ইতিহাসের মোড় ঘুরিয়ে দেয়া ৫টি বই

পুরোটা পড়ার সময় নেই? ব্লগটি একবার শুনে নাও।

“বই পড়ে আবার দুনিয়া পালটানো যায় নাকি?”

“গল্পের বই তো গল্পের বই-ই, ওসব দিয়ে আবার ইতিহাস বদলানো যায় নাকি?”

এই অজস্র নাকি-কিন্তু-অথবার প্রশ্নজালে আবদ্ধ হবার আগেই জানিয়ে রাখি, বই পড়ে কেউ দেউলিয়া হয় কি না সেটা নিয়ে সন্দেহ থাকলেও, বই থেকেই যে অনেক বিপ্লবের শুরু, সেটা কোনমতেই অস্বীকার করা যায় না।  আর অন্যসব প্রভাবের সাথে বইও যে পৃথিবীর নানা দেশের ভাঙ্গন-গঠন আর যুদ্ধের পেছনের একটা কারণ- সে প্রমাণ রাখবো এই লেখাটাতেই।

লেখা শুরুর আগেই বলে রাখি এই বইয়ের লিস্টি সম্পূর্ণ লেখকের মর্জিমাফিক করা, তাই প্রজ্ঞাবান পাঠকের এখানে ভ্রুকুটি উঠতেই পারে, দ্বিমতের পেছনে শক্তিমান যুক্তিও তৈরি থাকতে পারে। ইতিহাস বদলে দেয়া বই যখন, বড় সাংঘাতিক বিষয়! এরপরেও যদি কোনভাবে বিজ্ঞ পাঠকদের মনে কোন প্রকার অসন্তুষ্টির স্বরূপ দেখা গিয়েই থাকে, তবে লেখক ক্ষমাপ্রার্থী।

আরেকটি বিষয় বলে নেয়া আবশ্যক। এখানে কোন র‍্যাংকিং নেই, কারণ ইতিহাসের কোন র‍্যাংকিং হয় না। প্রতিটি ইতিহাসই নিজের ঘটনাবলীর গুণে অনন্য, তাই যদি কোন র‍্যাংকিং করতেই হয়, সেটা কীসের হিসেবে করা হবে সেটা নির্ধারণ করাও কিন্তু প্রায় অসম্ভব কাজ!

যাহোক, কথা আর না বাড়িয়ে শুরু করে দেয়া যাক দুনিয়া কাঁপানো বইয়ের লিস্টি।

দারুণ সব লেখা পড়তে ও নানা বিষয় সম্পর্কে জানতে ঘুরে এসো আমাদের ব্লগের নতুন পেইজ থেকে!

“On the Origin of Species”: Charles Darwin

মানুষ কী করে বানর হলো, সেটা আমরা প্রতিনিয়তই দেখতে পাই। যা কিছু ভালো তার বিরুদ্ধে সর্বদা সোচ্চার জনগোষ্ঠীতে দেখলেই সেটা বোঝা যায়। ‘সহমত ভাই’ বলাটা এই ভদ্রলোকদের প্রিয় কাজ। সেকথা থাক। প্রখ্যাত ও সর্বাংশে বিতর্কিত বিজ্ঞানী চার্লস ডারউইনের গবেষণাটা উলটো বিষয় নিয়ে।

মানুষ কি সবসময়েই মানুষ ছিলো? নাকি কালের বিবর্তনে মনুষ্যজাতি তার বর্তমান রূপ পেয়েছে? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বেড়িয়েছেন ডারউইন। কেবল মানুষ নয়, পৃথিবীতে এখন আমরা যে প্রাণীদের আশেপাশে ঘুরে বেড়াতে দেখি, আদিমকালে এদের আকার-আকৃতি এবং বৈশিষ্ট্য একইরকম ছিলো কি না- সেসব নিয়েও গবেষণা করেছেন ডারউইন। তাঁর এই গবেষণা নিয়েই লেখা বই On the Origin of Species।

