কারণ হতে চায় না। কিন্তু, এই সহজ শব্দটার উচ্চারণই অনেক সময় অনেক কঠিন পরিস্থিতি নিয়ে আসে যাতে করে মানুষ তার অনেক প্রিয় মানুষেরও কষ্টের কারণ হয়ে যায় আর এই পরিস্থিতি এড়িয়ে যাওয়ার জন্যই অনেক সময় আমরা চাপে পরে এমন অনেক জায়গায়হ্যাঁবলে দিই যেখানে আমাদের স্বার্থহানি হয়।

আমাদের বোঝা উচিত যে, আমাদের স্বার্থের হানি হচ্ছে এমন জায়গায় আমাদের পুরো অধিকার আছে না বলে দেয়ার কিন্তু, অবশ্যই তা বলতে হবে খুবই ভদ্রভাবে যাতে করে সাপও মরবে আবার লাঠিও ভাঙবে না। তো চলুন নিচের কৌশলগুলো দিয়ে সুগারকোট করে ফেলি আমাদেরনা’-গুলোকে।

গ্রাফিক্স ডিজাইনিং, পাওয়ারপয়েন্ট প্রেজেন্টেশান ইত্যাদি স্কিল ডেভেলপমেন্টের জন্য 10 Minute School Skill Development Lab নামে ১০ মিনিট স্কুলের রয়েছে একটি ফেইসবুক গ্রুপ।

১। ‘না’ এর বিকল্প কিছু বলুন

সরাসরি কাউকে ‘না’ বলে না দিয়ে বরং বলুন যে, এখনই বলতে পারছি না কিংবা অন্য কোনো সময়। এছাড়াও এমনভাবে উত্তর দিন যাতে বোঝা যায় যে, আপনি শক্ত করে না বলছেন কিন্তু তা যেন ভদ্রভাবে হয়। যেমন, অনেক ধন্যবাদ জিজ্ঞাসা করার জন্য কিন্তু দুঃখিত, করতে পারছি না। কিন্তু কাছের মানুষদেরকে সরাসরি না বলে কারণ বলে দেয়াই শ্রেয় কারণ পরবর্তীতে এই নিয়ে আবার তারা কষ্ট পেতে পারে যে, আপনি তাদের সাথে এত ফরমাল ব্যবহার করেছেন।

ঘুরে আসুন: পড়াশোনার সময় কিভাবে “না” বলবেন মোবাইল ফোনকে

২। কারণ দর্শান

ধরে নিন, আপনি জনের একটা গ্রুপে আছেন। হঠাৎ করেই একজন একটা ট্রিপ প্ল্যান করে ফেলল যেখানে আপনি কোনো কারণে যেতে পারছেন না। সেক্ষেত্রে, আপনি আপনার কারণটা বললে, অন্তত জনকে পাবেনই যে আপনাকে সমর্থন করবে। গবেষণায় দেখা গেছে যে, আপনি যখনই কোনো কিছুর জন্য কারণ দর্শাবেন, তখনই মানুষ আপনাকে সমর্থন করবে তা সে যত বাজে কারণই হোক না কেন!  

৩। অঙ্গভঙ্গি দিয়ে বোঝান

কেউ কোনো প্রস্তাবনা দিলে, একটু দ্বিধায় পরে গেছেন, বুঝতে পারছেন না কী করবেন কিংবা আপনি ব্যাপারটা নিয়ে অত আগ্রহী নন- এমন মুখশ্রী তৈরি করুন। আপনাকে কিছু বলতেও হবে না, মানুষ নিজে থেকেই বুঝে যাবে। না বলাকে আরো সহজ করার জন্য একান্ত প্রয়োজন ছাড়া বিনামূল্যে কারো সাহায্য বা জিনিস নেয়া ঠিক না।

ধরে নিন, একটা সুপারশপে এক বিক্রয়কর্মী আপনাকে কোনো একটা খাবার বিনামূল্যে খেতে দিল। আপনি খাওয়ার পর সে আপনাকে তা কেনার জন্য অনুরোধ করতে লাগল। আপনি কি এখন তার অনুরোধ উপেক্ষা করতে পারবেন? না। কিন্তু আপনি যদি প্রথমেই খেয়ে না নিতেন, তাহলে অনেক সহজে ‘না’ বলে দেয়া যেত।

৪। একটা বিকল্প ব্যবস্থা করুন

আমার এক বান্ধবী কিছুদিন আগে খুব করে আমাকে বলছিল একটা টিউশন করানোর জন্য। পরে সে বলল যে, টিউশনটা নাকি সে নিজেই পেয়েছিল কিন্তু সময়ের কারণে সে করাতে পারবে না। তাই সে আরেকজনকে খুঁজে দিচ্ছে। এখানেই আমার বান্ধবী কিন্তু সরাসরি ‘না’ না বলে বরং একটা বিকল্প ব্যবস্থা করে দিচ্ছে।

