লাইব্রেরি: আলোর পথে ডেকে চলা নীরব পথপ্রদর্শক

পুরোটা পড়ার সময় নেই? ব্লগটি একবার শুনে নাও।

অন্তহীন জ্ঞানের আঁধার হল বই, আর বইয়ের আবাসস্থল হোল গ্রন্থাগার বা লাইব্রেরি। মানুষের হাজার বছরের লিখিত-অলিখিত সব ইতিহাস ঘুমিয়ে আছে একেকটি গ্রন্থাগারের ছোট ছোট তাকে। গ্রন্থাগার হোল কালের খেয়াঘাট, যেখান থেকে মানুষ সময়ের পাতায় ভ্রমণ করে। প্রাচীন শিলালিপি থেকে আধুনিক লিপির গ্রন্থিক স্থান হল লাইব্রেরি। একটি গ্রন্থাগার মানব জীবনকে যেমন পাল্টে দেয় তেমনি আত্মার খোরাকও যোগায়। তাই গ্রন্থাগারকে বলা হয় শ্রেষ্ঠ আত্মীয় যার সাথে সবসময় ভালো সম্পর্ক থাকে। আর জ্ঞানচর্চা ও বিকাশের ক্ষেত্রে গ্রন্থাগারের ভূমিকা অনন্য।

গ্রন্থাগার কী

গ্রন্থাগারের ইংরেজি প্রতিশব্দ ‘Library’-এর উৎপত্তি ল্যাটিন শব্দ Liber থেকে। যার অর্থ ‘পুস্তক’। Liber শব্দটি এসেছে Libraium শব্দ থেকে। যার অর্থ ‘পুস্তক রাখার স্থান’। এ্যাংলো-ফ্রেঞ্চ শব্দ Librarie অর্থ হলো পুস্তকের সংগ্রহ।গ্রন্থাগার বা প্রকৃত অর্থে পাঠাগার হলো বই, পুস্তিকা ও অন্যান্য তথ্য সামগ্রির একটি সংগ্রহশালা যেখানে পাঠক গ্রন্থপাঠ, গবেষণা ও তথ্যানুসন্ধান করতে পারেন। বাংলা গ্রন্থাগার শব্দটির সন্ধিবিচ্ছেদ করলে ‘গ্রন্থ+আগার’ পাওয়া যায়। অর্থাৎ গ্রন্থাগার হলো গ্রন্থ সজ্জিত পাঠ করার আগার বা স্থান। গ্রন্থাগার হলো জ্ঞানের এমন এক সমুদ্র সেখানে বিচরণ করে প্রতিটি মানুষ উন্নত মননের অধিকারী হতে পারে। আর তাই গ্রন্থাগারকে তুলনা করা হয় শব্দহীন মহাসমুদ্রের সাথে। এটি অতীত বর্তমান ও ভবিষ্যতের মাঝে সেতুবন্ধনের এক নীরব সাক্ষী।

*ইউনেস্কো এর  মতে, ”মুদ্রিত বই, সাময়িকী অথবা অন্য যে কোন চিত্রসমৃদ্ধ বা শ্রবণ-দর্শন সামগ্রীর একটি সংগঠিত সংগ্রহ হল গ্রন্থাগার। যেখানে পাঠকের তথ্য, গবেষণা, শিক্ষা অথবা বিনোদন চাহিদা মেটানোর কাজে সহায়তা করা হয়।”

**J. H. Shera এর মতে, “The library is an organization, a system designed to preserve and facilitate the use of graphic records.”