ডারউইনের এই বইটি বিশ্ব কাঁপিয়েছিল দুটো কারণে। প্রথমত, বইয়ের সারমর্মে যা মনে হয়, ডারউইন প্রমাণ করে ছেড়েছেন যে মানুষ সৃষ্টির শুরুতেই এরকম স্যুটেড বুটেড মানুষ ছিলো না। ছিলো বানর-সদৃশ প্রাণী, কালের বিবর্তনে আর অভিযোজন-ক্ষমতার বলে পরিবর্তন হতে হতে মানুষ বর্তমান রূপ ধারণ করেছে। এই কালজয়ী তত্ত্বের নাম তিনি রাখলেন বিবর্তনবাদ।

ঘুরে আসুন: শ্রোডিঞ্জারের বিড়ালঃ কোয়ান্টাম মেকানিক্সে বিড়ালের কী কাজ?

ভদ্রলোকের এই তত্ত্বটিকে তৎকালীন চার্চ আর অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের ভালোভাবে নেয়ার কথা না, তারা সেটা নেয়ও নি। ধর্মমতে তো মানুষ আদিমকাল থেকেই এখনকার মতো মানুষ, তারা স্বর্গ থেকে খসে পড়েছে, মৃত্যুর পরে সেখানেই ফিরে যাবে। এই বিশ্বাসের আমূলে কুঠারাঘাত করেছেন ডারউইন সাহেব। ধর্মের বিশ্বাসের বিপরীতে বিজ্ঞানের যুক্তি- ডারউইনকে হত্যার নির্দেশ দেয়ার জন্যে এই-ই যথেষ্ট ছিলো। ভদ্রলোকের কপাল ভালো, অকালে মরতে হয়নি আততায়ীর হাতে!

সমস্যা হচ্ছে যে ডারউইনের তথ্য-প্রমাণগুলো বেশ শক্তিশালী, আর তাঁর অন্তর্ধানের পরেও যুগে যুগে শয়ে শয়ে গবেষণার ফলে দেখা গেছে যে মানুষ আসলেও সৃষ্টির শুরুতে বর্তমানের আশেপাশেও ছিলো না, এবং তাঁর চলাফেরা কিছুটা বানর সদৃশই ছিলো বটে!

 

আর নয় সময় নষ্ট করা!

দেখে নাও আজকের প্লে-লিস্টটি আর শিখে নাও কীভাবে সময় ভাল পদ্ধতিতে ব্যবহার করা যায়!

১০ মিনিট স্কুলের Life Hacks সিরিজ

দ্বিতীয়ত, কেবলমাত্র মানুষ নিয়ে গবেষণাই নয়, ডারউইনের বইটিতে ছিলো Evolution নিয়ে অনবদ্য কিছু তত্ত্ব, জীববিজ্ঞানের প্রসারে যেগুলো অনেক বেশি কাজে লেগেছে। ‘Survival of the fittest’-জাতীয় আপ্তবাক্যগুলো কেবলমাত্র যে বিবর্তনবাদের তত্ত্বের অংশ, তা নয়। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই এই জ্ঞান কাজে লাগে আমাদের।

On the Origin of Species বইটির প্রকাশকালের সময়টা ২০১৮ ছিলো না, উনবিংশ শতাব্দীর সবকিছু তখন এতোটা স্বাধীন ছিলো না। ওইরকম সময়ে এরকম একটা সাহসী বই লিখে জীববিজ্ঞান, ধর্ম, বিশ্বাস- সবকিছুতে আমূল পরিবর্তন এনে ইতিহাস বদলে দেয়ার জন্যে চার্লস ডারউইন সাহেবকে ধন্যবাদ।

