মাথায় কত প্রশ্ন জাগে: ৩টি মজার প্রশ্নের উত্তর!

পুরোটা পড়ার সময় নেই ? ব্লগটি একবার শুনে নাও !

তুমি যদি শৈশবে আরেকটিবার ফিরে যেতে পারতে তাহলে খুব চমকপ্রদ একটি ব্যাপার ঘটতো- পৃথিবীর রূপরস বৈচিত্র্য তুমি একদম নতুন করে আবার অনুভব করতে পারতে! শিশুদের প্রতিদিনের অভিজ্ঞতায় অনেকগুলো “প্রথম” জড়িয়ে থাকে, প্রথম পার্কে যাওয়া, প্রথম চাঁদ দেখা, প্রথম দোলনা চড়া ইত্যাদি এবং সেজন্যই সবকিছু নিয়ে তাদের অনেক অনেক প্রশ্ন, অনেক অনেক আগ্রহ।

বড় হতে হতে আমরা এই প্রশ্ন করার অভ্যাসটুকু হারিয়ে ফেলি, কিন্তু তাই বলে যে প্রশ্নগুলোর উত্তর আমাদের সব জানা আছে তা কিন্তু নয়! আজ এমনই তিনটি মজার প্রশ্ন এবং বিজ্ঞানের আলোকে সেগুলোর আরো বেশি মজার উত্তর নিয়ে এই আয়োজন।

দারুণ সব লেখা পড়তে ও নানা বিষয় সম্পর্কে জানতে ঘুরে এসো আমাদের ব্লগের নতুন পেইজ থেকে!

পরীক্ষার আগে রাত জাগতে নেই কেন?

এটি তো খুব সহজ প্রশ্ন, রাতে ঘুম ভাল না হলে পরীক্ষার হলে ঘুম পাবে সেজন্য! আমার এক বন্ধু রয়েছে সে পরীক্ষার আগে টানা তিন রাত ঘুমায়নি ফাটায়ে পড়াশোনা করেছে, পরীক্ষার হলে লিখতে লিখতে হঠাৎ সে আবিষ্কার করলো তার মাথায় কিছু আসছে না সবকিছু কেমন গুলিয়ে গেছে! এই ব্যাপারটির পেছনে একটি বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা রয়েছে।

সারাদিন আমরা যা যা করি, পড়ি, শুনি, দেখি- রাতে ঘুমানোর সময় মস্তিষ্ক তার স্মৃতিকোঠায় সেগুলোকে সঞ্চিত করে রাখে।  ঘুমের মাঝে দশ থেকে পঁচিশ মিনিটের একটি পর্যায় আছে, সেই সময়টিতে চোখ বোঁজা অবস্থায়ই তোমার চোখের মণি ভীষণ নড়াচড়া করে, হৃৎস্পন্দন বেড়ে যায়, ঘুমের মধ্যেই মস্তিষ্ক দারুণ সক্রিয় হয়ে ওঠে। একে বলা হয় Rapid Eye Movement Sleep (REM sleep)। এই সময়টিতে মস্তিষ্ক সারাদিনে যা যা ঘটেছে সেগুলো স্মৃতিকণা হিসেবে সাজিয়ে রাখে মনের প্রকোষ্ঠে।

সুতরাং বুঝতেই পারছো, পড়া মনে রাখতে চাইলে পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুম অসম্ভব গুরুত্বপূর্ণ একটি জিনিস! তাই যাদের অভ্যাস রয়েছে গোটা সিলেবাস পরীক্ষার আগের রাতে গিলতে বসার, এখন থেকেই বদলে ফেলো অভ্যাসটি। নিয়মিত অল্প অল্প করে পড়া শেষ করে রাখলে পরীক্ষার আগের রাতে ঘুমাতে পারবে নির্বিঘ্নে, ঠাণ্ডামাথায় পরীক্ষার হলে লিখতেও পারবে চমৎকার!

চলে এলো Interactive Video!

এতদিন আমরা শুধু বিভিন্ন ইন্সট্রাক্টর ভাইয়া-আপু’দের ভিডিও দেখেছি। কেমন হবে যদি ভিডিও চলার মাঝখানে আমরা কতটুকু শিখেছি সেটার উপর ছোট ছোট প্রশ্ন থাকে?
না, ম্যাজিক না। দেখে নাও আমাদের Interactive Video প্লে-লিস্ট থেকে!

১০ মিনিট স্কুলের Interactive Video!

মশাদের কীভাবে বোকা বানানো যায়?

