বিটকয়েনঃ লাভ না লোকসান?

পুরোটা পড়ার সময় নেই? ব্লগটি একবার শুনে নাও।

তাকী তার বড় চাচার বাসায় এসেছে। বড় চাচার ব্যক্তিগত লাইব্রেরিতে সে বসে আছে। একটা প্রকাণ্ড ঘরভর্তি বই, ঘরের মাঝখানে একটা টেবিল আর দুটি চেয়ার। তাকী এবং তার চাচা মুখোমুখি বসে আছে। বিটকয়েন নিয়ে তাকীর এখন প্রাথমিক ধারণা রয়েছে, কিন্তু এরপরও সে নিশ্চিত নয় যে তার কী করা উচিত। এজন্যই চাচার কাছে এসেছে।

দারুণ সব লেখা পড়তে ও নানা বিষয় সম্পর্কে জানতে ঘুরে এসো আমাদের ব্লগের নতুন পেইজ থেকে!

তাকী বললো, “চাচা, আমি বিটকয়েন মাইনিং করা শুরু করেছি। কিন্তু এই কাজটা আমার কতদিন করা উচিত, কিভাবে করা উচিত কিংবা আদৌ করা উচিত কি না, আমি আসলে নিশ্চিত নই। এজন্যই তোমার শরণাপন্ন হলাম।”

বড় চাচা: “বিটকয়েনের প্রথম সমস্যা হচ্ছে বাংলাদশ ব্যাংক বিটকয়েনের ব্যবহার নিষিদ্ধ করে দিয়েছে।”

তাকী: “কেন?”

বড় চাচা: “বিটকয়েনের মত বিকেন্দ্রীভূত একটি মুদ্রার বিষয়ে সবচেয়ে বড় ভয় হচ্ছে যে তা জঙ্গিবাদ, অর্থপাচারের মত বে-আইনি কাজে ব্যবহৃত হতে পারে। এজন্যই মূলত নিষিদ্ধ করা।”

তাকী: “তাহলে কি বিটকয়েনের মত এরকম যুগান্তকারী একটি প্রযুক্তির ব্যবহার বাংলাদেশে সম্ভব হবে না?”

বড় চাচা: “ভবিষ্যতে হয়তো সম্ভব হবে। আগামী জুনের মাঝে বাংলাদেশ ব্যাংক বাংলাদেশে বিটকয়েন কিভাবে কাজ করবে, তা ঠিক করার জন্য একটি কমিটি তৈরি করবে। বিটকয়েন এখন একদম নতুন। তাই, সব কিছু স্বাভাবিক হয়ে আসতে কিছুটা সময় লাগবে।”

তাকী: “চাচা, বিটকয়েনের দাম এত বেশি হবার মূল কারণ কী?”

বড় চাচা: “বিটকয়েনের মত কোন কিছুর আবির্ভাব যে আমার জীবদ্দশায় দেখতে পাবো, তা কখনোই ভাবিনি! তবে এরকম হঠাৎ করে কোন মুদ্রা/পণ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ার ঘটনা এটাই প্রথম নয়। এটাকে বলা হয় “বাবল”। এরকম “বাবল” এর আগেও দেখা গেছে।”

তাকী: “চাচা, এই বাবল আসলে কেন হয়?”

ঘুরে আসুন: আদর্শ দেশ চেনা, নয় সহজ কাজ!

বড় চাচা: “বাবলের বিষয়টা ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বাবলের উদাহরণ দিয়ে বুঝাই। বিটকয়েন বাবলের আগে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় বাবল ছিল নেদারল্যান্ডের সপ্তদশ শতাব্দীর “টিউলিপ ম্যানিয়া”।

একসময় এই টিউলিপের দাম ছিল একজন দক্ষ কারিগরের দশ বছরের মজুরির সমান। এই বাবল তৈরির মূল কারণ ছিল মানুষের লোভ এবং বঞ্চিত হবার ভয়। সকলে মনে করছিল যে এখন যদি টিউলিপের মালিকানা লাভ না করি, তাহলে আমিও পিছিয়ে যাবো এবং সহজেই দ্রুত লাভ করার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হব। এভাবে যখন সবাই টিউলিপের জন্য মরিয়া হয়ে উঠল, তখন টিউলিপের দাম বহুগুণ বেড়ে গেল।

কিন্তু যখন এক পর্যায়ে সবাই এটা বেচে দিতে শুরু করল, তখন দাম অনেক কমে গিয়েছিল। এই দাম কমে যাওয়াকে বাবল ফেটে যাওয়া বলে। দাম কমে যাওয়ার ফলে বহু মানুষ ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছিল এবং নেদারল্যান্ডের অর্থনীতিতে মন্দা দেখা দিয়েছিল।”

তাকী: “বিটকয়েনের ক্ষেত্রেও কি একই কাহিনী ঘটতে পারে?”

