যে সূত্র জীবন বদলে দেয়- ’90/10 Principle’

পুরোটা পড়ার সময় নেই ? ব্লগটি একবার শুনে নাও !

আমরা সবসময় ভাবি, যদি এমন কোন জাদুকরী কিছু পাওয়া যেত, যেটা দিয়ে জীবনের সব দুঃখগুলোকে দূর করে সুখের সাগরে বসবাস করা যায়! এমন জাদুর কাঠি পৃথিবীতে না থাকলেও কিছু জাদুকরী সূত্র পৃথিবীতে ঠিকই আছে। পৃথিবীর কিছু কালজয়ী সূত্র জীবনের বুকে সফলতার তকমা লাগিয়ে দেয়। তার মধ্য থেকে আজ আমরা একটা অত্যন্ত শক্তিশালী সূত্রের কথা জানবো যেটা জীবনকে বদলে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে।

সূত্রটার নাম হলো ‘90/10 Principle’। Stephen Covey নামের এক ভদ্রলোকের দেয়া সূত্র এটি। তিনি এখানে দেখিয়েছেন কীভাবে জীবনের ছোটখাটো নিয়ন্ত্রণহীন খারাপ ঘটনাগুলোকে Positive শক্তি দ্বারা বশে এনে জীবনে সুখ-শান্তি খুঁজে নেয়া যায়। তিনি পুরো ধারণাটা একটা গল্পের মাধ্যমে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। গল্পটা দিয়েই শুরু করা যাক-

একটা ছোট পরিবার, বাবা, মা এবং একটা ছোট মেয়ে। তারা একদিন সকাল বেলা নাস্তা করছে। ছোট মেয়েটা হঠাৎ ভুল করে চায়ের কাপটা ফেলে দেয় বাবার জামার উপর। বাবাতো রেগে আগুন। মেয়েকে ধমক দেয়া শুরু করল। স্ত্রীকে বকাবকি করল -কেন সে চায়ের কাপ টেবিলের কিনারে রাখল। কিছুক্ষণ বকাবকির পর মেয়েটা ভয় পেয়ে কান্না শুরু করে দিল।

দারুণ সব লেখা পড়তে ও নানা বিষয় সম্পর্কে জানতে ঘুরে এসো আমাদের ব্লগের নতুন পেইজ থেকে!

বাবা কিছুক্ষণ পর শার্ট পাল্টিয়ে এসে দেখে মেয়েটা তখনও কান্না করছে, খাবার এখনও শেষ করে নি। তিনি আরো ধমকালেন মেয়েকে। মেয়ে আরো বেশি কান্না করতে শুরু করল। ইতিমধ্যে মেয়ের স্কুলের বাসটাও মিস হয়ে গেল। এখন বাবাকেই স্কুলে পৌঁছে দিতে হবে ভেবেই তার মনে অনেক রাগ জমে উঠল। মেয়েকে স্কুলে পৌঁছে দেয়ার পথে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি জোরে গাড়ি চালাতে গিয়ে জরিমানা গুনতে হলো। মেয়েটা আজ বাবাকে বিদায় না জানিয়েই চলে গেল স্কুলে।

তিনি অফিসে পৌঁছালেন ১৫ মিনিট দেরি করে। রাগের মাথায় তাড়াহুড়ো করে আসতে গিয়ে দেখলেন অফিসের  ব্রিফকেস আনতে ভুলে গেছেন। এখন আরো বিপদ, অফিসের বস তার উপর চড়া। দিন তীব্র খারাপের দিকে যেতে লাগলো। অফিসের কাজও ঠিকমতো হলো না। রাত্রে অফিস শেষে বাসায় এসে দেখলেন মেয়ে ঘুমিয়ে গেছে।

অথচ অন্যদিন বাবা আসলেই সবার আগে ছোট মেয়েটা দৌড়ে এসে বাবাকে জড়িয়ে ধরে, আর জিজ্ঞেস করে কী এনেছে। আজ আসলো না। তার স্ত্রীও আজ অনেকটাই নীরব। তিনি একা একা খেয়ে ঘুমিয়ে পড়লেন। দিনটা তো খারাপ গেলোই, এখন রাতটাও। এভাবে পরিবারে সম্পর্কের মাঝে একটা দূরত্ব সৃষ্টি হলো।

এর জন্য দায়ী কে?

