দূরদর্শী নেতৃত্বে দরকার রূপকল্প: পর্ব এক

পুরোটা পড়ার সময় নেই? ব্লগটি একবারে শুনে নাও!

 

রবার্ট কে. গ্রিনলিফ তাঁর বই The Servant as Leader-এ বলেছেন, ‘রূপকল্প হচ্ছে এমন কিছু যা একজন নেতাকে নেতৃত্ব দেয়, একজন নেতাকে পথ দেখায়। যখন তিনি তার এই রূপকল্প হারিয়ে ফেলেন এবং অন্য ঘটনা দ্বারা চালিত হতে বাধ্য হন তখন তিনি কেবল নামমাত্র নেতা।…এই রূপকল্প বা ভবিষ্যৎ জানতে পারার জ্ঞান এবং সে অনুযায়ী কাজ করতে না পারার ব্যর্থতা তাদেরকে নেতৃত্বের পদ থেকে সরে যেতে বাধ্য করে।’

সকল মহান নেতারই একটি করে রূপকল্প ছিল যা তারা সম্পন্ন করেছেন। সেই রূপকল্পই তাদের প্রতিটি চেষ্টার পিছনে শক্তি জুগিয়েছে। তাদেরকে অন্য সব সমস্যা অতিক্রম করার শক্তি দিয়েছে। একজন নেতা একটি রূপকল্প সাথে নিয়ে সব জায়গায় যান এবং এটি একটি সংক্রামক চেতনার মতো যা সকলের আত্মাকে স্পর্শ করে। তারপর সকলে সেই একই চেতনা নিয়ে নেতার পাশে দাঁড়ায় ও এগিয়ে যায়।

একটি স্বপ্নকে অনুধাবন করতে একতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সানন্দে বহু ঘণ্টার শ্রম দেওয়া যায় সেই লক্ষ্য পূরণে। ব্যক্তিগত চাহিদা একপাশে সরিয়ে রাখা হয় কারণ তার চেয়ে ঐক্যবদ্ধ দলের গুরুত্ব অনেক বেশি। সময় চলে যায়, আদর্শ জেগে ওঠে, নায়োকচিত গল্প বলা হয় এবং স্বপ্ন পূরণের অঙ্গীকার ধীরে ধীরে বাস্তবে জেগে ওঠে। কেন? কারণ নেতার একটি রূপকল্প আছে!

উপরের অনুচ্ছেদ থেকে যদি একটি জিনিস সরাই তবে সব উত্তেজনা চলে যাবে এবং সেই একটি গুরুত্বপূর্ণ জিনিস হচ্ছে রূপকল্প। এটা ব্যতীত, শক্তি নিম্নগামী, সময়সীমা অনুযায়ী কাজ হয় না, ব্যক্তিগত চাহিদাগুলো দলের চেয়ে বড় হয়ে উঠতে থাকে, উৎপাদন নিম্নগামী এবং লোকজন বিক্ষিপ্ত হয়ে যায়, এদিক-ওদিক চলে যায়।

হেলেন কেলারকে জিজ্ঞেস করা হয়, ‘অন্ধ হয়ে জন্ম নেওয়ার চেয়ে খারাপ কী হতে পারে?’ তিনি জবাব দেন, ‘দৃষ্টি আছে কিন্তু রূপকল্প(vision) নেই।’ দুঃখের বিষয় হচ্ছে অনেক লোকদেরই একটি রূপকল্প ব্যতীত সংগঠনের নেতৃত্ববান পদে বসানো হয় এবং তাদের থেকে নেতৃত্ব আশা করা হয়। সকল মহান নেতাই দুই জিনিসের অধিকারী ছিলেন: তারা জানেন তারা কোথায় যাচ্ছেন এবং তারা অন্যদেরকে নিজেদের অনুসারী করতে সক্ষম। তারা একটি দফতরে লাগানো সাইনের মতো, ‘যদি আপনি যা চান তা না দেখেন, তবে আপনি ঠিক জায়গায় এসেছেন।’ এই লেখায় আলোচনা করব একজন নেতার দূরদর্শিতা এবং এটাকে ঘিরে অনুসারী সংগ্রহ করার সক্ষমতা নিয়ে।

যদিও বিশ্বে রূপকল্প শব্দটি গত কয়েক দশক ধরে অতিমাত্রায় ব্যবহার হচ্ছে, তবুও এটার কার্যকারিতা সম্পূর্ণ অক্ষত। একটি সংগঠনের প্রথম কাজ হচ্ছে লোকজনকে তাদের সংগঠনের উদ্দেশ্য একটি বাক্যে বোঝানো। অন্যরা আপনার দিকে অদ্ভুতভাবে তাকাবে যদি আপনি আপনার প্রতিষ্ঠানের বা সংগঠনের উদ্দেশ্য বলতে না পারেন। এজন্য একটি প্রতিষ্ঠান বা সংগঠন তাদের কর্মচারীদেরকে তাদের উদ্দেশ্য স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয়।