দেখে নাও আমাদের Interactive Video গুলো!

এতদিন আমরা শুধু বিভিন্ন ইন্সট্রাক্টর ভাইয়া-আপু’দের ভিডিও দেখেছি। কেমন হবে যদি ভিডিও চলার মাঝখানে আমরা কতটুকু শিখেছি সেটার উপর ছোট ছোট প্রশ্ন থাকে?
না, ম্যাজিক না। দেখে নাও আমাদের Interactive Video প্লে-লিস্ট থেকে!

১০ মিনিট স্কুলের Interactive Video!

বড় চাচা: “ঘটতেই পারে। বিটকয়েনের উত্থানের কাহিনীর সাথে টিউলিপ ম্যানিয়ার অনেক মিল রয়েছে। বিটকয়েনের ক্ষেত্রেও বঞ্চিত হবার ভয়ে নতুন বিনিয়োগকারীরা প্রতিনিয়ত দলে দলে যোগ দিচ্ছে। এজন্যই বিটকয়েনকে একবিংশ শতাব্দীর ডিজিটাল টিউলিপ বলা হয়।

যতদিন দাম বাড়তে থাকবে, ততদিন অনেকেই লাভ করবে

সমালোচকেরা বলছেন যে বিটকয়েনের মূল্য কোন কারণ ছাড়াই বেড়ে চলেছে। বিশেষ করে গত বছর বহু মানুষ বিটকয়েন কেনা শুরু করেন। তারা হুজুগে তাল মিলিয়ে চলার জন্যই এই কাজটি করছেন। কিন্তু ঝুঁকিপূর্ণ দিক হচ্ছে, যেকোন সময় বিটকয়েনের দাম কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।”

তাকী: “বিটকয়েনের দাম কমে গেলে কি সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হবে?”

বড় চাচা: “যারা শেয়ার মার্কেটের ঝানু ব্যবসায়ী, তারা সাধারণত কখনোই ক্ষতিগ্রস্ত হয় না। তারা ঠিকই নিজেদের লাভ বুঝে নেয়। আমেরিকায় যখন ২০০৭-০৮ সালে অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দিল, তখন সাধারণ মানুষই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। বড় বড় শেয়ার ব্যবসায়ীরা বরং বাজে বাজে শেয়ার সাধারণ মানুষের কাছে উচ্চমূল্যে বেচে দিয়ে মন্দার সৃষ্টি করেছিল।”

Via: Google

তাকী: “বিটকয়েনের ক্ষেত্রেও কি তাই হবে?”

বড় চাচা: “প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। এখন সবাই বিটকয়েন কিনতে চাইছে। কিন্তু কোন সাধারণ মানুষের পক্ষে বিটকয়েন মার্কেটের জটিলতা বোঝা কঠিন। যতদিন দাম বাড়তে থাকবে, ততদিন অনেকেই লাভ করবে। কিন্তু যখন দাম কমতে শুরু করবে, তখন দক্ষ শেয়ার মার্কেট বিশেষজ্ঞ ছাড়া সবাই খুব ঝামেলার মাঝে পড়ে যাবে।”

ঘুরে আসুন: যদি ফ্রিল্যান্সার হতে চান

তাকী: “তাহলে কি বিটকয়েন মাইনিং করা বন্ধ করে দিব?”

এখন স্মার্টবুকের সাথে পড়াশোনা হবে আর স্মার্টভাবে! এই লিঙ্কে চলে যাও আর দেখে নাও আমাদের স্মার্টবুকগুলো।

বড় চাচা: “হুম, কঠিন প্রশ্ন। না, এখনি বন্ধ করিস না।”

তাকী: “কেন?”

বড় চাচা: “পৃথিবীর সব জিনিসেরই ভালো, খারাপ দুটি দিকই রয়েছে। বিটকয়েনের যেমন অনেক ঝুঁকি আছে, তেমন অনেক ভালো দিকও আছে। সেই দিকগুলো নিয়ে তোর সাথে কালকে কথা বলবো। এখন তুই আসতে পারিস। সন্ধ্যা সাতটা বাজে, এখন আমার বই পড়বার সময়।”

তাকী: “ঠিক আছে, চাচা।”


১০ মিনিট স্কুলের লাইভ এডমিশন কোচিং ক্লাসগুলো অনুসরণ করতে সরাসরি চলে যেতে পারো এই লিঙ্কে: www.10minuteschool.com/admissions/live/

১০ মিনিট স্কুলের ব্লগের জন্য কোনো লেখা পাঠাতে চাইলে, সরাসরি তোমার লেখাটি ই-মেইল কর এই ঠিকানায়: [email protected]

লেখাটি ভালো লেগে থাকলে বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করতে ভুলবেন না!
What are you thinking?