Promise List: যেসব শপথ নিলে, জীবন যাবে বদলে

মাহির নামের এক ছেলেকে পড়ানোর মধ্য দিয়েই আমার টিউশন জীবনের অভিষেক ঘটে। সে ইন্টার ফার্স্ট ইয়ারে পড়তো। কিছুদিনের মাঝেই যে জিনিসটা লক্ষ্য করলাম, তা হলো ছেলেটা ভীষণ বিষণ্ণতায় ভোগে। জীবনের এই বয়সটাই অদ্ভুত। এই সময়ে অহেতুক বিষণ্ণতার পারাবারে সাঁতরে বেড়ায় প্রায় প্রতিটা মানুষ। সেই পারাবারের জলোচ্ছ্বাস গ্রাস করে জীবনের সব আনন্দ!

ওকে শেষ যেদিন পড়াতে গেলাম, বললাম, “আজকে পড়াবো না। একটা কাগজ আর কলম হাতে নাও, আমি কিছু পয়েন্ট বলি লেখো। উপরে হেডিং দাও ‘Promise list’। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে বুকে হাত রেখে এই প্রতিজ্ঞাগুলো নিজের সাথে করবে। যদি পারো তাহলে… আচ্ছা, তাহলে কি হবে সেটা নিজেই দেখে নিও!”

১) নিজেকে ভালোবাসো

বুকে হাত রেখে বলো তুমি নিজেকে ভালোবাসো। হয়তো জীবনের সাফল্যের সুন্দর মুহূর্তে নিজেকে ভালোবাসাটা সহজ কিন্তু কঠিন সময়ে, ব্যর্থতার সময়ে মানুষ নিজেকে ঘৃণা করতে শুরু করে। আর ঠিক তখনই মনে হয় গোটা পৃথিবী তোমার বিপরীতে চলে যাচ্ছে। তাই এখনই শপথ করো তুমি নিজেকে সবসময় ভালোবাসবে।

দারুণ সব লেখা পড়তে ও নানা বিষয় সম্পর্কে জানতে ঘুরে এসো আমাদের ব্লগের নতুন পেইজ থেকে!

মনে রাখবে, “If you want to love others, you have to love yourself first.”

২) নিজেকে সম্মান করো

সম্মান অর্জনের জন্য আগে নিজেকে সম্মান করতে শিখতে হবে। আত্মসম্মানবোধ না থাকলে তাকে অন্য কেউ কখনো সম্মান করে না। উপরন্তু, আত্মসম্মান হলো আত্মউন্নয়নের চাবিকাঠি।

ঘুরে আসুন: অভিজ্ঞতা হোক চাকরির আগেই!

৩) অন্যের সাথে নিজেকে তুলনা করো না

জীবনে সুখী হওয়ার মূলমন্ত্র হলো অন্যের সাথে নিজেকে তুলনা না করা। আমাদের চারপাশে যখন আমরা সফল আর গুণী, মেধাবী মানুষ দেখি তখনই নিজেকে নিজে অজান্তেই প্রশ্ন করে বসি, ‘আমি কী করলাম জীবনে? অমুক কত ট্যালেন্টেড, আর আমি একটা অপদার্থ।’ এই যে তুলনা করা, এই তুলনা থেকেই শুরু হয় হতাশা।

একটা উক্তি আছে, “Talent without hard work is nothing.” তুমি যে ট্যালেন্টেড মানুষটাকে দেখে ঈর্ষান্বিত হচ্ছো, তাকেও রাতদিন কঠোর পরিশ্রম করে সাফল্য অর্জন করে নিতে হয়েছে। প্রত্যেকটা মানুষের আলাদা জীবন আছে। তাই অন্যের সাথে তুলনা না করে তুমিও কঠোর পরিশ্রম করে আবিষ্কার করো তোমার ভিতরে লুকিয়ে থাকা অজানা তুমিকে!

যদি বিশেষ কাউকে খুঁজে নাও পাও, তবুও জেনে রেখো তুমি সবার থেকে আলাদা। গোটা পৃথিবীতে আরেকটা মানুষ নেই যার সাথে তোমার চেহারা, হাতের আঙুলের ছাপ মিলবে। তাই তুমি অনন্য আর অনন্যমাত্রই সুন্দর!

