ইন্টারভিউয়ের কথকতা

পুরোটা পড়ার সময় নেই? ব্লগটি একবার শুনে নাও।

বেশ কিছুদিন আইবিএর জন্যে একটা কোচিং সেন্টারে শিক্ষকতা করার কারণে অনেকগুলো মক ইন্টারভিউ বা ছায়া ইন্টারভিউ নেবার সৌভাগ্য হয়েছিল। এরপরে তো টেন মিনিট স্কুল, সেখানকার ইন্টার্ন এবং অন্যান্যদের ইন্টারভিউ নিতে নিতে পুরো বিষয়টা নিয়ে এক ধরণের আইডিয়া হয়ে গেছে। আমার এই লেখার উদ্দেশ্য অবশ্য কীভাবে ইন্টারভিউ নিতে হয় সেটি নিয়ে নয়, আমার লেখার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে পাঠকদের ইন্টারভিউ বোর্ডে কীভাবে সহজভাবে সুন্দর ভাষায় কথা বলা যায়- সে নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতাগুলো শেয়ার করা।

১। নিজেকে জানো

প্রায় সব ইন্টারভিউ বোর্ডেই এই প্রশ্নটা সাধারণ থাকে- “Introduce yourself!”

মজার ব্যাপার হলো অতি কমন এই প্রশ্নে অনেকেই ঘাবড়ে যায়, নিজেকে ঠিক কীভাবে প্রকাশ করবে সেটাই বুঝে উঠতে পারে না। ফলাফলে তাঁদের ইন্টারভিউ ওই শুরুতেই শেষ হয়ে যায়। মূলত একটা ইন্টারভিউয়ের শুরুর এক মিনিট বা তারচেয়েও একটু কম সময় পাবে তুমি। এই সময়ে নিজেকে যতটুকু ফুটিয়ে তোলা যায়, এ সময়ে নিজেকে যেভাবে দেখাতে পারো তুমি, বোর্ডের ওপাশের মানুষটি ততোটাই ইমপ্রেসড হবেন।

নিজেকে নিয়ে বলার ক্ষেত্রে যদি তুমি এভাবে শুরু করো, যে তোমার নাম অমুক, তোমার বাবার নাম তমুক, তুমি ওই স্কুল ওই কলেজে পড়েছো, তোমরা কয় ভাই বোন- তাহলে কিন্তু সেটা আর নিজের পরিচয় না, পরিবারের পরিচয় হয়ে গেল! এবার হয়তো তোমার মনে খটকা লাগছে, তাহলে কী বলবো? কীভাবে পরিচয় হবে আমার?

দারুণ সব লেখা পড়তে ও নানা বিষয় সম্পর্কে জানতে ঘুরে এসো আমাদের ব্লগের নতুন পেইজ থেকে!

তুমি তোমার নিজের বিষয়গুলো বলবে। তোমার শখ কী, কীসে কীসে পারদর্শী তুমি, প্রফেশনাল স্কিল কী কী আছে তোমার, কো কারিক্যুলার কোন কাজগুলোতে তুমি সেরা, তোমার স্বপ্ন কী- এসব নিয়ে বলতে পারো। পাশাপাশি যদি একটু নিজের টার্গেটটা ফোকাস করে সেটা নিয়েও বলতে পারো, তাহলে তো সোনায় সোহাগা!

ঘুরে আসুন: যখন প্রাণের ঢাকা ছেড়ে শত মাইল দূরে অজানা এক শহরে!

২। সম্মান দেখাও, কিন্তু মাটিতে মিশে যেও না!

ভাইভা নিতে গিয়ে আমি প্রায়ই খুব ইন্টারেস্টিং কিছু মানুষকে দেখেছি। এদেরই একজন একদিন এসে বললো, “ভাইয়া কাল আমার মক ভাইভা, একটু সাজেশন দেন কীভাবে কী করবো”। আমি তো স্বভাবতই বলে দিলাম যে সোজা হয়ে সুন্দর করে কথা বলবা, স্মার্টলি থাকবা। পরদিন।

ইন্টারভিউয়ের সময় সেই ছেলেকে ডাকা হলো। ছেলে দেখি একেবারে ঠায় সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। বসতে বললাম, সে বসে না! প্রশ্ন করলাম আমরা তিনজন, সে সব প্রশ্নের উত্তর একদিকে তাকিয়ে দিলো, এক চুল পর্যন্ত নড়লো না! বিষয়টা অদ্ভুত, আমি তাই তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম কেন সে এইরকম করছে। সে মাথাটা একেবারে উটপাখির মতো নিচু করে ফেলে একটা উত্তর দিলো।

উত্তরটা আরো উদ্ভট। তার ভাষ্য, এতে সে সম্মান দেখিয়েছে মাননীয় ইন্টারভিউয়ারদেরকে!

স্বপ্ন পূরণে এগিয়ে যাই আরো একধাপ!