আপনার সংগঠনের জন্য কেন একটি উদ্দেশ্য নির্মাণ করা দরকার? এটার দুইটি কারণ আছে। প্রথমত, সংগঠনের রূপকল্প একটি স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য হয়ে ওঠে, যার দিকে সমগ্র সংগঠনের মনোযোগ কেন্দ্রীভূত থাকে। এটা একটি পরিষ্কার বাক্য যা এই প্রতিযোগিতার বাজারে উজ্জ্বল হয়ে আপনার ক্রেতাদের ডেকে আনবে। এটাই আপনার বেঁচে থাকার প্রকৃত কারণ।

লোকজন একটি স্বপ্নকে অনুসরণ করে না। তারা একজন নেতাকে অনুসরণ করে যার সেই স্বপ্ন আছে এবং এটাকে কার্যকরভাবে সম্পন্ন করার সামর্থ্য আছে।

দ্বিতীয়ত, রূপকল্প হচ্ছে বর্তমানের একটি নতুন যন্ত্র যা সংগঠনের ১,০০০ পৃষ্ঠার নীতিমালা দূর করে। আমরা বর্তমানে এমন একটি যুগে বাস করি যেখানে প্রচুর পরিমাণ তথ্যের প্রবাহ ঘটছে। এখানে বাঁচার জন্য দরকার একটি ভিশন বা রূপকল্প যাতে করে সকলেই সেই রূপকল্পের প্রতি মনোযোগী থাকতে পারে। রূপকল্প মানে একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্য ও একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা। যেমন, সাফল্য প্রকাশনীর একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্য হচ্ছে ২০৩০ সালের মধ্যে অনুপ্রেরণার ৬৪টি বই প্রকাশ করা। আপনিও আপনার কোম্পানির জন্য বা নিজের জন্য এমন কোন রূপকল্প নিয়ে এগিয়ে যেতে পারেন।

রূপকল্পের বিবৃতি

আপনি কল্পনায় যা দেখবেন আপনি তাই হতে পারবেন। এটা আপনার সম্ভাব্য শক্তি। আমি প্রায়ই নিজেকে জিজ্ঞেস করি: একটি রূপকল্প কি একজন নেতাকে নির্মাণ করে? নাকি একজন নেতা একটি রূপকল্পকে নির্মাণ করে?

আমি বিশ্বাস করি রূপকল্প প্রথমে আসে।আমি এমন বহু নেতাকে চিনি যারা রূপকল্প হারিয়ে ফেলেছে। সেইজন্য, নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতাও তারা হারিয়ে ফেলেছে। লোকজন তাই করে যা তারা দেখে। এটাই হচ্ছে বিশ্বের মধ্যে অনুপ্রেরণার সর্বোৎকৃষ্ট নীতি। স্ট্যানফোর্ড গবেষণা হতে জানা যায় যে আমরা যা শিখি তার ৮৯ শতাংশ দৃশ্যমান হতে, ১০ শতাংশ শ্রবণ হতে এবং বাকি ১ শতাংশ অন্যান্য ইন্দ্রিয় হতে।

অন্য শব্দে, লোকজনের অগ্রগতি নির্ভর করে দৃশ্যমান শিক্ষার ওপর। একটি রূপকল্প যখন একজন নেতার সাথে যুগলবন্দী হয় তখন একটি আন্দোলনের সূচনা ঘটে। লোকজন একটি স্বপ্নকে অনুসরণ করে না। তারা একজন নেতাকে অনুসরণ করে যার সেই স্বপ্ন আছে এবং এটাকে কার্যকরভাবে সম্পন্ন করার সামর্থ্য আছে। সেইজন্য, একজন নেতার আরম্ভ বিন্দু হচ্ছে একটি রূপকল্প, কিন্তু সেই রূপকল্প বেড়ে ওঠার জন্য দরকার অনুসারী। একজন নেতাকে অবশ্যই এই রূপকল্প অর্জন করার এবং অনুসারী যোগাড় করার দায়িত্ব নিতে হবে।

রূপকল্পের পর্যায় চারটি

কিছু লোকজন এটা কখনো দেখে না। (তারা বিস্ময়বোধকারী)

কিছু লোকজন এটা দেখে কিন্তু এটা পূরণে নিজ থেকে চেষ্টা করে না। (তারা অনুসারী)

কিছু লোকজন এটা দেখে ও এটা পূরণে নিজ থেকে চেষ্টা করে। (তারা অর্জনকারী)

কিছু লোকজন এটা দেখে, এটা পূরণে নিজ থেকে চেষ্টা করে ও অন্যদেরও দেখতে সাহায্য করে। (তারাই নেতা)

হুবার্ট এইচ. হামফ্রে  নিজেই একটি জ্বলন্ত উদাহরণ। তিনি বলেছেন, ‘যদি আপনি আপনার কল্পনার চোখে এটা দেখতে পান তবে এটা বাস্তবেও হওয়া সম্ভব।’

