Procrastination কে বিদায় জানাও!

পুরোটা পড়ার সময় নেই? ব্লগটি একবারে শুনে নাও!

Procrastination শব্দটা অনেকের কাছে অপরিচিত হওয়া সত্ত্বেও আমরা কম বেশি জেনে কিংবা না জেনেও এটা করে থাকি। তাহলে এ শব্দটি দিয়ে কী বুঝানো হয়?

Procrastination বলতে দীর্ঘসূত্রিতা বোঝানো হয়। কোন একটা কাজ কোন যুক্তিযুক্ত কারণ ছাড়াই যখন বারবার তুমি স্থগিত করতে থাকবে, কাজটি সম্পন্ন হবার বা জমা দেবার একেবারে শেষ মুহূর্তে করার চেষ্টা করবে, তখন তুমি বুঝতে পারবে তুমি Procrastination শুরু করেছো।

রাজধানীর নাম জানাটা সাধারণ জ্ঞানের একটা গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই ১০ মিনিট স্কুলের এই মজার কুইজটির মধ্যমে যাচাই করে নাও নিজেকে!

আমাদেরকে যখন কোন একটা কাজ দেয়া হয়, তখন আমরা কী করি? ধর, কোন হোমওয়ার্ক দেয়া হল। সবার প্রথমে তোমার যে প্রশ্নটা মাথায় আসবে তা হল, জমা দিতে হবে কবে? এমনটা আমাদের সবার সাথেই কম বেশি হয়েছে।

দেখা যেত, একদল মানুষ আছে, যারা সেদিনই হোমওয়ার্ক শেষ করে ফেলত, আরেক দল মানুষ হয়ত ধীরে ধীরে করতো, অল্প অল্প করে শেষ করতো। আবার কেউ কেউ জমা দেবার আগ মুহূর্তে ক্লাসে বসে শেষ করতো। এখানে কোন দলকে আমরা Procrastinator বলবো? যারা জমা দেবার ঠিক আগ মুহূর্তে বসে হোমওয়ার্ক শেষ করছিলো।

এখন তুমি নিজেকে প্রশ্ন কর, তুমি এর মধ্যে কোনটা? যদি তুমি ক্রমাগত Procrastination করে থাকো, তবে তোমাকে এ অভ্যাসটা বদলাতে হবে। ভেবে দেখো তো! তুমি স্বল্প সময়ে যে হোমওয়ার্ক করে জমা দিয়েছো সেটাতে কখনও সর্বোচ্চ নাম্বার পেয়েছো কি? এটাতে তুমি নিজের প্রচেষ্টাকেও তেমন কাজে লাগাতে পারো নি। বরং এভাবে এই অভ্যাসটি তোমার কর্মদক্ষতাকে কমিয়ে আনে।

Procrastination এড়াতে কিছু পদ্ধতি অবলম্বন করতে পারো:

১। টু-ডু লিস্ট, নোট, ক্যালেন্ডার, নোটিশ বোর্ড- এসবের ব্যবহার:

দৈনন্দিন জীবনে তোমাকে নিজের কাজগুলো গুছিয়ে নেয়া শিখতে হবে। নিজের কাজগুলো আমরা যদি কোন জায়গায় লিপিবদ্ধ করে রাখতে শিখি তবে তা সম্পন্ন করা অনেক গুণ সোজা হয়ে দাড়ায়।

চল স্বপ্ন ছুঁই!

আমাদের ছোট-বড় অনেকরকম স্বপ্ন থাকে। কিন্তু বাস্তবায়ন করতে পারি কতগুলো?

এই দ্বিধা থেকে মুক্তি পেতে চল ঘুরে আসি ১০ মিনিট স্কুলের এই এক্সক্লুসিভ প্লে-লিস্ট থেকে!

লাইফ হ্যাকস সিরিজ!

উদাহরণ দেয়া যাক। ধরো, তোমার আজকে ১০টা কাজ করে রাখার কথা। তোমার মাথায় সেই কাজগুলো তালিকা করা আছে। কিন্তু দিন শেষে ১০টা কাজের জায়গায় তোমার ৫টা কাজ যদি সম্পন্ন হয়, তোমার হয়ত ৫টা কাজের কথা মনে নাও থাকতে পারে যা তোমাকে ১ দিন পিছিয়ে দিচ্ছে। অথবা তুমি যদি পরের দিনের জন্য বাকি কাজ রেখে দাও, সেটারও কোন নির্ভরতা নেই যে বাকি ৫টি কাজ তোমার শেষ হবে।
deadline, hacks, life, procastination, ways, কাজ, ডেডলাইন, ফেলে, রাখা
অথচ যদি তুমি কাজগুলো লিখে রাখতে, কাজটি সম্পন্ন না হলেও সবসময় মাথায় থেকে যাবে, যা তোমাকে বাধ্য করবে যত দ্রুত সম্ভব কাজ শেষ করে ফেলার জন্য।

এই কাজটি করার জন্য তুমি টু-ডু লিস্ট, নোট, ক্যালেন্ডার, নোটিস বোর্ড এসব ব্যবহার করতে পারো। এখন মোবাইল বা ট্যাবেও বিভিন্ন অ্যাপ রয়েছে যা তুমি ব্যবহার করতে পারো।

