একটি ভিডিও বাঁচাতে পারে লক্ষ প্রাণ!

পুরোটা পড়ার সময় নেই ? ব্লগটি একবার শুনে নাও !

কিছুদিন আগে কানাডায় একটা স্টুডেন্ট কনফারেন্সে গিয়েছিলাম। সেখানে বক্তৃতা দিয়েছিল Jerome Jarre নামের এক ফ্রেঞ্চ ভদ্রলোক। হাস্যোচ্ছল মানুষ, তার সাথে একটা সেলফি তোলার সুযোগও হয়েছিল। সে হলো আমরা যাকে বলি ‘Internet Celebrity’। সেসব অনেক আগের কথা।

এইতো সেদিন একটা ভিডিও ইন্টারনেটে খুব বেশি ভাইরাল হলো, সোমালিয়াকে নিয়ে ভিডিও। দেখেই মনে হলো, ‘আরে! এ তো জেরোম জার !’ খুব আগ্রহী হয়ে শুরু করলাম ভিডিওটি দেখা। দেখে মনে মনে তাকে একটা স্যালুট জানালাম, অসাধারণ কাজ করেছেন তিনি!

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সহায়তায় যে বিপ্লব ঘটিয়ে ফেলা যায়, সেকথা এখন আর পুরনো নয়। কিন্তু জেরোম জার এবং আরো অনেকেই এই মাধ্যমটির সহায়তাকে নিয়ে গেছেন একেবারে অন্য এক মাত্রায়। জেরোমের গল্প বলি তবে।

সোমালিয়ার কান্না:

সোমালিয়ার নাম আমরা শুনেছি দুর্ভিক্ষপীড়িত আফ্রিকান একটি দেশ হিসেবে, গৃহযুদ্ধ আর রাজনীতির চাপে যেই দেশটির মানুষগুলোর জীবন দুর্বিষহ। এই মুহূর্তে সেখানে একটা দুর্ভিক্ষ চলছে, আর দেশটার অর্ধেকের বেশি মানুষ সেখানে না খেয়ে আছে। ভয়ানক অবস্থা। কিছুদিন আগে একটা ছোট বাচ্চা পানির অভাবে মরে গেছে, আর এই খবরটা জেরোমের কানে এসেছিল।

একজন সাদা মনের মানুষ:

জেরোম তখন গুগল করতে শুরু করলো, কীভাবে এমন ভয়ানক দুর্ভিক্ষের হাত থেকে বাঁচানো যায় সোমালিয়ার নিরীহ মানুষগুলোকে? অবাক হয়ে জেরোম আবিষ্কার করলো, যে সাহায্য তো অনেক দূরের কথা, দেশটিতে বিমানব্যবস্থা বলতে মাত্র একটি এয়ারলাইন্স! Turkish Airlines নামের সেই এয়ারলাইন্সকে কেন্দ্র করে তাই জেরোম জার  প্ল্যান করলেন সোমালিয়াকে বাঁচানোর চেষ্টা।

বিশ্ব কাঁপানো এক ভিডিও:

যেই ভাবা সেই কাজ, জেরোম তখনই একটা ভিডিও বানিয়ে ফেলল। ভিডিওর শেষে দিলো একটা হ্যাশট্যাগ,

#TurkishAirlinesHelpSomalia

অদ্ভুত ব্যাপার, এই এক হ্যাশট্যাগই বদলে দিল অনেক কিছু। তার পাশাপাশি অন্যান্য সেলিব্রিটিরাও শেয়ার দিলো এই ভিডিওটি, তারাও শুরু করলো এই হ্যাশট্যাগ দিয়ে সোমালিয়াকে বাঁচানোর আকুতি।

তিন দিনেই জেরোম ও তার ক্যাম্পেইন তুলে ফেললো দুই মিলিয়ন ডলার

রাজি হলো সবাই:

অবাক কাণ্ড, ব্যাপারটা টার্কিশ এয়ারলাইন্সের কান পর্যন্ত গেলো। তারা জেরোম জারের সাথে কথা বললো, এবং খুশিমনে রাজি হলো তাদের একটি কার্গো বিমান যেটা সোমালিয়াতে যায়- পুরোপুরি কার্গো ফ্রি করে জেরোমদের দিতে। কার্গোর ধারণক্ষমতা ছিল ৬০ টন। পুরোপুরি ফাঁকা এই কার্গো বিভিন্ন ত্রাণসামগ্রী আর খাবার নিয়ে ভর্তি করতে আবার দরকার প্রচুর টাকা। সেগুলো কোথায় পাওয়া যাবে?

 
মজায় মজায় অংক শিখ!

জেরোমের আরেক উদ্যোগ:

জেরোম বানিয়ে ফেলল আরেকটা ভিডিও। এখানে সে পুরো বিশ্বকে দেখালো, যে ৬০ টন কার্গো ফাঁকা রয়েছে, এখন মানুষের সাহায্যই পারে এই কার্গোটি ভর্তি করতে। সে এবং তার এই Campaign এর সবাই মিলে তাই শুরু করল crowd funding, যেখান থেকে টাকা উঠলেই কার্গোর জন্যে সবকিছু কেনা যাবে।

সাফল্য:

তাদের লক্ষ্য ছিল এক মিলিয়ন ডলার, পনের দিনে যেন সেটি তুলে ফেলা যায়। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, তিন দিনেই জেরোম ও তার ক্যাম্পেইন তুলে ফেললো দুই মিলিয়ন ডলার বা ১৬ কোটি টাকা! পুরো টাকাটা দিয়ে প্রচুর রিলিফ কেনা হলো, শুকনো খাবার কেনা হলো। এক কার্গোর আইডিয়াতেই দুর্ভিক্ষের কষ্টের অনেকটা উপশম হলো সোমালিয়ার দরিদ্র সেসব মানুষের।Inspirational, online activity, philanthropist

আমার মাঝে মাঝে মনে হয়, আমি এখনো ফোনে আমার সাথে জেরোমের সেই সেলফি দেখছি, আর জেরোম সেই ফোন আর একটা ক্যামেরার সাহায্যে বিপ্লব ঘটিয়ে ফেলছে! অবাক হতেই হয়!

আমরা সবাই হয়ত জেরোমের মত ইন্টারনেট সেলিব্রেটি নই। আমাদের ফেসবুক পোস্ট, ইন্সটাগ্রামের ছবি হয়তো তেমন শেয়ার হয় না। কিন্তু সবাই মিলে যদি এগিয়ে আসি যেকোন সামাজিক সমস্যার পরিবর্তনে, তাহলেই কিন্তু বিপ্লব আনতে পারি আমরাও, সেটিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সাহায্যেই!

লেখাটি লিখতে সহায়তা করেছে অভিক রেহমান
এই লেখাটি নেয়া হয়েছে লেখকের ‘নেভার স্টপ লার্নিং‘ বইটি থেকে। পুরো বইটি কিনতে চাইলে ঘুরে এসো এই লিংক থেকে!


পড়াশোনা সংক্রান্ত যে কোনো তথ্যের জন্য, সরাসরি চলে যেতে পারেন ১০ মিনিট স্কুলের ওয়েবসাইটে: www.10minuteschool.com

১০ মিনিট স্কুলের ব্লগের জন্য কোনো লেখা পাঠাতে চাইলে, সরাসরি আপনার লেখাটি ই-মেইল করুন এই ঠিকানায়: [email protected]

What are you thinking?