আমাদের অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌছানোর জন্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে একটি সফল ইন্টারভিউ। ইন্টারভিউ বোর্ডে পারফরম্যান্সের ওপরে একটি চাকরি পাওয়া না পাওয়া অনেক বেশি নির্ভর করে।

আর তাই ইন্টারভিউকে ভয় না পেয়ে আত্মবিশ্বাসের সাথে এর বাধা উৎরে যেতে দেখে নাও এই ভিডিও সিরিজটি!

১০ মিনিট স্কুলের Interview Skills সিরিজ

আরেকজনকে পেলাম, সে আবার আমার পাবলিক স্পিকিং শুনে বেশ অনুপ্রাণিত হয়েছে। সে ইন্টারভিউ বোর্ডে আসলো, এবং তারপরে দেখা গেল যে আমার প্রিয় ছাত্র হাত পা নাড়িয়ে বিচিত্রভাবে উত্তর দিচ্ছে। প্রশ্ন করলাম, “তোমার স্বপ্ন কী? সে উত্তর দিলো, “চমৎকার প্রশ্ন করেছেন স্যার, এর উত্তর রেডি আছে আমার কাছে!”

ঘুরে আসুন: বাচ্চা হাতি ও ভয়ানক একটি মানসিক সমস্যার গল্প

এভাবে যদি কেউ ইন্টারভিউ দেয়, তাহলে বুঝতেই পারছো, ইন্টারভিউয়ের ফলাফল কী হতে পারে! খেয়াল করে দেখবে, এরকম ছোট ছোট ভুলের কারণেই কিন্তু তোমার চাকরি বা অ্যাডমিশন রসাতলে চলে যেতে পারে, হতাশ হয়ে যেতে পারো তুমি!

তোমার স্বপ্নের পথে পা বাড়ানোর ক্ষেত্রে তোমার ইংরেজির জ্ঞান কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারে! কিন্তু সঠিক ইংরেজি আমরা কতজন-ই বা জানি? তাই এই কুইজগুলো দিয়ে যাচাই করে নাও ইংরেজিতে তোমার দক্ষতা!

৩। বডি ল্যাঙ্গুয়েজকে কাজে লাগাও!

একটা ইন্টারভিউ বোর্ড তোমাকে কথাবার্তা ছাড়াও, বাহ্যিক অবয়ব বুঝে জাজ করে ফেলতে ঠিক কতোটুকু সময় লাগে জানো? ৭ সেকেন্ড। হ্যাঁ, তুমি কোন কথা বলার আগেই, রুমে ঢুকে চেয়ারে বসা পর্যন্ত যে সময়টা যায়, সেখানেই তোমার অনেক কিছুই বুঝে নিতে পারে বোর্ডের মানুষেরা।

ঠিক এই কারণেই দু’টো জিনিস খুব দরকার ইন্টারভিউয়ের সময়। একটা হচ্ছে ঠিকঠাক গেটআপে যাওয়া। ধরো, ইন্টারভিউতে যদি তুমি নোংরা একটা শার্ট পরে যাও, সেটা যদি ইস্ত্রি না করা থাকে, জুতার বদলে যদি স্যান্ডেল পরে যাও- এগুলো অবশ্যই চোখে পড়বে বোর্ডের মানুষদের। তারা খুব সূক্ষ্মভাবে তোমাকে জাজ করে বসবে, আর সেখানে তোমার কিছুই করার থাকবে না!

আরেকটা বিষয় হচ্ছে বডি ল্যাঙ্গুয়েজ। তুমি কীভাবে দাঁড়িয়ে কথা বলছো, কীভাবে হাঁটছো, প্রশ্নের উত্তর দেবার সময় তোমার ভাবভঙ্গি কেমন কিংবা প্রশ্নগুলো তুমি হাত পা নাড়িয়ে দিচ্ছো, আত্মবিশ্বাসের সাথে দিচ্ছো কিনা- এসবই কিন্তু ইন্টারভিউ বোর্ডে দেখা হয়। আর ঠিক এজন্যেই বডি ল্যাঙ্গুয়েজ এত দরকারি একটা বিষয়!

ইন্টারভিউ বোর্ড খুবই অদ্ভুত একটা জায়গা। তুমি নিজের মতো করে সব প্রশ্নের উত্তর দিলে তোমাকে রোখার সাধ্যি নেই কারো। কিন্তু এই যে, আজকের লেখাটার মত কমন কিছু বিষয় খেয়াল রাখতেই হবে। তবেই না তুমি পারবে সেরা একটা ইন্টারভিউ দিতে!


১০ মিনিট স্কুলের লাইভ এডমিশন কোচিং ক্লাসগুলো অনুসরণ করতে সরাসরি চলে যেতে পারো এই লিঙ্কে: www.10minuteschool.com/admissions/live/

১০ মিনিট স্কুলের ব্লগের জন্য কোনো লেখা পাঠাতে চাইলে, সরাসরি তোমার লেখাটি ই-মেইল কর এই ঠিকানায়: [email protected]

লেখাটি ভালো লেগে থাকলে বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করতে ভুলবেন না!
What are you thinking?