Earworm: গান কেন আটকে থাকে মাথায়

পুরোটা পড়ার সময় নেই? ব্লগটি একবারে শুনে নাও!

আমরা প্রায় সবাই কখনো না কখনো এমন অবস্থার শিকার হয়েছি যে দেখা গেছে হঠাৎ করে একটা গানের লাইন মাথায় আটকে গেছে, কিছুতেই বের হচ্ছে না। কোথাও ঘুরতে যাচ্ছি, পড়তে বসছি, কিন্তু গান আর মাথা থেকে যাচ্ছেই না! সবচেয়ে বিপত্তি হয় তখন, যখন দেখা যায় পরীক্ষার পড়া পড়তে পড়তে কাহিল হয়ে যাচ্ছি, মনে থাকছে না। অথচ গানটা দিব্যি মাথার ভেতর নেচে বেড়াচ্ছে!

মাথার ভেতর  গানের আটকে থাকার এই বিপত্তিটাকেই বলা হয় ‘কানের কীট’ বা Earworm। Earworm শব্দটি জার্মান শব্দ ‘Ohrwurm’ থেকে এসেছে। যার অর্থ হচ্ছে ‘চিত্তহারী’।

দারুণ সব লেখা পড়তে ও নানা বিষয় সম্পর্কে জানতে ঘুরে এসো আমাদের ব্লগের নতুন পেইজ থেকে!

আমরা যখন কোন গান শুনি তখন আমাদের মস্তিষ্কের ‘Auditory cortex’ নামে একটি অংশ সক্রিয় হয়। গবেষকেরা বের করেছেন, যখন কোন পরিচিত গানের কোন অংশ বাজানো হয় তখন মস্তিষ্কের Auditory cortex সক্রিয় হয়। এরা গানের বাকি অংশটি পূরণ করে এবং গান শেষ হওয়ার অনেকক্ষণ পর পর্যন্ত গানটি বাজাতে থাকে।

মাথায় আটকে থাকা গানগুলো হচ্ছে সেই সকল চিন্তাগুলোর মতো যা আমরা দমিয়ে রাখতে চেষ্টা করি। আমরা যতই চেষ্টা করি সেগুলো ভুলে থাকার, সেগুলো আরো মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে।

মূলত Earworm হচ্ছে একটি সাধারন প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে আমাদের মস্তিষ্ককে সচল রাখা হয় যখন সে অলস ভাবে বসে থাকে। ৯৮% পরীক্ষা থেকে দেখা গেছে নারী ও পুরুষেরা সাধারনত একইভাবে Earworm এ আক্রান্ত হয়। কিন্তু নারীদের ক্ষেত্রে এটা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়।

গবেষণা থেকে আরও জানা যায় ৭৩.৭% Earworm হয়ে থাকে lyrics সহ গান থেকে। Instrumental গান থেকে হয়ে থাকে মাত্র ৭.৭%। Daniel Levitin তার “This is your Brain on Music: The science of a Human Obsession” বইটিতে বলেছেন Musician এবং সাধারন মানুষেরা যারা ‘Obsessive Compulsive Disorder’ এ আক্রান্ত তারা Earworm এ বেশি ভোগে।

Earworm এর attack সাধারনত হয়ে থাকে কোন গানের ক্ষুদ্র একটি অংশ দিয়ে। এর স্থায়িত্বকাল হয় আমাদের Auditory short-term memory এর সমান অর্থাৎ ১৫ থেকে ৩০ সেকেন্ড। জটিল গান থেকে সাধারন গানগুলো Earworm বেশি হয়ে থাকে। তিনি আরও বলেন OCD এর ওষুধগুলো অনেক সময় এর প্রতিকারের জন্য ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

Earworm শুরু হয় কীভাবে:

Earworm শুরু হওয়ার জন্য কিছু কিছু কারণ রয়েছে এগুলোকে বলা হয় ‘Earworm Triggers’। এগুলো হল:

১। নতুন কোন গান প্রকাশিত হলে

২। অনেকবার শোনা কোন গান আবার শুনলে

৩। কোন মানুষের মাধ্যমে (যার সাথে কোন গানের স্মৃতি জড়িয়ে রয়েছে)

৪। কোন পরিস্থিতির মাধ্যমে

৫। হতাশার মাধ্যমে

৬। কোন চমকের মাধ্যমে

৭। স্বপ্ন দেখে

৮। বিস্মিত হলে

Earworm থেকে মুক্তি পাওয়ার উপায়:

বিজ্ঞানীরা গবেষণার মাধ্যমে পেয়েছেন যে কোন কঠিন (যেমন, Sudoku বা puzzle) কাজে মস্তিষ্ককে ব্যস্ত রাখার মাধ্যমে Earworm কমানো সম্ভব। এছাড়া Melodic ধরণের গান শোনাও Earworm কমিয়ে দেয়।

Earworm কে মাঝে মাঝে Brainworm-ও বলা হয়

চুইংগাম খাওয়ার মাধ্যমেও Earworm কমানো যায়। Mark Twain তার ‘ A Literary Nightmare’ বইটিতে একটি jingle এর Earworm এর কথা বলেন। এটি শুধুমাত্র আরেকজনের কাছে পার করেই তা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

Earworm কে মাঝে মাঝে Brainworm-ও বলা হয়। এটিকে মস্তিষ্কের একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হিসেবেই ধরা হয়। কিছু কিছু ক্ষেত্রে Earworm খুব বিরক্তিকর হলেও কারো কারো মতে এটি বেশ উপকারী! তারা বলে থাকে এটি তাদের নির্ধারিত দৈনন্দিন কাজ সম্পন্ন করতে সাহায্য করে থাকে।

Mark Twain, Alfred Bester, Arthur C. Clarke, Henry Kutter সহ অনেকেই তাদের জীবনে সাধারন মানুষের মত Earworm এর শিকার হয়েছে। বিজ্ঞানীরা একে Stuck-song Syndrome, Sticky Music, Cognitive Itch ইত্যাদি নামেও ডেকে থাকে। সবমিলিয়ে এই Earworm বা কানের পোকা আমাদের জীবনে বেশ ভালো রকম একটা প্রভাব ফেলে দিতে পারে!


১০ মিনিট স্কুলের লাইভ এডমিশন কোচিং ক্লাসগুলো অনুসরণ করতে সরাসরি চলে যেতে পারো এই লিঙ্কে: www.10minuteschool.com/admissions/live/

১০ মিনিট স্কুলের ব্লগের জন্য কোনো লেখা পাঠাতে চাইলে, সরাসরি তোমার লেখাটি ই-মেইল কর এই ঠিকানায়: [email protected]

লেখাটি ভালো লেগে থাকলে বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করতে ভুলবেন না!
What are you thinking?