৪) নিজের যত্ন নাও

মানুষের শরীর একটা যন্ত্র ছাড়া কিছুই নয়। যন্ত্রের যত্ন না করলে যেমন তা অকেজো হয়ে পড়ে আমাদের শরীরের যত্ন না নিলে আমরাও তেমনি অসুস্থ হয়ে পড়ি। তাই সময়মত খাওয়াদাওয়া করা, ঠিকমতো ঘুমানো, অসুস্থ হলে ঠিকমত ঔষধ খাওয়া, নিয়মিত ব্যায়াম করা, ধূমপান ও মাদকাসক্তি থেকে দূরে থাকা আমাদের নিজের উপর দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। কারণ, আমাদের শরীরটা তো বিধাতার দেয়া উপহার, সেটির ক্ষতি করার অধিকার আমাদের নেই।

৫) নিজেকে ক্ষমা করতে শিখো

আলবার্ট আইনস্টাইন বলেছেন, “A person who never made a mistake, never tried anything new.” প্রত্যেকটা মানুষের জীবনজুড়ে ছড়িয়ে থাকে অগণিত ভুল। এক ভুল বারবার করাটা পাপ, কিন্তু প্রথমবার করলে সেটা শিক্ষা। প্রতিটা ভুল থেকে আমরা নতুন কিছু শেখার সুবর্ণ সুযোগ পাই। অতীতের ভুলের উপর ভর করে হতাশ হয়ে থাকলে হবে না। নিজেকে ক্ষমা করতে জানতে হবে। একটি উক্তি আছে, “Your best teacher is your last mistake.”

৬) আত্মনির্ভরশীল হও

তোমার জীবনের পুরো দায়িত্বটা তোমার উপরই। তোমার সাথে যত মানুষই থাকুক না কেন, কেউ তোমার স্বপ্নগুলোকে পূরণ করে দিতে পারবে না। তুমি ভবিষ্যতে নিজেকে যেখানে দেখতে চাও সেখানে নিয়ে যাবার দায়িত্বটা তোমারই। তাই কখনোই তোমার কোনো কাজ অন্য কেউ করে দেবে সেই প্রত্যাশা না করে আত্মনির্ভরশীল হতে হবে। কথায় আছে, “Self help is the best help.”

৭) নিজের হৃদয়ের কথা শুনো

নিজের হৃদয়ের ভাষা পড়তে জানতে হবে। যদি ন্যায়সম্মত কোনো ইচ্ছে আমাদের মধ্যে জাগে, তবে তা না করা হলো নিজের অন্তরকে কষ্ট দেয়া। এসব ছোট ছোট ইচ্ছেকে সবসময় ধূলিসাৎ করলে একসময় তোমার মন আর কোনোকিছুই চাইবে না। তখন তোমাকে আঁকড়ে ধরবে অসহ্য বিষণ্ণতা। যেমন মনে কর, অনেকক্ষণ পড়াশোনা করার পর তোমার একটু ছাদে গিয়ে আকাশ দেখতে ইচ্ছে হলো। তাহলে নিজেকে বেঁধে রেখো না, দৌড়ে যাও ছাদে, আকাশের বিশালতার মাঝে মিশে যাও কিছুক্ষণ!

অথবা আরেকটু বৃহৎ অর্থে, তোমার জীবনের লক্ষ্য নির্ধারণে তোমার ভালো লাগাকে প্রাধান্য দেবে। যদি তোমার লেখক কিংবা গায়ক হবার স্বপ্ন থাকে, আর তুমি আবিষ্কার করে থাকো তোমার মধ্যে সেই প্রতিভা আছে, তাহলে মনের বিরুদ্ধে যেও না। জীবন্মৃত হয়ে থাকাকে বেঁচে থাকা বলে না। তবে হ্যাঁ, অবশ্যই কাছের মানুষদের সাথে পরামর্শ করে, তাদের মনে কষ্ট দিয়ে নয়।

৮) বর্তমানের সাথে বাস করো

না অতীত, না ভবিষ্যৎ, কেবলমাত্র বর্তমানটাই তোমার হাতের মুঠোয়। শুধু এর উপরই তোমার নিয়ন্ত্রণ আছে। তাই প্রতিজ্ঞা করো, অতীত বা ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তা না করে বর্তমানের সাথে বাস করবে। কথায় আছে, “Yesterday is a history, tomorrow is a mystery but today is a gift, that’s why it’s called the present.”

ঘুরে আসুন: সফল ব্যক্তিদের অবসর কীভাবে কাটে?

