মন খারাপের টোটকা

পুরোটা পড়ার সময় নেই? ব্লগটি একবার শুনে নাও!

আমরা সবাই কিন্তু সামান্য হলেও মানসিকভাবে অসুস্থ!

শুনে হয়তো আমাকেই পাগল ভাবছো অনেকে, সবাই কী করে মানসিকভাবে অসুস্থ হয়? কিন্তু, কথাটার সত্যতা আছে। এই যে আমাদের নতুন প্রজন্ম ভুগছে ‘ভাল্লাগে না’ রোগে, এটি কি অসুস্থতা নয়? কাজ করতে ভাল্লাগে না, ঘুমাতে ভাল্লাগে না, খেতে ভাল্লাগে না, পড়তে ভাল্লাগে না- ভালো না লাগার পাল্লাই ভারী তাদের জীবনে। আবার অনেকেই আছে ডিপ্রেশন জোনে। আমাকে দিয়ে কিচ্ছু হবে না, আমার জীবন রেখে কী লাভ, সমাজের কাছে বোঝা আমি- এমন সব চিন্তায় প্রতিনিয়ত ডিপ্রেসড হচ্ছে অনেকেই।

ডিপ্রেশন এমন একটি ব্যাধি, যা আক্রমণ করে সবাইকে। আমার নিজেরও ডিপ্রেশন আসে, আমিও বেশ হতাশ হয়ে পড়ি। কিন্তু তখনই মনে হয়, ডিপ্রেশন আমাকে পেয়ে বসার আগে আমিই ডিপ্রেশনকে হারিয়ে দেবো! এই চিন্তাটা থাকার কারণে ডিপ্রেশন জিনিসটা আর জেঁকে বসতে পারে না। ডিপ্রেসড হয়ে বসলে আমি বেশকিছু কাজ করতে থাকি, যতক্ষণ না এই ডিপ্রেশন ব্যাটা হার না মানে! আজ তোমাদের এই কাজগুলো নিয়েই বলি-

১। কাউকে খুশি করার চেষ্টা করো:

খেয়াল করে দেখবে, তুমি ডিপ্রেসড থাকলে তোমার মধ্যে একটা ধারণা চলে আসে, তুমি কোন কাজের না, তোমাকে দিয়ে কিছুই হবে না। এই সময়টায় যদি তুমি চেষ্টা করো অন্য কারো মুখে হাসি ফোটানোর, তাহলে দেখবে অন্যরকম একটা তৃপ্তি আসবে। তোমার মন ভালো হবে। এর কারণ দুটো। একটা হলো, এই যে তোমার কারণে কেউ আনন্দ পেলো, এতে তোমার ডিপ্রেশনটা ধারে কাছে আসতে পারলো না। আরেকটা হলো, এই যে তুমি কোন কাজের না এই ধারণাটা ভুল প্রমাণিত হল তোমার নিজের কাছেই! মন সুখী সুখী লাগবে!

২। নিজেকে অন্যদের সাথে তুলনা করা বন্ধ করো:

ডিপ্রেশনে পড়লে আরেকটা খুব কমন ব্যাপার ঘটে, অন্যান্য সুখী মানুষগুলোর সাথে আমরা নিজেদের তুলনা করা শুরু করি। তাতে আরো বেশি ডিপ্রেসড হয়ে পড়ি সবাই। তাই এমন ডিপ্রেশন থেকে মুক্তি পেতে চাইলে সবার আগে অন্যদের সাথে তুলনা বন্ধ করে নিজেকে নিয়ে ভাবা শুরু করতে হবে।

life hacks, psychology

৩। উদার মানসিকতা বজায় রাখো:

ডিপ্রেশন থেকে মুক্তির আরেকটি মোক্ষম অস্ত্র হলো উদার মানসিকতার প্রকাশ। ভেবে দেখো তো, যদি তোমার রাগ দুঃখ সব একাকার হয়ে যায় তাহলে ডিপ্রেশন কি আরো বেশি বাড়বে না? তাই সুন্দর ও উদার মানসিকতা দেখাতে পারলে ডিপ্রেশন ধারে কাছে ভীড়তে সাহস পাবে না! মন ভালো হয়ে যাবে!

