ছুটির দিন কাজে লাগিয়ে শেখো ৫টি স্কিল!

পুরোটা পড়ার সময় নেই ? ব্লগটি একবার শুনে নাও !

সারা সপ্তাহের কাজের ধকলের পর ছুটির দিন এলে গড়াগড়ি করে কাটিয়ে দিতে কার না ইচ্ছা করে? অবসরের সময়টুকু কাজের কথা ভাবলে গায়ে একদম জ্বর চলে আসে! কিন্তু বর্তমানে পৃথিবী এত প্রতিযোগিতামূলক যে প্রতি মিনিটে কেউ না কেউ তোমাকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে, যেই সময়টুকু তুমি বিছানায় কাঁথামুড়ি দিয়ে ঘুমাচ্ছো ঠিক তখন পৃথিবীর কোন এক প্রান্তে কেউ একজন নতুন কিছু শিখছে, নতুন দক্ষতা অর্জন করছে, তোমার চেয়ে যোগ্য হয়ে উঠছে একটু একটু করে। ‘

তাই ছুটির দিন পেলেই বাজে সময় খরচ না করে তুমিও মজার কিছু শিখতে পারো, জানতে পারো, গড়ে তুলতে পারো চমৎকার সব দক্ষতা। সেরকম কিছু টিপস নিয়েই আজকের এই লেখাটি।

দারুণ সব লেখা পড়তে ও নানা বিষয় সম্পর্কে জানতে ঘুরে এসো আমাদের ব্লগের নতুন পেইজ থেকে!

১. Do It Yourself

DIY (Do It Yourself) নামে চমৎকার একটি ব্যাপার রয়েছে, সোজা বাংলায় বলতে গেলে মজার মজার সব জিনিস ঘরে বসে নিজে নিজে তৈরি করে ফেলা- ছুটির দিন কাজে লাগাতে এর চেয়ে ইন্টারেস্টিং আর কিছু হতে পারে না!

তুমি একটু গুগল করলেই দেখতে পারবে DIY  নিয়ে হাজার হাজার প্রজেক্ট রয়েছে। জন্মদিনের শুভেচ্ছা কার্ড থেকে শুরু করে ছোটখাটো রকেট তৈরি করে ফেলা (খেলনা নয়, সত্যিকারের রকেটের মতোই কাজ করবে সেটি!)- DIY পৃথিবীর যত ইন্টারেস্টিং জিনিস আছে সবগুলো নিয়েই কাজ করে!

আমাদের সবারই কিছু বিষয়ে আগ্রহ থাকে, এমনিতে হয়তো ধরে বেঁধে দুই মিনিট কাজ করানো যায় না কিন্তু পছন্দের বিষয়টি নিয়ে কাজ করতে দিলে সারাদিন পড়ে থাকতেও আপত্তি নেই! DIY এ তোমার যেই পছন্দের বিষয় আছে সেটি নিয়ে ইন্টারনেটে একটু ঘাঁটাঘাঁটি করলেই চমৎকার সব টিউটোরিয়াল পাবে, একদম নিজে নিজে একটি জিনিস সৃষ্টি করার পেছনে অসম্ভব গৌরবের একটি অনুভূতি রয়েছে- যে কখনো কিছু সৃষ্টি করেনি এই আনন্দটি তাকে কোনদিন বুঝিয়ে বলা সম্ভব না!

Do It Yourself

২. পাবলিক স্পিকিং

পাবলিক স্পিকিং ব্যাপারটি শুনতে বেশ সহজ- মানুষজনের সামনে দাঁড়িয়ে কোন একটি বিষয় নিয়ে কথা বলা। কিন্তু মজার ব্যাপার হলো পৃথিবীর সবখানে মানুষ এই ব্যাপারটিকে কোন এক অজানা কারণে অসম্ভব ভয় পায়! একটু ভেবে দেখলেই বুঝবে এই ভয়টির কোন মানে হয় না, খেলাধুলা করতে গেলে তোমার হাত-পায়ের ইনজুরি হওয়ার মারাত্মক সম্ভাবনা থাকে যা পাবলিক স্পিকিং এর চেয়ে ঢের বিপজ্জনক। তবু মানুষ এই নিরীহ ব্যাপারটিকে অসম্ভব ভয় পায়, মঞ্চে দাঁড়িয়ে কথা বলতে গেলে তাদের হাত-পা কাঁপতে থাকে, গা দিয়ে কালোঘাম ছুটে যায়!

কারণটি খুব সহজ- প্র্যাকটিসের অভাব।

পৃথিবীর সব বিষয়ে তোমার দক্ষতার প্রয়োজন নেই, কিন্তু পাবলিক স্পিকিং এত বহুল গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় যে এটি মোটামুটি রপ্ত করে ফেলা ভীষণ দরকার- তুমি যেই পেশা যেই নেশাই বেছে নাও না কেন।  

পাবলিক স্পিকিং এখন তোমার হাতের মুঠোয়!

