৩টি ধাপে শিখে নাও যেকোন স্কিল!

পুরোটা পড়ার সময় নেই? ব্লগটি একবার শুনে নাও।

কিছুদিন আগে একটি ইন্টার্নশিপের ইন্টারভিউতে আমাকে জিজ্ঞেস করা হলো, “তোমার কি কি স্কিল রয়েছে? অন্তত পাঁচটা স্কিল সম্পর্কে বলো।”

তখন আমি আবিষ্কার করলাম সত্যিকার অর্থে বলার মতো তেমন কোন স্কিল আমি খুঁজে পাচ্ছি না! এই প্রতিযোগিতামূলক জীবনে নিজেকে যোগ্য করে গড়ে তোলার জন্য বিভিন্ন বিষয়ে দক্ষতা থাকা খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। শুধু কর্মজীবনেই নয়, ব্যক্তিজীবনেও নানারকম দক্ষতা আমাদের অনেক এগিয়ে রাখে অন্যদের চেয়ে। সাঁতার, গাড়ি চালানো, CPR সহ ইত্যাদি অনেক স্কিল রয়েছে যেগুলো থাকা না থাকার উপর একটি মানুষের জীবন-মৃত্যু পর্যন্ত নির্ভর করতে পারে!  

নিজেকে একবার একটু জিজ্ঞেস করে দেখা যাক, আসলেই আমার কয়টি স্কিল রয়েছে?

দারুণ সব লেখা পড়তে ও নানা বিষয় সম্পর্কে জানতে ঘুরে এসো আমাদের ব্লগের নতুন পেইজ থেকে!

কেন স্কিল শেখা হয় না?

আমরা সবাই বছরের শুরুতে বা ছুটিছাটার মৌসুমে ঠিক করি নানারকম স্কিল শেখার। সবচেয়ে প্রচলিত হচ্ছে ইংরেজিতে ফ্লুয়েন্সি, বিদেশি ভাষা শেখার, সাঁতার ইত্যাদি। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই যেটি হয়- ছুটির শেষে বা বছরের শেষে গিয়ে দেখা যায় আসলে তেমন কিছুই শেখা হয়নি! এর পেছনে প্রধান কারণ হচ্ছে ধৈর্য হারিয়ে ফেলা।

life hacks, skill development
Via: brainyquotes

আমরা খুব দ্রুত ফলাফল প্রত্যাশা করি, মনে করি দুইদিনেই শিখে ফেলবো সব! সেজন্যই শিখতে নেমে যখন বিভিন্ন প্রতিকূলতার মোকাবিলা করতে হয়, তখন আমরা হাল ছেড়ে দেই। কিন্তু চাইলে অনেক কম সময়েও যেকোন স্কিল শিখে ফেলা সম্ভব! চলো দেখে নেওয়া যাক কিভাবে।

Josh Kaufman’s “The first 20 hours”

লেখক Josh Kaufman তার বই  “The first 20 hoursএ দেখিয়েছেন যে, আমরা যেকোন স্কিল মাত্র বিশ ঘণ্টায় মোটামুটিভাবে আয়ত্ত করতে পারি চারটি ধাপ অনুসরণ করে! সেখান থেকে পরিমার্জিত করে মুখ্য এবং সবচেয়ে কার্যকরী তিনটি ধাপ নিয়ে আলোচনা করবো আমরা।

১ম ধাপঃ স্কিলকে ছোট ছোট অংশে ভাগ করা

সবচেয়ে প্রচলিত উদাহরণটা দিয়েই শুরু করি। ইংরেজিতে ফ্লুয়েন্সি কতোটা গুরুত্বপূর্ণ তা বলার অপেক্ষা রাখে না। আমরা সবাই চাই অনর্গল বিশুদ্ধ ইংরেজিতে কথা বলা রপ্ত করতে, কিন্তু কোথা থেকে বা কিভাবে যে শুরু করবো সেটাই ঠিক করতে পারিনা, এবং শেখাও আর হয়ে ওঠে না। তাই দেখা যায় বছরের পর বছর স্কুল-কলেজে ইংরেজি পড়েও আত্মবিশ্বাসের সাথে ইংরেজিতে কথা বলতে পারিনা আমরা অনেকেই।

কিন্তু পুরো ব্যাপারটিকে একটি ভিন্ন আঙ্গিক থেকে দেখলে কেমন হয়? ঘরবাড়ি তৈরির সময় যে দেয়াল বানানো হয়, সেগুলো কিন্তু একটির উপর একটি ইট বসিয়ে তৈরি হয়। এমন হাজার হাজার ইট নিয়ে গড়ে ওঠে একটি দালান। স্কিল হচ্ছে সেই দালান, সেটি রপ্ত করতে একটি একটি করে ইট বসিয়ে যেতে হবে আমাদের। ইংরেজিতে ফ্লুয়েন্সির জন্য কি কি প্রয়োজন? ভোক্যাবুলারি, মৌলিক গ্রামার, বাক্য গঠন ইত্যাদি।

