সময়ের কাজ শুরু হোক সঠিক সময়ে

পুরোটা পড়ার সময় নেই? ব্লগটি একবার শুনে নাও।

সাদিয়া প্রতিদিন স্কুল থেকে বাসায় ফিরে হাতে অনেক সময় পায়। স্কুলের নানা অ্যাসাইনমেন্টের জন্য তার ওয়ার্ডের কাজ শেখাটা খুব বেশি জরুরি। সে প্রতিদিনই ভাবে, আজকেই স্কুল থেকে ফিরে ওয়ার্ডের কাজ শেখার জন্য ইউটিউবে টিউটোরিয়াল দেখবে। এরকম ভাবতে ভাবতে প্রায় দুই মাস শেষ হয়ে গেল, কিন্তু সাদিয়া টিউটোরিয়াল দেখা শুরু করেনি। সেও তো সারাদিনই ইউটিউবে পড়ে আছে, কিন্তু তবুও যে কাজটি তার সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন সে কাজটিকে সে মনের অজান্তে অথবা ইচ্ছাকৃতভাবে এড়িয়ে যাচ্ছে।

এমনকি অনেক সময়ই সাদিয়া ভাবছে, যে কাজ শেখা তার জন্য খুব জরুরি, এত সময় পাচ্ছে কিন্তু সে কেন কাজটি শুরু করতে পারছে না? অর্থাৎ কাজ শুরু করাটাই তার জন্য অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়িয়েছে। এইরকম ঘটনা কিন্তু আমাদের সাথে হরহামেশাই ঘটছে। যে কাজটি করা প্রয়োজন, সে কাজটি আমরা হয়তো মানছি শুরু করতে হবে, কিন্তু আজ করি, কাল করি করতে করতে সে কাজটা এখন পর্যন্ত আমরা শুরুই করিনি।

সারাদিন হাতে প্রচুর সময় পাই। একটি দিনে আমরা ২৪ ঘণ্টা সময় পেয়ে থাকি। এই ২৪ ঘণ্টা সময়ের ঠিক কতটুকু সময় আমরা কাজে লাগাতে পারছি, তার যদি হিসাব আমরা করতে বসি, তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখবো একটি বিশাল সময় আমরা অলসতার পেছনে ব্যয় করি। এর পেছনে অনেক কারণ রয়েছে। এমন অনেক সময় আছে হাতে অনেক জরুরি কাজ পড়ে রয়েছে, কিন্তু সে কাজগুলো করা হয়ে উঠছে না। তুমি হয়তো জানো যে নির্দিষ্ট সময়ের ভেতরই তোমার যে কাজগুলো করতে হবে, কিন্তু তবুও কেন যেন সে কাজগুলো করার জন্য ইচ্ছা জাগ্রত হচ্ছে না।

দারুণ সব লেখা পড়তে ও নানা বিষয় সম্পর্কে জানতে ঘুরে এসো আমাদের ব্লগের নতুন পেইজ থেকে!

এই বিষয়টি আমাদের খুব সাধারণ একটি প্রাকৃতিক ব্যাপার। আমরা হয়তো অনেক কাজ করতে চাচ্ছি, আবার একইসাথে সেই কাজটি  করছি না। এরকম সময়ে সবচেয়ে বেশি কাজে দেবে, সেটি হলো নিজস্ব ইচ্ছা শক্তি। যদি যথেষ্ট পরিমাণ  নিজের ভেতর ইচ্ছে থাকে এবং নিজেকে ওভাবেই অনুপ্রাণিত করা যায়, তাহলে হয়ত আমরা যে কাজটি শুরু করব করব ভেবেও করছি না বা একটি কাজ করতে চেয়েও না করে বসে আছি, সে কাজ করার জন্য আমরা অনুপ্রাণিত হতে পারতাম। জেনে নিতে পারো কিভাবে খুব সহজেই যে কাজগুলো না করে আমরা বসে আছি সেগুলো খুব সহজেই সে কাজগুলোতে মনোনিবেশ করতে পারব

১. নিজেকে ভালো কাজের সাথে যুক্ত করো

আমরা সাধারণত দুই ধরণের কাজ করে থাকি। প্রথমত যে কাজগুলো আমাদের ভালো, দ্বিতীয়ত, যে কাজ করা আমাদের জন্য ভালো নয়। তাই সব সময় চেষ্টা রাখবে নিজেকে ভালো কাজের সাথে যুক্ত রাখার। তুমি যখন ভালো কাজ করার জন্য মনের ভেতর ইচ্ছে পালন করবে, খুব দ্রুতই সে কাজগুলো জন্য অনুপ্রাণিত হতে পারবে। আর তাই নিজেকে সব সময় ভালো কাজের সাথে যুক্ত রাখার চেষ্টা কর।