“The Communist Manifesto”: Karl Marx & Friedrich Engels

কলেজপড়ুয়া হোক, নাইন-টেনের উঠতি তরুণ হোক, কিংবা সদ্য কৈশোরে পা রাখা তিন গোয়েন্দাপ্রেমী ছেলেটি- শিশু থেকে একটুখানি বড় হয়ে ওঠার পর প্রথম যেন নামটা কানে ভাসে তাদের, সেটা হলো কার্ল মার্ক্স। জার্মান ভদ্রলোক কমিউনিজম নিয়ে কি জাদু করেছেন বলা কঠিন, কিন্তু কৈশোরকাল কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম এক দুই বছরে কমিউনিজম নিয়ে একটু-আধটুও চিন্তাভাবনা করেনি- এমন মানুষ পাওয়াটা দুষ্কর।

বিশ্ব থেকে হয়তো কমিউনিজমের সেই সর্বজয়ী প্রভাবটা চলে গেছে, কিন্তু কমিউনিজমের ভূত এখনো সবার মাথা থেকে যায়নি। আর সেটা না যাওয়ার কারণ হলো কমিউনিস্ট ম্যানিফেস্টো। আমার কথাই বলি, কলেজে উঠতে না উঠতেই প্রেম ট্রেম করা বাদ দিয়ে সবার আগে কমিউনিস্ট ম্যানিফেস্টোটা পড়া শুরু করে দিয়েছিলাম। উঠতি তারুণ্যের জোশে কমিউনিজমকেই মনে হতো বিশ্বের সকল সমস্যার সমাধান।

যাইহোক, কার্ল মার্ক্স আর ফ্রেডেরিখ এঙ্গেলস- সমাজতন্ত্রের এই দুই দিকপালের লেখা বইটার ঐতিহাসিক প্রভাবটাও বলা দরকার। বিংশ শতাব্দীতে পৃথিবীর রাজনীতি নিয়ে যদি কথা বলতেই হয় তবে সবার আগে কমিউনিজম আসতেই হবে। একটা শতাব্দীর মধ্যে যে হুট করে পৃথিবীর অর্ধেক দেশ কমিউনিস্ট হয়ে গেলো, তাঁর পেছনে সবচেয়ে বেশি অবদান কিন্তু মার্ক্সের Das Capital আর এই “The Communist Manifesto”-বইটির।

সমাজতন্ত্রের সাতসতেরো- বঙ্গানুবাদ করলে হয়তো এরকম কোন নাম আসতো বইটার। কমিউনিজম কী, একজন কমিউনিস্টের কাজটা কি, তার চিন্তাধারাটা কেমন হওয়া উচিৎ- সবমিলিয়ে বলা যায় কমিউনিজমের বাইবেল ছিলো “The Communist Manifesto”। এই এক বই পড়েই কমিউনিজমের ভূতটা মাথায় ঢুকেছিলো বেশিরভাগ মানুষেরই!

ঘুরে আসুন: ভিনদেশীদের থেকে শেখার আছে অনেক কিছু!

“1984”: George Orwell

বেশ জটিল-কঠিন দুটো বইয়ের গল্প বলে ফেললাম আগেই। সত্যি কথা বলতে কী, আমরা যারা সাহিত্যপ্রেমী, ওসব সমাজ-বিজ্ঞানের জটিল তত্ত্ব আর সূত্র আমাদের মুখে সবসময় রোচে না। আমাদের দরকার হয় একটুখানি গল্প, একটুখানি কাহিনী। মিষ্টিমধুর ব্যাপারস্যাপার।

জর্জ অরওয়েলের লেখা প্রখ্যাত এই উপন্যাসটিতে অবশ্য সেসব মিষ্টি-মধুর ছিটেফোঁটাও নেই। উপন্যাস বটে, কিন্তু সেখানে মিষ্টি মিষ্টি প্রেমের গাথা নেই, আছে ভবিষ্যতের কথা। ভবিষ্যত পৃথিবী কতোটা ভয়ানক হতে পারে, প্রযুক্তির ক্রমবর্ধমান উন্নতি কীভাবে ভালোর পাশাপাশি আমাদের জন্যে ক্ষতিকরও হতে পারে- সেসবের ইঙ্গিত দেয়া আছে উপন্যাসে।