**C. C, Aguolu & I. E. Aguolu এর মতে, ”গ্রন্থাগার হচ্ছে মানুষের সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডেরে নথিপত্রের সমষ্টি যেটি নানা ফরম্যাট ও ভাষায় সংগঠন ও ব্যাখ্যা করা হয়। গ্রন্থাগার মানুষের জ্ঞান, বিনোদন ও নান্দনিক উপভোগের নানা চাহিদা পূরণ করে।”

**সেনগুপ্ত ও চক্রবর্তী-এর মতে, ”গ্রন্থাগার হলো এমন একটি সংগঠন যেখানে বই, পত্র পত্রিকাও সমজাতীয় উপকরণ ব্যবহারের উদ্দেশ্যে সংগ্রহ করা

কেন প্রয়োজন লাইব্রেরি

মানুষ বুদ্ধিবৃত্তিক জীব। বুদ্ধি ও মননের অনুশীলনের প্রয়োজনে মানুষ জ্ঞান আহরণ করে। মনীষীদের মতে এই জ্ঞান আহরণের দুটো উপায়। একটি দেশভ্রমণ, অন্যটি গ্রন্থপাঠ। দেশভ্রমণ ব্যয় ও সময় সাপেক্ষ বিধায় সবার জন্য সম্ভব নয়। সে তুলনায় জ্ঞান আহরণের জন্য গ্রন্থপাঠ প্রকৃষ্টতম উপায়। কিন্তু জ্ঞানভান্ডারের বিচিত্র সমারোহ একজীবনে সংগ্রহ করা ও পাঠ করা সম্ভব হয় না। এই অসাধ্য সাধন কিছুটা হলেও সম্ভব হয় গ্রন্থাগারের মাধ্যমে।  

গ্রন্থাগারের বিশাল সংগ্রহশালায় নিজের রুচি ও মনের চাহিদা অনুযায়ী গ্রন্থ পাওয়া যায়। এই কারণে জ্ঞানার্জনের জন্য গ্রন্থাগার ব্যবহার অত্যন্ত প্রয়োজন। এছাড়া শিক্ষার প্রসারের জন্য এবং স্বশিক্ষিত হওয়ার জন্য গ্রন্থাগারের প্রয়োজন হাসপাতালের চাইতে কম নয়। আমাদের দেশে শিক্ষার বর্তমান অবস্থায় লাইব্রেরি হচ্ছে একপ্রকার মনের হাসপাতাল। এখানে লোক স্বেচ্ছায় স্বাচ্ছন্দ্য চিত্তে স্বশিক্ষিত হবার সুযোগ পায়। নিজের শক্তি ও রুচি অনুসারে নিজের মনকে নিজের চেষ্টায় আত্মার রাজ্যে জ্ঞানের পথে এগিয়ে নিয়ে উদ্বুদ্ধ হয়।

গ্রন্থাগারের ইতিহাস

প্রাচীনকাল থেকেই পুঁথি সংরক্ষণের প্রথা ছিল। এসব পুঁথি লেখা হতো তালপাতায়, গাছের বাকলে, পশুর চামড়ায়, আবার কখনো পাথরে ও টেরাকোটা পদ্ধতিতে। সাধারণত এই পুঁথিগুলো সংরক্ষণ করা হতো বিভিন্ন ধর্মগৃহে বা বিহারে অথবা উপসনালয়ে। তবে বিশ্বের প্রথম লাইব্রেরির ধারণা শুরু করা হয়েছিল প্রাচীন মিসরে। তখন উপাসনার পাশাপাশি তাত্ত্বিক আলোচনা বা জ্ঞান প্রসারের জন্য পুরোহিতদের নিজেদের প্রয়োজনীয় কিছু জিনিস বা তথ্য সংরক্ষণের প্রয়োজন হয়ে পড়ে।

তারই জের ধরে মিসরের এক মন্দিরে শুরু এই লাইব্রেরি। সভ্যতার ক্রমশ অগ্রসর হওয়ার পথে মানুষ তার সৃষ্টিশৈলিকে সংরক্ষণ করা শুরু করল। মিশরের আলেকজান্দ্রিয়া, ইরাকের বাগদাদ, দামেস্ক, প্রাচীন গ্রীস ও রোমে সমৃদ্ধ গ্রন্থাগারের নিদর্শন পাওয়া যায়। এছাড়া উপমহাদেশের তক্ষশীলা ও নালন্দায় সমৃদ্ধ গ্রন্থাগার গড়ে উঠেছিল।