তিনি ১৯৩৫ সালে ওয়াশিংটন ভ্রমণকালে তাঁর স্ত্রীকে একটি চিঠি লেখেন: ‘প্রিয়তমা, আমি দেখতে পাচ্ছি যে আমি ও তুমি, আমরা যদি নিজেদের মনগুলোকে কাজ করতে স্থির করি এবং আরও বড় ও মহান কাজ করতে আমাদের মনকে কাজে লাগাই তবে আমরা হয়ত একদিন ওয়াশিংটনের সরকার, রাজনীতি বা সেবামূলক কাজে নিজেদের খুঁজে পাবো, আহ, আমার স্বপ্ন যদি সত্যি হত। যাই হোক, আমাকে চেষ্টা করে দেখতেই হবে।’ পরবর্তীতে তাঁর কাজই বলে দেয় যে তিনি তাঁর স্বপ্ন পূরণ করতে সক্ষম হয়েছেন।

আপনি তাই দেখেন যা আপনি দেখতে প্রস্তুত

সকল মহান নেতারা দুই জিনিসের অধিকারী: এক, তারা জানে তারা কোথায় যাচ্ছে এবং দুই, তারা লোকজনকে মোটিভেট করে ও তাদেরকে অনুসারী বানাতে সক্ষম হয়।

এটা কাজ করে আপনার কল্পনার চোখ বা উপলব্ধি করার ক্ষমতা দ্বারা। কনরেড এডেনিউয়ার ঠিকই বলেছেন, ‘আমরা সকলে একই আকাশের নিচে বাস করি, কিন্তু আমরা সবাই আকাশের দিকে এক দৃষ্টিকোণে তাকাই না।’

হেনরি ফোর্ড ও তার প্রকৌশলীরা উভয়ই একই আকাশের নিচে বাস করতেন, কিন্তু তাদের দৃষ্টিকোণ একই রকম ছিল না।

গাড়ি উদ্ভাবনকারী প্রতিভাবান হেনরি ফোর্ড একটি বৈপ্লবিক ধারণা নিয়ে আসেন। তিনি এমন একটি ইঞ্জিন তৈরি করতে চান যার একটি ব্লকে ৮টি সিলিন্ডার থাকবে। আজকাল আমরা এটাকে জানি ভি-৮ নামে। তিনি তার প্রকৌশলীদের নির্দেশ দেন এইরূপ ইঞ্জিনের নকশা তৈরি করতে। নকশাটি কাগজে তৈরি করা হলো কিন্তু প্রকৌশলীগণ একমত হলেন যে মানুষের পক্ষে একটি ব্লকে আটটি সিলিন্ডার বিশিষ্ট ইনজিন তৈরি করা একেবারেই অসম্ভব। 

ফোর্ড বললেন, ‘যেভাবেই হোক এটা তৈরি করুন।’

তারা বললো, ‘কিন্তু, এটা অসম্ভব!’

ফোর্ড নির্দেশ দিলেন, ‘এগিয়ে যান, যতক্ষণ পর্যন্ত না সফল হন ততক্ষণ কাজ করে যান, কোন ব্যাপারই না যত সময় লাগে লাগুক।’ প্রকৌশলীরা কাজ করতে লাগলো। ছয় মাস চলে গেল কিছুই ঘটল না। আরও ছয় মাস চলে গেল, এখনও কিছুই হলো না। প্রকৌশলীরা প্রত্যেক সম্ভাব্য উপায়ে এগিয়ে গেলেন কিন্তু দেখা গেল যে ‘অসম্ভব’।

বছর শেষে ফোর্ড তার প্রকৌশলীদের ডাকলেন এবং তারা আবারও জানালো যে কোন পথেই সমাধান খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। ফোর্ড বললেন, ‘আরও এগিয়ে যান। আমি এটা চাই এবং আমি এটা পাবই।’ তারা কাজ চালিয়ে গেল এবং তারপরই যেন জাদুর ছোঁয়ায় সেই গোপন রহস্য উন্মোচিত হলো। তারা ভি-৮ ইঞ্জিন আবিষ্কার করলেন।

হেনরি ফোর্ড ও তার প্রকৌশলীরা উভয়ই একই আকাশের নিচে বাস করতেন, কিন্তু তাদের দৃষ্টিকোণ একই রকম ছিল না।

A Savior for All Seasons বইতে উইলিয়াম বারকার একজন যাজকের ঘটনা উল্লেখ করেন। গ্রামের একটি কলেজ পরিদর্শনে  গিয়ে তিনি কলেজের অধ্যক্ষের বাসায় রাত কাটান। রাতের খাবার খাওয়ার পরে যাজক ও অধ্যক্ষ আলাপ করছিলেন। যাজক বললেন, ‘যেহেতু বিংশ শতাব্দী চলে এসেছে এবং বিজ্ঞানের অনেক দূর উন্নতি হয়েছে, আমার মনে হয় পৃথিবীতে আবিষ্কার করার মতো আর কিছুই নেই।’

