Bipolar Disorder: যে জিনিসগুলো জেনে রাখা ভালো

পুরোটা পড়ার সময় নেই? ব্লগটি একবারে শুনে নাও!

“Bipolar Disorder” কিংবা “Manic-Depressive Illness” হচ্ছে এক ধরণের মানসিক অসুস্থতা যার কারণে আকস্মিকভাবে মন খারাপ হয় এবং কাজ করার শক্তি হ্রাস পায়। এর ফলে, ভুক্তভোগীর দৈনন্দিন কাজে ব্যাঘাত ঘটে। মাঝে মাঝে এই অসুস্থতা এত বেশি মাত্রায় ধরা পড়ে, যার ফলে এটি পড়াশোনায় অমনোযোগিতা, কার্যক্ষেত্রে অসাড়তা থেকে শুরু করে আত্মহত্যার কারণ পর্যন্ত হতে পারে।

দারুণ সব লেখা পড়তে ও নানা বিষয় সম্পর্কে জানতে ঘুরে এসো আমাদের ব্লগের নতুন পেইজ থেকে!

আমাদের দেশের সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে, শারীরিক অসুস্থতাকে আমরা অনেক গুরুত্ব দিলেও, মানসিক অসুস্থতার ক্ষেত্রে একদম তার বিপরীতটা করি। যে কারণে, বেশিরভাগ সময় আমাদের অনেক কাছের মানুষ কিংবা আমরা নিজেরাও Bipolar Disorder এর মত গুরুতর সমস্যায় ভুগেও প্রয়োজনীয় কাউন্সেলিং থেকে বঞ্চিত হয়ে যাই। তবে, কিছু বিষয় রয়েছে যা জানা থাকলে আপনি নিজে ভুক্তভোগী হয়ে থাকলে, একে নিয়ন্ত্রনে আনতে পারবেন কিংবা পরিচিত কাউকে সাহায্য করতে পারবেন।

daily life, life tips, mental health

Bipolar Disorder হবার সম্ভাব্য কারণ

গবেষকদের মতে, Bipolar Disorder এর সবচেয়ে বড় কারণটা জিনগত। সাধারণত পরিবারে কেউ এই অসুস্থতায় ভুগলে, অন্যদেরও তা হবার সম্ভাবনা থাকে। এছাড়াও গবেষকরা মনে করেন, মস্তিষ্কের আকৃতিও এর জন্য দায়ী।

Bipolar Disorder এর ভুক্তভোগীদের মস্তিষ্কের Prefrontal Cortex অন্যদের তুলনায় ছোট হয় এবং এর কার্যক্ষমতাও তুলনামূলকভাবে কম হয়ে থাকে। এর পাশাপাশি, কোনো অপ্রত্যাশিত ঘটনা যা স্বাভাবিকভাবে কেউ মেনে নিতে পারে না, অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা ও চাপ থেকেও এর জন্ম হয়।

Bipolar Disorder এর লক্ষণ

Bipolar Disorder এ আক্রান্ত মানুষের সবচেয়ে বড় লক্ষণ হচ্ছে, ঘন ঘন Mood Swing অর্থাৎ মুহূর্তের মাঝে এদের অনুভূতি বদলে যায়। এরা প্রথম মুহূর্তে অনেক উত্তেজিত,  খুশি এবং প্রাণবন্ত থেকে তারপরের মুহূর্তেই আবার হতাশাগ্রস্থ এবং বিষণ্ণ হয়ে যেতে পারে। আবার অনেক সময় এরা দুধরনের অনুভূতির সম্মুখীন হয় একসাথে অর্থাৎ এরা একই সাথে খুশি এবং বিষণ্ণ থাকে।

এরা সাধারণত কোনো বিষয়ে দৃঢ় হতে পারে না। বেশিরভাগ সময়ই এরা ক্লাসে কিংবা বিভিন্ন জায়গায় অমনোযোগী থাকে। ক্লাসে শিক্ষক কিংবা কোথাও কোনো প্রশিক্ষক কিছু শেখানোর সময় এরা হঠাৎ করে অমনোযোগী হয়ে পড়ে এবং মাঝখানের লেকচার কিংবা ইন্সট্রাকশন পরবর্তীতে আর ধরতে পারে না। এদের ঘুমও অনিয়মিত হয়। অর্থাৎ, হয় এরা অনেক বেশি ঘুমায় কিংবা অনেক কম।

যেকোনো ব্যক্তিরই Bipolar Disorder এ ভোগার সম্ভাবনা রয়েছে

বয়ঃসন্ধির শেষ পর্যায় থেকে শুরু করে, ২৫ বছর বয়সের আগ পর্যন্ত যে কেউ Bipolar Disorder এ আক্রান্ত হতে পারে। Bipolar Disorder আমাদের প্রজন্মের খুবই সাধারণ একটা সমস্যা।

এখন শেখা হবে ঘরে বসে, নিজে নিজে!

জীবনে চলার ক্ষেত্রে ইংরেজি শেখার গুরুত্ব অপরিসীম সেটা তুমি ভালো করেই জানো। কিন্তু এই শেখার শুরু কিভাবে করা উচিত কিংবা শেখার সবচেয়ে কার্যকরী উপায় কোনটি হবে সেটা নিয়ে কি তুমি সন্দিহান?

