যখন ব্রেইনের ধোঁকায় নিজেই বোকা!

পুরোটা পড়ার সময় নেই? ব্লগটি একবার শুনে নাও।

আমাদের অনেকের কাছেই মনে হয় যে, আমাদের ব্রেইন একদম নিখুঁত একটি যন্ত্র – যার কাজে বা ফাংশনে কখনোই কোন ভুল হয় না। কিন্তু সত্যি কথা বলতে, আমাদের ব্রেইনেরও একটা মেশিন বা অ্যাপের মতো নিজস্ব কিছু বাগ (Bug)  থাকে। যেগুলোকে বলা হয় Cognitive biases। এর দ্বারা মূলত আমাদের মস্তিষ্কের নির্দিষ্ট কিছু উপায়ে চিন্তা করার একটা প্রবণতাকে বোঝানো হয়ে থাকে। দর্শন এবং আচরণগত অর্থনীতির বিষয়গুলোতে এটি নিয়ে পড়াশুনা করা হয়।

এই দারুণ ইন্টারেস্টিং বিষয়টা নিয়ে টুকটাক রিসার্চ করতে গিয়ে পেয়ে গেলাম বেশ মজার কিছু ট্রিকস। আমাদের ব্রেইন মাঝে মাঝে কীভাবে আমাদের অজান্তে আমাদেরকেই ধোঁকায় ফেলে দেয়, তার মজার কিছু তথ্য নিয়েই আমাদের আজকের আয়োজন।

দারুণ সব লেখা পড়তে ও নানা বিষয় সম্পর্কে জানতে ঘুরে এসো আমাদের ব্লগের নতুন পেইজ থেকে!


১। উল্টো পথে পায়চারি

আমরা যখন কোন রহস্যের সমাধান করতে চাই বা কোন কেইস সল্ভ করতে যাই, তখন তার জন্য প্রথমে আমাদের বিভিন্ন প্রমাণের উপর ভিত্তি করে তারপর সেই অনুযায়ী কোন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো উচিত। ধরা যাক, বাসায় কোন একটা চুরি হলো। চোর ধরতে হবে। এখন এক্ষেত্রে আমাদের উচিত, প্রথমে অনুসন্ধান করে, তার উপর ভিত্তি করে চোর কে হতে পারে সেই সিদ্ধান্তে যাওয়া

কিন্তু আমাদের অবচেতন মনেই কিন্তু আমরা আসলে উল্টোটা করি। আমরা শুরুতেই কাউকে সন্দেহ করে ফেলি। এবং তারপর নিজের সন্দেহকে সঠিক প্রমাণ করার যুক্তি খুঁজতে থাকি। এবং ব্রেইনের ধোঁকাটা এখানেই। এই উল্টো পথে হাঁটাটা পুরোটাই আমাদের মস্তিষ্কের একটা ট্রিক।

ঘুরে আসুন: সব দ্বিধাকে বিদায় জানাও এক তুড়িতেই!

২। চাকরির প্রভাব

একজনের চাকরি তার ব্রেইনে পার্মানেন্ট একটা প্রভাব ফেলে যায়। একজন শিক্ষক বা শিক্ষিকা তাঁর ব্যক্তিগত জীবনেও তাঁর শিখানোর প্রবণতা থেকে বের হয়ে আসতে পারেন না। একজন আইটি বিশেষজ্ঞ, বাস্তব জীবনেও সিস্টেম এরর খুঁজতে থাকেন। এবং একজন মনোবিজ্ঞানী কেউ না চাইলেও তার সমস্যার সমাধান দেয়ার চেষ্টা করে যান। এর কোনটাই কেউ সচেতনভাবে করেন না। সবই আমাদের ব্রেইনের খেলা।

৩। সব দোষ ভাগ্যের

আমরা যখন আমাদের সফলতার পেছনে কারণ খুঁজতে যাই, তখন নিজেদের পরিশ্রম আর মেধাকেই পুরো কৃতিত্ব দিয়ে থাকি। কিন্তু যখন ব্যর্থতার পালা আসে, তখন দোষ দেই ভাগ্য বা পরিস্থিতিকে।

মজার বিষয় হচ্ছে, অন্যের বেলায় কিন্তু ঘটনা সম্পূর্ণ উলটো। যখন অন্য কেউ সফল হয়ে থাকে, আমরা মনে করি তার ভাগ্য ভাল ছিল। আর ব্যর্থ হলে মনে করি, সবই তার অযোগ্যতার ফসল।

৪। ঠকেও না ঠকার ভান

সেদিন খুব শখ করে একটা জামা কিনলাম। দামটা একটু বেশি। তাই, কেনার পরপর ভেতরটা একটু খচখচ করছিল। কিন্তু সেইসাথে এটাও মনে হলো, জামা হিসেবে দাম মোটেও বেশি না। কালার কম্বিনেশনটা বেশ, আর জামার কাজটাও বেশ আনকমন। খুব বেশি ভারীও না, আবার একদম সিম্পলও না। বিয়ে বাড়িতেও পরা যাবে, আবার কোন সাধারণ অনুষ্ঠানেও পরে যাওয়া যাবে। দামও উঠে যাবে। বেশ জিতেছি!

এই যে, একটা জামা কেনার পর সেটার দামটাকে জাস্টিফাই করার চেষ্টা, একে Post-Purchase Rationalization বলে। এবং এটা শুধু যে আমার সাথেই হয় তা না। গবেষণায় জানা গেছে, কোন কিছু কিনে টাকাটা যে জলে যায় নি, সেটার পক্ষে যুক্তি সাজানোর চেষ্টা সবাই করে থাকে।

জেনে নাও জীবন চালানোর সহজ পদ্ধতি!

