মেডিকেলে ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে কনফিউশন?

পুরোটা পড়ার সময় নেই ? ব্লগটি একবার শুনে নাও !

এইচএসসি পরীক্ষা তো শেষ। এবার পালা তুমুল প্রতিযোগিতামূলক ভর্তিযুদ্ধের। আর এটাই তোমার নিজেকে প্রমাণের সবচেয়ে বড় প্ল্যাটফর্ম। সমস্যা হলো, এই সময়টাতেই আমাদের মনে ঘুরপাক খায় বেশ কিছু প্রশ্ন। মেডিকেল ভর্তিচ্ছুদের এমন ৭টি কনফিউশনের সমাধান করার চেষ্টা করেছি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার আলোকে-

দারুণ সব লেখা পড়তে ও নানা বিষয় সম্পর্কে জানতে ঘুরে এসো আমাদের ব্লগের নতুন পেইজ থেকে!

১। MBBS না BDS?

গতবছর থেকে এমবিবিএস ও বিডিএস আলাদা পরীক্ষা নেয়া শুরু হয়েছে। তাই অনেকের কাছে ভাবনার বিষয় যে বিডিএসে পরীক্ষা দিব কি না। এটা আসলেই তোমার নিজস্ব ইচ্ছা।

ডেন্টালে পড়ার ইচ্ছা যদি একান্তই না থাকে তবে সময় নষ্ট না করাই উত্তম। তবে মূল কথা হল যেহেতু এমবিবিএসের পরীক্ষা আগে হয় তাই সবার আগে সেটাতেই মনোনিবেশ করা উচিত। পরেরটা নিয়ে পরে চিন্তা করা যাবে।

২। মেডিকেলের জন্যে কোন কোচিং ভালো হবে?

কোন কোচিংয়ে পড়বো, সেটা অনেকের কাছেই একটা চিন্তার বিষয়। দেখো, কোচিং আসলে কোনো বড় ফ্যাক্টর না। এই সময়টাতে তোমার নিজে নিজেই যতটা বেশি সম্ভব পড়তে হবে।admission tips, medical

কোচিং শুধুমাত্র গাইডলাইনের জন্যে। পরিচিতজনদের কাছ থেকে ঠিকভাবে খোঁজখবর নিয়ে তারপরই ভর্তি হওয়া উচিত যে কোনো কোচিংয়ে। নতুবা আক্ষেপের কারণ হতে পারে এই ছোট বিষয়টিই।

৩। Main Branch না Local Branch?

সবার মনে একটা ধারণা থাকে যে, সেন্ট্রাল ব্রাঞ্চে সবচেয়ে ভালো পড়াশোনা হয়। মেডিকেল কোচিংগুলোর ক্ষেত্রে এ কথাটা পুরোপুরি সত্য নয়। তাই নিজের বাড়ি থেকে দূরে ঢাকায় এসে পড়লেই যে বেশি ভালো হবে, তা গ্যারান্টি দিয়ে বলা যাবে না।

তবে তোমার ভালো তোমার নিজেকেই বুঝতে হবে। তোমার যেখানে সুবিধা হয়, তুমি সেটাই বেছে নেবে। আর এই ব্যাপারটা নিয়ে পরিবারের সদস্যদের সাথে মনোমালিন্য অবশ্যই সমীচীন নয়। মনে রাখতে হবে, তোমার পড়া তোমার নিজের কাছে, কোচিং তোমাকে বড়জোর পড়াশোনার রাস্তাটা দেখিয়ে দিতে পারবে।

৪। একের অধিক কোচিং করা কি উচিৎ?

বিভাগীয় শহরের ছেলেদের ক্ষেত্রে দেখা যায় একই সাথে দুটো কোচিংয়ে ভর্তি হতে। আসলে প্রথমদিকে বিষয়টা এনজয়েবল মনে হলেও শেষ দিকে এসে যেকোনো একটা কোচিংয়েই রেগুলার হতে হয়। মনে রাখতে হবে, সময় খুব অল্প। তাই প্রয়োজনের কথা মাথায় নিয়ে  সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়াটা বেশ জরুরী।

তোমার মনে থাকা সব নেতিবাচক চিন্তাগুলো দূর করতে হবে

৫। কয়টা বই ফলো করতে হবে?

সব কোচিংয়েই দেখবে কিছু কমন বই ফলো করা হয়। কারণ ওগুলো থেকে পরীক্ষায় বেশি প্রশ্ন আসে। তাই ঐ বইগুলোই অনুসরণ করতে পারো। তবে প্রতি বিষয়ের কমপক্ষে একটি বইয়ের সব তথ্য তোমার জানা থাকতে হবে। আর সেটা পুরোনো কোনো  লেখকের সর্বশেষ ভার্সনের হলে সবচেয়ে ভালো হবে।

৬। মেডিকেলে ভর্তি হবার জন্যে দিনে কয় ঘণ্টা পড়া উচিৎ?

এখানে আসলে কোনো বাঁধা-ধরা নিয়ম নেই যে তোমাকে ১২ -১৪ ঘন্টা পড়তে হবেই। তোমার যেটুকু প্রয়োজন, তুমি সেটুকুই পড়বে। তবে অন্যান্য সময়ের চেয়ে পড়াশোনা একটু বেশিই করতে হবে। আরেকটা বিষয় যে, তুমি যত টেকনিক্যালি বিষয়গুলো আয়ত্ত করতে পারবে, এক্সামে তোমার ভালো করার সম্ভাবনা ততোই বাড়বে।

৭। নেতিবাচক চিন্তা মাথায় আসছে, কী করবো?

সর্বশেষ এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো যে, তোমার মনে থাকা সব নেতিবাচক চিন্তাগুলো দূর করতে হবে। তুমি বিশ্বাস রাখবে যে, তুমি চান্স পাবেই; যত যাই কিছুই ঘটুক না কেন।

অনেককে দেখেছি এক দুইটা মডেল টেস্টে খারাপ করলেই ভেঙ্গে পড়ে। পরে দেখা যায় চান্স পাবার সম্ভাবনা থাকলেও এই নেতিবাচক চিন্তার জন্যে আর চান্স পাওয়া হয়ে ওঠে না। তাই আত্মবিশ্বাসে বলীয়ান হতেই হবে।admission tips, medical

সর্বোপরি, মনে কঠোর সংকল্প নিয়ে ভালোভাবে প্রস্তুতি নাও, যাতে দিনশেষে তুমি বিজয়ী হতে পারো। আর তোমার পরিবারের মানুষগুলোকে বিশেষ করে তোমার বাবা-মা কে একটা খুশির উপলক্ষ্য এনে দাও এই কামনাই করি, মেডিকেলে চান্স পাবার অগ্রিম শুভেচ্ছা!


১০ মিনিট স্কুলের লাইভ এডমিশন কোচিং ক্লাসগুলো অনুসরণ করতে সরাসরি চলে যেতে পারো এই লিঙ্কে: www.10minuteschool.com/admissions/live/

১০ মিনিট স্কুলের ব্লগের জন্য কোনো লেখা পাঠাতে চাইলে, সরাসরি তোমার লেখাটি ই-মেইল কর এই ঠিকানায়: [email protected]

লেখাটি ভালো লেগে থাকলে বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করতে ভুলবেন না!
What are you thinking?