এছাড়াও যেকোন কাজের প্রেরণা খুঁজে পাওয়ার সবচেয়ে সহজ উপায় হচ্ছে, সে কাজটির ভালো দিকগুলো খুঁজে বের করা। অর্থাৎ আমাদের মধ্যে অনেকেই আছে যারা জিমে গিয়ে ব্যায়াম করে ওজন বাড়াতে চায় অথবা ওজন কমাতে চায়। এখন এই জিমে যাওয়ার বিষয়টি, আজ করব কাল করব করে করা হয়ে উঠছে না। কারণ ভাবছি আজ হয়তো সারাদিন অনেক পরিশ্রম হয়েছে বা জিমে গিয়ে অনেক ব্যায়াম করতে হবে, বিষয়টি অনেক কষ্টকর।

ঠিক এইভাবে না ভেবে আমরা যদি এভাবে  ভাবতে পারি যে জিমে গেলে আমরা স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে পারবো অথবা যেভাবে পরিকল্পনা করেছি সে অনুযায়ী নিজের স্বাস্থ্য  গড়ে তুলতে পারব, তাহলে সেই কাজের জন্য আমরা কিন্তু খুব সহজেই অনুপ্রেরণা খুঁজে পাবো। আর তাই যে কোন কাজের জন্য প্রথমেই সেই কাজটির ভালো দিকগুলো খুঁজে বের করতে হবে এবং কী কী কারণে সেগুলো আমাদের কাছে খুব দুর্বিষহ মনে হয়েছে সেই বিষয়গুলো মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলতে হবে।

২. সৎভাবে নির্ণয় কর

সৎভাবে নির্ণয় কর তুমি আসলে কী চাও। অনেক সময় এরকম হয় যে হয়তো আমাদের মন এবং শরীর দুটোই চাচ্ছে না এখন কাজটি করতে। যদি বিষয়টি  সত্যিকার অর্থে এরকমই হয়ে থাকে, তবে অবশ্যই তোমার কাজ থেকে একটু বিরতি নেওয়া উচিত। কিন্তু নিজের মনকে প্রশ্ন করো তুমি কি সেটা অলসতা থেকে চাইছো,নাকি তুমি সত্যিকার অর্থেই একটু বিরতি নিতে চাইছো, কারণ তোমার শরীর এবং মন কোনোটাই তোমাকে কাজটি করার জন্য পূর্ণ সহায়তা করছে না।

মন এবং শরীর এর বিরুদ্ধে গিয়ে কখনো কোন কাজ করা উচিত নয়। যখন মন এবং শরীরকে তুমি ঠিকমত বোঝাতে পারবে যে হ্যাঁ, তুমি এই কাজটি করার জন্য এখন মানসিকভাবে প্রস্তুত, তখনই সে কাজটি শুরু করা উচিত। মনে রাখতে হবে, প্রতিটি সফল কাজের পেছনে পূর্ণ মনোযোগ দেওয়াটা অত্যন্ত জরুরী। আর তাই শরীর এবং মনের সাপোর্টে যে কোন কাজ শুরু করা উচিত। যদি কোনো কারণে শরীর এবং মন তোমাকে ঠিকমতো সহায়তা না করে, তবে সে কাজটির শুরুর পূর্বে তুমি একটু বিরতি নিতে পারো। আর নিজেকে নিজে প্রশ্ন করো সেটা কি তুমি চাও তোমার অলসতা থেকে, নাকি তুমি সত্যিকার অর্থেই ক্লান্তি দূর করবার জন্যই বিরতিটা নিয়েছো।

 

 
টুইন বেবির রহস্য!
টুইন বেবির নাম জানলেও এটি নিয়ে পরিষ্কার ধারণা আছে ক'জনের? টুইন বেবি আর তার ডিএনএ এর সাতসতেরো জানতে দেখে নাও এই ভিডিওটি!  
 
 

৩. অল্প করে হলেও শুরু করো

এরকম হতেই পারে যে তোমার আজ কোনোভাবেই কোনো কাজ করতে মন চাচ্ছে না। সেক্ষেত্রে তুমি খুব অল্প করে হলেও কাজটি এগিয়ে রাখতে পারো অর্থাৎ খুব ছোট করে হলেও সে কাজটি তুমি শুরু করতে পারো। এমন হতে পারে আজকে তোমার জিমে যেতে ইচ্ছে করছে না, সে ক্ষেত্রে তুমি জিমে গিয়ে ১৫২০  মিনিটের জন্য হলেও ব্যায়াম করে আসতে পারো। এতে করে তোমার দিন শেষে নিজের প্রতি একটি সন্তুষ্ট মনোভাব থাকবে, যে তুমি আজকে সারাদিনটিকে একটু হলেও কাজে লাগিয়েছো।