আব্বাসীয় ও উমাইয়া শাসনামলে ‘দারুল হকিমা’ নামক গ্রন্থাগার ইউরোপকে জ্ঞান-বিজ্ঞানে সমৃদ্ধ করেছে। সমকালীন মিশরের ‘বাইতুল হিকমা’ও অনুরূপ ভূমিকা পালন করেছে। যুগে যুগে গ্রন্থাগারগুলো গড়ে উঠেছিল রাজদরবার ও ধর্মীয় উপাসানালয়কে ঘিরে।

লাইব্রেরির রকমফের

লাইব্রেরি নানা প্রকারের হয়ে থাকে। সাধারণত প্রতিষ্ঠানিকভাবে গ্রন্থাগারকে ৪ ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-

১। জাতীয় গ্রন্থাগার

জাতীয় গ্রন্থাগার সাধারণত দেশের সরকার কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত হয়ে থাকে। অন্যান্য গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠার পেছনে যে সকল কারণ বিদ্যমান, এ ক্ষেত্রেও তার সবগুলো কারণ বিদ্যমান। তবে প্রয়োগের ক্ষেত্রে কিছুটা পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়। আর এটি হয় এজন্য যে, জাতীয় পর্যায়ের গ্রন্থাগার অন্য আর দশটি অনুরূপ প্রতিষ্ঠান থেকে সম্পূর্ণ আলাদা।

এটি একটি নন-লেন্ডিং প্রতিষ্ঠান। মূলত,জাতীয় গ্রন্থাগার এমন একটি প্রতিষ্ঠান যার সংগ্রহের পরিধি জাতীয় ভিত্তিক, গুরুত্ব আন্তর্জাতিক এবং দেশ ও জাতি সম্পর্কে দেশী-বিদেশী সকল প্রকাশনা সংগ্রহ করে জাতীয় ঐতিহ্যকে সংরক্ষণ করাই এর প্রধান বৈশিষ্ট্য।

২। গণগ্রন্থাগার

 পাবলিক লাইব্রেরি বা গণগ্রন্থাগার জনগণের বিশ্ববিদ্যালয়। সমাজের সকল স্তরের লোকের চাহিদা পূরণের জন্য এর উৎপত্তি ও বিকাশ। অন্য কোন গ্রন্থাগার এ উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠিত হয় না। এমনকি এর মত বহুমূখী সেবা দিতেও প্রস্তুত নয়।

সমগ্র জাতিকে পরিকল্পিত উপায়ে সাহায্য করা এর লক্ষ্য, বিশেষ করে বুদ্ধির পরিপক্কতা অর্জনে সহায়তা গণগ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠার অন্যতম কারণগুলোর মধ্যে একটি। সমাজে সকল প্রকারের সদস্য ছাত্র, যুবক, বৃদ্ধ, মহিলা ও বিভিন্ন পেশাজীবী  এর ব্যবহারকারী।

৩। একাডেমিক গ্রন্থাগার

একাডেমিক গ্রন্থাগার স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের পাঠ ও গবেষণা প্রয়োজন মেটানোর উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়। এসব গ্রন্থাগারে কেবল পাঠ্য ও পাঠ্য সহায়ক উপকরণই থাকে না, পাশাপাশি বিভিন্ন রেফারেন্স সামগ্রীসহ বিভিন্ন বিষয়ের তথ্য উপকরণও সংগ্রহীত হয়। বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগারের অন্যতম উদ্দেশ্য থাকে গবেষকদের প্রয়োজনীয় পাঠ্য উপকরণ সংগ্রহের মাধ্যমে জ্ঞানচর্চায় অগ্রসর পর্যায়ে সহায়তা জোগানো।