৫। কাউকে ক্ষতি করে না এমন ছোটখাটো অসত্য অজুহাত দিন

আমার শরীরটা ভাল লাগছে না কিংবা আমি একটু বাইরে যাব এরকম ছোটখাট কিছু অজুহাত দিতেই পারেন তবে এসব অজুহাত শুধু ছোটখাটো প্রস্তাবনাতেই খাটবে। অফিসিয়াল কোনো প্রস্তাবনায় এধরনের অজুহাত দেয়া যাবে না। তবে বড় রকমের প্রস্তাবনাকে না বলতে চাইলে, আপনি হালকা দরদাম করে দেখতে পারেন।

যেমন ধরুন, টিউশনের উদাহরণ থেকেই, এমন যদি হয় যে আপনি বর্তমানে টিউশন করাতে চাচ্ছেন না কিন্তু সরাসরি না বলতেও পারছেন না। সেক্ষেত্রে বেতনটা একটু বাড়িয়ে বলুন যাতে করে তারাই আপনাকে টিউটর হিসেবে রাখতে নিরুৎসাহিত হয়। আরেকটা জিনিস, মিথ্যা কথাটা যেন এমন না হয় যে আপনি পরে জানাবেন। এতে করে শুধু শুধু একটা মানুষ আপনার উত্তরের আশায় অপেক্ষা করবে যেটা সরাসরি ‘না’ বলে দেয়ার চেয়েও খারাপ।

৬। এখনই না

শুরুতেই যে ট্রিপের উদাহরণটা দিলাম, সেক্ষেত্রে আপনি আপনার কারণটা বলে বলতে পারেন যে, পরবর্তীতে কেউ পরিকল্পনা করলে যেন আপনাকে অবশ্যই জানায়। এতে করে আপনার ‘না’ বলার সাথে সাথে প্রস্তাব দেয়া মানুষও খুশি হবে এই ভেবে যে আপনার ইচ্ছা ছিল কিন্তু আপনি পারলেন না। এমনকি এতে করে, আপনার সেই গ্রুপটা, আপনি সরাসরি মানা করে দিয়েছেন এই নিয়ে বদনাম না করে বরং ট্রিপে গিয়ে আপনাকে সবচেয়ে বেশি মিস করবে! এভাবে সবকিছুতেই মানুষকে বোঝাবেন যে এখন একটা কাজ করতে পারছেন না কিন্তু পরে সুবিধামতন সময়ে আপনি তা করতে আগ্রহী।

৭। নিজেকে কিংবা অন্য কাউকে দোষ দিন

কাউকে কোনোকিছুতে ‘না’ বলতে গেলে প্রথমেই তাকে বোঝান যে সমস্যাটা তার কিংবা কাজটির না বরং আপনার। আপনার কিছু সমস্যার কারণেই আপনি কাজটা করতে পারছেন না। কাছের কেউ কোনো প্রস্তাবনা আপনি রাজি হবে না জেনেও দিলে তাকে সমস্যাটা খুলে বলুন। এরপরেও অনুরোধ করলে জিজ্ঞেস করুন সমস্যা আছে জেনেও কেন সে এমন অনুরোধ করছে।

৮। আফসোস করুন

কাউকে সরাসরি ‘না’ বলে দিয়ে এরপর আফসোস করুন যে আপনি কাজটা করতে পারলেন না। এবং যে আপনাকে অফার করেছে, তাকেও ধন্যবাদ দিয়ে নিন।

৯। এমনভাবে ‘না’ বলুন যে, আপনি অনেক ভেবে বলছেন

কেউ প্রস্তাব দেয়ার সাথে সাথে ‘না’ না বলে বরং একটু বিরতি নিন এরপর হেসে বলুন যে সম্ভব হচ্ছে না।

১০। বোঝান যে আপনি এখনই ভাল আছেন

কেউ কোনো অফার করলে তাকে বলুন যে, তার অফারটা কত ভাল কিন্তু আপনি এটা ছাড়াই ভাল আছেন আর আপনি অনেক খুশি যে তিনি আপনাকে এই অফারটা করেছেন।

চল স্বপ্ন ছুঁই!

আমাদের ছোট-বড় অনেকরকম স্বপ্ন থাকে। কিন্তু বাস্তবায়ন করতে পারি কতগুলো?

এই দ্বিধা থেকে মুক্তি পেতে চল ঘুরে আসি ১০ মিনিট স্কুলের এই এক্সক্লুসিভ প্লে-লিস্ট থেকে!

লাইফ হ্যাকস সিরিজ!

