Uncategorized

অ্যাডার

হাইলাইট করা শব্দগুলোর উপর মাউসের কার্সর ধরতে হবে। মোবাইল ব্যবহারকারীরা শব্দগুলোর উপর স্পর্শ করো।

তোমাদের মনে কি কখনো প্রশ্ন জাগে না যে, কম্পিউটার যোগ, বিয়োগ, গুণ কিংবা ভাগের কাজ কীভাবে করে?

আসলে আমরা যদি একটু চিন্তা করি তাহলে বুঝতে পারব, গুণ ও ভাগ আসলে করা হয় বারবার যোগ এবং বিয়োগ এর মাধ্যমে। আবার বিয়োগ ও কিন্তু যোগের পরিপূরক। সুতরাং দেখা যাচ্ছে, যোগ করতে জানলেই গুণ, ভাগ কিংবা বিয়োগ করা সম্ভব। সুতরাং আমাদের প্রথমে জানা প্রয়োজন কম্পিউটার যোগের কাজটা করে কীভাবে?

বাইনারী সংখ্যা যোগ করার জন্য কম্পিউটার যে সার্কিট ব্যবহার করে তাকেই বলে অ্যাডার। অর্থাৎ যে সার্কিটের মাধ্যমে কম্পিউটার যোগ করে সেটাই অ্যাডার সার্কিট।

এখন অ্যাডার সার্কিট আবার দুই প্রকার।

১। হাফ অ্যাডার (Half Adder)
২। ফুল অ্যাডার (Full Adder)

চলো আমরা প্রথমেই হাফ অ্যাডার সম্পর্কে জেনে নিই:

হাফ অ্যাডার: হাফ অ্যাডার হচ্ছে এমন একটি সার্কিট যেটা শুধু দুটি বাইনারী সংখ্যা যোগ করতে পারে। তুমি যদি কেবল দুইটি বাইনারী সংখ্যা যোগ করতে চাও তাহলে কী হতে পারে?
আমরা জানি, দুটি বিট যোগ করলে একটি যোগফল ও একটি ক্যারি পাওয়া যায়।

নিচের টেবিলটি দেখ তাহলে ব্যাপারটি পরিস্কার হবে:

 

ইনপুট আউটপুট
A B S C
0 0 0 0
0 1 1 0
1 0 1 0
1 1 0 1

 

এখানে A ও B হচ্ছে ইনপুট। S হচ্ছে sum মানে যোগফল, আর C হচ্ছে Carry।

তার মানে হাফ অ্যাডার সার্কিট হচ্ছে এমন একটি সার্কিট যেটি দুটি ইনপুট নেয় এবং দুটি আউটপুট দেয়। অর্থাৎ আমরা যদি সার্কিটটির ব্লক চিত্র দেখি তাহলে সেটি হবে এরকম:

এই হাফ অ্যাডার সার্কিট টিকে যদি আমরা বিস্তারিত ভাবে দেখি তাহলে এরকম একটা সার্কিট পাব:

খেয়াল করে দেখ, এখানে দুইটি ইনপুট (A, B) আর দুইটি আউটপুট (S, C) রয়েছে। একটি XOR গেট এবং একটি AND গেট ব্যবহৃত হয়েছে। এই সার্কিটে উপরের টেবিল অনুযায়ী ইনপুট দিলে একটি SUM এবং একটি CARRY পাওয়া যাবে আউটপুট হিসেবে।


সঠিক উত্তরে ক্লিক করো


ফুল অ্যাডার: আমরা দেখেছি, হাফ অ্যাডার দুইটি ইনপুট দিলে হাফ অ্যাডার সেটি যোগ করতে পারে। এখন, কথা হচ্ছে ইনপুট যদি দুইটির বেশি হয় সেক্ষেত্রে কী হবে?
সেক্ষেত্রে হাফ অ্যাডার দিয়ে কাজ হবে না। সেক্ষেত্রে আমাদের লাগবে ফুল অ্যাডার।

ফুল অ্যাডারে ইনপুট থাকে তিনটি। ডেটা বিট যোগ করার জন্য দুটি এবং ইনপুট ক্যারি বিটের জন্য একটি। ফুল অ্যাডারে আউটপুট থাকে দুটি। একটি হচ্ছে যোগফল আর অন্যটি হচ্ছে আউটপুট ক্যারি বিটের জন্য। তোমরা নিচের ছবিটি দেখ তাহলে ব্যাপারটি বুঝতে পারবে।

চলো এবার ফুল অ্যাডারে ইনপুট আউটপুটের টেবিলটি দেখে নিই:

 

ইনপুট আউটপুট
A B Ci S Co
0 0 0 0 0
0 0 1 1 0
0 1 0 1 0
0 1 1 0 1
1 0 0 1 0
1 0 1 0 1
1 1 0 0 1
1 1 1 1 1

 

টেবিলে ফুল অ্যাডারে্র ইনপুট তিনটি হচ্ছে A, B ও Ci এর মাধ্যমে দেখানো হয়েছে। Ci মানে হচ্ছে ইনপুট ক্যারি। ফুল অ্যাডারের আউটপুট দুটি S ও Co এর মাধ্যমে দেখানো হয়েছে। Co মানে হচ্ছে আউটপুট ক্যারি।

চলো এবার আমরা ফুল অ্যাডারের সার্কিটটি দেখে নিই:

উপরের ছবিতে একটি ফুল অ্যাডার সার্কিটের চিত্র দেখানো হয়েছে। ছবিতে তোমরা দেখতে পাচ্ছ দুইটি XOR গেইট, দুইটি AND গেইট এবং একটি OR গেইটের সাহায্যে ফুল অ্যাডারের সার্কিটটি তৈরী হয়েছে। ফুল অ্যাডারের  ইনপুট হচ্ছে তিনটি। এগুলো হলো A,B এবং Cin 

ফুল অ্যাডারের আউটপুট হচ্ছে দুটি। এগুলো হচ্ছে S ও Cout 

 

হাফ অ্যাডার  ও ফুল অ্যাডার  সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানতে দেখে ফেল এই ভিডিওটিঃ


সত্য মিথ্যা যাচাই করো





সঠিক স্থানে ক্লিক করো


আজ এ পর্যন্তই। আশা করি, এই স্মার্ট বুকটি থেকে তোমরা চিহ্ন প্রথা সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পেয়েছো। 10 Minute School এর পক্ষ থেকে তোমাদের জন্য শুভকামনা রইলো।