৪। বিশেষ লাইব্রেরি

বিশেষ গ্রন্থাগার আসলে এক ধরনের গবেষণা গ্রন্থাগার, যাকে টেকনিক্যাল লাইব্রেরিও বলা হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বিশ্বজুড়ে নানা বিষয়ে গবেষণা কর্মের এক বিশাল কর্মযজ্ঞ শুরু হয়। এই গবেষণা কর্মে সহায়তা জোগানোর জন্যই বিশেষ গ্রন্থাগারের আবির্ভাব। বিজ্ঞান, প্রযুক্তি চিকিৎসাবিজ্ঞান, সমাজবিজ্হান ইত্যাদি নানা বিষয়ে তথ্য উপকরণ সংগ্রহের মাধ্যমে বিশেষ গ্রন্থাগারগুলো সমাজে এক ব্যাতিক্রমী ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে।

এছাড়াও রয়েছে

ভ্রাম্যমান লাইব্রেরি

বিভিন্ন দেশেই গাড়িতে করে বহনযোগ্য গ্রন্থাগার রয়েছে, যেগুলো পাঠকের দ্বারে দ্বারে তথ্যসামগ্রি পৌঁছে দেয়। বাংলাদেশে এই কাজটি প্রথম চালু করে বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র।

সামাজিক লাইব্রেরি

একটি সমাজের সংঘবদ্ধ মানুষেরা তাদের কল্যাণার্থে এ ধরনের গ্রন্থালয় প্রতিষ্ঠা করে। তারা সদস্যদের দ্বারা বাড়িতে বাড়িতে বই পৌঁছে দিয়ে থাকে।

পৃথিবীর বিখ্যাত লাইব্রেরিসমূহ

 বিখ্যাত গ্রন্থাগারসমূহের মধ্যে প্রথমেই আসে পৃথিবীর সর্ববৃহৎ গ্রন্থাগার ‘লাইব্রেরি অব কংগ্রেসে’র নাম। আমেরিকার ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থিত এই লাইব্রেরিতে রয়েছে ৩ কোটি ২০ লাখ বইয়ের এক বিশাল সমাহার। লন্ডনের ব্রিটিশ মিউজিয়ামও পৃথিবীর বিখ্যাত লাইব্রেরির মধ্যে অন্যতম। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘বডলিন লাইব্রেরি’তে রয়েছে ১ কোটিরও বেশি গ্রন্থ।

এছাড়া পৃথিবীর প্রাচীনতম লাইব্রেরির মধ্যে রয়েছে ‘ভ্যাটিকান লাইব্রেরি’। এ ছাড়াও ফ্রান্সের বিবলিওথিক লাইব্রেরি, মস্কোর লেনিন লাইব্রেরি ও কলকাতার ন্যাশনাল লাইব্রেরি উল্লেখযোগ্য। মিশরের আলেকজান্দ্রিয়া লাইব্রেরিও পৃথিবীর প্রাচীন লাইব্রেরির মধ্যে অন্যতম। যা এক সময় পৃথিবীর সপ্তাচার্যের মধ্যেও ছিল।

বাংলাদেশের বিখ্যাত ও সমৃদ্ধ গ্রন্থাগারসমূহ

বেগম সুফিয়া কামাল জাতীয় গণগ্রন্থাগার:

‘পড়িলে বই, আলোকিত হই, না পড়িলে বই, অন্ধকারে রই’—এমন স্লোগান শাহবাগের পাবলিক এই গ্রন্থাগারের।  প্রায় দুই লাখ বইয়ের এক বিশাল রাজ্য এখানে। ইতিহাস, সংস্কৃতি, বিজ্ঞান, সাহিত্য, গণিতসহ সব ধরনের বইয়ের সন্ধান মিলবে। পুরনো পত্রপত্রিকা, সাময়িকীও পাওয়া যাবে। দ্বিতীয় তলায় রয়েছে সাধারণ পাঠকক্ষ। তৃতীয় তলায় পত্রিকা, রেফারেন্স ও জেরক্স বিভাগ। নিচতলায় শিশু-কিশোর পাঠকক্ষ। ছয় থেকে ১৫ বছর বয়সী যে কেউ এখানে বসে বই পড়তে পারবে।


ছবি সংগৃহীত

এশিয়াটিক সোসাইটি লাইব্রেরি:

১৯৫২ সালে প্রতিষ্ঠিত এই গ্রন্থাগারে প্রায় ১৫ হাজারের অধিক বই রয়েছে। এশিয়াটিক সোসাইটি লাইব্রেরি দুর্লভ বইয়ের সংগ্রহশালা হিসেবেই বেশী পরিচিত। কেবল সদস্যরাই লাইব্রেরিটি ব্যবহার করতে পারেন। যদিও অনুমতি সাপেক্ষে অন্যরাও এ লাইব্রেরি ব্যবহারের সুবিধা পেতে পারেন। গবেষকরা খুব সহজেই এ অনুমতি পেয়ে থাকেন।

বাংলাদেশ জাতীয় গ্রন্থাগার:

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে ১৯৭২ সালের ৬ নভেম্বর বাংলাদেশ জাতীয় গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠিত হয়। এখানে বই রয়েছে প্রায় ৫ লাখ। এ ছাড়াও ১৯৫১ সাল থেকে জাতীয় দৈনিক, সাপ্তাহিক এবং আঞ্চলিকসহ বিভিন্ন সংবাদপত্র সংগৃহীত রয়েছে এ গ্রন্থাগারে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন লাইব্রেরি:

এক লাখ ৩০ হাজারের মতো বই এ লাইব্রেরির সংগ্রহে আছে। এর অধিকাংশই ইসলামী ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিবিষয়ক। ইতিহাস, ভূগোল, গণিত, দর্শন, স্বাস্থ্যবিষয়ক বইও আছে এখানে।

বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ লাইব্রেরি:

সামাজিক বিজ্ঞানবিষয়ক দেশের সবচেয়ে বড় লাইব্রেরি। এক লাখ ৩০ হাজারের মতো বই ও জার্নাল আছে এখানে। নির্দিষ্ট কিছু লাইব্রেরির সঙ্গে এ লাইব্রেরির বই ও তথ্য আদান-প্রদান চুক্তি আছে। এ কারণে পাঠকরা প্রায়ই নতুন বই পেয়ে থাকেন।

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র লাইব্রেরি:

প্রায় এক লাখের মতো বই সংগ্রহে রয়েছে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র লাইব্রেরিতে। এ ছাড়া তাদের ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি রয়েছে। ঢাকার বিভিন্ন পয়েন্ট ছাড়াও দেশের বিভিন্ন স্থানে নির্দিষ্ট সময়ে হাজির হয় এই লাইব্রেরি।


ছবি সংগৃহীত 

ব্রিটিশ কাউন্সিল লাইব্রেরি:

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় অবস্থিত এই লাইব্রেরিটি   ইংরেজি ভাষায় লিখিত আন্তর্জাতিক মানের একাডেমিক ও নন-একাডেমিক প্রায় ২৫ হাজার বইয়ের বিশাল এক সংগ্রহশালা। শুধু তা-ই নয়, ১৫ হাজারের বেশি সিডি-ডিভিডির সংগ্রহের পাশাপাশি ইন্টারনেট ব্যবহারের জন্য একটি সাইবার জোনও আছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগার:

সংগ্রহের দিক থেকে দেশের সবচেয়ে বড় লাইব্রেরি এটি। ছয় লাখ ১৬ হাজার ৮৬৫টি বই ও সাময়িকী আছে গ্রন্থাগারটিতে। ৩০ হাজারেরও বেশি বিরল পাণ্ডুলিপি ও মাইক্রোফিল্মও লাইব্রেরির সংগ্রহে আছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাই কেবল লাইব্রেরিটি ব্যবহার করতে পারে।


ছবি সংগৃহীত 

নজরুল ইনস্টিটিউট:

১৯৮৫ সালের ১২ জুন ধানমণ্ডির কবি ভবনে গ্রন্থাগারটি স্থাপিত হয়। কাজী নজরুল ইসলামের সবকিছু একত্রে পেতে এ গ্রন্থাগারের তুলনা নেই। তার সাহিত্য, সংগীত, সম্পাদনা ও প্রকাশনা, হাতে লেখা পাণ্ডুলিপি, পত্রাবলি, বিভিন্ন রেকর্ডের বিশাল সংগ্রহ নিয়ে গ্রন্থাগারটি গড়ে তোলা হয়েছে। সব মিলিয়ে গ্রন্থাগারে বইয়ের সংখ্যা প্রায় ৮ হাজার।