তরুণ অধ্যক্ষ ভদ্রভাবে দ্বিমত পোষণ করলেন। তিনি অনুভব করেন এখনও বহু জিনিস আবিষ্কার করার বাকি আছে। এই কথা শুনে যাজক রেগে গেলেন এবং বললেন “আপনি যেকোন একটি জিনিসের নাম বলেন তো!” অধ্যক্ষ জবাব দিলেন, “আগামী পঞ্চাশ বছরের মধ্যে মানুষ আকাশে উড়তে পারবে।”

যাজক রেগে গিয়ে বললেন, ‘দূর! আজগুবি কথাবার্তা! কেবল ফেরেশতারাই আকাশে উড়তে পারে।’ মজার ব্যাপার হলো, সেই যাজকের নাম ছিল রাইট এবং তার দুই ছেলে ছিল যাদের রূপকল্প ছিল তাদের পিতা থেকেও অনেক বড়। তাদের নাম ছিল উইলবার রাইট ও অরভিল রাইট। আপনি ঠিকই ধরেছেন, প্রথম উড়োজাহাজ আবিষ্কারক সেই রাইট ভাতৃদ্বয়। বাবা ও তার ছেলেরা একই আকাশের নিচে বাস করত, কিন্তু তাদের দৃষ্টিকোণ একই রকম ছিল না।

এটা কীভাবে হয়? কেন হয়? দুইজন লোক একই জায়গায়, একই সময়ে থাকলেও উভয়েরই দৃষ্টিকোণ সম্পূর্ণ ভিন্ন হয় কেন? এটার উত্তরটা বেশ সহজ। আমরা তাই দেখি যা আমরা দেখতে প্রস্তুত, প্রকৃতপক্ষে জিনিসটি কেমন তা দেখি না। প্রত্যেক সফল নেতাই লোকজনের সম্পর্কে এই ব্যাপারটি বোঝে এবং তিনটি প্রশ্ন করে : অন্যরা কী দেখে; কেন তারা এইভাবে দেখে এবং আমি কীভাবে তাদের দৃষ্টিকোণ পরিবর্তন করতে পারি?

আপনি কল্পনায় যা দেখবেন আপনি তাই পাবেন

পরবর্তী ঘটনাটি লুই পালাউ তাঁর বই Dream Great Dreams (1984, Multnomah Press) -এ ব্যাখ্যা করেছেন। চিন্তা করুন তো, ঠাণ্ডা কোকাকোলা পান করতে কত ভালো লাগবে। পৃথিবী জুড়ে লাখো লোক এই অভিজ্ঞতাটি উপভোগ করেছে। এজন্য জনাব রর্বাট উডরুফের রূপকল্পকে ধন্যবাদ। তিনি যখন কোকাকোলার প্রেসিডেন্ট ছিলেন (১৯২৩-১৯৫৫), উডরুফ সাহসীভাবে ঘোষণা করেন যে, ‘আমরা দেখতে চাই পোশাক পরা যেকোন মানুষ পাঁচ পয়সায় একটি কোকাকোলা পান করছে। সে যেখানেই থাকুক এবং সেখানে কোকাকোলা পৌঁছাতে যত খরচই হোক।’

সতর্ক পরিকল্পনা ও প্রচুর অধ্যবসায় নিয়ে উডরুফ ও তার সহকর্মীরা সারা বিশ্বজুড়ে তাদের প্রজন্মের কাছে কোক পৌঁছে দেন।

যখন ডিজনী ওয়ার্ল্ড প্রথম চালু হলো তখন ওয়াল্ট ডিজনী আর এই পৃথিবীতে নেই। মিসেস ওয়াল্ট ডিজনী উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। পাশে দাঁড়ানো কেউ একজন মিসেস ডিজনীকে বললেন, ‘ইস, ওয়াল্ট যদি আজকের দিনটি দেখতে পেত।’ মিসেস ডিজনী বললেন, ‘সে দেখেছিল।’ ওয়াল্ট ডিজনি জানতেন। রবার্ট উডরুফ জানতেন। এমনকি ফ্লিপ উইলসনও জানতেন! আপনি কল্পনায় যা দেখবেন আপনি তাই পাবেন।

এই মুহূর্তে, আপনি নিশ্চয়ই আপনার জীবন নিয়ে চিন্তা করছেন। আপনার সামনে এগিয়ে যাওয়ার পূর্বে, আপনার একটি ব্যক্তিগত রূপকল্প কেমন হতে পারে এই সম্বন্ধে আমি একটি প্রশ্ন রাখতে চাই: ‘আমি যে পৃথিবীতে বাস করি, আমার স্বপ্ন কি সেখানে একটি পার্থক্য তৈরি করবে?’