বর্তমান সময়ে পাবলিক স্পিকিং এর আবেদন সব ক্ষেত্রেই খুব বেশি। কিন্তু পাবলিক স্পিকিং তো মুখের কথা না। তাহলে উপায়?

আনন্দের বিষয় হচ্ছে আর দশটি কাজের মতোই এটিও আহামরি কঠিন কোন ব্যাপার নয়, নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে খুব সহজেই পাবলিক স্পিকিং এ দক্ষ হয়ে উঠতে পারবে তুমি। ছুটির দিনগুলোয় কোন একটি টপিক ঠিক করে (যেকোন কিছু হতে পারে, যেমন এই সপ্তাহে তোমার একটি মজার অভিজ্ঞতা হয়েছে সেই বিষয়ে অথবা তুমি একটি মুভি দেখেছ তা নিয়ে তোমার অনুভূতি) সেটি নিয়ে কিছু বলার চেষ্টা করো ইংরেজিতে (ইংরেজিতে চর্চা করা ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ, আজকাল সবখানে ইংরেজিতে কথা বলার প্রয়োজন হয় এবং সেটির চর্চা এখনই শুরু করতে হবে)

পড়ালেখার ফাঁকে ফাঁকে গ্রাফিক্স ডিজাইনিং, ভিডিও এডিটিং, এক্সেল, পাওয়ারপয়েন্ট, লেখালেখি ইত্যাদি খুব ভালোভাবে শিখে ফেলো

কারো সামনে যাওয়ার দরকার নেই, ছুটির দিন সকালে ঘরে আয়নার সামনে দাঁড়িয়েই অনুশীলন করো। নিয়মিত এই চর্চাটি করে যেতে পারলে ব্যাপারটি নিয়ে তোমার আর কোন ভয় থাকবে না, একরকম একটি ভালোবাসা জন্ম নেবে বিষয়টির প্রতি। এই পৃথিবীতে হাজার হাজার মানুষ- তাদের কাউকে তুমি চেনো না জানো না শুধু তোমার কথা দিয়ে তুমি সবাইকে মাতিয়ে দিলে- এই জাদুকরী সাফল্যে তোমার বুক আত্মবিশ্বাসে ভরে যাবে আমি সেটি একদম বাজি ধরে বলতে পারি!

৩. ইন্টার্নশিপ

ছাত্রজীবনে হাতখরচ যোগানোর সবচেয়ে জনপ্রিয় মাধ্যমটি হচ্ছে টিউশন- এই জিনিসটির একটি বড় সমস্যা রয়েছে, হাতখরচ যোগানো ছাড়া এটির কোন উপযোগিতা নেই, ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করলে জিনিসটি তেমন কোন কাজে আসবে না। তুমি কোন একটি প্রতিষ্ঠানে কাজ করলে তোমার ঝুলিতে নানা রকম অভিজ্ঞতা জমা হয়, সেগুলো পরবর্তীতে কর্মক্ষেত্রে তোমার অনেক উপকারে আসবে, সার্টিফিকেটে এই কাজের অভিজ্ঞতাগুলো প্রতিযোগীদের চেয়ে এগিয়ে দেবে তোমাকে বহুদূর। “আমার বয়স কম, কিভাবে ইন্টার্নশিপ করবো”- এই কথাটির সুযোগ নেই এখন আর, চাকরির জন্য কোন অফিসে যেতে হয় না, ঘরে বসে ইন্টারনেটেই পুরো কাজটি করে ফেলা যায়!

বয়স কেউ দেখে না। তোমার দক্ষতা আছে, কাজটি সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে পারছো কিনা সেটির উপর পুরো বিষয়টি নির্ভর করছে। তাই পড়ালেখার ফাঁকে ফাঁকে গ্রাফিক্স ডিজাইনিং, ভিডিও এডিটিং, এক্সেল, পাওয়ারপয়েন্ট, লেখালেখি ইত্যাদি খুব ভালোভাবে শিখে ফেলো। এই জিনিসগুলো সারাজীবন তোমার কাজে আসবে, আজ হোক কাল হোক জিনিসগুলো তোমাকে শিখতে হবেই, সুতরাং এখনই কেন নয়?     