মজার ব্যাপার হলো, ১৯৪৯ সালে প্রকাশিত বইটিতে এমন সব বিষয়ের ইঙ্গিত দেয়া ছিলো, যেগুলো এই ২০১৮ তে এসে বেশ খাপে খাপে মিলে যাচ্ছে! 1984 উপন্যাসের আলোচিত বিষয় ছিল ক্ষমতায় থাকা শক্তিদের অনাকাঙ্খিত নজরদারি, মজার ব্যাপার হলো ২০১৩ সালেই ধরা পড়লো কীভাবে সারা বিশ্বের মানুষদের মোবাইল ফোন, ইমেইল এবং অন্যান্য যোগাযোগ মাধ্যমে আড়ি পাতছে সেই দেশের সরকারগুলো!

উইনস্টন স্মিথ উপন্যাসের নায়ক। এই ভদ্রলোকও বিশদভাবে নিপীড়িত সরকারের দ্বারা, তাই তিনি নেমে পড়েন এক অসম যুদ্ধে। Totalitarianism তথা সর্বগ্রাসী পদ্ধতির ছোবলে নিপীড়িতরা আরো বেশি নিপীড়িত হচ্ছে আর ধনীদের সম্পদ আরো ফুলে ফেঁপে উঠছে- 1984 এর যেই ভয়াল ভবিষ্যৎ জর্জ অরওয়েল ভেবে গিয়েছিলেন, বর্তমান সময়ের দিকে তাকালে আমরা কিন্তু সেটারই ছাপ দেখতে পাই!

অরওয়েল ভেবেছিলেন 1984-এর কথা। সেটা না হোক, 2084 সালে এমন ভয়াল ভবিষ্যতের দেখাই যে আমরা পাবো, তেমনটাই কিন্তু মনে হচ্ছে ২০১৮-তে বসে। সেই সময়ে উপন্যাসটি এতোটা সাড়া পায় নি, যতোটা না এই একবিংশ শতাব্দীতে এসে পাচ্ছে। এই এক গ্রন্থ বিশ্বের রাষ্ট্রনায়কদের ভাবাচ্ছে, সুন্দর একটা ভবিষ্যতের জন্যে লড়াইটা তাই আর থেমে নেই।

উইন্সটন স্মিথের লড়াই এখন বিশ্বের কল্যাণীয়াসু সকলের লড়াই, সেজন্যে ধন্যবাদটা জর্জ অরওয়েলকে দিতেই হয়!

“Common Sense”: Thomas Paine

এতক্ষণ যে বইগুলোর কথা বললাম সেগুলো হয়তো আকারে-ইঙ্গিতে, বিভিন্ন আইডিয়া দিয়ে কোন একটা আন্দোলনকে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছে, বিশ্বের মানুষের কাছে পরিচিতি পেয়েছে। কিন্তু এবার যে বইটির কথা বলবো সেটার আকার-ইঙ্গিতের কোন বিষয় নেই। সোজা বাংলা ভাষায় আমেরিকার স্বাধীনতার পেছনে জর্জ ওয়াশিংটনের যেমন অবদান তার কাছাকাছি অবদান রয়েছে এই বইটার। বইয়ের নাম Common Sense.

বইয়ের নামটাই বেশ ইন্টারেস্টিং। কমন সেন্স? সে তো সবারই থাকে! এ নিয়ে আবার বই কেন?