বাংলা একাডেমী লাইব্রেরি:

এক লাখ ২০ হাজার বই ও ৭০ হাজার পত্রপত্রিকার এক বিশাল সংগ্রহশালা এ গ্রন্থাগারটি। এদের মধ্যে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের গ্রন্থাদি সংগ্রহ ও সংরক্ষণে এ গ্রন্থাগার  বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

এছাড়াও চিকিৎসা বিজ্ঞান সম্পর্কিত গ্রন্থাগারসমূহ হচ্ছে ন্যাশনাল হেলথ লাইব্রেরি অ্যান্ড ডকুমেন্টেশন সেন্টার, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগার, বারডেম গ্রন্থাগার, বিভিন্ন মেডিক্যাল কলেজ, দি ইনস্টিটিউট অব পাবলিক হেলথ, দি ইনস্টিটিউট অব চেস্ট রিসার্চ, দি ইনস্টিটিউট অব কমিউনিকেবল ডিজিজেজ, দি ইনস্টিটিউট অব হার্ট রিসার্চ অ্যান্ড কার্ডিওভাসকুলার ডিজিজেজ এবং অন্যান্য কিছু সংশ্লিষ্ট সংগঠন ও হাসপাতালের গ্রন্থাগার।

গবেষণা এবং প্রশিক্ষণ সংশ্লিষ্ট গ্রন্থাগারগুলি হলো  বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি,  বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর,  বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘর, ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ স্টাডিজ, বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান, পুষ্টি ও খাদ্য বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট, পরিসংখ্যান গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো, পরিকল্পনা কমিশন, ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ, আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউট,  বাংলাদেশ ব্যাংক, বাংলা একাডেমী, শিশু একাডেমী, বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ  বেতার, বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী একাডেমী, টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট, লেদার টেকনোলজি ইনস্টিটিউট এবং বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও  কুটির শিল্প ইনস্টিটিউট মতো প্রতিষ্ঠানেরও  গ্রন্থাগার রয়েছে।

প্রায় সকল সরকারি মন্ত্রণালয়, দপ্তর এবং অধিদপ্তরের নিজস্ব গ্রন্থাগার রয়েছে। স্বায়ত্তশাসিত ও আধাস্বায়ত্তশাসিত সংস্থাসমূহও তাদের নির্দিষ্ট প্রয়োজন মেটাতে গ্রন্থাগার গড়ে তুলেছে। সরকারি গ্রন্থাগারসমূহের মধ্যে সর্ববৃহৎ হচ্ছে বাংলাদেশ সচিবালয় লাইব্রেরি।

বর্তমানে প্রায় প্রতিটি জেলা এবং উপজেলায় বেসরকারি গণগ্রন্থাগার স্থাপিত হয়েছে।

সমৃদ্ধ জাতি গঠনে গ্রন্থাগারের প্রয়োজন যে অপরিহার্য তা পৃথিবীর সমৃদ্ধ ও উন্নত জাতিসমূহের ইতিহাস পাঠে জানা যায়। গ্রন্থাগার জ্ঞান-বিজ্ঞানকে মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়ার এক অনন্য মাধ্যম হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে। তেমনিভাবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে গ্রন্থাগার শুধু অপরিহার্য নয় বরং প্রতিষ্ঠানের সমৃদ্ধির একটি পরিমাপক হচ্ছে সমৃদ্ধ গ্রন্থাগার।

লেখাটি ভালো লেগে থাকলে বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করতে ভুলবেন না!
Author

Ariful Hoque Abir

Currently studying at Sheikh Hasina Medical College, Tangail. Loves to spend time with kids and always stays passionate for achieving his goals.
Ariful Hoque Abir
এই লেখকের অন্যান্য লেখাগুলো পড়তে এখানে ক্লিক করুন
What are you thinking?