মাইটোসিস কোষ বিভাজন

হাইলাইট করা শব্দগুলোর উপর মাউসের কার্সর ধরতে হবে। মোবাইল ব্যবহারকারীরা শব্দগুলোর উপর স্পর্শ করো।

“কোষ বিভাজন”- অর্থাৎ কোষের বিভাজন। অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রক্রিয়া যেটা জীবদেহে ঘটে। মূলত, কোষের সংখ্যা বৃদ্ধি করার মাধ্যমে দেহের বৃদ্ধি ঘটানোই হচ্ছে কোষ বিভাজনের মূল উদ্দেশ্য। আমাদের শরীরে প্রতি মিনিটে প্রায় ৩০০ মিলিয়ন কোষের প্রয়োজন হয়। কোষ বিভাজন দিয়েই কিন্তু এই চাহিদা পূরণ হয়। কোষ বিভাজন হচ্ছে মোট তিন ধরনের-

১) অ্যামাইটোসিস

২) মাইটোসিস

৩) মিয়োসিস

মাইটোসিস শুধু ইউক্যারিওট জীবের দেহকোষে ঘটে। এই কোষ বিভাজনে অপত্য কোষ বৈশিষ্ট্যের দিক দিয়ে মাতৃকোষের মতই হয়। একটি কোষ বিভক্ত হয়ে একই বৈশিষ্ট্যের দুইটি কোষে পরিণত হয় যেখানে ক্রোমোসোম সংখ্যা মাতৃকোষের সমান হয়।



ড্রপ ডাউনগুলোতে ক্লিক করে জেনে নাও বিস্তারিত


সঠিক উত্তরে ক্লিক করো




DNA Replication বা অনুলিপনের মাধ্যমে এটা হয়। মোটামুটি তিনটা ধাপে এটা হয়। প্রথম ধাপে DNA এর দুইটি সূত্রক আলাদা হয়ে যায়। ডিএনএ হেলিকেজ এনজাইম এই কাজটা করে।

ডিএনএ এর সূত্রক কে ছাঁচ বা টেমপ্লেট হিসাবে ব্যবহার করে নতুন নিউক্লিওটাইড গুলো একের পর এক বসে যায় এবং নতুন সূত্রক তৈরি করে। ডিএনএ পলিমারেজ নামক এনজাইম এই কাজ করে।

নিউক্লিওটাইড গুলোর মধ্যে বন্ধন তৈরি হয়। ডিএনএ লাইগেজ এনজাইম এই কাজটি করে।

G2 বা Second Gap Phase এ পুনরায় RNA ও প্রোটিন তৈরি চলতে থাকে।

ইন্টারফেজের পরই মাইটোসিস শুরু হয়। উদ্ভিদ কোষের ক্ষেত্রে মাইটোসিস শুরু হয় প্রিপ্রোফেজ ধাপ থেকে।

ড্রপ ডাউনে ক্লিক করে জেনে নাও বিস্তারিত



ড্রপ ডাউনগুলোতে ক্লিক করে জেনে নাও বিস্তারিত


প্রোফেজ, প্রোমেটাফেজ, মেটাফেজ, এনাফেজ ও টেলোফেজ- এই পাঁচটি ধাপ ছিল ক্যারিওকাইনেসিস বা নিউক্লিয়াসের বিভাজন।

এর পর কোষের পুরোপুরি বিভাজনের জন্য দরকার সাইটোকাইনেসিস বা সাইটোপ্লাজনের বিভাজন।

→ সাইটোপ্লাজমের বিভাজনের প্রক্রিয়াকে বলা হয় ক্লিভেজ।

→ মাইটোটিক স্পিন্ডলের দেখানো সেই পথ অনুসারে (মাইক্রোটিউবিউল ও একটিন ফিলামেন্টের রিং) সাইটপ্লাজমের বিভাজন শুরু হয়।

→ প্রাণী কোষে ক্লিভেজের শুরু হয় প্লাজমা মেমব্রেনের কুঁচকানো থেকে। পরে তা শুরু হয় বিষুবীয় অঞ্চলে।

→ দুই দিক থেকে এই কুঞ্চন শুরু হয় এবং পরে মিলিত হয়। তখন একটিন ও মায়োসিন তন্তু গুলো কোষের বিভাগ ঘটাতে শুরু করে।

