আইবিএ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়: বিবিএ এডমিশন পরামর্শ

পুরোটা পড়ার সময় নেই? ব্লগটি একবার শুনে নাও

স্বপ্নের রঙিন সুতাগুলো একটার পর একটা ছিঁড়ে যাচ্ছিলো। উচ্চ মাধ্যমিকে ভাল করেছিলাম কিন্তু টপ করতে না পারায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সীমাবদ্ধ সুযোগ আমার জন্য ক্রমেই সঙ্কুচিত হয়ে আসছিল। অপেক্ষা করে চলছিলাম ঢাকার সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে শেষ ভর্তি পরীক্ষাটির আশায়। এক স্বপ্ন, এক আশা- আইবিএ; যেখানে প্রায় ৭০০০ আবেদনকারী হতে প্রাথমিকভাবে নেওয়া হয় মাত্র ১৬০-১৮০ জনকে। তা হতে মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে পুনরায় বাছাই করা হয় ১২০-১২৫ জনকে।

11010541_10206931745311904_9069708805888120725_n
Photo Credit: Redoy Mahmud Boishakh

কি মারাত্মক ব্যাপার! এত কম আসনে কিভাবে পারব লড়াই করতে? কিভাবে পারব এ কয়টি আসন থেকে নিজের জন্য একটি বরাদ্দ করতে? লড়েছি, চেষ্টা করেছি, পেরেছি। আর তাই আজ তোমাদের হয়েও আশা করার সাহস করছি। আমাদের ১২০ জনের মত তোমরাও যারা এতদিন সব কিছু ভুলে শুধু “চান্সটা পেতেই হবে” মন্ত্র জপ করে আসছ, তাদের জন্য বলছি, মাত্র তো আর কটা দিন। এই উদ্যমটা বজায় রাখো, তোমরাও অবশ্যই পারবে।

যুদ্ধের ময়দান তোমার অপেক্ষায়

ফরাসি সম্রাট নেপোলিয়ন বোনাপার্টকে তোমরা নিশ্চয়ই চেন। শত যুদ্ধের শত প্রতিকূলতা পেরিয়ে, চূড়ান্ত পাতায় গিয়ে সে হয়ে উঠেছিল একজন সফল নায়ক। ঘোর অমানিশায় সে যেন ছিল এক অক্লান্ত সৈনিক, এক বীর যোদ্ধা। এই অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক ভর্তি পরীক্ষাটিতেও তুমি ঠিক তাই। উচ্চ মাধ্যমিকে ভাল ফল হয়েছে কিনা, এ পর্যন্ত পরীক্ষাগুলো মন মত হয়েছে কিনা, অন্য কোন বন্ধু কত জাগায় চান্স পেয়েছে— এসব চিন্তা আপাতত মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলো। চেষ্টার ত্রুটি না থাকলে, এই পরীক্ষাতেই তুমি পারো “লগন” ছবির ভুবনের মত শেষ বলে ছক্কা মেরে বিজয়ী হয়ে উঠতে, এই ময়দানই তোমাকে দিতে পারে তোমার প্রাপ্য জয়মাল্য।

তোমরা যারা যেখানেই পরীক্ষা দিচ্ছ, সেখানেই চান্স পেয়ে যাওয়াদের দলে পড়ছ না, বরং বিগত তিন মাস ধরে দিন-রাতের হিসেব না করে একটি দেড় ঘণ্টার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হবার জন্য পরিশ্রম করে আসছ, সেই সাফল্য পিপাসুদের জন্য লিখছি এসব কথা। পরীক্ষাটির দোরগোড়ায়, এই তোমাদের জন্যই শেষ মুহূর্তের কিছু টিপস

ঘড়ি ধরে অংক চর্চা

এটি জানা কথা যে অংক বিষয়টি এমন, যা পুরোপুরি চর্চার ওপর নির্ভরশীল। শেষ দিন পর্যন্ত এর চর্চা চালিয়ে যেতে পারলে, শেষ দিন পর্যন্তই এতে আরও ভালো করার সুযোগ থাকবে । কিন্তু যদি মনে করো যে নতুন করে পুরনো জিনিস চর্চা করার চেয়ে সময়টা অন্যভাবে কাজে লাগাবে, তাহলে এ কয়দিন যেসব দরকারি সূত্রগুলো তুমি ভুলে যাচ্ছ বলে মনে হচ্ছে, বা যেসব চ্যাপ্টার বরাবরের মতই এখনো কঠিন লাগছে, (আমি জানি লাভ-ক্ষতি, মিশ্রণ, অসমতা গতি ইত্যাদি অধ্যায়গুলোতে সাধারণত তোমাদের গলদ থেকেই যায়) সেসব এখনই আত্মস্থ করায় মন দাও।