২। নিজের কাজগুলোকে গুরুত্ব সহকারে সাজাও:

কোন কঠিন কাজ হাতে থাকলে সময় থাকা পর্যন্ত ফেলে রাখার অভ্যাস আছে আমাদের। ধরো, তোমার কোন পরীক্ষা রয়েছে। যে অধ্যায়টা তোমার ভাল করে আয়ত্ত করা নেই, সেটার উপরেই তোমার পরীক্ষা। ভয় এবং অনিচ্ছায় যদি শেষমেশ পরীক্ষার আগের দিনই তোমার পরীক্ষার জন্য পড়তে বসা হয়, তবে তেমন একটা ভাল ফলাফল বয়ে আনতে পারবে না।

তুমি যদি আগের দিনে জন্য অপেক্ষা না করে, একটু একটু করে পড়াটা এগিয়ে নিয়ে যেতে, তবে তা কিছুটা হলেও ভাল ফল এনে দিতে পারতো। ব্যাপারটা অনেকটা তাই। তোমাকে বুঝে নিতে হবে, কোন কাজের জন্য কতটুকু সময় তোমার দেয়া প্রয়োজন। যে কাজটার জন্য তোমার বেশি সময় প্রয়োজন, সেই কাজটি আগে হাতে নাও। যে কাজটি অল্প সময়েই শেষ করতে পারবে, তা পরে ধরতে পারো।

নিজের কাজ কখনো এমনভাবে নিও না, যেন তা তোমার জন্য একঘেয়েমি বয়ে আনে

৩। নিজের কর্মদক্ষতার উপর কাজ করো:

নিজের কর্মদক্ষতাকে বাড়িয়ে তোলা শিখতে হবে। চিন্তা করে দেখো, কোন কাজ হাতে নিয়ে কাজটা না শেষ করে উল্টো সময় অপচয় করেছো, এমন অনেকবারই হয়েছে। তোমার নিজের কাজের পরিমাণ নয়, বরং কর্মদক্ষতার উপর নিজের একাগ্রতা বাড়াতে হবে।

ধরো, তোমার কোন প্রজেক্টের কাজে তুমি কম্পিউটারে বসেছো, কিন্তু কাজ হয়েছে অল্প খানিকটা। বাকিটা সময় কেটে গিয়েছে হয়তো ওয়েব ব্রাউজিং করে।

কোনো সমস্যায় আটকে আছো? প্রশ্ন করার মত কাউকে খুঁজে পাচ্ছ না? যেকোনো প্রশ্নের উত্তর পেতে চলে যাও ১০ মিনিট স্কুল লাইভ গ্রুপটিতে!

তোমার কাছে মনে হতে পারে, তোমার কাজ করতে অনেক সময় প্রয়োজন হয়। কিন্তু ব্যাপারটা আসলেই তা নয়। তুমি কতটা কম সময়ে কাজটা করে ফেলতে পারো, তা কিন্তু তোমার দক্ষতার উপর নির্ভর করবে। নিজের কর্মদক্ষতা বাড়িয়ে তোলায় তোমাকে একাগ্র হতে হবে।

৪। নিজের কাজগুলোর প্রতি সৃজনশীল হয়ে ওঠো:

নিজের কাজ কখনো এমনভাবে নিও না, যেন তা তোমার জন্য একঘেয়েমি বয়ে আনে। নিজের কাজের প্রতি যতটা তুমি সৃজনশীল হয়ে উঠতে পারবে, ততটা কাজের প্রতি তোমার আগ্রহ বেড়ে যাবে যা তোমাকে প্রডাকটিভ হয়ে উঠতে সাহায্য করবে।

৫। নিজের দুর্বলতা এবং অলসতাকে জয় করতে শিখো:

দুর্বলতা এবং অলসতা কাজ সম্পাদনের বাঁধা হয়ে দাড়ায়। তোমাকে এই দুইটি নিজের নিয়ন্ত্রণের অধীনে রাখতে হবে। নিজের দুর্বলতা আর অলসতাকে কাটিয়ে তুলে নিজের কর্মদক্ষতাকে বাড়িয়ে তোল।

মনে রাখবে, কাজ ফেলে রাখলে নিজের জন্যই তা অনেক ঝামেলার সৃষ্টি করবে। তার থেকে বরং কাজগুলো শেষ করে তোলার প্রতি নিজের উৎসাহ বাড়িয়ে তুলতে হবে।

এই লেখাটির অডিওবুকটি পড়েছে আব্দুল্লাহ আল মেহেদী


১০ মিনিট স্কুলের লাইভ এডমিশন কোচিং ক্লাসগুলো অনুসরণ করতে সরাসরি চলে যেতে পারো এই লিঙ্কে: www.10minuteschool.com/admissions/live/

১০ মিনিট স্কুলের ব্লগের জন্য কোনো লেখা পাঠাতে চাইলে, সরাসরি তোমার লেখাটি ই-মেইল কর এই ঠিকানায়: write@10minuteschool.com

লেখাটি ভালো লেগে থাকলে বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করতে ভুলবেন না!
What are you thinking?