এভাবে একটি কোষ থেকে দুইটি কোষ তৈরি হয়।


মাইটোসিসের তাৎপর্য


→ কোষের আকার বজায় রাখতে সাহায্য করে।

→ কোষে ডিএনএ ও আরএনএ এর সঠিক পরিমাণ বজায় রাখতে সাহায্য করে।

→ দেহ ও দেহের অঙ্গ প্রত্যঙ্গের আকার বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।

→ ক্ষয়প্রাপ্ত ও মৃত কোষের প্রতিস্থাপনে সাহায্য করে।

→ কিছু জীবে (যেমন: এককোষী ইস্ট) অযৌন প্রজনন বা বংশবৃদ্ধিতে সাহায্য করে।

→ জনন কোষের (যেমন: শুক্রাণু) সংখ্যা বৃদ্ধিতে।

→ জাইগোট থেকে ভ্রূণে পরিণত হতে মাইটোসিসের ভূমিকা অনেক।

→ দেহের বিভিন্ন অঙ্গের আকার বৃদ্ধিতে যেমন মাইটোসিসের ভূমিকা আছে, ঠিক তেমনি এই নিয়ন্ত্রিত কোষ বিভাজনে যখন নিয়ন্ত্রণ থাকে না, তখন এটি রূপ নেয় টিউমারে। আর টিউমার থেকে হয় ক্যান্সার।

→ একটা সাধারণ দেহ কোষ থেকেও হতে পারে ক্যান্সার। কোষের নিয়ন্ত্রক যে ডিএনএ, সেখানে যদি কোনোভাবে পরিবর্তন চলে আসে, তবে তাকে বলে মিউটেশন।

এই মিউটেশন সৃষ্টিকারী উপাদানগুলোকে বলা হয় মিউটাজেন (mutation + genesis = mutagen)। কোষের বিভাজন নিয়ন্ত্রণকারী জিনগুলোতে মিউটেশন ঘটলে সাধারণত টিউমার হয়। যেমন:

→ p53 জিনকে বলা হয় জিনোমের অভিভাবক। এই জিন পুরো কোষ চক্রকে নিয়ন্ত্রণ করে। মানুষে ঘটা ক্যান্সারগুলোর জন্য ৫০% ক্ষেত্রে এই জিনেই মিউটেশন ঘটে।

→ BRCA1 জিনকে বলা হয় ব্রেস্ট ক্যান্সারের জিন। এই জিন টিউমার তৈরিতে বাধা দেয়। এই জিনে যদি মিউটেশন হয়, তখনো টিউমার হতে পারে। টিউমার দুই ধরনের-

১) বিনাইন

২) ম্যালিগন্যান্ট

যেখানে টিউমার হয়েছে, সেখান থেকে যদি আর না ছড়ায়, তবে তাকে বিনাইন টিউমার বলে। কিন্তু কখনো কখনো যেখানে টিউমার হয়েছে, সেখান থেকে কিছু কিছু অংশ রক্তের মাধ্যমে দেহের অন্যান্য স্থানে চলে যায় এবং বেড়ে উঠতে শুরু করে। একে ম্যালিগন্যান্ট টিউমার বলে।

টিউমারের অস্বাভাবিক বৃদ্ধির পিছনে মিউটেশন ছাড়াও আরেকটি কারণ হচ্ছে এনজিওজেনেসিস।

টিউমারগুলো রক্তে কিছু প্রোটিন ছেড়ে দেয় যা রক্তনালিকাকে শাখা তৈরি করে রক্ত ও গ্লুকোজ সাপ্লাইয়ের ব্যবস্থা করতে উদ্বুদ্ধ করে। ফলে টিউমার বাড়তেই থাকে। তাছাড়া টিউমার কোষ সাধারণ কোষের মত মরণশীল নয়। এরা ক্রমাগত বিভাজিত হতেই থাকে। সুতরাং এদের বিভাজন বন্ধ করতে রেডিয়েশন বা ডিএনএ রেপ্লিকেশন বন্ধ করা ছাড়া উপায় থাকে না।

তবে মাইটোসিসের অপকারিতাটা নিতান্তই দূর্ঘটনা। এছাড়া ছোট্ট বাচ্চাটা থেকে বড় হওয়া বলো কিংবা ক্ষত শুকানোই বলো, মাইটোসিস ছাড়া কিন্তু উপায় নেই!



আশা করি, এই স্মার্ট বুকটি থেকে তোমরা মাইটোসিস কোষ বিভাজন সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পেয়েছো। 10 Minute School এর পক্ষ থেকে তোমাদের জন্য শুভকামনা রইলো।