আমাদের বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের একটা বড় সমস্যা হতাশা আর বিষণ্ণতা।

দেখে নাও আজকের প্লে-লিস্টটি আর শিখে নাও কীভাবে এসব থেকে বের হয়ে সাফল্য পাওয়া যায়!

১০ মিনিট স্কুলের Life Hacks সিরিজ

৫। চেনা অচেনা মিলগুলো

পথে-ঘাটে মাঝে মাঝেই এমন হয় যে, কাউকে দেখে মনে হলো যেন চিনি। কিন্তু আবার ঠিক চিনিও না। চেনা চেনা লাগে, তবু অচেনা! তারপর হয়তো মনে পরে যে, আমাদের পরিচিত কারো সাথে হয়তো মানুষটার চেহারার মিল রয়েছে।

আমাদের ব্রেইন সবসময়ই আশেপাশে পরিচিত মুখ খুঁজতে থাকে

অথবা হয়তো কোন সেলেব্রেটির চেহারার ছাপ রয়েছে, যার কারণে এতো চেনা লাগছিল। মজার বিষয় হচ্ছে, ভালমতো চিন্তা করলে দেখা যাবে এই মিল খুবই সামান্য। তারপরও কেন এমন মনে হয়?

বিজ্ঞানীরা গবেষণা করে জেনেছেন যে, আমাদের ব্রেইন সবসময়ই আশেপাশে পরিচিত মুখ খুঁজতে থাকে। যার ফলে, ক্ষুদ্র থেকে ক্ষুদ্র মিলও আমাদের চোখ এড়ায় না বা বলা যায় আমাদের মস্তিষ্ক এড়াতে দেয় না। এবং ব্রেইনের এই বৈশিষ্ট্যকে কাজে লাগিয়েই বিভিন্ন পণ্যের বিজ্ঞাপন বানানো হয়, রাস্তায় রাস্তায় বিলবোর্ড, পোস্টার ঝুলানো হয়। পরিচিত পণ্য দেখে কিনে ফেলার এই প্রবণতা নিয়ে পড়ানো হয় Behavioral Economics – এ।

৬। সময়ের কাজ সময়ে করা

আমাদের ব্রেইনের এই Cognitive bias এর কারণেই আমরা যখন কোন কাজ শুরু করি, তখন আমরা প্রয়োজনের তুলনায় বেশি আশাবাদী হয়ে যাই। একটা কাজ করতে যতটা সময় লাগার কথা, তার চেয়ে কম সময় লাগবে বলে মনে করি।

কিন্তু, যখন সেই একই কাজ অন্য কেউ করে, তখন সেক্ষেত্রে আমরা সময়ের ব্যাপারে যেই অনুমানটা করি; অধিকাংশ সময়েই দেখা যায়, তার চেয়ে অনেক কম সময়েই কাজটা শেষ হয়ে যায়। অপরের কর্মদক্ষতাকে নিজের দক্ষতার চেয়ে ছোট করে দেখার এই প্রবণতা Cognitive bias এরই ফসল।

ঘুরে আসুন: যেই তিনটি অভ্যাস আপনার ডিপ্রেশন দূর করতে সাহায্য করবে

৭। পাছে লোকে কিছু বলে

যদিও আমাদের মধ্যে অন্যের কর্মদক্ষতাকে ছোট করে দেখার প্রবণতা কাজ করে, কিন্তু অন্যের ধারণা করার বা বুঝে ফেলার ক্ষমতাকে প্রায়ই আমরা প্রয়োজনের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়ে ফেলি। আমাদের কাছে মনে হয়, আমরা যাই ভাবছি, যাই অনুভব করছি, হোক সেটা ভয়, দুঃশ্চিন্তা বা আত্মবিশ্বাসহীনতা – সামনের মানুষটা তা বুঝে ফেলছে। যেখানে আসলে দেখা যায়, তার কোন আইডিয়াই নেই আমাদের অনুভূতি নিয়ে।

ইংরেজি ভাষা চর্চা করতে আমাদের নতুন গ্রুপ- 10 Minute School English Language Club-এ যোগদান করতে পারো!

৮। শোনা কথায় কান দেয়া

আজকাল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমরা যা দেখি, তা-ই বিশ্বাস করে নেয়ার একটা প্রবণতা কাজ করে আমাদের মাঝে। এবং বিশ্বাস করার আগে তা যাচাই-বাছাই করার প্রয়োজনও আমরা অনুভব করি না। এটা শুধু এই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ক্ষেত্রে নয়, সবক্ষেত্রেই।

অধিকাংশ মানুষ যা বলে, তা-ই আমরা বিশ্বাস করতে চাই। আজকে যদি একটি বিষয়ে ১০ জন একরকম তথ্য দেয়, আর ২৫ জন ভিন্ন তথ্য দেয়; ২৫ জনের দেয়া তথ্যেই আমরা বিশ্বাস করতে চাইব। সত্য যাচাইয়ের চেষ্টা না করে, চিলে কান নিয়ে গেল বলে হৈ-চৈ ফেলে দেয়ার এই প্রবণতাও আমাদের ব্রেইনেরই এক কারসাজি।


১০ মিনিট স্কুলের লাইভ এডমিশন কোচিং ক্লাসগুলো অনুসরণ করতে সরাসরি চলে যেতে পারো এই লিঙ্কে: www.10minuteschool.com/admissions/live/

১০ মিনিট স্কুলের ব্লগের জন্য কোনো লেখা পাঠাতে চাইলে, সরাসরি তোমার লেখাটি ই-মেইল কর এই ঠিকানায়: [email protected]

লেখাটি ভালো লেগে থাকলে বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করতে ভুলবেন না!
What are you thinking?