এমন হতেই পারে যে, তুমি লিখতে পছন্দ করো কিন্তু আজ তোমার লেখার একদমই মুড নেই। সেক্ষেত্রে নতুন নতুন আর্টিকেলগুলোর আউটলাইন করে রাখতে পারো। এতে করে যখন তোমার কাজ একটু হলেও এগিয়ে থাকবে, পরবর্তী দিনে সে কাজটি করবার জন্য তোমার যথেষ্ট পরিমাণ আগ্রহ কাজ করবে। কখনো কোনদিন যদি  এমন হয় যে, একদমই কাজ করার মন নেই সেক্ষেত্রে অল্প করে হলেও কাজটি শুরু করা উচিত এবং সে কাজ কিছুটা এগিয়ে রাখা উচিত। যাতে করে পরবর্তী দিনে তুমি যখন সে কাজটি শুরু করবে তা যেন পরিপূর্ণ উদ্যম নিয়ে শুরু করতে পারো।

৪. রুটিন পরিবর্তন করো

প্রতিদিন একই ধরনের কাজ করলে, যে কারোরই কাজের প্রতি অনাগ্রহ কাজ করতে পারে। আর তাই যেদিন মনে হবে আজ একদমই কাজ করতে ইচ্ছে করছে না বা কাজটা করা খুব জরুরি কিন্তু কোনোভাবেই সে কাজটি শুরু করতে পারছ না সেদিন রুটিন টাকে একটু পরিবর্তন করে, নতুন ভাবে সাজিয়ে কাজ শুরু করতে পারো। যে কাজটি তোমার বিকেলে করবার কথা ছিল, সে কাজটি তুমি বিকেলে না করে  সন্ধ্যায় করতে পারো।

এভাবে মাঝে মাঝে রুটিনের পরিবর্তনটি তোমার মাঝে  নতুন করে প্রাণ শক্তি যোগাবে। এছাড়াও প্রতিদিন একইরকম রুটিন মানুষকে অনেক বেশি অলস করে তোলে। আর তাই মাঝে মাঝে রুটিন পরিবর্তন করে নিত্য নতুন কাজের মাধ্যমে নিজেকে চাঙ্গা রাখা উচিত।

৫. নিজেকে পুরস্কৃত করো

যে কোন কাজ সফল ভাবে শুরু করতে পারলে, সে কাজটি প্রায় অর্ধেক শেষ হয়ে যায় বলে মানা হয়। আর যে কোন কাজ শুরু করার জন্য, প্রেরণা বিষয়টি অত্যন্ত কার্যকরী উপায় হিসেবে কাজ করে। আর তাই যখনই মনে হবে, যে কোন কাজ করতে মন চাচ্ছেনা, কিন্তু কাজটি ভীষণ জরুরি, ঠিক সময়ে কাজের কাজটা শেষ করা জরুরি, সেক্ষেত্রে নিজেকে পুরস্কৃত করা যেতে পারে। অর্থাৎ নিজেকে পুরস্কৃত করার কথা  ভেবে যেকোন কাজ শুরু করে দেওয়া যেতে পারে।

এছাড়াও টার্গেট রাখা যেতে পারে,কাজগুলো শেষ হলে তুমি নিজেই নিজেকে পুরস্কৃত করবে। নিজেকে পুরস্কৃত করার বিষয়টি অত্যন্ত কার্যকরী প্রেরণা হিসেবে কাজ করতে পারে। কাজ শেষ করলে তুমি ভালো কোথাও খেতে যেতে পারো অথবা নিজের জন্য প্রয়োজনীয় কিছু কিনতে পারো। এভাবে নিজেকে পুরস্কৃত করার মাধ্যমে যে কাজগুলো শুরু করবো করবো করেও করা হচ্ছে না, সে কাজগুলো শুরু করে দিতে পারো অথবা যে কাজগুলো তোমার জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়,অলসতার জন্য দীর্ঘ দিন কাজগুলোকে ফেলে রেখেছো সে কাজগুলো খুব দ্রুতই শুরু করে দিতে পারো। নিজেকে পুরস্কৃত করার এই অভ্যাস করলে দেখবে নিজের অজান্তেই অত্যন্ত কার্যকরী প্রেরণা হিসেবে কাজ করবে।


১০ মিনিট স্কুলের ব্লগের জন্য কোনো লেখা পাঠাতে চাইলে, সরাসরি তোমার লেখাটি ই-মেইল কর এই ঠিকানায়: [email protected]

লেখাটি ভালো লেগে থাকলে বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করতে ভুলবেন না!
Author

Nusrat Jahan

I love to read books as a hobby. Alongside watching movies is my favourite leisure activity. I love to write which is something I am very passionate about .My aim is to work in the field of marketing. I am currently doing BBA from University of Asia Pacific.
Nusrat Jahan
এই লেখকের অন্যান্য লেখাগুলো পড়তে এখানে ক্লিক করুন
What are you thinking?