বব বেইল, তার বই Increasing Your Leadership Confidence-এ বলেছেন, ‘একজন বিজয়ী ও একজন ব্যর্থ ব্যক্তির মানসিকতাকে বোঝার চেষ্টা করুন এবং সর্বদা মনে রাখুন। বিজয়ীরা জয় পেতে মনোযোগ দেয়। ব্যর্থরা অবশ্য ব্যর্থ হওয়ার প্রতি মনোযোগ দেয় না, কিন্তু তারা কেবল কোনরকমভাবে যেতে চায়!’

নিজেকে জিজ্ঞেস করুন, ‘আপনি কি সাফল্য অর্জনের স্বপ্নই দেখে যাবেন নাকি আপনার কাজের দ্বারা আপনি আসলেই কোন পার্থক্য গড়ে তুলবেন?’

মোইশি রোসেন এক বাক্যে মানসিক অনুশীলন করার পরামর্শ দিয়েছেন। এটা বেশ কার্যকর পদ্ধতি। আপনি খুব সহজেই আপনার স্বপ্নকে পরিমাপ করতে পারেন। পদ্ধতিটি হচ্ছে:

যদি আমার থাকতো ……………………

আমি করতাম …………………………

যদি আপনার সবকিছুই থাকত যা আপনি চান তবে আপনি কী করতেন? এই প্রশ্নের উত্তরটিই হচ্ছে আপনার স্বপ্ন। তাই চিন্তা করে উত্তর দিন এবং আপনার স্বপ্নের সাথে লেগে থাকুন।

একটি রূপকল্পকে এগিয়ে নিতে স্বতন্ত্র ব্যক্তির গুরুত্ব

রিক ওয়ারেন বলেছেন, ‘যদি আপনি একটি সংগঠনের তাপমাত্রা জানতে চান তবে সংগঠনের নেতার মুখে থার্মোমিটার দিন।’ নেতারা তাদের অনুসারীদের ততদূর নিয়ে যেতে পারে যতদূর তারা (তাদের দূরদর্শী কল্পনায়) ভ্রমণ করেছে, এর বেশি নয়। সেইজন্য রূপকল্পকে উপলদ্ধি করতে নেতার প্রতি সবাই মনোযোগ রাখে। যেমন নেতা, তেমন লোকজন। অনুসারীরা প্রথমে একজন নেতাকে দেখে এবং তারপর রূপকল্পকে দেখে। কিন্তু নেতারা প্রথমে একটি রূপকল্প দেখে এবং তারপর লোকজন খুঁজে পায়।

মহান রূপকল্পগুলোর আরম্ভই হয় একজন ব্যক্তির ‘ভেতর থেকে।’

আমি যখনই কোন সংগঠনের প্রধান বা নেতার সাথে সাক্ষাৎ করি তারা আমাকে অনেক প্রশ্ন করে। এসব প্রশ্নের মধ্যে একটি সাধারণ প্রশ্ন হচ্ছে, ‘আমি কীভাবে আমার সংগঠনের জন্য একটি রূপকল্প পাব?’ এই প্রশ্নটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যতক্ষণ পর্যন্ত না এটার উত্তর পাওয়া যাচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত একজন ব্যক্তি কেবল একজন নামমাত্র নেতা। যদিও আমি আপনাকে একটি রূপকল্প দিতে পারবো না, কিন্তু আমি আপনার সাথে কিছু পদ্ধতি বিনিময় করবো যাতে করে আপনি নিজের জন্য ও আপনার আশেপাশের লোকজনের জন্য একটি রূপকল্প খুঁজে পান।

নিজের মধ্যে দেখুন: আপনি কী অনুভব করেন?

থিওজের হেসবুর্গ বলেছেন, ‘নেতৃত্বের জন্য একটি রূপকল্প থাকা অত্যাবশ্যক যা আপনি প্রতিটি উপলক্ষ্যে স্পষ্টভাবে ও জোরালোভাবে উপস্থিত করবেন। আপনি অনিশ্চিত কোন কারণে বিজয় ডঙ্কা বাজাতে পারেন না।’ যার একটি রূপকল্পের অভাব রয়েছে কিংবা যে অন্য কারও স্বপ্নের নেতৃত্ব দিতে যায়, সেই ব্যক্তিই অনিশ্চিত কোন কারণে ‘বিজয় ডঙ্কা’ বাজায়। কিন্তু যে তার নিজের রূপকল্পের নিশ্চিত কারণে ‘বিজয় ডঙ্কা’ বাজায়, সেই প্রকৃত নেতা। অনুসারীরা তাকে মনেপ্রাণে ভালোবাসে। একজন রূপকল্পধারী ব্যক্তি এবং একজন দিবাস্বপ্ন দেখা ব্যক্তির মধ্যে বিস্তর তফাত রয়েছে।