৯) তেমন জীবনই যাপন করো যা তোমার সাথে যায়

সমাজে কেউ উচ্চবিত্ত, কেউ মধ্যবিত্ত, কেউ নিম্নবিত্ত। তোমার কেমন জীবন যাপন করার কথা তা তোমাকেই বুঝতে হবে। অন্য দশজনের দেখাদেখি কোনো কাজ করতেই হবে এমনটা নয়। যেমন মনে করো, তুমি মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। বাবার কষ্টের টাকায় তোমার পরিবার টিকে আছে। অন্য দশজনের দেখাদেখি দামি রেস্তোরাঁয় নিয়মিত খাওয়া কিংবা অত্যন্ত দামি জামাকাপড় পরে বিলাসিতা দেখানো তোমার সাজে না। তোমার জন্য অনাড়ম্বর জীবনটাই খুব সুন্দর।

১০) জীবনের প্রতিটা সফলতা উদযাপন করো

জীবনে বড় বড় প্রাপ্তির পাশাপাশি আমরা ছোট ছোট অনেককিছুও অর্জন করি। আমরা সেগুলো উদযাপন করি না বা তেমনটা খুশি হই না বলে ভুলেই যাই আমরা আসলে কতকিছুই না পেয়েছি জীবনে। আসলে কোনো অর্জনই ছোট নয়। ছোট বড় সব সাফল্যই উৎযাপন করতে হবে। এভাবে একটু একটু আনন্দ থেকেই একদিন হিমালয় গড়ে উঠবে। হয়তো তোমার ঐ ছোট্ট অর্জনটা দেখেই কেউ নীরবে ঈর্ষান্বিত হচ্ছে!

নিজেই করে ফেল নিজের কর্পোরেট গ্রুমিং!

কর্পোরেট জগতের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে গেলে জানতে হয় কিছু কৌশল।

এগুলো জানতে ও শিখতে তোমাদের জন্যে রয়েছে দারুণ এই প্লে-লিস্টটি!

 

১০ মিনিট স্কুলের Corporate Grooming সিরিজ

১১) পরিবর্তন মেনে নিতে শিখো

বদলে যাওয়াটা একটা নিয়ম। পৃথিবীর কোনোকিছুই স্থির থাকে না। প্রতিটা মানুষ, প্রতিটা মুহূর্ত, প্রতিটা দৃশ্যপট বদলে যায়! বদলে যায় আমাদের জীবন। সেই পরিবর্তনের সাথে খাপ খাইয়ে চলতে হবে। পরিবর্তন মেনে নিতে শিখতে হবে, কারণ বদলে যাওয়াটাই স্বাভাবিক।

১২) সবসময় হাসিখুশি থাকো

হাসিখুশি মানুষের হৃদরোগ হবার সম্ভাবনা বিষণ্ণ মানুষের তুলনায় অনেক কম। সবসময় হাসিখুশি থাকার চেষ্টা করতে হবে। মানুষের সাথে কথা বলার সময় হাসিমুখে কথা বলতে হবে যা বিনয় প্রদর্শন করে।

১৩) ভুল মানুষ থেকে সাবধান থাকো

আমাদের জীবনে আমরা অনেক মানুষের সাথে পরিচিত হই নানা মাধ্যমে। কিন্তু তাদের কেউ আমাদের জন্য আশীর্বাদ, কেউ আবার শিক্ষা। যখন বোঝা যাবে যে একটা মানুষের কারণে তোমার ব্যক্তিত্ব ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বা যারা তোমাকে কটুক্তি করে তোমাকে দমানোর চেষ্টা করছে, তোমার মধ্যে নেতিবাচক চিন্তাভাবনা তৈরি করছে, তাদের থেকে অবশ্যই দূরত্ব বজায় রেখে চলতে হবে।

১৪) প্রতিদিন নতুন কিছু শেখো

প্রতিদিন নতুন কিছু শেখার চেষ্টা করো। জ্ঞান মানুষকে আত্মবিশ্বাসী করে আর প্রফুল্ল রাখে।

১৫) যোগ্যতার সদ্ব্যবহার করো

অতিরিক্ত আরামপ্রিয় ও অলস হলে জীবনে বড় হতে পারবে না। অনেকক্ষেত্রেই মানুষের যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও সে ব্যর্থ হয় পরিশ্রম না করার কারণে। কিন্তু যখন তুমি ব্যর্থ মানুষ হবে, তখন কেউ বলবে না, বুঝবে না যে তোমার যোগ্যতা ছিল। সবাই বলবে তুমি পারোনি, তুমি হেরে গেছো। আর এটাই শেষ কথা।

