জ্ঞানই শক্তি- কথাটায় ভুল কোথায়?


পুরোটা পড়ার সময় নেই? ব্লগটি একবার শুনে নাও।

ছোটবেলায় শেখা খুব পরিচিত একটা উক্তি ছিলো,

‘Knowledge is Power’

তাই বড়বেলায় এসে যখন প্রথম একটা লেখায় পড়লাম যে এই উক্তিটি আসলে সঠিক নয়, খুব চমকে গিয়েছিলাম। মনে হচ্ছিল, এতোদিন কি তবে ভুল জেনে এলাম? লেখার পুরোটা পড়ে দেখলাম, আসলেই তো! জ্ঞান কখনোই শক্তি নয়, জ্ঞান হলো অন্তর্নিহিত শক্তি! অর্থাৎ,

‘Knowledge is potential power’

শব্দ দু’টো কাছাকাছি মনে হলেও, আসলে এদের মধ্যে অনেকটা ফারাক। জ্ঞান বিদ্যুৎ শক্তির মত কোন শক্তি নয়, অর্থ দিয়ে যা কিনে ব্যবহার করা যায়। জ্ঞান হলো এমন এক অন্তর্নিহিত শক্তি, যা অর্থ বা ক্ষমতা দিয়ে কেনা যায় না। জ্ঞান অর্জন করতে হয়। না, পাতার পর পাতা মুখস্ত করা- ওসব জ্ঞান নয়।

জ্ঞান হলো সেই শক্তি যা একবার শিখলে সারাজীবনের জন্যে মনে থাকবে। জ্ঞানলব্ধ মানুষটি সেই শিক্ষাকে সারাজীবন কাজে লাগাবে, একবার শিখে হুট করে ভুলে যাবে না। তবেই সেটি জ্ঞানের শক্তি, অন্যথা সে কেবল সময়ের অপচয়।

সত্যিকারে জ্ঞান কিভাবে অর্জন করা যাবে? এমন প্রশ্ন থাকে অনেকেরই। এর উত্তরও আছে। আমার মনে হয় জ্ঞানের এই Potential Power পেতে হলে কয়েকটি কাজ করতে হবে।

১। আগে শেখো, পরে মুখস্ত করো:

বর্তমান প্রজন্মের একটা খুব বাজে অভ্যাস হলো পড়ালেখা থেকে শুরু করে অন্য যে বিষয়ই হোক না কেন, তারা সেটি শিখতে বা বুঝতে চায় না। এটাকে তারা সময়ের অপচয় মনে করে, তাই সবকিছু টানা মুখস্ত করতে থাকে। তাতে আর জ্ঞানের শক্তি পাওয়া হয় না, কারণ মুখস্ত করার মানে হলো যে তাদের লব্ধ জ্ঞান ক্ষণিকের দরকারের পর আর কোন কাজেই লাগবে না! এতে সত্যিকারের জ্ঞানটা আর পাওয়া হয় না।

২। কেন শিখছো সেটা জানো:

এমন অনেককে দেখেছি আমি, যারা একটানা কোন কিছু নিয়ে পড়ে যাচ্ছে, কিন্তু সেগুলো কেন পড়ছে, কি দরকার সেগুলো পড়ে- এসব নিয়ে কোন মাথাব্যথাই নেই তাদের! এভাবে আর যাই হোক, জ্ঞানের অন্তর্নিহিত শক্তিটা আর অর্জন করা সম্ভব হয়ে ওঠে না।

৩। নিজে যা শিখলে তা অন্যকেও শেখাও:

ধরো তুমি আসলেই বুঝে বুঝে কোনকিছু পড়লে। বুঝে নিলে কেন সেই কাজগুলো দরকারি। তারমানে সত্যিকারের জ্ঞান অর্জনের পথে এগিয়ে গেলে তুমি। এবার নিজে যা শিখেছো, তোমার বন্ধু বা পরিচিত মানুষদেরও সেটি শেখাও। তাহলেই না মহত্বের সাথে সত্য জ্ঞান পাবে তুমি!

 
চল স্বপ্ন ছুঁই!
 

৪। কোন বিষয়ে পূর্ণ জ্ঞান অর্জনের আগেই হাল ছেড়ো না:

অনেককেই দেখা যায় কোন বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করা শুরু করার পর একটা সময় হাল ছেড়ে দিতে। ধরো, তুমি মন দিয়ে গিটার শিখছো। গান গাওয়া, গিটার বাজানো তোমার প্যাশন। কিন্তু কোন এক কারণে পারছো না পছন্দের এই কাজটি করতে। এখন তুমি হাল ছেড়ে দিলে কিন্তু প্রকৃত শিক্ষার দেখা আর পেলে না। তাই তোমাকে লেগে থাকতে হবে, যতোক্ষণ না শিক্ষালাভ শেষ না হয়!

৫। যা শিখলে তা বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করো:

ধরে নিলাম তুমি আগের সবগুলো কাজ করেছো। তুমি যদি ইঞ্জিনিয়ারিং শিখতে চাও মন দিয়ে, সেটি না হয় শিখলে। শিখে সেটির পূর্ণ জ্ঞান নিলে, তারপর সবাইকে শিখতে সাহায্য করলে। এখন তুমি যদি এই জ্ঞানকে বাস্তব জীবনে কাজেই না লাগাও, তাহলে আর লাভটা কী?

যা যা শিখেছো তুমি ভেতর থেকে, সব কাজগুলোর বাস্তব জীবনে প্রয়োগ রাখলে তবেই না বলা সম্ভব হবে, যে তুমি আসলেই জ্ঞানের সেই Potential Power এর দেখা পেয়েছো, তোমাকে এখন রুখবে কে?

জ্ঞান অর্জন করা বেশ কঠিন একটা কাজ। সত্যিকারের জ্ঞানলাভ তো সে হিসেবে অসম্ভবের কাছাকাছি একটা ব্যাপার। কিন্তু লেগে থাকলে, চেষ্টা করলে অবশ্যই জ্ঞানের এই অন্তর্নিহিত শক্তিকে অর্জন করা সম্ভব হবে!


১০ মিনিট স্কুলের ব্লগের জন্য কোনো লেখা পাঠাতে চাইলে, সরাসরি তোমার লেখাটি ই-মেইল কর এই ঠিকানায়: [email protected]

লেখাটি ভালো লেগে থাকলে বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করতে ভুলবেন না!
What are you thinking?