একজন রূপকল্পধারী ব্যক্তি কথা কম বলে ও কাজ বেশি করে।

একজন দিবাস্বপ্নধারী ব্যক্তি কথা বেশি বলে ও কাজ কম করে।

একজন রূপকল্পধারী ব্যক্তি তার অভ্যন্তরীণ দৃঢ়বিশ্বাস থেকে শক্তি খুঁজে পায়।

একজন দিবাস্বপ্নধারী ব্যক্তি তার বাহ্যিক পরিস্থিতি থেকে শক্তি খুঁজে পায়।

– একজন রূপকল্পধারী ব্যক্তি সমস্যার সম্মুখীন হলেও এগিয়ে যায়।

একজন দিবাস্বপ্নধারী ব্যক্তির পথচলা যখন কঠিন হয়ে যায় তখন সে তার নির্দিষ্ট লক্ষ্য ত্যাগ করে।

বহু মহান লোকজন তাদের জীবন দারিদ্র্য থেকে আরম্ভ করেছে। তাদের জন্ম হয়েছিল কুঁড়েঘরে। অল্প শিক্ষা ও বিশেষ কোন সুবিধা ছাড়াই। থমাস আ. এডিসন ট্রেনে সংবাদপত্র বিক্রি করতেন।এন্ড্রু কার্নেগি মাসে ৪০০ টাকা বেতনে কাজ আরম্ভ করেন। জন ডি. রকফেলার মাসে ৬০০ টাকা বেতনে কাজ আরম্ভ করেন। আব্রাহাম লিংকন একটি একঘরের বাসায় জন্ম গ্রহণ করেন, কিন্তু অবিস্মরণীয় ব্যাপারটি হচ্ছে, তিনি সেই একঘরের বাসা থেকে বের হয়ে দেখিয়েছেন।

ডিমসদেনেস, প্রাচীন পৃথিবীর একজন মহান বক্তা ছিলেন, অথচ তার তোতলানোর সমস্যা ছিল! প্রথমবার যখন তিনি লোকজনের সামনে বক্তৃতা দিলেন, সামনে বসা লোকজন তার বক্তব্য শুনে হেসেছিল। জুলিয়াস সিজার ছিলেন একজন মৃগীরোগী। ফ্রান্সের সম্রাট নেপোলিয়নকে এখন অনেকেই ভাগ্যবান ও প্রতিভাবান বলে কিন্তু তিনি এগুলো থেকে বহুদূরে ছিলেন। সেনা একাডেমির ৬৫জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৪৬তম ছিলেন তিনি। বিঠোফেন ছিলেন বধির, থমাস এডিসনও তাই। চালর্স ডিকেন্স ছিলেন পঙ্গু; হেনডেলও তাই। হোমার ছিলেন অন্ধ; প্লেটো ছিলেন কুঁজো; স্যার ওয়ালটার স্কট ছিলেন প্যারালাইজড।

এই মহান পুরুষদের ভেতরে কী ছিল যা তাদেরকে এমন কঠিন সব বাঁধা অতিক্রম করে সফল করেছে? এই ব্যক্তিদের মধ্যে প্রত্যেকেরই মনের ভেতর একটি স্বপ্ন ছিল। যে স্বপ্ন আগুনের মতো জ্বলতো। এই আগুন তাদেরকে বাধার সামনে হার মানতে দেয়নি। মহান রূপকল্পগুলোর আরম্ভই হয় একজন ব্যক্তির ‘ভেতর থেকে।’

নেপোলিয়ন হিল তার বই ‘Think and grow rich’ বইয়ে লিখেছেন, ‘আপনার রূপকল্পকে ও স্বপ্নগুলোকে লালন-পালন করুন যেন এগুলো আপনার আত্মার সন্তান; আপনার চরম সাফল্যের দিকে নিয়ে যাওয়ার মানচিত্র।’

একজন অনভিজ্ঞ ব্যক্তি একটি রূপকল্পকে দেখে কেবল কল্পনার চোখে। সেই ব্যক্তির কাছে কেবল রূপকল্পই যথেষ্ট। স্বপ্নটিই যেন কাজ করবে। তিনি এটা বুঝতে ব্যর্থ যে, রূপকল্পের একটি সমর্থন বা আশ্রয় লাগে। সেই সমর্থন বা আশ্রয় হচ্ছে আপনি স্বয়ং। আপনার একটি রূপকল্প আছে, তারমানে আপনাকে প্রথমে সেই রূপকল্পের যোগ্য হয়ে দেখাতে হবে।

একজন অভিজ্ঞ ব্যক্তি জানেন, লোকজন রূপকল্পকে গ্রহণ করার আগে নেতাকে দেখে। অভিজ্ঞ নেতারা বোঝেন লোকজনের চরিত্র হচ্ছে পরিবর্তনশীল ও স্বপ্নগুলো হচ্ছে ঠুনকো। কিন্তু লোকজন যা দেখে তা ভুলে না। লোকজন যদি দেখে নেতার মধ্যে সেই রূপকল্পের প্রতি গভীর আগ্রহ ও সে কাজেও সেই রূপকল্পকে তুলে ধরেছে, তবেই লোকজন নেতাকে ও তার রূপকল্পকে বিশ্বাস করবে ও নেতাকে তার কাজগুলো করতে সমর্থন দিবে। আমার অভিজ্ঞতা থেকে রূপকল্প সম্পর্কে আমি এই সূত্রগুলো শিখেছি :