১০ মিনিট স্কুল কিন্তু ইন্টার্ন নিচ্ছে! যদি হতে চাও আমাদের টীমের একজন তাহলে ঝটপট ফর্মটি ফিলাপ করে পাঠিয়ে দাও আমাদের কাছে।

৪. রান্না-বান্না  

কথাটি শুনে হাসি চলে আসতে পারে, আমাদের প্রজন্মের বেশিরভাগ ছেলেমেয়ে চুলো জ্বালাতে গেলে হাত পুড়িয়ে ফেলে, রান্না করা দূরের কথা! রান্না-বান্না করার জন্য ঘরে সহায়িকা একজন মানুষ থাকেন তিনি রেঁধে বেড়ে খাওয়ান- এই বিলাসিতাটুকু পশ্চিমা বিশ্বে কল্পনাও করা যায় না। অথচ এটি জীবনের এত মৌলিক একটি বিষয় যে, পৃথিবীর যে কোন প্রান্তে যাও না কেন এই দক্ষতাটি তোমার অসম্ভব কাজে দেবে।

তাই ছুটির দিন পেলে শিখে ফেলতে পারো নতুন একটি আইটেম রান্না, ব্যাপারটির চমৎকার শৈল্পিক একটি দিক রয়েছে সেটি আবিষ্কার করে তুমি অবাক হয়ে যাবে! ইউটিউবে অসাধারণ অনেকগুলো টিউটোরিয়াল চ্যানেল আছে, সেগুলো ঘেঁটে প্রতি সপ্তাহে বিচিত্র সব আইটেম পরীক্ষা নিরীক্ষা করে দেখতে পারো, পরিবারের সবাই মিলে একদিন একসাথে রান্না-বান্না করে পিকনিক করার যেই আনন্দ সেটির সত্যিই কোন তুলনা হয় না!   

৫. লাইফ স্কিল

বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ। এদেশের বুকে জালের মত অজস্র নদী ছড়িয়ে আছে। এদেশের সন্তান হয়ে যদি সাঁতার না জানি সেটি একটি লজ্জার বিষয়! জীবন রক্ষার জন্য সাঁতার জানা প্রয়োজন কিন্তু এর গুরুত্ব তাতেই সীমাবদ্ধ নয়- সাঁতারের মতো চমৎকার ব্যায়াম আর হয় না। সপ্তাহে ছুটির দিনগুলো হতে পারে সাঁতার শেখার জন্য চমৎকার একটা সময়। শহরে বিভিন্ন জায়গায় সাঁতার শেখার সুন্দর আয়োজন রয়েছে- বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়াম সুইমিংপুল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সুইমিংপুল, জাতীয় সুইমিং কমপ্লেক্স মিরপুর, বাংলাদেশ মহিলা ক্রীড়া সংস্থা ইত্যাদি।

বিজ্ঞানীদের একটি মজার উদ্ভাবন রয়েছে। এক ধরণের গাড়ি বের হয়েছে সেখানে তোমার নিজে থেকে কিছু করতে হবে না, গাড়িতে উঠে শুধু বলবে “চলো হে নিউমার্কেট!” গাড়ি তোমাকে নিজে নিজে একটি বুদ্ধিমান প্রাণীর মতো চালিয়ে সেখানে নিয়ে যাবে! ব্যাপারটি একটি স্বপ্নের মতো মনে হলেও আমাদের দেশে ব্যাপারটি অনেক আগে থেকেই রয়েছে, আমরাও গাড়িতে উঠে জানিয়ে দেই কোথায় যেতে হবে গাড়ি আমাদের সেখানে ঠিকঠিক নিয়ে যায়, তবে এখানে গাড়ি নিজে থেকে চলে না একজন ড্রাইভার থাকে সেটি চালানোর জন্য!

ড্রাইভিং শেখা সবার জন্যই একটি অতি জরুরী কর্তব্য। ছুটির দিনগুলোয় ড্রাইভিং শিখে ফেলো ঝটপট, রাত দুইটা বাজে বাসায় কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লো চিকিৎসা দরকার তখন ড্রাইভার খুঁজতে ছুটোছুটি কেন করতে হবে তুমি নিজেই চালিয়ে নিয়ে যেতে পারবে হাসপাতালে। 

সুইমিং, ড্রাইভিং, ফার্স্ট এইড ট্রেইনিং এই ধরণের লাইফ স্কিলগুলো কখন যে কোথায় কাজে লেগে যায় বলা যায়না, আর ছুটির দিন এগুলো শেখার খুব ভাল সুযোগ।

Skill Development


১০ মিনিট স্কুলের লাইভ এডমিশন কোচিং ক্লাসগুলো অনুসরণ করতে সরাসরি চলে যেতে পারো এই লিঙ্কে: www.10minuteschool.com/admissions/live/

১০ মিনিট স্কুলের ব্লগের জন্য কোনো লেখা পাঠাতে চাইলে, সরাসরি তোমার লেখাটি ই-মেইল কর এই ঠিকানায়: [email protected]

লেখাটি ভালো লেগে থাকলে বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করতে ভুলবেন না!
Author

Tashfikal Sami

Tashfikal Sami is a diehard wrestling & horror movie fan. Passionately loves bodybuilding, writing, drawing cartoons & a wannabe horror film director. He's currently studying at the Institute of Business Administration (IBA), University of Dhaka.
Tashfikal Sami
এই লেখকের অন্যান্য লেখাগুলো পড়তে এখানে ক্লিক করুন
What are you thinking?