ঘুরে এস আমাদের English Language Club থেকে। কথা দিচ্ছি, নিরাশ হবে না! 😀

English Language Club!

Bipolar Disorder এর কোন প্রতিষেধক নেই। তবে আপনি যদি বুঝতে পারেন যে, আপনি এই রোগে ভুগছেন তবে নিচের বিষয়গুলোর প্রতি আপনার খেয়াল রাখা উচিৎ।

১। প্রতিদিন একই সময় ঘুমাতে যান এবং একই সময় ঘুম থেকে উঠুন।

২। কাজের ফাঁকে চেয়ারে বসে হালকা ঘুমিয়ে নেয়া কিংবা টেলিভিশন দেখতে দেখতে, বই পড়তে পড়তে সোফায় ঘুমিয়ে যাওয়ার অভ্যাস ত্যাগ করুন। বিশেষ করে যদি এই অভ্যাসের কারণে আপনার রাতের ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে।

৩। দিনের শেষভাগে কোনো ভারী কাজ না করে সেগুলো সকালের জন্য রেখে দিন।

৪। ক্যাফেইন আছে এমন খাবার, যেমন, কফি ঘুমানোর আগে পানাহার বর্জন করুন।

৫। প্রয়োজনে কাউন্সেলর কিংবা মানসিক ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করুন। মনে রাখবেন, কোন মানসিক অসুখের জন্যই কেউ নিজে দায়ী নয় তাই মানসিক ডাক্তার দেখানোর মাঝে লজ্জার কিছু নেই। মানসিক ডাক্তার দেখানোর মানে এই না যে আপনি পাগল হয়ে গেছেন।

আমাদের আশেপাশের অনেক কাছের মানুষও কিন্তু Bipolar Disorder এ আক্রান্ত হতে পারে। যেমনটা শুরুতে বলেছিলাম, আমাদের দেশে আমরা শারীরিক সমস্যাকে অনেক গুরুত্ব দিলেও মানসিক সমস্যাকে একদম পাত্তা দেই না, তাই বেশিরভাগ সময় দেখা যায় যে, যখন এধরণের সমস্যার ভুক্তভোগী কেউ আমাদের সাথে কথা বলতে আসে, তখন আমরা তাকে প্রথমত শান্ত হতে বলি, এরপর বলি যে কারণে সে অশান্তিতে ভুগছে তা ভুলে যেতে।

ভুক্তভোগী তার নিজ ইচ্ছাশক্তি দিয়ে এটা দূর করে দিতে পারে

আমাদের মনে রাখা উচিৎ যে, সান্ত্বনা কোনো ঔষধ নয়। আপনার কাছে অন্য আরেকজনের মানসিক সমস্যাটাকে অনেক নগণ্য মনে হতে পারে যদি না আপনিও একই মানসিক সমস্যার ভুক্তভোগী হয়ে থাকেন। তাই কেউ মানসিক সমস্যায় ভুগলে, আপনি যদি সত্যিই তাকে সাহায্য করতে চান তবে প্রশমিত বাক্য না বলে বরং তার কাজের চাপটা ভাগ করে নিন, তাকে কিছু উপহার দিন, কিংবা একটু সময় দিন যাতে করে সে নিজেকে একা না মনে করে। যাতে করে সে বুঝতে পারে হ্যাঁ, কেউ একজন সবসময় তার জন্য আছে।

রাজধানীর নাম জানাটা সাধারণ জ্ঞানের একটা গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই ১০ মিনিট স্কুলের এই মজার কুইজটির মধ্যমে যাচাই করে নাও নিজেকে!

আমাদের দেশে Bipolar Disorder এর ভুক্তভোগী অনেকে থাকলেও কিন্তু এখানে অনেক কম মানুষই এই শব্দটার সাথে পরিচিত আর যারা পরিচিত তাদের মাঝে অনেক কম মানুষের এই বিষয় সুস্পষ্ট ধারণা রয়েছে। অনেকেই Bipolar Disorder শব্দটা শুনেই ঘাবড়ে যান, ভাবেন কি না কি!

daily life, life tips, mental health
Via: healthyplace.com

কিন্তু Bipolar Disorder আসলে তেমন বড় কোনো অসুখ নয় যদি ভুক্তভোগী তার নিজ ইচ্ছাশক্তি দিয়ে একে দূর করে দিতে পারে। Bipolar Disorder নিয়ে একটা প্রচলিত ধারণা হচ্ছে, এর থেকে Schizophrenia এর সৃষ্টি হয়, যা সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। একজন মানুষ একই সাথে Bipolar Disorder এবং Schizophrenia তে ভুগতে পারে না।


১০ মিনিট স্কুলের লাইভ এডমিশন কোচিং ক্লাসগুলো অনুসরণ করতে সরাসরি চলে যেতে পারো এই লিঙ্কে: www.10minuteschool.com/admissions/live/

১০ মিনিট স্কুলের ব্লগের জন্য কোনো লেখা পাঠাতে চাইলে, সরাসরি তোমার লেখাটি ই-মেইল কর এই ঠিকানায়: write@10minuteschool.com

লেখাটি ভালো লেগে থাকলে বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করতে ভুলবেন না!
What are you thinking?