ক) ছোট মেয়েটি?

খ) মেয়েটির মা?

গ) চায়ের কাপ?

ঘ) মেয়েটির বাবা?

উত্তর হলো-

গল্পটা যদি এরকম হতো,

ছোট মেয়েটা  ভুল করে চায়ের কাপ ফেলে দিল। মেয়ে ভয়ে কান্না করতে চাইলেই বাবা তাকে থামিয়ে দিয়ে বললেন- “থাক্‌, সমস্যা নেই। আমিও অনেকবার আমার বাবার গায়ে চা ফেলেছি। তবে হ্যাঁ, এখন থেকে সাবধান, ঠিক আছে?”

মেয়েটা একটু হেসে বললো- “আচ্ছা বাবা, আর হবে না।” মেয়েটা সময়মত স্কুলে গেল। বাবা সবকিছু গুছিয়ে নিয়ে সুন্দর করে ৫ মিনিট আগেই অফিসে পৌঁছালেন। অফিসের বস তার কাজের প্রশংসা করলেন। সারাদিন অফিসে কাজ করে রাতে বাসায় আসতেই মেয়েটা দৌড়ে এসে বাবাকে জড়িয়ে ধরলো, বাবার আনা চকলেট গুলো একটা একটা করে খেতে লাগলো। সবাই মিলে একসাথে খেয়ে-দেয়ে ঘুমিয়ে পড়ল।

দিনটা অনেক সুন্দর গেল, তাই না? প্রথম গল্প আর শেষ গল্পের মধ্যে আকাশ-পাতাল পার্থক্য। অনেকেই বলবে- প্রথম গল্পে মেয়েটার দোষ, কারণ সে চায়ের কাপ বাবার গায়ের উপর ফেলার কারণেই তার সারাটা দিন খারাপ গেছে।

জীবনে যে ১০% খারাপ কিছু ঘটে যায়, তার মধ্যে  যদি ভাল কিছু খুঁজে না পাও তাহলে সেটাকে একটা অভিজ্ঞতা হিসেবে ধরে নাও

কিন্তু স্টিফেন কভে বলেন- এটা বাবার দোষ। কারণ, চায়ের কাপ পড়ে যাওয়ার মতো আমাদের জীবনে ১০% এমনকিছু ঘটনা ঘটে থাকে যার উপর কোন ধরণের নিয়ন্ত্রণ আমাদের নেই। কিন্তু, ঐ ১০% এর উপর আমাদের Reaction কী হবে, সেটার উপর নির্ভর করে বাকি ৯০%। প্রথম গল্পে চায়ের কাপ পড়ার পরে বাবার Reaction খারাপ ছিল, তাই দিনের বাকি ৯০% খারাপ গেছে। দ্বিতীয় গল্পে বাবার Reaction  ভাল ছিল তাই দিনের বাকি ৯০% খুবই ভাল কেটেছে।

আমাদের দৈনন্দিন জীবনে ঠিক তেমনি ১০% খারাপ কিছু ঘটে যায় যার উপর আমাদের কোন নিয়ন্ত্রণ থাকে না। কিন্তু কোন এক অদ্ভুত কারণে আমরা  ঐ ১০% নিয়ে সারাক্ষণ চিন্তা  করতে থাকি যার ফলে জীবনের বাকি ৯০% নিয়ে কাজ করার কথাই ভুলে যাই।

আর হবে না মন খারাপ!

আমাদের বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের একটা বড় সমস্যা হতাশা আর বিষণ্ণতা।

দেখে নাও আজকের প্লে-লিস্টটি আর শিখে নাও কিভাবে এসব থেকে বের হয়ে সাফল্য পাওয়া যায়!