সুতরাং এখন কিন্তু আমরা কিছু সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য পেয়ে গেলাম, কোথা থেকে শুরু করা যায় সেটাও জেনে গেলাম। তাই এভাবে দেখলে কিন্তু ব্যাপারটা নিয়ে আর ভয় থাকে না, ইংরেজির জুজুটাও দূর হয়ে যায়। যারা ইংরেজিতে দক্ষ হতে চাও, আজ থেকেই কিন্তু ভোক্যাবুলারি শেখা শুরু করে দিতে পারো! সেজন্য এই লেখা দুটো দারুণ সাহায্য করবে।

http://testhome.10minuteschool.com/blog/vocabulary-series-mnemonic-01/

http://testhome.10minuteschool.com/blog/vocabulary-learning-tips-2/

সুতরাং একটি স্কিল শিখতে চাইলে শুরুতেই সেটিকে কয়েকটি ছোট ছোট অংশে ভাগ করে ফেললে জিনিসটি শেখা অনেক সহজ হয়ে যায়। এভাবে শেখার প্রক্রিয়াও খুব দ্রুত এগিয়ে যায়।

২য় ধাপঃ হাল ছাড়া যাবে না!

সাফল্যের কিন্তু একটিই উপায় রয়েছে, সেটি হচ্ছে লেগে থাকা, কামড়ে ধরে থাকা, ঝুলে থাকা।

Josh Kaufman বলেন, স্কিল শেখার পথে যেই বাধাগুলো রয়েছে সেগুলোকে চিহ্নিত করে একে একে দূর করতে হবে। সবচেয়ে বড় বাধাটি হচ্ছে আমাদের মানসিকতা- মাঝপথে হাল ছেড়ে দেওয়া।

কথায় আছে, যেকোন কাজে সত্যিকারের রপ্ত হতে কমপক্ষে ১০০০০ ঘণ্টার অনুশীলন প্রয়োজন!

দশ হাজার ঘণ্টা না হোক, অন্তত বিশ ঘণ্টা তো অনুশীলন করতেই হবে! তাতেও যদি সমস্যা হয়, তাহলে দুটো কাজ করা যেতে পারে।

হয়ে ওঠো ফটোশপের জাদুকর!

ফটোশপের দারুণ সব ব্যবহার কারোরই অজানা নয়।

তাই ফটোশপের হাতেখড়ি হয়ে যাক ১০ মিনিট স্কুলের সাথেই 😀

১০ মিনিট স্কুলের পাওয়ার ফটোশপ সিরিজ!

১। একা একা না শিখে কয়েকজন মিলে শেখা। হতে পারে বন্ধুবান্ধব মিলে, অথবা সবচেয়ে ভাল উপায় কোন ইনস্টিটিউশনে ভর্তি হয়ে যাওয়া। অসাধারণ মনের জোর থাকলে ভিন্ন কথা, কিন্তু সাধারণ মানুষের কিছু মানবিক দুর্বলতা থাকবেই। তাই দলবেঁধে শেখার গুরুত্ব অনেক, কেউ হতাশ হয়ে পড়লে বা আলসেমি ঘিরে ধরলে তখন অন্যরা অনুপ্রেরণা যোগাবে, সাহায্য করতে পারবে।

২। আমাদের মস্তিষ্ক যুক্তি ছাড়া সাধারণত কিছু করতে চায় না। পড়ালেখা করতে কেন ইচ্ছে করে না? কারণ অনেক ক্ষেত্রেই “এটা শিখে জীবনে কোন কাজে আসবে?” এমন একটা ধারণা পোষণ করি আমরা! তাই একটি স্কিল আমরা কেন শিখছি, এটি শিখলে কি কি কাজে আসবে সেটা পয়েন্ট আকারে লিখে রাখা দরকার।

হতে পারে স্মার্টফোন/কম্পিউটারের ওয়ালপেপার হিসেবে, অথবা বোর্ডে বা কাগজে লিখে দেয়ালে টাঙিয়ে রাখা, অর্থাৎ লক্ষ্যটা যেন সবসময় চোখের সামনে থাকে, সকালে ঘুম থেকে উঠেই যেন চোখে পড়ে। এজন্যই দেখা যায় যারা ব্যায়াম করে তাদের অনেকের ঘরের দেয়ালে বডিবিল্ডারদের ছবি থাকে, খেলাধুলা করে যারা তাদের দেয়ালে প্রিয় খেলোয়াড়ের ছবি থাকে। কারণ একটিই, লক্ষ্য চোখের সামনে থাকলে সেটি সারাদিন আমাদের অনুপ্রেরণা যুগিয়ে যাবে স্কিলটি শেখার পেছনে কাজ করে যাওয়ার জন্য।