১১। ইথিক্সের দোহাই দিন

কোনো বন্ধু যদি টাকা ধার চায় যা আপনি দিতে পারছেন না, সেক্ষেত্রে ইথিক্সের কথা বলুন যে আপনি আপনার কোনো বন্ধুকে টাকা ধার দেন না। কেউ নতুন চাকরির প্রস্তাব দিলে তাকে বলুন যে আপনি এই কয়েক বছরের আগে চাকরি বদলাবেন না।

১২। এ মাসে অনেক খরচ হয়ে গেছে

কেউ যদি এমন কোনো প্রস্তাবনা দেয় যেখানে আর্থিক লেনদেনের ব্যপার আছে, যেমন ট্রিপ, তাহলে তাকে বলুন যে মাসে ইতোমধ্যে অনেক খরচ হয়ে গেছে, আর করা ঠিক হবে না।

১৩। একটু ফ্রি থাকতে চাই

কেউ কোনো কাজ চাপিয়ে দিল যা আপনি করতে চান না, তাহলে তাকে বলুন যে আপনি খুব খুশি অফারটি পেয়ে কিন্তু আপনি একটু ফ্রি থাকতে চান কয়েকদিন, তাই করতে পারছেন না।

১৪। আপনার প্রায়োরিটি সম্পর্কে মানুষকে বোঝান

ছোট হোক আর বড় হোক, প্রায়োরিটি তো প্রায়োরিটিই। একজন মানুষ হিসেবে আপনারও যে কিছু প্রায়োরিটি রয়েছে এবং সকল ধরনের প্রস্তাবনা সেগুলোর পরে বিবেচিত হবে তা বোঝান।

১৫। টপিক পরিবর্তন করুন

যখন দেখবেন যে কেউ কোনো প্রস্তাব দেয়ার পর আপনি তাকে ‘না’ বলার কোনো কারণ খুঁজে পাচ্ছেন না কিন্তু আপনার কোনো ইচ্ছা নেই হ্যাঁ বলার, তখন কথার টপিক পরিবর্তন করুন, সে নিজেই বুঝে যাবে।

ঘুরে আসুন: কাজের আগে পরিকল্পনা: কেন এবং কীভাবে?

১৬। ব্যক্তিগত সমস্যার কথা বলুন

আমার মতে, পৃথিবীর সবচেয়ে সেরা অজুহাত হচ্ছে, “আমার কিছু ব্যক্তিগত সমস্যা আছে।” এরপর আর কেউ আপনাকে জোর করতে আসবে না।

১৭। শেষ মুহুর্তে মানা করুন

যেই প্রস্তাবগুলোতে আপনার মনে হয় যে শেষ মুহুর্তে মানা করলে কোনো ক্ষতি হবে না, সেগুলো শুরুতে ‘না’ না বলে বরং শেষে গিয়ে বলুন যে আপনি কোনোভাবেই পারছেন না।

১৮। আপনার অন্যদের সাথে পরামর্শ করতে হবে

ছোটবেলায় আমরা কোনোকিছু না করতে চাইলে যেভাবে বলে দিতাম যে, “মা দিবে না”- তেমনি এখনো চাইলেই আপনি অন্যকারো কথা বলে দিতে পারেন যে আপনি এই প্রস্তাব গ্রহন করলে অন্য কেউ কষ্ট পাবে।

১৯। মানুষ যেভাবে চায় সেভাবেই না বলুন

যাদের প্রস্তাব নিয়ে এতক্ষণ কথা বললাম, সাধারণত তাদের আমরা ভালভাবেই চিনি। আমরা এও জানি যে তারা কোন উপায় না বললে খুশি হবে। তো মানুষকে তাই শোনান যা সে শুনতে চায়।

২০। দূরের সম্পর্কের মানুষদের না বলার আগে অত চিন্তা করার দরকার নেই

আমরা সাধারণত মানুষকে মুখের উপরে ‘না’ বলি না কারণ এতে করে সম্পর্ক নষ্ট হবার সম্ভাবনা থাকে। কিন্তু সম্পর্ক যদি এমনিতেও ভাল না থাকে তাহলে কাউকে না বলার আগে অত চিন্তা করার দরকার নেই।  

১০ মিনিট স্কুলের পক্ষ থেকে তোমাদের জন্য আয়োজন করা হচ্ছে অনলাইন লাইভ ক্লাসের! তা-ও আবার সম্পূর্ণ বিনামূল্যে!

আপনি যখনই কোনোকিছুতে ‘না’ বলতে চান, অবশ্যই তার পেছনে কোনো কারণ থাকে। আর তখন ‘না’ বলতে গিয়েও ‘হ্যাঁ’ বলে দিলে সৃষ্টি হয় সুযোগ ব্যয়ের। একারণে অভ্যাস করতে হবে ‘না’ বলার, কারণ আপনার ভাল আপনি নিজে না বুঝলে আর কেউ বুঝবে না।

এই লেখাটির অডিওবুকটি পড়েছে মনিরা আক্তার লাবনী


১০ মিনিট স্কুলের লাইভ এডমিশন কোচিং ক্লাসগুলো অনুসরণ করতে সরাসরি চলে যেতে পারো এই লিঙ্কে: www.10minuteschool.com/admissions/live/

১০ মিনিট স্কুলের ব্লগের জন্য কোনো লেখা পাঠাতে চাইলে, সরাসরি তোমার লেখাটি ই-মেইল কর এই ঠিকানায়: [email protected]

লেখাটি ভালো লেগে থাকলে বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করতে ভুলবেন না!
What are you thinking?