মানসিকতা সুন্দর হোক ৬ উপায়ে!

পুরোটা পড়ার সময় নেই ? ব্লগটি একবার শুনে নাও !

Great minds talk about ideas; average minds talk about events; small minds talk about people.”

এই উক্তিটা প্রথম যেদিন শুনেছিলাম, মনে হয়েছিল কেউ যেন সপাটে একটা চড় মেরেছে আমাকে। নিজের কাছেই মনে হয়েছিল, আমি তো একটা Poor Mind, আমিও তো প্রায়ই মানুষকে নিয়ে একথা সেকথা বলি, সমালোচনা করি। আমার মানসিকতা এমন! ব্যাপারটা বেশ খারাপ লেগেছিল তখন।

আমার বন্ধু শামিরকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, যে এমনটা আসলে কেন হচ্ছে আমাদের সাথে? সবজান্তা শামিরের উত্তর ছিলো, যে আমরা আসলে নিজেদের সামর্থ্য নিয়ে প্রায়ই সংশয়ে থাকি, নিজের আত্মবিশ্বাসটা থাকে না। এইজন্যেই অন্য কারো নামে খারাপ কিছু বললে বা সমালোচনা করলে এক ধরণের আত্মতুষ্টি পাওয়া যায় আর কী। 

দারুণ সব লেখা পড়তে ও নানা বিষয় সম্পর্কে জানতে ঘুরে এসো আমাদের ব্লগের পেইজটি থেকে!

ভেবে দেখলাম, কথা কিন্তু মিথ্যা না। ছোটবেলায় যখন মা এসে বলতো, স্কুলে ফার্স্ট হতে পারছিস না কেন, তখন আমার অজুহাত তৈরিই থাকত, যে ফার্স্ট বয়ের বাসায় অনেক টিচার, ওর আসলে ব্রেইন নেই, টিচারের জোরে ফার্স্ট হয়! কলেজ বা স্কুলে কো-কারিকুলার কোন কাজে কেউ ভালো করলে আমরা বলতাম, ও তো পড়াশোনায় অনেক বাজে, এইজন্যে ডিবেট করে নাম কুড়াচ্ছে। এমন কী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন কম্পিটিশনে যখন কোন প্রাইজই আনতে পারছিলাম না, তখন বন্ধুদের বলতাম, “আরে দোস্ত, আমার আইডিয়াটা সবচেয়ে বেশি ব্রিলিয়ান্ট ছিল, জাজগুলো সেইটা বুঝতেই পারলো না!”

আসলে ব্যাপারটা সত্যি। আমরা অন্যদের ব্যাপারে খারাপ কথা, সমালোচনা করে নিজের দোষগুলোকে, নিজের অপ্রাপ্তিগুলোকে ঢেকে রাখার চেষ্টা করি। তাই Great Mind পরের কথা, অন্তত Poor Mind যাতে আর না হতে হয়, সেই চেষ্টা টা তো করাই যায়! মানসিকতা পালটানো কঠিন, অসম্ভব নয়!

সমস্যা হলো, অন্যদের নিয়ে কথা বলাটা আমাদের একরকম অভ্যাস হয়ে গিয়েছে। কী করে রক্ষা পাওয়া যায় এমন অভ্যাস থেকে? এই প্রশ্নের কয়েকটি সমাধান রয়েছে।

১। সংকীর্ণমনা হবে না:

নিজের মনকে ছোট্ট খাঁচায় বন্দী করে রাখা যাবে না। শুধুমাত্র শোনা খবরে বিশ্বাস করতে হবে, এমন কোন কথা নেই কিন্তু! তথ্যের এই যুগে চেষ্টা করো নিজেকে ছড়িয়ে দেয়ার, যতোটা পারো তথ্য জেনে নেবার। এতে যেমন তোমার জ্ঞান বাড়বে, তেমনি বিবেকবোধ আরো উন্নত হবে, অন্য মানুষকে নিয়ে কথা বলবার ইচ্ছেটাই থাকবে না! মানসিকতা হবে উন্নত। 

২। গসিপ থেকে দূরে থাকো:

মানুষ তোমাকে নিয়ে গসিপ করতেই পারে, তোমার পেছনে তোমার নামে আজেবাজে কথা ছড়াতে পারে। তার মানে এই নয় তুমিও তাদের নিয়ে গসিপ করা শুরু করবে। তাহলে ওদের সাথে তোমার পার্থক্য থাকলো আর কোথায়?