এ সময় যা আগে পড়া হয়নি, এমন নতুন কোন বিষয় বা অধ্যায় শুরু না করাই ভাল। যেসব বই, গাইড বা ওয়েবসাইট হতে এতদিন অংক প্র্যাকটিস করে এসেছ, সেগুলো শেষবারের মতো প্র্যাক্টিস করে ফেলো। অথবা যারা SAT, GRE, GMAT ইত্যাদি বিবিধ ধরনের বই থেকে অংক করে আসছ, তোমাদের জন্য এখন ভালো হবে যদি তোমরা এগুলো থেকে অবশিষ্ট খুঁটিনাটি সমস্যার সমাধান করে ফেলো। এটা মাথায় রাখা অত্যন্ত জরুরি; পরীক্ষার হলে, অংকের প্রশ্নগুলো দাগাতে গিয়ে কোনোভাবেই যেন তুমি সময়ের স্বল্পতায় না পড়ে যাও!

অংকের ভয়, এবার তুমি করবে জয়!

আইবিএ-তে পরীক্ষা দিতে যারা আগ্রহী, তাদের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় অংক।

তাই আর দেরি না করে, আজই ঘুরে এস ১০ মিনিট স্কুলের এই এক্সক্লুসিভ প্লে-লিস্টটি থেকে!

ইংরেজি যেন গ্রামার আর ‘কে-কত-শব্দ-জানে’ নামক খেলা 

আমি বাজি ধরে বলতে পারি তোমরা প্রতি ১০ জনের মধ্যে ৯ জনই vocabulary সম্বন্ধীয় যাবতীয় ইংরেজির ব্যাপারগুলিকে রীতিমত বিতৃষ্ণার চোখে দেখ। এতে আসলে তোমাদের দোষ দিয়ে লাভ নেই। তোমাদের কাছে মুখস্ত করা ব্যাপারটা স্কুল কলেজের গৎবাঁধা বিষয়াবলীর কল্যাণে এতই দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে যে, vocabulary শেখাটা, মুখস্ত করার পাশাপাশিও যে একটি দারুণ মজার ব্যাপার, তা আর কেউ মনে করনা। আমি তাই vocabulary পড়ার কৌশল হিসেবে সবাইকে বলি পুরো ব্যাপারটিকে একটি খেলার মত করে দেখতে। প্রতিটা নতুন শব্দই যেন তোমার শব্দভাণ্ডারকে অন্য আরেকজনের চেয়ে বেশি সমৃদ্ধ করছে, করছে ইংরেজিতে আরও পারদর্শী। প্রতিটা নতুন শব্দই তো নতুন একটি ছবির মত, যা তুমি যুক্ত করতে পারো তোমার মনের মাঝে ইচ্ছেমতো কোন ছবি এঁকে।

তুমি তোমার সবটুকু দাও, পরীক্ষার ফলাফলও তোমায় তার সবটুকু দেবে!

Wordsmart ১ ও ২ এর শব্দতালিকার ১৫০০+ শব্দ যদি তোমরা পড়ে থাকো, তাহলে vocabulary নিয়ে মোটামুটি নিশ্চিন্ত থাকতে পারো। আর তা না করে থাকলে, Barron’s SAT এর “Hot Prospect” ও “High Frequency” -র ৫০০-৭০০ শব্দের তালিকাটি দেখে নিতে পারো।

ইংরেজি গ্রামারে পরিপূর্ণ দখল আনতে চাইলে বলব, Cliff’s TOEFL, বিভিন্ন SAT এর বইসমূহ, GRE Big Book, ও GMAT Review এর অনুশীলনী গুলো অনুশীলন করতে থাকো। GRE Big Book-এর টেস্টগুলো থেকে Analogy-ও পাবে অনুশীলনের জন্য। কিন্তু এ ক্ষেত্রে আবার মনে করিয়ে দিতে চাই, এখন গোঁড়া থেকে নতুন করে কোন কিছু না শিখতে যাওয়াই শ্রেয়। এতদিন যেসব পড়ে এসেছ, সেগুলোকে পুনরানুশীলন করতে থাকো।

