তুমিই তোমার ভাগ্য গড়বে


পুরোটা পড়ার সময় নেই? ব্লগটি একবার শুনে নাও।

আমাদের সবারই কমবেশি একটি কমন অভ্যাস রয়েছে। অভ্যাস না বলে এটিকে আসলে বদঅভ্যাস বলাই ভালো। এটি হলো, সবরকম ব্যর্থতার পেছনে আমরা ভাগ্যকে দায়ী করতে থাকি। পরীক্ষায় ফেল আসলো, বলে বসলাম “ভাগ্যে ছিল না।” বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগ হলো না, অজুহাত তৈরি “ভাগ্য সহায় হলো না।” চাকুরির ইন্টারভিউতে বাদ হয়ে গেলে, তখনও সেই ভাগ্য বেচারা আসামী হচ্ছে।

সত্যি বলতে কি, সবকিছুতে এভাবে ভাগ্যের দোষ দেবার কোন কারণই নেই। Luck, Fate এগুলো আমাদের জীবনের অংশ বটে, কিন্তু তুমি নিজেই পারো তোমার ভাগ্য বদলাতে। তুমি চাইলেই সাফল্য আসবে, তখন আর ভাগ্যের নাম নিতেও হবে না। নিজের সাফল্য তাই তোমার নিজের কাছেই।

নিজের ভাগ্য নিজেই গড়তে চাইলে কিছু ধাপ ফলো করে দেখতে পারো। আমার নিজের জীবনে এই ধাপগুলো বেশ কাজে লেগেছে, আশা করছি তোমারও অনেক উপকারে আসবে!

ধাপ ১:

শুরুটা হোক নিজের একটা লক্ষ্য ঠিক করে ফেলা দিয়ে। হ্যাঁ, সব মানুষ সমান নয়, সবার কর্মক্ষমতা বা মেধা সমান নয়। তাই নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী ঠিক করে ফেলো তুমি জীবন নিয়ে কী করতে চাও, তাহলেই সফলতার পথে এগিয়ে যেতে পারবে। চেষ্টা করবে নিজের লক্ষ্যটি নির্দিষ্ট করে সে অনুযায়ী কাজ করে যেতে।

দারুণ সব লেখা পড়তে ও নানা বিষয় সম্পর্কে জানতে ঘুরে এসো আমাদের ব্লগের নতুন পেইজ থেকে!

ধাপ ২:

এবার চেষ্টা করো লক্ষ্য অর্জনের পথে যে ধাপগুলো পার করবে, সেগুলো একটি একটি করে কাগজে টুকে রাখার। তাহলে পেছনে ফিরে তাকালে তোমার জীবনের ভুলগুলো চোখে পড়বে, তোমার অসঙ্গতিগুলোকে ঠিক করে আগের থেকে বেশি আত্মবিশ্বাসী হয়ে এগিয়ে যেতে পারবে।

ধাপ ৩:

অঙ্গীকারবদ্ধ থাকো, যে ধরণের কাজই করো না কেন। তুমি যদি তোমার কাজের প্রতি আগ্রহী হও, সেটি নিয়ে সফল হতে চাও, তবে সবসময় অঙ্গীকারবদ্ধ থেকে এগিয়ে যেতে হবে। নিজের উপর বিশ্বাস রেখে কাজ করে যেতে হবে।

ধাপ ৪:

ভাগ্যকে দোষারোপ করবে না। একেবারেই না। ভাগ্য তোমার সাথে থাকবে তখনই, যখন তুমি নিজ আত্মবিশ্বাসে বলীয়ান হয়ে কাজ করবে। কথায় বলে না, “Fortune Favours the Brave”?

তাই বীরত্বের সাথে নিজের লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে গেলে ভাগ্য এম্নিই তোমার সহায় হবে।

ধাপ ৫:

নিজের ভুলকে স্বীকার করাটা খুব দরকার। তুমি মানুষ, কোন মেশিন নও যে নিখুঁতভাবে সব কাজ করবে। তোমার ভুল হতেই পারে, আর তাই সেগুলোকে অস্বীকার করবে না। নিজের ভুল স্বীকার করে সেগুলো ভবিষ্যতে আর যাতে না হয়, সেই ব্যাপারে খেয়াল রাখতে হবে।

ধাপ ৬:

সময়ের সদ্বব্যবহার করতেই হবে। একজন সফল মানুষের জীবনে সময়ানুবর্তিতা খুবই দরকারি একটা কাজ। ধরো তুমি সময়ের কাজ সময়ে করলে না, ফেলে রাখলে। তাহলে পরের কাজগুলোর সাথে নতুন এই কাজটাও এসে যোগ হবে, আর তাতে পুরনো এই কাজটা আর কখনোই করার সময় হবে না। এজন্যে সময়কে ঠিকভাবে কাজে লাগাও!

ধাপ ৭:

আত্মনির্ভরশীল হও। পরনির্ভরশীলতা সাফল্যের পথে সবচেয়ে বড় বাধা। কারো উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়লে সেক্ষেত্রে তুমি সাফল্য পেলেও সেটি তোমার একার হবে না, আর তাকে আদতে সাফল্য বলা যায় কি না তাতে তুমি নিজেও সন্দিহান হয়ে পড়বে। তাই নিজের উপর নির্ভরশীল হবার চেষ্টা করো।

ধাপ ৮:

জীবনে চলার পথে যেকোন সময়, যেকোন সিদ্ধান্ত নেবার সময় পরামর্শ নিতে লজ্জার বালাই করবে না। পরামর্শ পেতে পারো তোমার চরম শত্রুর কাছ থেকেও, পরামর্শ পেতে পারো একেবারে ক্ষুদ্র কোন ব্যক্তির কাছ থেকেও, তাই কখনো পরামর্শকে অগ্রাহ্য করবে না। মনে রাখবে, কারো পরামর্শই ফেলনা নয়, তাই সফল জীবন গড়তে এগুলোর অনেক দরকার রয়েছে।

সফলতা পাওয়া খুব সহজ কোন কাজ নয়। তাই বলে ভাগ্যের হাতে সবকিছু সঁপে দেয়াটা হবে চূড়ান্ত বোকামির পরিচয়! নিজের মতো করে আত্মবিশ্বাসী হয়ে কাজ করে গেলে ভাগ্যও তোমার সঙ্গ দেবে, দিতেই হবে!


১০ মিনিট স্কুলের ব্লগের জন্য কোনো লেখা পাঠাতে চাইলে, সরাসরি তোমার লেখাটি ই-মেইল কর এই ঠিকানায়: [email protected]

লেখাটি ভালো লেগে থাকলে বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করতে ভুলবেন না!
What are you thinking?