১০ মিনিট স্কুলের Life Hacks সিরিজ

বন্ধুদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি হতেই পারে, পরীক্ষার রেজাল্ট খারাপ হতেই পারে, রাস্তায় জ্যাম থাকতেই পারে, কোন কাজে ব্যর্থ হতেই পারি, গাড়ি একটু দেরি করতেই পারে, অফিসের কাজে কেউ কেউ ভুল করতেই পারে, এসব কিছুর উপর আমাদের নিয়ন্ত্রণ নেই। এগুলোর উপর খারাপ React করলে জীবনের সুখ শান্তি অতল গহ্বরে হারিয়ে যায়, মধুর সম্পর্কগুলো ভেঙ্গে যায়, নিজেকে খুব অসহায় লাগে, জীবনে নেমে আসে দুঃখ, দুর্দশা, অস্বস্তি। অনেক সময় বেঁচে থাকাটাকেও অসহ্য মনে হয়।

জীবনে এসবকিছু ঘটলে দোষটা আমরা অন্যের উপর চাপিয়ে দিই। আসলে সমস্ত কিছুর জন্য আমরা নিজেরাই দায়ী। আমরা নিজেরা চাইলেই দুঃখ কে বরণ করে নিতে পারি আবার চাইলেই দুঃখ কে অন্যদিকে চালিয়ে দিয়ে সুখ কে নিজের করে নিতে পারি। আমাদের সে নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা আছে।

যেমন- গাড়ির সিট ভাঙ্গা বলে হেল্পারের সাথে মারামারি করতে পারি, আবার ভাঙ্গা সিটে বসেই  গন্তব্য শেষ করতে পারি। বন্ধু একটা গালি দিয়েছে বলে ঝগড়া দিয়ে সম্পর্ক ছিন্ন করতে পারি আবার চাইলেই একটা গালির দিকে কর্ণপাত না করে সে সম্পর্কটা কে অনেক দূর টেনে নিয়ে যেতে পারি। হ্যাঁ, আমরা চাইলেই পারি।

প্রত্যেকটা ব্যাপারে খারাপ আচরণ করার আগে ভেবে দেখো-

আজ যদি তোমার জীবনের শেষ দিন হত, তাহলে এই ব্যাপারটা তুমি কীভাবে নিতে?

তুমি কি চাইলেই এটাকে এড়িয়ে যেতে পারো?

তুমি কি চাইলেই ব্যাপারটাকে সহজভাবে নিতে পারো?

এই ছোট ব্যাপারটাকে বিসর্জন দিয়ে কি আরো বড় এবং ভালো কিছু অর্জন করা যায়?

তুমি কি এটার দ্বারা কিছু শিখতে পারবে?

সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজে নিয়ে ভেবে দেখো, আসলেই কী তোমার খারাপ Reaction এর প্রয়োজন আছে কি না। কারণ এই সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করবে তোমার জীবনের বাকি ৯০% কেমন  হবে।

পাওয়ারপয়েন্ট ব্যবহার করে অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ সেরে ফেলা যায়! তাই, আর দেরি না করে ১০ মিনিট স্কুলের এক্সক্লুসিভ এই প্লে-লিস্টটি থেকে ঘুরে এসো, এক্ষুনি!

খারাপ Reaction কখনও ফলাফল বদলে দিতে পারে না, শুধু নতুন করে সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে এবং জীবনের সুখগুলোকে কেড়ে নিতে পারে।

জীবনে যে ১০% খারাপ কিছু ঘটে যায়, তার মধ্যে  যদি ভাল কিছু খুঁজে না পাও তাহলে সেটাকে একটা অভিজ্ঞতা হিসেবে ধরে নাও এবং Let it Go।

Self motivation

পৃথিবীর বেশিরভাগ মানুষ এখনো এই শক্তিশালী সূত্রটি সম্পর্কে অবগত নয়, যার ফলে কোটি কোটি মানুষ এই ১০% নিয়ন্ত্রণহীন ঘটনার ফলে জীবনের বাকি ৯০% ক্ষেত্রে তীব্র হতাশায় ভুগছে। তোমার বন্ধুসহ সে সমস্ত মানুষের কাছে এই সূত্রের ‘Positive impacts’ ছড়িয়ে দিতে এক্ষুণি শেয়ার করে দাও এই লেখাটি!


১০ মিনিট স্কুলের লাইভ এডমিশন কোচিং ক্লাসগুলো অনুসরণ করতে সরাসরি চলে যেতে পারো এই লিঙ্কে: www.10minuteschool.com/admissions/live/

১০ মিনিট স্কুলের ব্লগের জন্য কোনো লেখা পাঠাতে চাইলে, সরাসরি তোমার লেখাটি ই-মেইল কর এই ঠিকানায়: write@10minuteschool.com

লেখাটি ভালো লেগে থাকলে বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করতে ভুলবেন না!
What are you thinking?