চেনা ক্যালকুলেটরের অচেনা ব্যবহার

পুরোটা পড়ার সময় নেই? ব্লগটি একবারে শুনে নাও!

মনে করো, তুমি এখন উচ্চ মাধ্যমিকে পড়ছো। পড়াশোনাটা খুব একটা খারাপ করোনা, কিন্তু ক্লাসে অল্পস্বল্প মনোযোগের অভাব তোমার মাঝে লক্ষ করা যায়। একদিন ম্যাথ ক্লাসে হয়তো পাশের ছেলেটার সাথে খাতির করে গল্প করে চলেছো, স্যার যে কখন তোমাকে খেয়াল করেছেন সেদিকে কোন হুশ নেই তোমার।

স্যার তোমার দিকে এগিয়ে এসে বললেন, “সাদিক, সামনের দিন থেকে তোর আর ম্যাথ বই আনার কোন দরকার নাই। ক্লাসে তোর স্বভাব চরিত্র বাচ্চাদের মত। তুই তাই বাচ্চাদের ধারাপাত আর ছড়ার বই আনবি। সবাই ম্যাথ করবে আর তুই করবি ধারাপাতের অংক।” লজ্জায় আর কষ্টে চোখ দিয়ে পানি বের হয়ে যাবে তোমার। পড়ছো উচ্চ মাধ্যমিকে, অথচ স্যার সবার সামনে বললেন তুমি নার্সারি কেজির বাচ্চা! এমন অপমান আর অবিচার কি আর সহ্য করা যায়?

অবাক করার ব্যাপার হচ্ছে, এরকম অপমান আর অবিচার কিন্তু তুমি প্রতিনিয়তই করে আসছো তোমার ক্যালকুলেটরটির সাথে। হয়তো সে করার ক্ষমতা রাখে উচ্চ মাধ্যমিকে পড়ার কিন্তু তুমি তাকে প্রতিদিন পড়াও ধারাপাতের বই। যোগ-বিয়োগ-গুণ-ভাগের পাশাপাশি আমাদের ক্যালকুলেটরটি দিয়ে যে আমরা আরো কত কী করতে পারি সে বিষয়ে ধারণা কয়জন রাখি বলো তো?

চলো দেখে আসি যোগ বিয়োগ ছাড়া আর কোন কোন কাজে আমরা ব্যবহার করতে পারি আমাদের ক্যালকুলেটরটিকে

১। ম্যাট্রিক্স:

ক্যালকুলেটরের Mode বাটন থেকে Matrix Mode সিলেক্ট করে তুমি ম্যাট্রিক্সের ম্যাথগুলো ক্যালকুলেটরেই করে ফেলতে পারো। সাধারণত বহুনির্বাচনী প্রশ্নের উত্তর দিতে গেলে ম্যাট্রিক্সের অংকগুলো বেশ ভোগায় আমাদের, তাইনা? খাতা-কলমে করতে গেলে বেশ সময় নেয় ম্যাট্রিক্সের অংকগুলো। তাই ম্যাট্রিক্সের যোগ, বিয়োগ, গুণ, ডিটারমিনেন্ট, ট্রান্সপোজ ম্যাট্রিক্স, ইনভার্স ম্যাট্রিক্স ইত্যাদি এখন করে ফেলো ক্যালকুলেটরেই আর পরীক্ষার হলে বহুনির্বাচনীর উত্তর দেয়া শেষ করো সবার আগে।

২। ভেক্টর:

ম্যাট্রিক্সের মত ভেক্টরের অংকগুলোও তুমি করে ফেলতে পারো  ক্যালকুলেটরে। Mode এ যেয়ে Vector Mode সিলেক্ট করো আর এক নিমিষে করতে থাকো ভেক্টরের ম্যাথ। ভেক্টরের পরমমান কিংবা দুই ভেক্টরের মাঝের কোণ বের করতে এখন থেকে সাহায্য নাও তোমার ক্যালকুলেটরটির।

৩। লগারিদম:

তোমার সায়েন্টিফিক ক্যালকুলেটরটি দিয়ে তুমি সহজেই লগারিদমের অংকগুলো হিসাব করে ফেলতে পারো। সব ক্যালকুলেটরে log ও ln বাটন দেয়া আছে যেখান থেকে লগারিদমের গণনা করা যায় সহজেই।

৪। জটিল সংখ্যা:

জটিল সংখ্যাকে দুইভাবে প্রকাশ করা সম্ভব। পোলার স্থানাঙ্ক আর কার্তেসীয় স্থানাঙ্ক। তুমি কি জানো যে ক্যালকুলেটরে তুমি পোলার স্থানাঙ্ককে কার্তেসীয় আর কার্তেসীয় স্থানাঙ্ককে পোলার স্থানাঙ্কে রূপান্তর করতে পারো! এছাড়া জটিল সংখ্যার পরমমানও নির্ণয় করা যায় ক্যালকুলেটর দিয়ে। আর অনুবন্ধী জটিল সংখ্যা মানে বোঝো তো? ওই যে Conjugate of Complex Number? এটাও বের করে ফেলা সম্ভব ক্যালকুলেটর দিয়েই!  

৫। সমীকরণ সমাধান:

তোমার হাতের মুঠোর ক্যালকুলেটরটি দিয়ে তুমি এক নিমিষেই দুই বা তিন চলকের সমীকরণ সমাধান করে ফেলতে পারো। ক্যালকুলেটরের Mode বাটন চেপে Eqn Mode বা ইকুয়েশন মোডে নিয়ে যাও ক্যালকুলেটরটিকে। তারপর করে ফেলো দুই বা তিন চলকের সমীকরণের সমাধান চোখের পলকে।   

ক্যালকুলেটরের নতুন এই ব্যবহার শুরু করে দাও এখনি। কিন্তু তোমার কি সায়েন্টিফিক ক্যালকুলেটর আছে? বাজার জুড়ে এখন কিন্তু নকল ক্যালকুলেটরে সয়লাব। ক্যালকুলেটর কেনা অনেক সমস্যা, কোনটা নকল কোনটা আসল বোঝা দায়! এত ঝামেলা ঝক্কি না পোহাতে চাইলে অনলাইনেই একদম আসল ক্যালকুলেটর কিনে ফেলতে পারো চাইলেই! ক্লিক করে ফেলো নিচের লিংকে আর ঘরে বসে কিনে নাও আসল সায়েন্টিফিক ক্যালকুলেটর!

আসল নাকি নকল? ক্যালকুলেটর কেনার এই ঝামেলায় না গিয়ে অনলাইনেই কিনে ফেলতে পারো এই লিংক থেকে!

এই লেখাটির অডিওবুকটি পড়েছে অভিক রেহমান 

What are you thinking?