১৬) ভাগ্যকে মেনে নিতে শেখো

জীবনের গল্পটা যে সবসময় তোমার ইচ্ছেমত হবে তা কিন্তু নয়। তাই হলে প্রতিটা মানুষের জীবনই রূপকথার মতো সুন্দর হতো। তাই ভাগ্যকে মেনে নাও। বিশ্বাস করবে তুমি যা পেয়েছো সেটাই তোমার জন্য সেরা। হয়তো তখন বুঝবে না, জীবনের অন্য কোনো বিন্দুতে দাঁড়িয়ে সেটি উপলব্ধি করবে। আমরা কখনো কখনো এমন কিছু চাই যা আমাদের জন্য ক্ষতিকর, আবার কখনো এমন কিছু চাই না যা আমাদের জন্য উত্তম। এই ভালোমন্দ আমরা বুঝতে পারি না, জানেন কেবল বিধাতা।

১৭) অধ্যবসায়ী আর আত্মবিশ্বাসী হও

স্বপ্ন দেখা মানুষের সহজাত ধর্ম। কিন্তু কোনোকিছু অর্জনের জন্য মরিয়া হওয়া যাবে না। এই পৃথিবীতে যে জিনিসটির স্বাদ সবচেয়ে তিক্ত তার নাম ‘অপেক্ষা’। কিন্তু তবুও অপেক্ষা করতে হবে, অধ্যবসায়ী হতে হবে। বিশ্বাস করতে হবে যেটি তোমার পাবার, তা কাল হোক কিংবা শতাব্দী পরে হোক তোমার কাছে আসবেই। আত্মবিশ্বাস মানুষকে তার গন্তব্যের অর্ধেকটা পথ এগিয়ে দেয়।

সঠিকভাবে কোন ইংরেজি শব্দ উচ্চারণ করতে পারা ইংরেজিতে ভাল করার জন্য অত্যন্ত জরুরি।

১৮) অন্যকে সাহায্য করো

অন্যকে সাহায্য করতে পারলে নিজের মধ্যে একটা আত্মতৃপ্তি কাজ করে। যখন যাকে বিপদগ্রস্ত বা সাহায্যপ্রার্থী দেখবে, নীরব দর্শক হয়ে না থেকে নিজের সাধ্যমতো তার পাশে দাঁড়াতে চেষ্টা করবে। দেখবে একদিন তোমার বিপদে কত হাত এগিয়ে এসেছে যা তুমি কল্পনাও করতে পারবে না!

১৯) রোজ মেডিটেট করো

মেডিটেশন আত্ম-উন্নয়নের একটি অন্যতম হাতিয়ার। সারাদিন তো সবাইকেই সময় দেয়া হয়, রাতে ঘুমানোর আগে কিছুটা সময় নিজেকে দাও। চোখ বন্ধ করে দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলো। তারপর চিন্তা করো তুমি কেমন আছো, কেন ভালো নেই, আজ সারাদিন কী কী করলে, কয়টা ভালো কয়টা খারাপ কাজ করলে, আগামীকাল নিজের মধ্যে কোন পরিবর্তন দেখতে চাও।

২০) নিজেকে জানো

সক্রেটিসের বিখ্যাত উক্তি, “Know thyself” অর্থাৎ “নিজেকে জানুন”। নিজেকে জানাটা খুব জরুরি। নিজের দোষ-গুণ, পছন্দ-অপছন্দ, আর নিজের যোগ্যতা সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে জানতে হবে। কখনো এমন কিছু প্রত্যাশা করা উচিত নয় যা তোমার প্রাপ্য নয়। যা প্রাপ্য সেটাই অর্জন করে নেয়ার নামই সফলতা।

বছরখানেক পর একদিন মোবাইলে একটা টেক্সট মেসেজ আসলো। দেখলাম মাহিরের মেসেজ। তাতে লেখা, “Thank you sir. I’m the happiest man. Life is really beautiful only if we believe and make it so.”

 

Reference Link:

31 Promises to Change Your Life


১০ মিনিট স্কুলের লাইভ এডমিশন কোচিং ক্লাসগুলো অনুসরণ করতে সরাসরি চলে যেতে পারো এই লিঙ্কে: www.10minuteschool.com/admissions/live/

১০ মিনিট স্কুলের ব্লগের জন্য কোনো লেখা পাঠাতে চাইলে, সরাসরি তোমার লেখাটি ই-মেইল কর এই ঠিকানায়: write@10minuteschool.com

লেখাটি ভালো লেগে থাকলে বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করতে ভুলবেন না!
Author

Ariful Hasan Shuvo

A simple human being who lives in two universes in parallel. One you see, the other one is inside his head where there's nothing but thoughts and dreams!
Currently a student of Shahjalal University of Science and Technology
Ariful Hasan Shuvo
এই লেখকের অন্যান্য লেখাগুলো পড়তে এখানে ক্লিক করুন
What are you thinking?