হুটহাট মেজাজ খারাপ?


পুরোটা পড়ার সময় নেই? ব্লগটি একবার শুনে নাও।

শাওনের আজকাল খুব অল্পতেই মন মেজাজ খারাপ হয়ে যাচ্ছে। সেই হুটহাট করে খারাপ ব্যবহার করে ফেলছে, অনেক সময় নিজের আচরণের প্রতি তার নিজের কোন কন্ট্রোলই থাকছে না। সে প্রতিনিয়ত অপরের প্রতি নেতিবাচক মনোভাব, নেতিবাচক ব্যবহারগুলো পরিবর্তন করতে পারছে না।

উপরোক্ত ঘটনাগুলোর আমাদের সাথে কিন্তু প্রায়ই ঘটে থাকে। আমরা অনেক সময় নিজের অজান্তেই অপর জনের সাথে খারাপ ব্যবহার করে ফেলেছি অথবা বুঝে উঠতে পারছিনা কখন কী ধরনের আচরণ করা উচিত আবার অনেকে হয়তো নিজের সম্পর্কে অবগত কিন্তু কিভাবে সে নেতিবাচক আচরণ থেকে বের হয়ে আসবে তার পন্থা খুঁজে পাচ্ছে না।

রিসার্চ থেকে জানা গিয়েছে, নেতিবাচক ব্যবহার সাধারণত মানুষ তার নিজের দৃষ্টিভঙ্গির চেয়ে বেশি আশেপাশের পরিবেশ দ্বারা নেতিবাচকভাবে অনুপ্রাণিত হয়ে করে থাকে। কিন্তু ইতিবাচক পরিবেশ গুলোকে যদি ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করা যেতে পারে তাহলে খুব সহজেই আমরা বের হয়ে নেতিবাচক আচরণ থেকে আমরা বের হয়ে আসতে পারব চিনতে পারো কিভাবে নেতিবাচক ব্যবহার থেকে বের হয়ে আসতে পারবে খুব সহজে।

গ্রাফিক্স ডিজাইনিং, পাওয়ারপয়েন্ট প্রেজেন্টেশান ইত্যাদি স্কিল ডেভেলপমেন্টের জন্য 10 Minute School Skill Development Lab নামে ১০ মিনিট স্কুলের রয়েছে একটি ফেইসবুক গ্রুপ।

১. নিজের আচরণের দায়িত্ব নিজেই নাও

কোন ধরনের নেতিবাচক আচরণের জন্য কারো উপর দোষারোপ করো না। বরং সেই দায়িত্ব নিজে নাও অর্থাৎ কারো সাথে কখনো কোন দুর্ব্যবহার করে ফেললে,অপরকে দোষারোপ না করে বরং নিজের দোষগুলি খুঁজে বের করার চেষ্টা করো। যখন অপরের সাথে নেতিবাচক আচরণের জন্য তুমি নিজেকে দায়ী মনে করবে, তখন ধীরে ধীরে তোমার মাঝে ইতিবাচক ভাবনা গুলো বেড়ে ওঠা শুরু করবে। আর তুমি সতর্ক হওয়া শুরু করবেযে অন্য জনের সাথে কোনভাবেই যেন নেতিবাচক কোনো ব্যবহার করে না ফেলো।

এই তো তোমার মস্তিষ্কের ভেতর একটি পরিবর্তন আসা শুরু হবে, যে তুমি অপরের সাথে আর কোনো ভাবেই কোনো ধরণের নেতিবাচক আচরণের জড়াবে না, এই পরিবর্তনটি ধীরে ধীরে তোমার অভ্যাসে পরিণত হবে। এবং তুমি অপরের সাথে নেতিবাচক আচরণ গুলিকে এড়িয়ে যাওয়া শুরু করবে।

ঘুরে আসুন: এসো, গড়ে তুলি দারুণ সব ‘অভ্যাস’!

২. নেতিবাচক বিষয়গুলোর একটি তালিকা তৈরি করো

ভাবা শুরু করো তোমার মতো কোন কোন নেতিবাচক বিষয় গুলো প্রভাব ফেলছে। সেগুলোর একটি তালিকা তৈরি করো, এবং চিন্তা কর শুরু কর যে এই নেতিবাচক আচরণের তালিকাটি পুরোপুরি বদলে তুমি একটি ইতিবাচক আচরণের তালিকা তৈরি করবে। নেতিবাচক আচরণের তালিকা তৈরির এই উদ্যোগটি তোমাকে অনুপ্রাণিত করবে নেতিবাচক অভ্যাসগুলো কে পরিবর্তন করে ফেলার জন্য। ব্যাপারটি খুব বেশি হাস্যকর শোনালেও, তুমি যখন তোমার নেতিবাচক আচরণের একটি তালিকা তৈরি করবে, এই উদ্দেশ্য নিয়ে যে তুমি এই তালিকাটি কে পুড়িয়ে ফেলে ইতিবাচক তালিকা তৈরি করবে, তখন তোমার নিজের ব্যাপারে ভালো একটি ধারণা তৈরি হবে। এবং এতে করে সহজেই খারাপ অভ্যাসগুলো বা খারাপ আচরণগুলোকে পরিবর্তন করা সহজ হবে।