“পিনপিন করে জ্বালায় মশা! শান্তিমতো যায় না বসা!” ওয়াশরুমের দেয়ালে কে যেন কাঁচা হাতে লিখে রেখেছে।

সত্যিই, মশাদের চোখ এড়ানো বড্ড কঠিন কাজ। আলো নিভিয়ে ঘুটঘুটে অন্ধকারে পৃথিবীর সবাইকে ফাঁকি দেয়া গেলেও মশাবাহিনী পিনপিন শব্দে ডানা মেলে ঠিক হাজির হয়ে যায় ভুরিভোজনে! কখনো ভেবে দেখেছ মশারা কীভাবে খোঁজ পেয়ে যায় আমাদের? ঘরের ভেতর চেয়ার, টেবিল, বালিশ, কাঁথা এতকিছু থাকতে কীভাবে ঠিকঠিক চিনে নেয় ওদের শিকার?

আড্ডায় এক বন্ধু গল্প ফেঁদেছে মশারির ভেতর কোলবালিশ, কাঁথার নিচে রেখে সে দিব্যি মশারির বাইরে ঘুমিয়েছে নির্বিঘ্নে, সারা রাত মশারা বেচারা বালিশটাকে মানুষ মনে করে কামড়ে হয়রান হয়ে গিয়েছে! ব্যাপারটি যে একটি তামাশা সেটি সাথে সাথে বলে দেওয়া যায়- কারণ, মশারা কাঁথার নিচে কে আছে সেটি দেখে না, তারা আসলে যেটি অনুসরণ করে তা হচ্ছে কার্বন ডাই-অক্সাইড!

ফ্রিজ ঘরের গরম হাওয়া টেনে ঠাণ্ডা করে উত্তাপটুকু আবার ঘরের ভেতরেই ফিরিয়ে দেবে

মানুষের শ্বাস-প্রশ্বাসের সাথে প্রতি মুহূর্তে কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসৃত হচ্ছে, এছাড়া মানুষের শরীরের নিজস্ব উত্তাপ তো আছেই- মশারা সেগুলো থেকে দুইয়ে দুইয়ে চার মিলিয়ে বের করে ফেলে এটি একটি জীবন্ত প্রাণী একে কামড়ানো যায়! তাহলে কি তাদের ফাঁকি দেওয়ার কোন উপায় নেই? আছে বৈকি! সিঙ্গাপুরের একদল বিজ্ঞানী বেশ মজার একটি উপায় বের করেছেন।

কৌশলটি খুব সহজ, তারা “মেগা ক্যাচ” নামের একটি বাক্স তৈরি করেছেন সেটিতে বিদ্যুতের সাহায্যে তাপ উৎপন্ন করা হয়, কার্বন ডাই-অক্সাইডকে জলীয় বাষ্পে সিক্ত করে সিলিন্ডারের সাহায্যে ছাড়া হয়- একদম হুবহু মানুষ যেভাবে নিঃশ্বাস ছাড়ে! এই তাপ এবং কার্বন ডাই-অক্সাইডের খবর পেয়ে মশারা মহানন্দে ছুটে আসে, জিনিসটি যে মানুষ নয় একটি বাক্স সেটি তারা ঘুণাক্ষরেও ধরতে পারে না! তখন তাদেরকে ফাঁদে ফেলার জন্য বাক্সের গায়ে ছোট্ট একটি দরজা দিয়ে আলোর ঝলক দেখানো হয়। অন্যান্য পোকামাকড়ের মতো মশারাও আলোর বেজায় ভক্ত (সবরকম আলো নয়, একটি নির্দিষ্ট কম্পাঙ্কের আলোর তরঙ্গ), তাই তারা নাচতে নাচতে সেই দরজা দিয়ে ঢুকে পড়ে বাক্সের ভেতরে! সেখানে তাদের জন্য অপেক্ষা করছে একটি ফ্যান, সেই ফ্যানের বনবন বাতাসের তোড়ে মশারা উড়ে গিয়ে পড়ে বাক্সের নিচে থাকা পানিতে!

answers, faq, life hacks

মশারা কিন্তু সাঁতার জানে না, তাই সেই পানিতে ডুবে অল্পতেই সলিল সমাধি ঘটে বেচারাদের। মজার এই বাক্সটি এক রাতেই হাজারখানেকের বেশি মশা ধরে ফেলতে পারে! বুঝতেই পারছো, মশাকে বোকা বানানোর কাজটি আসলে ভীষণ সহজ!