 
সুন্দরভাবে কথা বলা সাফল্যের অন্যতম রহস্য!

৪। নিজেকে নিয়ে আশাবাদী থাকো:

নিজেকে নিয়ে আশাবাদী থাকাটা হতাশা থেকে দূরে যাবার খুবই দরকারি একটা কাজ। ডিপ্রেশন সবার আগে আঘাত করে আত্মবিশ্বাসে, আশাবাদ কমিয়ে দেয় গোড়া থেকেই। তাই মানসিক শক্তি সঞ্চয় করে যদি তুমি একবার প্রতিজ্ঞা করে উঠতে পারো- “আমার উপর আমার পূর্ণ বিশ্বাস আছে।” তাহলেই কেল্লাফতে! ডিপ্রেশন আর তোমাকে ছুঁতেও পারবে না।

সবার আগে অন্যদের সাথে তুলনা বন্ধ করে নিজেকে নিয়ে ভাবা শুরু করতে হবে

৫। মন থেকে ঈর্ষা দূর করে ফেলো:

আমরা নিজেদের যতোই উদারমনা মনে করি না কেন, অপরের সাফল্য মেনে নিতে সবারই কষ্ট হয়। ডিপ্রেশনে থাকার সময় সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে হবে এই ঈর্ষা দূর করে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার। শুধুমাত্র তখনই ডিপ্রেশনের ভয়কে জয় করা যাবে, অন্যের সাফল্য যখন তোমার মাথাব্যথা হয়ে দাঁড়াবে না।

দারুণ সব লেখা পড়তে ও নানা বিষয় সম্পর্কে জানতে ঘুরে এসো আমাদের ব্লগের নতুন পেইজ থেকে!

৬। নেতিবাচক মানুষদের এড়িয়ে চলো:

ডিপ্রেশনের সময়গুলোতে কেন যেন নেতিবাচক মনের মানুষগুলোর সাথেই বেশি দেখা হয়ে যায়। এই নেতিবাচক মানুষগুলোর কথায় আশার আলো পাওয়া তো যায়ই না, বরং তাদের সমালোচনার চোটে হতাশা কাটিয়ে ওঠার আশাগুলো হারিয়ে যেতে থাকে। এরকম হতাশা উদ্রেগকারী মানুষদের যথা সম্ভব এড়িয়ে চলার চেষ্টা করে যেতে হবে।life hacks, psychology

এই কাজগুলো শুধুমাত্র ডিপ্রেশনের সময়গুলোতেই নয়, অন্যান্য সময়েও করতে থাকলে দেখবে আর কখনো ডিপ্রেশন তোমার ধারেকাছেও আসতে পারবে না! তাই এগুলোকে অভ্যাস হিসেবে নিয়ে এগিয়ে যাও, সুখী সুন্দর জীবন নিশ্চিত হবেই!

লেখাটি লিখতে সহায়তা করেছে অভিক রেহমান

এই লেখাটি নেয়া হয়েছে লেখকের ‘নেভার স্টপ লার্নিং‘ বইটি থেকে। পুরো বইটি কিনতে চাইলে ঘুরে এসো এই লিংক থেকে!


১০ মিনিট স্কুলের লাইভ এডমিশন কোচিং ক্লাসগুলো অনুসরণ করতে সরাসরি চলে যেতে পারো এই লিঙ্কে: www.10minuteschool.com/admissions/live/

১০ মিনিট স্কুলের ব্লগের জন্য কোনো লেখা পাঠাতে চাইলে, সরাসরি তোমার লেখাটি ই-মেইল কর এই ঠিকানায়: [email protected]

What are you thinking?