৩. অতিরিক্ত আশা করার ব্যাপারটি দূরে সরিয়ে ফেলা

সাধারণত নেতিবাচক আচরণের শুরুই হয় যখন আমরা নিজের কাছ থেকে খুব বেশি আশা করে ফেলি, অথবা অপরের কাছ থেকে নিজেদের মনমতো কোন কিছু আশা করি। অবাস্তব এবং অহেতুক আশা গুলো কে দূরে সরিয়ে নেওয়ার এই অভ্যাসটি তোমাকে নিজের মাঝে ইতিবাচক আচরণগুলোকে খুব দ্রুত গড়তে সহায়তা করবে। এমনকি তুমি যখন অহেতুক আশা থেকে দূরে থাকবে, তখন তোমার আশেপাশের মানুষের সাথে আপনা থেকেই একটি ভালো সম্পর্ক গড়ে উঠবে। নিজের মাঝে এই গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে আসার চেষ্টা করো যে, পৃথিবীর কোন কিছুই নয় পারফেক্ট নয়। আর তাই সব কিছু তোমার মন মত করে পাবে এই আশা কি একটি দুরাশা ছাড়া আর কিছু নয়। আর তাই অতিরিক্ত,অবাস্তব,অহেতুক  আশাগুলোকে দূরে সরিয়ে নিজের মাঝে ইতিবাচক ভাবনাগুলোকে স্থান দাও।

৪.  নিজেকে এবং অপরকে ক্ষমা করো

এমন হতেই পারে যে তোমার দ্বারা কোনো ভুল হয়ে গেছে, কিন্তু তুমি যদি সতর্ক হয়ে যাও তাহলে সেই ভুলটি তোমার দ্বারা আবার পুনরায় হবে না। আর তাই নিজেকে সেই ভুলের জন্য ক্ষমা করতে হবে। তুমি যদি নিজের ভেতরেই ধারণা প্রতিষ্ঠিত কর যে, তুমি ভুল করেছ আর তোমার এই ভুলের জন্য তুমি নিজেকে ক্ষমা করতে না পারো, তাহলে তুমি চাইলেও মানুষের সাথে ভাল ব্যবহার করে চলতে পারবে না। আর তাই নিজেকে ক্ষমা করা শেখো। এমনকি তোমার সাথে যদি কেউ ভুল আচরণ করে ফেলে  তাহলে তাকেও ক্ষমা করার অভ্যাস গড়ে তোল। কারণ তুমি যখন একজন মানুষকে ক্ষমা করতে পারবে, তখন তুমি নিজেও অনেক বেশি মানসিক শান্তিতে থাকতে পারবে। আর এই অভ্যাসটি তোমার মাঝে ইতিবাচক আচরণ গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।

৫. নেতিবাচক প্রভাবকারীদের দূরে সরিয়ে রাখো

যে ধরনের মানুষগুলো আমাদের জীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে, তাদেরকে দূরে সরিয়ে রাখাটাই ভালো। আবার অনেক সময় তাদের সাথে খারাপ ব্যবহার করা যায় না, তাদেরকে এড়িয়ে চলা যায় না সেক্ষেত্রে তাদের ভুল গুলোকে তাদের ধরিয়ে দিতে হবে, যে তাদের এই সকল আচরণ তোমার আচরণের উপর তোমার তোমার উপর নেতিবাচকভাবে প্রভাব ফেলছে। যখন নেতিবাচক আচরণ কারীদেরকে জীবন থেকে দূরে সরিয়ে রাখবে, তখন ধীরে ধীরে নেতিবাচক আচরণগুলোও তোমার দূর হওয়া শুরু করবে। আর এভাবেই নেতিবাচক আচরণ থেকে নিজেকে খুব সহজে দূরে সরিয়ে রাখতে পারবে।

কথায় বলে, MUN is fun!

বর্তমান সময়ের বহুল আলোচিত একটি কম্পিটিশানের নাম MUN বা Model United Nations।

কিন্তু কি এই মডেল ইউনাইটেড নেশন্স? কিভাবে ভালো করতে হয় এটিতে?

নিজেই দেখে নাও এই প্লেলিস্ট থেকে!
১০ মিনিট স্কুলের MUN সিরিজ!