যত পারো সলভ কর অ্যানালিটিকাল

অ্যানালিটিকাল অংশের পাজেল, ক্রিটিকাল রিজনিং, ও ডাটা সাফিশিএন্সিগুলো আয়ত্ত করার জন্য শেষ দিনটি পর্যন্ত অনুশীলন করতে থাকার বিকল্প নেই। পাজেল ব্যাপারটি এমন যে, যত বেশি সলভ করবে, তত বেশি ফরম্যাটটা একই ধরণের পাওয়ার চান্স থাকবে, ও সলভ করতে ততই কম সময় লাগবে। GRE Big Book এর ৩০০+ পাজেল থেকেই ঘুরিয়ে ফিরিয়ে প্রতি বছর ভর্তি পরীক্ষায় অ্যানালিটিকাল প্রশ্ন দেয়া হয়। তাই বলা বাহুল্য যে, যে যত বেশি পাজেল সলভ করে যেতে পারবে, তার একই টাইপের প্রশ্ন পাবার সম্ভাবনা তত বেড়ে যাবে। এই অংশে যেহেতু মাত্র ১৫টা বা ২০টা প্রশ্ন থাকে, গড় পাশ মার্কটা তাই স্বাভাবিকভাবেই খুব বেশি ওঠেনা। অতএব, যতটুক সম্ভব চেষ্টা করো কোন প্রশ্ন বাদ না দেয়ার। কিন্তু অবশ্যই যেন আন্দাজে উত্তর দিয়ো না। এটি যেন কখনো উপেক্ষিত না হয় যে, লিখিত অংশ ছাড়া, প্রতিটি ভুলের জন্য সবসময় একটি ০.২৫ নেগাটিভ মার্কের রেড কার্ড তাকিয়ে আছে তোমার দিকে!

রইল বাকি তিন দিন 

বিগত তিন মাস ধরে অঢেল প্রস্তুতি নেবার পর, হাতে আর মাত্র তিন দিন বাকি থাকতে এখন সময় এসেছে এ পর্যন্ত যা পড়েছ তা সবটুকু ঝালাই করে নেবার।

এখনের সময়টুকু কাজে লাগাও বিগত বছরের প্রশ্ন সমাধান করে বা মডেল টেস্টে নিজেকে যাচাই করে। এতদিনে তোমাদের নিশ্চয়ই পরীক্ষার নিয়মকানুনগুলো সম্পর্কে একটা মোটামুটি ধারনা হয়ে গেছে। আর তা হয়ে থাকলে এটা নিশ্চয়ই জেনে গেছ আইবিএ ভর্তি পরীক্ষার সবচেয়ে বড় নিয়ন্ত্রক হল সময়। শুধু হাতে সময় থাকলেই মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারো তুমি এ পরীক্ষার। তাই মডেল টেস্টগুলো অবশ্যই ঘড়ি বা স্টপওয়াচ দেখে সময় অনুযায়ী দেবে।

সবগুলো অংশর মধ্যে যেটিতে তোমার আত্মবিশ্বাস সবচেয়ে বেশি, শেষের কয়দিন সেটা রেখে অন্য বিষয়ে মন দাও। কিন্তু চেষ্টা করো তিন বিষয়েই সমান নজর রাখতে, কারণ দখল আছে বলে সন্তুষ্ট হয়ে সে বিষয়টি চর্চা করা ছেড়ে দেয়াটা হবে বিরাট বোকামি। দখল থাকলেও নিরন্তর চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে, কারণ সবখানেই আরও ভালো করার সুযোগ থেকে যায়। তাই নিজের প্রস্তুতিটি শেষ দিন পর্যন্ত আরও নিখুঁত করতে চাওয়ার মধ্যে কোন ত্রুটি রাখা চলবে না।