বই কেন, সে প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে বইয়ের প্রকাশকালের সময়টা বুঝতে হবে। ১৭৭৫ সালের কথা। সেসময়ের আমেরিকা আজকের মতো বিশাল পরাক্রমশালী ছিলো না। তাদের কোন কমলাচুলো প্রেসিডেন্ট ছিলো না, সেসময়ের আমেরিকানরা ইচ্ছে হলেই কোন একটা দেশের সর্বনাশ করে দিতো না। উলটো আমেরিকানদের সর্বনাশ করতো ব্রিটিশরা।

হ্যাঁ, ব্রিটিশ রাজত্ব এশিয়া ছেড়ে আমেরিকা মহাদেশ পর্যন্ত চলে গিয়েছিলো, আর সম্পদে ঠাসা আমেরিকার সম্পদ আমেরিকানরা যতোটা না পাচ্ছিলো, ব্রিটিশরা তার থেকে কয়েকশো গুণ বেশি ভোগ করছিলো। ছিল বর্ণবাদ, ছিলো দাসত্ব। এই পরাধীনতার শিকল ভেঙ্গে বের হওয়াটা ক্রমশ সময়ের দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছিল, কিন্তু শক্তিশালী ইংরেজদের সামনে সেসব বলার অধিকার বা সাহস- কোনটিই কারো ছিলো না।

এই সময়ে এগিয়ে এলেন টমাস পেইন। ভদ্রলোক খুব শুদ্ধ, সুন্দর ভাষায়, সবাই যাতে বুঝে যায়, এইভাবে লিখে ফেললেন “Common Sense”। লিখে তো ফেললেন, সেখানে আবার নাম দিলে তো মহাবিপদ! ইংরেজরা খুঁজে পেলেই তো শূলে চড়াবে! তাই বই লিখলেন বেনামে। নিজের নামটা প্রকাশ করতে দিলেন না।

বই বের হলো, বই না বলে পুস্তিকা বলাই ভালো। ছোট, ৪৯ পৃষ্ঠার একটা পুস্তিকা। কিন্তু সেখানেই ছিল বিপ্লবের বাণী। সেখানেই ছিল রুখে দাঁড়ানোর প্রেরণা। দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়লো “Common Sense”, গোটা আমেরিকায়। ইংরেজরা দেখামাত্র সেটা নিষিদ্ধ করে দিলো, কিন্তু “Common Sense” এর যাত্রা ঠেকায় কে?

প্রতিনিয়ত ছাপানো হতে লাগলো বইটি। এই বইয়ের সূত্র ধরেই পৃথিবীর সবথেকে আলোচিত বিপ্লবের একটি- আমেরিকান বিপ্লবের সূচনা হলো। ক্রমেই যা রূপ নিলো আমেরিকার স্বাধীনতার আন্দোলনে। রক্তক্ষয়ী বিপুল যুদ্ধ শেষে আমেরিকা জয়ও পেলো। সৃষ্টি হলো স্বাধীন একটি রাজ্য। অবশ্য বর্তমানে বিপ্লবের প্রতীক সেই রাষ্ট্রের বিশ্বজুড়ে অনাচার দেখলে সম্ভবত টমাস পেইন নিজেই লজ্জা পেয়ে যেতেন!

 

ইংরেজি ভাষা চর্চা করতে আমাদের নতুন গ্রুপ- 10 Minute School English Language Club-এ যোগদান করতে পারো!

Silent Spring: Rachel Carson

উপরের চারটি বইয়ের নাম সকল বইপোকা অন্তত শুনেছে, এই বিষয়ে নিশ্চিত করাই যায়। কিন্তু এই বইটির ক্ষেত্রে সেটা বলা কঠিন। র‍্যাচেল কার্সন নামের এই ভদ্রমহিলাও স্বল্প পরিচিত, কারণ তিনি রংচঙ্গে উপন্যাস লেখেন না, শিশুদের জন্যে ফ্যান্টাসি গল্পেও তাঁর দখল নেই। কিন্তু তিনি যা করেছেন, তাঁর কাজ এখন রূপ নিয়েছে বিপ্লবে।