৬. এগিয়ে চলার দৃঢ় প্রত্যয় রাখতে হবে

শুধু নিজের না অনেক সময় অপরের নেতিবাচক আচরণ আমাদের চলার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। আর তাই অবশ্যই নিজের ভেতর দৃঢ় প্রত্যয় রাখতে হবে যে কোন ধরনের নেতিবাচক আচরণ জানো তোমার চলার পথকে আঁকড়ে ধরতে না পারে। আর এই ভাবেই নেতিবাচক আচরণ থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে রাখতে পারবে।

৭. ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি রাখতে হবে

যে কোনো কিছুতে নেতিবাচক কিছু খোঁজার অভ্যাস ধীরে ধীরে আমাদের মাঝে নেতিবাচক আচরণ গুলো গড়ে তোলে। আর তাই চেষ্টা রাখতে হবে সবকিছুতেই ইতিবাচক দিকগুলো খুঁজে বের করার। একটি অবস্থা যত খারাপই হোক না কেন, তবু তার মাঝে ইতিবাচক কোন না কোন দিক থেকে যায়।প্রতিনিয়ত সকল কিছুর ইতিবাচক দিক খুজে বের করার অভ্যাসটি, নিঃসন্দেহে মনকে নেতিবাচক দিকে এগিয়ে যেতে বাঁধা দিবে। আর এভাবেই নিজের মাঝে ইতিবাচক আচরণগুলি সৃষ্টি হবে।

৮. ইতিবাচক শব্দ ব্যবহারের প্রতি হতে হবে যত্নশীল

কথা বলার জন্য যে শব্দগুলো তুমি বাছাই করবে, সেই শব্দগুলোই কিন্তু তোমার ইতিবাচক আচরণ এবং আবেগকে উদ্বুদ্ধ করবে। আর তাই চেষ্টা রাখতে হবে সব সময় ইতিবাচক ভাবে কথা বলা ইতিবাচক শব্দ ব্যবহার করে কথা বলা বলার দিকটি। ইতিবাচক শব্দ ব্যবহারে যত্নশীল হতে পারলে নিজের মাঝে এমন একটি ইতিবাচক প্রভাব তৈরি হয়,যা সারা দিন ভালো আচরণের মাঝে দিন কাটানোর একটি ইচ্ছে তৈরি করে।

ঘুরে আসুন: ৩টি ধাপে শিখে নাও যেকোন স্কিল!

৯. ইতিবাচক মানুষের সান্নিধ্যে থাকতে হবে

আশেপাশের সব সময় ইতিবাচক মানুষের সান্নিধ্যে থাকলেতোমার মাঝে ইতিবাচক আচরণ গুলি খুব দ্রুত কাজ করা শুরু করবে। যে ধরনের মানুষ গুলো তোমার জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করে এবং ইতিবাচক আচরণে সহায়তা করে, সে ধরনের মানুষের সান্নিধ্যে সব সময় থাকার চেষ্টা করবে। এতে করে নিজের মাঝে যে নেতিবাচক আচরণ গুলো আছে সেগুলো দূর করে ফেলার একটি প্রবল ইচ্ছা তোমার মাঝে জন্মাবে। আর তাই সব সময় ইতিবাচক মানুষের সান্নিধ্যে থাকার চেষ্টা করতে হবে।

সঠিকভাবে কোন ইংরেজি শব্দ উচ্চারণ করতে পারা ইংরেজিতে ভাল করার জন্য অত্যন্ত জরুরি।

১০. অপরকে সহযোগিতা করো

মানুষকে সাহায্য সহযোগিতা করার মনোভাবটি নিজের মাঝে গড়ে তুলতে হবে। এতে করে অপরের প্রতি সহযোগিতার মনোভাবটি তোমাকে সবসময় নেতিবাচক আচরণ থেকে দূরে রাখতে সহায়তা করবে যখন যেভাবে সম্ভব মানুষকে সহযোগিতা করতে হবে। অপরকে সহযোগিতা করার এই মানসিকতা খুব সহজেই নেতিবাচক আচরণ থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে রাখতে সহায়তা করে। মনে রাখতে হবে নেতিবাচক আচরণ আর কিছু নয়, শুধুমাত্র আমার নিজেদের ইচ্ছার মাধ্যমে আমরা চাইলে পরিবর্তন করতে পারি।


১০ মিনিট স্কুলের লাইভ এডমিশন কোচিং ক্লাসগুলো অনুসরণ করতে সরাসরি চলে যেতে পারো এই লিঙ্কে: www.10minuteschool.com/admissions/live/

১০ মিনিট স্কুলের ব্লগের জন্য কোনো লেখা পাঠাতে চাইলে, সরাসরি তোমার লেখাটি ই-মেইল কর এই ঠিকানায়: [email protected]

লেখাটি ভালো লেগে থাকলে বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করতে ভুলবেন না!
Author

Nusrat Jahan

I love to read books as a hobby. Alongside watching movies is my favourite leisure activity. I love to write which is something I am very passionate about .My aim is to work in the field of marketing. I am currently doing BBA from University of Asia Pacific.
Nusrat Jahan
এই লেখকের অন্যান্য লেখাগুলো পড়তে এখানে ক্লিক করুন
What are you thinking?