ভয় পেয়ে যেও না পরীক্ষার হলে

অধীর আগ্রহ, উদ্বেগ, উত্তেজনা নিয়ে অপেক্ষা করতে থাকা সেই দিনটি যখন এসে গেছে, এখন যখন সেই মুহূর্ত তোমার আশায়, এই ১ ঘণ্টা ৩০ মিনিটে পরীক্ষার হলে আর যাই হোক, মাথা ঠাণ্ডা রাখাটা অত্যন্ত জরুরি। এই উদ্দেশ্যে, প্রথমেই যা মনে রাখতে হবে তা হল, এই পরীক্ষাটা এমন, যেখানে তুমি বেশি ভালো না বরং মোটামুটি ধরনের প্রস্তুতি নিয়েও কেবল ধিরস্থির হয়ে পরীক্ষাটা দিতে পারলে টিকে যাওয়ার সম্ভাবনা অনেকখানি। পরীক্ষা চলাকালীন দেখা যায় অনেকে অতিরিক্ত উত্তেজিত বা দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পরার কারণে, সব বিষয়ে ভালো প্রস্তুতি নিয়েও মন মত পরীক্ষা দিয়ে আসতে পারে না। তাই মনের কোনে ভয় ডানা মেলতে চাইলেও তাকে দমিয়ে রাখো যে কোন মূল্যে।

5

আইবিএর পরীক্ষায় আসা ইংলিশ, বাংলা ও অ্যানালিটিকালের মধ্যে তোমার দক্ষতা কোন বিষয়ে সবচেয়ে বেশি সেটা যদি বুঝে ফেলে থাকো তাহলে তোমার সুবিধা অনেক। এ তিনটির ভেতর কোনটায় তোমার দখল বেশি সেটায় খেয়াল রাখা জরুরি এ কারণে যে, ৯০ মিনিটের এ পরীক্ষায়, এমসিকিউ আকারে দেওয়া ৩০টি অংক, ৩০টি ইংলিশ এবং ১৫টি বা ২০টি অ্যানালিটিকাল সব এক প্রশপত্রে দেওয়া হয় বলে, প্রশ্নপত্র পাওয়ার পর কোন বিষয়টি দিয়ে শুরু করবে, এটি তা নির্ধারণ করতে সাহায্য করবে।

যেহেতু বাকি অংশগুলোর তুলনায় অংক করা সময়সাপেক্ষ ব্যাপার, তাই সাধারণত সবাই অংকের অংশটি রেখে দেয় সব শেষে উত্তর দেয়ার জন্য। কিন্তু পরীক্ষার কৌশল নির্ণয় একটি পুরোপুরি ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। তোমার কৌশল যে এটিই হতে হবে, এমন ভাবার কোনো কারন নেই। যে অংশের সমাধানে সবচেয়ে বেশি সময় ব্যয় হচ্ছে, সেটিই রেখে দেয়া উচিৎ সব শেষে সমাধানের জন্য। এই কয়দিন তাই সময় হিসেব করে বুঝে নাও কোন অংশটির জন্য কতটুক সময় দিতে হচ্ছে তোমাকে। পরীক্ষা চলাকালীন সময়েও তোমাকে নতুন কোনো কৌশল অবলম্বন করতে হতে পারে, কোন অংশ কতোটা কঠিন বা সোজা এসেছে তার ওপর ভিত্তি করে।

যদি তুমি তারেই খুঁজে বেড়াও 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সবুজে ঘেরা, বাংলার ঐতিহ্যের সাথে বর্তমান, প্রায় এক যুগ ধরে শিক্ষার আলোয় উদ্ভাসিত প্রাঙ্গণটি যদি হয়ে থাকে তোমার এতদিনের স্বপ্ন ও কামনা, তবে সকল ভুলে চালিয়ে যাও শেষ কয়দিনের লেখাপড়া।

1-2

আমাদের প্রাণের ক্যাম্পাস, এই ঢাবি ও আইবিএ আজ তোমাদের মত নবীনদের আশায়। তুমি তোমার সবটুকু দাও, পরীক্ষার ফলাফলও তোমায় তার সবটুকু দেবে। এই শুভ কামনায় রইলাম তোমাদের অপেক্ষায়…


১০ মিনিট স্কুলের লাইভ এডমিশন কোচিং ক্লাসগুলো অনুসরণ করতে সরাসরি চলে যেতে পারো এই লিঙ্কে: www.10minuteschool.com/admissions/live/

১০ মিনিট স্কুলের ব্লগের জন্য কোনো লেখা পাঠাতে চাইলে, সরাসরি তোমার লেখাটি ই-মেইল কর এই ঠিকানায়: [email protected]

লেখাটি ভালো লেগে থাকলে বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করতে ভুলবেন না!
What are you thinking?