১৯৬২ সাল। শিল্প বিপ্লব তখন তুঙ্গে। আমেরিকা-সোভিয়েত ইউনিয়নের কোল্ড ওয়ার চলছে। শিল্প-প্রযুক্তি-শিক্ষা, সবখানেই। কে আগে চাঁদে গেল, কার স্পেসশিপ আগে মঙ্গল ছুঁলো- এই নিয়ে দ্বন্দ চলছে সব শক্তিশালী রাষ্ট্রের। এইরকম একটা সময়ে পরিবেশের কথা কে ভাবে? সবাই তখন নতুন বিশ্ব নতুন গ্রহ আবিষ্কারের স্বপ্নে মশগুল।

উপর্যুপরি শিল্পোৎপাদন পরিবেশের জন্যে কখনোই ভালো না। এই বিষয়টা কারো চোখে হয়তো তখনো পড়েনি। পড়লেও, কারো খুব বেশি যায়-আসে নি। আসবেই বা কেন, মাদার আর্থ তো সবসময়েই সাথেই ছিলো, এমন কী সমস্যা হতে পারে?

সমস্যার শুরুটা তখনই। বাতাসে গ্রীনহাউজ গ্যাস। সমুদ্রের পানিতে কারখানার বর্জ্য। রাস্তায়-ড্রেনে পলিথিনের মহাবিষ্ফোরণ। সবমিলিয়ে, প্রকৃতির অবস্থা ক্রমশ খারাপ হচ্ছিলো। ঈশান কোণে ভয়াল রূপ নিচ্ছিলো Global Warming, যার ফলে একসময় হয়তো ডুবে যাবে পৃথিবীর অর্ধেকেরও বেশি অংশ! এই বিষয়টা নিয়ে অনেক পরিবেশবাদী তখনও কথা বলেছেন, এখনো বলেন। কিন্তু র‍্যাচেল কার্সনই বলতে গেলে প্রথম ব্যক্তি যিনি বই লিখে এই আশংকা ব্যক্ত করেছিলেন।

প্রযুক্তির উন্নয়নের সময়টায় তাঁর বই ভালোরকম আলোড়নই ফেলেছিলো। প্রযুক্তি প্রযুক্তি করতে করতে যে আমরা আমাদের ভবিষ্যতকেই হুমকির মুখে ফেলে দিয়েছি- সেটার প্রমাণ ছিলো বইটি। প্রযুক্তির প্রাচুর্যের এই একবিংশ শতাব্দীতে এসেও বইটির কদর কমে নি। এখন বরং আগের থেকে আরো বেশি করে পড়া হয় বইটি, কারণ গ্লোবাল ওয়ার্মিং এখন চোখের সামনেই!

Silent Spring বইটিই বলতে গেলে প্রথম বই যা পরিবেশ আন্দোলনের শুরুটা করেছিলো। বিষাক্ত সার DDT এর প্রয়োগ বন্ধের পেছনেও এই বইটির ব্যাপক অবদান রয়েছে। সবমিলিয়ে, পৃথিবীর মানুষের কাছে যাকে বলে “Wake Up Call” ছিল Silent Spring।

কী, বিশ্বাস হলো তো? সামান্য কাগজের বইও যে বিপ্লব এনে দিতে পারে, এনে দিতে পারে স্বাধীনতা, বিশ্বাস হলো এবার?


১০ মিনিট স্কুলের লাইভ এডমিশন কোচিং ক্লাসগুলো অনুসরণ করতে সরাসরি চলে যেতে পারো এই লিঙ্কে: www.10minuteschool.com/admissions/live/

১০ মিনিট স্কুলের ব্লগের জন্য কোনো লেখা পাঠাতে চাইলে, সরাসরি তোমার লেখাটি ই-মেইল কর এই ঠিকানায়: write@10minuteschool.com

লেখাটি ভালো লেগে থাকলে বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করতে ভুলবেন না!
What are you thinking?