৩য় ধাপঃ অনুশীলনের বিকল্প নেই

একটি জিনিস শিখতে অনুশীলনের গুরুত্ব বলা বাহুল্য। কিন্তু অনুশীলনকে আরো কার্যকরী এবং দ্রুত ফলপ্রসূ করার জন্য দারুণ কিছু কৌশল রয়েছে।

স্কিল শেখার ক্ষেত্রেও চেষ্টা থাকতে হবে ধারাবাহিক উন্নতির

১। আমরা যখন একলা গুনগুন করে গান গাই তখন বেশ ভালই লাগে শুনতে। কিন্তু সেটাকে যখন রেকর্ড করে শুনি তখন বোঝা যায় আসলে কে কতোটুকু গাইতে জানি!

নিজের কাজ নিজে মূল্যায়ন করাটা সবসময়ই বেশ কঠিন। তাই আমরা যদি আমাদের অনুশীলন রেকর্ড করে রাখি, তাহলে মূল্যায়ন করা সহজ হয়। এজন্যই খেলোয়াড়রা নিজেদের অনুশীলনের ফুটেজ বারবার খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখেন। কারণ অনুশীলনটিকে রেকর্ড করলে সেখান থেকে নিজের পার্ফরম্যান্স বিশ্লেষণ করা, ভুলত্রুটিগুলো খুঁজে বের করা এবং উন্নতি করা অনেক সহজ হয়ে যায়।

২। স্কিল শিখতে গিয়ে অনেকেই একটি সমস্যায় পড়ে- শেখার কাজটা একই গণ্ডিতে আটকে থাকে। আমি একজনকে চিনি সে ছয় বছর ধরে স্প্যানিশ শিখছে, এখনো স্প্যানিশে দুটো লাইন ঠিকভাবে বলতে পারে না!

ইংরেজি ভাষা চর্চা করতে আমাদের নতুন গ্রুপ- 10 Minute School English Language Club-এ যোগদান করতে পারো!

তাই প্রতিদিন লক্ষ্য থাকতে হবে গতকালের চেয়ে আজকে একটু হলেও যেন বেশি অনুশীলন করি। এজন্যই ব্যায়াম করেন যারা, তারা প্রতিনিয়ত ব্যায়ামের পরিমাণ বাড়ান, ডাম্বেলের ওজন বাড়ান। কারণ একই পরিমাণে ব্যায়ামে শরীর অভ্যস্ত হয়ে গেলে পেশির বৃদ্ধি আর হয় না।

life hacks, skill development

ঠিক সেরকম স্কিল শেখার ক্ষেত্রেও চেষ্টা থাকতে হবে ধারাবাহিক উন্নতির। নিজের সাথেই প্রতিযোগিতা করতে হবে প্রতিনিয়ত নিজেকে ছাড়িয়ে যাওয়ার।

শেষ কথা

এই ছিল তিনটি ধাপ। লেখাটি শুধু পড়লেই হবে না, সবার সাথে শেয়ার করে ছড়িয়ে দাও, কৌশলগুলোর প্রয়োগ শুরু করে দাও আজ থেকে! আমরা জীবনের যে পর্যায়েই আছি, যে কাজই করতে চাই বা যে স্কিলই শিখতে চাই, সেটা শুরু করার সবচেয়ে উপযুক্ত সময় হচ্ছে- এখন! The time is now! সুতরাং আর বিলম্ব নয়, আজ থেকেই নতুন প্রত্যয়ে শুরু হয়ে যাক অভিযান- নতুন নতুন স্কিল শিখে নিজেকে আরো পরিণত,  আরো শাণিত, আরো যোগ্য করে গড়ে তোলার প্রত্যাশায়।


১০ মিনিট স্কুলের লাইভ এডমিশন কোচিং ক্লাসগুলো অনুসরণ করতে সরাসরি চলে যেতে পারো এই লিঙ্কে: www.10minuteschool.com/admissions/live/

১০ মিনিট স্কুলের ব্লগের জন্য কোনো লেখা পাঠাতে চাইলে, সরাসরি তোমার লেখাটি ই-মেইল কর এই ঠিকানায়: write@10minuteschool.com

লেখাটি ভালো লেগে থাকলে বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করতে ভুলবেন না!
Author

Tashfikal Sami

Tashfikal Sami is a diehard wrestling & horror movie fan. Passionately loves bodybuilding, writing, drawing cartoons & a wannabe horror film director. He's currently studying at the Institute of Business Administration (IBA), University of Dhaka.
Tashfikal Sami
এই লেখকের অন্যান্য লেখাগুলো পড়তে এখানে ক্লিক করুন
What are you thinking?