একটি রূপকল্পের বিশ্বাসযোগ্যতা নির্ধারিত হয় একজন নেতা দ্বারা।

একটি রূপকল্পের গ্রহণযোগ্যতা নির্ধারিত হয় এটা প্রকাশ করার সময়ের ওপর।

একটি রূপকল্পের মূল্য নির্ধারিত হয় এটা যে শক্তি ও নির্দেশনা দেয় তার ওপর।

একটি রূপকল্পের গৌরব নির্ধারিত হয় এটা লোকজনকে যে অঙ্গীকার করেছে তা পূরণে।

একটি রূপকল্পের সাফল্য নির্ধারিত হয় এটার সত্তাধিকারীদের দ্বারা, নেতা ও লোকজন উভয় দ্বারা।

লিওনার্ড লাউডার, লাউডার প্রতিষ্ঠানের সভাপতি, বলেছেন, ‘যখন একজন অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তি একজন অর্থশালী ব্যক্তির সাথে মিলিত হন, তখন অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তি পাবেন অর্থ এবং অর্থশালী ব্যক্তি পাবেন অভিজ্ঞতা।’

আপনার চারপাশে দেখুন: অন্যদের মধ্যে কী ঘটছে?

একটি ছোট্ট বালক সিম্ফোনিক সংগীত অনুষ্ঠানে প্রথমবারের মতো যোগ দিতে যাচ্ছে। সে অনুষ্ঠানটি নিয়ে খুবই উত্তেজিত। সিম্ফোনিক সংগীত অনুষ্ঠান হচ্ছে অনেক বাদ্যযন্ত্র নিয়ে শিল্পীদের সংগীত পরিবেশন।ছেলেটি লক্ষ্য করলো, একজন পুরুষ স্থিরভাবে মঞ্চের মধ্যে দাঁড়িয়ে আছেন ও অন্য বাদ্যশিল্পীরা বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে যাচ্ছে। তিনি মাঝে মাঝে তার হাত নাড়াচ্ছিলেন।

অনুষ্ঠান সমাপ্ত হওয়ার পরে ছেলেটির বাবা-মা তাকে নিয়ে মঞ্চের পিছনে গেল যাতে ছেলেটি শিল্পীদের প্রশ্ন করতে পারে। ছেলেটি দাঁড়িয়ে থাকা পুরুষটিকে জিজ্ঞেস করলো, ‘জনাব, আপনার মতো একজন সংগীতজ্ঞ হতে হলে আমাকে কতটা সংগীত শিখতে হবে?’ তিনি হেসে জবাব দিলেন, ‘তোমাকে বেশি শিখতে হবে না। তোমাকে কেবল জানতে হবে কখন কোন বাদ্যযন্ত্র বাজানোর নির্দেশ দিতে হয়।’

একটি ভালো ধারণা তখনই মহান হয়ে ওঠে যখন লোকজন এটার জন্য প্রস্তুত। যে স্বতন্ত্র ব্যক্তি লোকজনের প্রতি অধৈর্যশীল সে নেতৃত্বে অকার্যকর হয়ে ওঠে। বিদ্যুৎগতিতে এগিয়ে যাওয়ার মধ্যে শক্তি নিহিত থাকে না; বরং ধীর পদক্ষেপে অন্যদের সাথে নিয়ে এগিয়ে যাওয়াতেই কার্যকর নেতৃত্ব নির্ভর করে। যদি আমরা বেশি জোরে দৌড়াই তবে আমরা আমাদের প্রভাবিত করার ক্ষমতা হারাবো।

নিজেকে ছাড়িয়ে দেখুন: দেওয়ালের ওপারে বড় চিত্রটি কী?

সামনে দেওয়াল থাকলে যেমন আমাদের দৃষ্টি আটকে যায় তেমনি আমাদের জীবনের নানান ছোট ছোট সমস্যার কারণে আমরা মুখ্য লক্ষ্যটি ভুলে যাই। নিজেকে দেওয়ালের উপরে উঠানো মানে সমস্যা অতিক্রম করে বড় চিত্র দেখার চেষ্টা করুন। দেওয়ালের ওপারে বড় চিত্রটি কী? এই প্রশ্নটি একজন নেতাকে একজন ব্যবস্থাপক থেকে আলাদা করে।

নেতারা সংগঠনের মুখ্য উদ্দেশ্যগুলো নিয়ে চিন্তা করেন। তারা সংগঠনের আয়-ব্যয়ের হিসাব নিয়ে কম উদ্বিগ্ন। তাদের চিন্তা হচ্ছে সংগঠনের মুখ্য উদ্দেশ্য কীভাবে বজায় রাখা যায় এবং এটার জন্য কী অর্জন করা উচিত। তারা প্রতিটি সমস্যাকেই সুযোগে পরিণত করে এবং সংগঠনের মুখ্য উদ্দেশ্যকে সামনে নিয়ে আসে।

উপরে তাকান: সৃষ্টিকর্তা আপনার কাছ থেকে কী প্রত্যাশা করেন?