এখন স্মার্টবুকের সাথে পড়াশোনা হবে আর স্মার্টভাবে! এই লিঙ্কে চলে যাও আর দেখে নাও আমাদের স্মার্টবুকগুলো।

ফ্রিজের ডালা খুলে রাখলে কি ঘর ঠাণ্ডা হবে?

গত কয়েকবছর ধরে গ্রীষ্মকালে ভয়াবহ গরম পড়ছে দেশজুড়ে। আমাদের দেশের মানুষ অসাধারণ সৃজনশীল, এই অসহ্য গরমের মোকাবিলায় টেবিল ফ্যানের সামনে ঠাণ্ডা পানির বোতল ঝুলিয়ে রাখা, জানালার পর্দা ভিজিয়ে রাখার মতো চমৎকার নানারকম উপায় বের করে ফেলেছে তারা! এসবেও যখন গরম বাঁধ মানছে না, তখন একজনের মাথায় একটি বৈপ্লবিক ভাবনার উদয় হলো- ফ্রিজের ডালাটা খুলে রাখলে কেমন হয়?

আইডিয়াটি চমকপ্রদ তাতে সন্দেহ নেই, কিন্তু দুঃখের বিষয় ডালা খোলা রাখলে ঠাণ্ডা হওয়ার বদলে ঘর আরো গরম হবে! ব্যাপারটি ভাবতে অবাক লাগে- ফ্রিজের ভেতর পানি পর্যন্ত বরফ হয়ে যায় অথচ সামান্য ঘর ঠাণ্ডা করতে পারবে না? সেটির কারণ বোঝার জন্য আমাদের জানতে হবে ফ্রিজ কীভাবে কাজ করে। ফ্রিজের কাজের ধরণটি বেশ সহজ- তার ভেতরের জায়গাটুকু থেকে তাপ শুষে নিয়ে সেটি বাইরে খোলা পরিবেশে ছড়িয়ে দেওয়া।

ফ্রিজের চেম্বারের অলিগলিতে একরকমের তরল গ্যাস থাকে, সেটি অনবরত বাষ্পীভূত এবং তরল হওয়ার একটি প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে যায়। এভাবে ভেতরের বাতাসের উষ্ণতাটুকু শুষে নিয়ে সেটি ছড়িয়ে দেয় বাইরে, যেজন্য ফ্রিজের পেছনে হাত দিলে দেখবে বেশ গরম অনুভব করবে। এখন যদি ফ্রিজের ডালা খোলা রাখা হয় তাহলে একটি মজার কাণ্ড ঘটবে- ফ্রিজ ঘরের গরম হাওয়া টেনে ঠাণ্ডা করে উত্তাপটুকু আবার ঘরের ভেতরেই ফিরিয়ে দেবে!

answers, faq, life hacks
Via: Grey Dhaka. Steps of making Eco Cooler.

অর্থাৎ ঘরের গরম হাওয়া গরমই থাকবে, ফ্রিজের ভেতরটা কেবল ঘুরে আসবে একবার! মাঝখানে দিয়ে যেটি হবে ঘরের এ বিপুল পরিমাণ হাওয়া ঠাণ্ডা করতে গিয়ে ফ্রিজের মোটর আরো বেশি করে ঘুরতে থাকবে এবং ফ্রিজ আরো বেশি করে উত্তাপ ছেড়ে ঘর আরো গরম করে ফেলবে! চাপ সইতে না পেরে যন্ত্রপাতি বিকল হয়ে ফ্রিজ একদম অকেজো পর্যন্ত হয়ে যেতে পারে! সুতরাং, প্রয়োজনের অতিরিক্ত সময় ফ্রিজের ডালা খুলে রাখা মোটেই বুদ্ধিমানের কাজ হবে না।


১০ মিনিট স্কুলের লাইভ এডমিশন কোচিং ক্লাসগুলো অনুসরণ করতে সরাসরি চলে যেতে পারো এই লিঙ্কে: www.10minuteschool.com/admissions/live/

১০ মিনিট স্কুলের ব্লগের জন্য কোনো লেখা পাঠাতে চাইলে, সরাসরি তোমার লেখাটি ই-মেইল কর এই ঠিকানায়: write@10minuteschool.com

লেখাটি ভালো লেগে থাকলে বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করতে ভুলবেন না!
Author

Tashfikal Sami

Tashfikal Sami is a diehard wrestling & horror movie fan. Passionately loves bodybuilding, writing, drawing cartoons & a wannabe horror film director. He's currently studying at the Institute of Business Administration (IBA), University of Dhaka.
Tashfikal Sami
এই লেখকের অন্যান্য লেখাগুলো পড়তে এখানে ক্লিক করুন
What are you thinking?