৩। মানুষ নয়, সমস্যার দিকে ফোকাস করো:

তোমার অফিসের বস কিংবা সহকর্মী কিংবা স্কুলের সহপাঠী কোন কাজে ভুল করলে বা সমস্যা সৃষ্টি করলে তাদের সমালোচনা না করে সমস্যার দিকে নজর দাও। মানুষ ভুল করতেই পারে, অস্বাভাবিক কিছু নয়। তাদের দোষ না দিয়ে সবার আগে সমস্যার সমাধানের দিকে ফোকাস করো।

 
জীবনে সুখে থাকার ফর্মুলা!

৪। শুধু নিজেকে নয়, বিশ্বকে নিয়ে ভাবো:

বর্তমান বিশ্ব কিন্তু খুব সুখে নেই। বিভিন্ন রকম দূষণ, দেশে দেশে যুদ্ধ, জঙ্গিবাদ থেকে শুরু করে নানা সমস্যায় পৃথিবী এখন জর্জরিত। তাই আশেপাশের মানুষদের সমালোচনায় তোমার সময় নষ্ট না করে শুরু করো বিশ্বকে জানার, বিশ্বের সমস্যাগুলো নিয়ে কাজ করার। কারণ পরোক্ষভাবে হলেও বৈশ্বিক সমস্যাগুলোর প্রভাব তোমার উপরেও পড়বে!

এই জন্যে যেকোন সমস্যায় সমাধানের দিকে ফোকাস করা খুবই দরকারি

৫। নিজের ইচ্ছেমতো হুট করে সিদ্ধান্ত নেবে না:

কোন ঘটনা ঘটলে সেটি নিয়ে দ্রুত কোন সিদ্ধান্তে চলে আসবে না। আগে ভাবতে থাকো কী বিষয়ক সমস্যা, এই নিয়ে বাকিদের কী মতামত। কেন এই সমস্যা বা ঘটনাটি ঘটেছে, এবং এই নিয়ে কী করা যায় সমাধান হিসেবে। ঘটনার একদম মূলে চলে যাও, তবেই সত্যের দেখা পাবে।

৬। শুধু সমস্যা নয়, সমাধানের দিকে তাকাও:

আমাদের বড় একটা সমস্যা হলো কোন বিপদ বা সংশয়ে আমরা সমাধান না খুঁজে একজন আরেকজনের দোষ খুঁজতে থাকি। এটাই আসলে আমাদের Poor Mind হিসেবে আরো বেশি প্রতিষ্ঠিত করে তোলে। এইজন্যে যেকোন সমস্যায় সমাধানের দিকে ফোকাস করা খুবই দরকারি। সমাধানের খোঁজে বের হলে কিন্তু আর মনের মধ্যে খচ খচ করবে না কার দোষ এটা খুঁজে বের করতে! আর এই সমাধান বা আইডিয়াই তোমাকে Great Mind হতে সাহায্য করবে। তোমার মানসিকতা করবে উন্নত। 

ইংরেজি ভাষা চর্চা করতে আমাদের নতুন গ্রুপ- 10 Minute School English Language Club-এ যোগদান করতে পারো!

তুমি চাইলেই নিজেকে Poor Mind থেকে Great Mind এ পরিণত করতে পারো, দরকার শুধু একটু চেষ্টা আর দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন। কথায় বলে, দৃষ্টিভঙ্গি বদলালেই বদলে যায় জীবন, তাই তুমিও বদলে যাও, হয়ে যাও একজন Great Mind এর মানুষ!

লেখাটি লিখতে সহায়তা করেছে অভীক রেহমান

এই লেখাটি নেয়া হয়েছে লেখকের ‘নেভার স্টপ লার্নিং‘ বইটি থেকে। পুরো বইটি কিনতে চাইলে ঘুরে এসো এই লিংক থেকে!


১০ মিনিট স্কুলের লাইভ এডমিশন কোচিং ক্লাসগুলো অনুসরণ করতে সরাসরি চলে যেতে পারো এই লিঙ্কে: www.10minuteschool.com/admissions/live/

১০ মিনিট স্কুলের ব্লগের জন্য কোনো লেখা পাঠাতে চাইলে, সরাসরি তোমার লেখাটি ই-মেইল কর এই ঠিকানায়: [email protected]

What are you thinking?