রিচার্ড ই. ডে বলেছেন, ‘মানব ইতিহাসের প্রতিটি স্বর্ণযুগ এসেছে কিছু স্বতন্ত্র ব্যক্তির ন্যায়পরায়ণ আগ্রহের প্রতি তাদের উৎসর্গের জন্য। হঠাৎ কোন আন্দোলন আরম্ভ হয় না; এটা হয়ত হঠাৎ আপনার চোখে পড়ে কিন্তু এটার আরম্ভ হয়েছে বিশ বছর আগে থেকে। সেখানে সব সময়ই একজন পুরুষ থাকে যে তার সৃষ্টিকর্তাকে জানে এবং সে কোথায় যাচ্ছে তাও জানে।’

আমাদের মধ্যকার অনেকেই মনে করে তারা তাদের গন্তব্য সম্পর্কে জানে। কিন্তু যদি প্রশ্ন করা হয়, আপনার জীবনের একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্য কী? তাহলে অনেক কথাই বলে কিন্তু একটি বাক্যে নির্দিষ্ট করে জীবনের একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্যকে চিহ্নিত করতে পারে না। ধরুন আপনি ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে যেতে চান। বাস কাউন্টারে গিয়ে আপনি যদি বলেন আমি চট্টগ্রামে যেতে চাই, তবে কাউন্টারের লোক আপনাকে জিজ্ঞেস করবে আপনি চট্টগ্রামের কোথায় যেতে চান। আপনি হয়ত বললেন, চট্টগ্রামের হালিশহর চৌরাস্তা। তখন সে আপনাকে জানাবে, দুপুর ৩.৩০ মিনিটে বাস ছাড়বে। ঠিক এমনি করে আপনি আপনার গন্তব্যস্থান ও সময়সীমা নির্দিষ্ট করুন।

আমার প্রতি সৃষ্টিকর্তার উপহার হচ্ছে আমার সম্ভাবনাময় গুণাবলি।আমি আমার এই সম্ভাবনাময় গুণাবলি দিয়ে যেসব ন্যায়পরায়ণ কাজ করেছি সেগুলোই সৃষ্টিকর্তার প্রতি আমার উপহার হবে। আমি বিশ্বাস করি মহান নেতারা সৃষ্টিকর্তাতে বিশ্বাস রাখেন। যা তাদেরকে তাদের নিজেদের চেয়েও উপরে তুলে ধরে। মহান রূপকল্পগুলো সেই ব্যক্তির চেয়েও বড়। পক্ষান্তরে, সাফল্যের সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠা পুরোপুরি ব্যর্থ হয় যখন আপনি চূড়ায় উঠে খেয়াল করেন, আপনি ভুল ভবনের চূড়ায় উঠেছেন। তাই শুরু থেকেই সতর্ক হোন।

আমার কাছে সাফল্যের সংজ্ঞা হচ্ছে :

সৃষ্টিকর্তাকে জানা ও আমার প্রতি তার প্রত্যাশাগুলো জানা;

আমার সম্ভাবনাময় গুণাবলির সর্বোচ্চ প্রয়োগ করা ও উন্নত করা; এবং

অন্যদের উপকারে আসে এমন কাজের বীজ বোনা।

আপনার কাছে কী আছে তা খুঁজে দেখুন

যে ব্যক্তি একটি রূপকল্প দেখে রূপকল্পটি সেই ব্যক্তি থেকেও বড়, মহান হতে হবে।রূপকল্প পূরণ হলে বহু লোককে স্পর্শ করা উচিত। আমি বহুবার জন এফ. কেনেডির ভাষণ পড়েছি। সেই ভাষণে তিনি ঘোষণা করেন ষাটের দশকের মধ্যে আমেরিকা চাঁদে পা রাখবে। সেই স্বপ্নই বহু লোকজনকে অনুপ্রাণিত করেছে এবং বাস্তবে পরিণত হয়েছে।

এই লেখাটি লেখকের ডিভেলপিং দ্য লিডার উইদিন ইউ বইটি থেকে নেয়া হয়েছে। পুরো বইটি কিনতে চাইলে ঘুরে আসুন এই লিংক থেকে।

এই লেখাটির অডিওবুকটি পড়েছে তাহমিনা ইসলাম তামিমা


১০ মিনিট স্কুলের লাইভ এডমিশন কোচিং ক্লাসগুলো অনুসরণ করতে সরাসরি চলে যেতে পারো এই লিঙ্কে: www.10minuteschool.com/admissions/live/

১০ মিনিট স্কুলের ব্লগের জন্য কোনো লেখা পাঠাতে চাইলে, সরাসরি তোমার লেখাটি ই-মেইল কর এই ঠিকানায়: write@10minuteschool.com

লেখাটি ভালো লেগে থাকলে বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করতে ভুলবেন না!
What are you thinking?