মিয়োসিস কোষ বিভাজন

কোষ বিভাজন কী?


প্রথমে শুরু করা যাক একটা গুরুগম্ভীর কেতাবি সংজ্ঞা দিয়ে, “কোষ বিভাজন একটি মৌলিক ও অত্যাবশ্যকীয় প্রক্রিয়া যার দ্বারা জীবের দৈহিক বৃদ্ধি ও বংশবৃদ্ধি ঘটে।”

কতখানি বোঝা যায়? শুনতে বেশ ভয়ানক।

সোজা বাংলায়, জীবদেহের গঠনগত এবং দৈহিক কাজের একক যে কোষ, তার বিভাজন বা বিভক্ত হওয়ার প্রক্রিয়াটাই কোষ বিভাজন। যেহেতু এটি কমবেশি সব জীবদেহেই ঘটে এবং ঘটতেই হয় (কোষের সংখ্যাবৃদ্ধির জন্য), সুতরাং এটি হলো মৌলিক অর্থাৎ একেবারে মূল প্রক্রিয়া গুলোর মাঝে একটি। তাছাড়াও এটি একটি অন্যতম প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া।

আমরা ছবির এলবামে নিজেদের ছোটবেলার ছবি দেখি। ছবির মানুষটার আকার আকৃতির সাথে কিন্তু বর্তমানের মানুষটাকে মেলানো কষ্ট। এই যে আমাদের বেড়ে ওঠা, সেটার পিছনের কারণ হলো আমাদের দেহের কোষের সংখ্যাবৃদ্ধি,অর্থাৎ কোষ বিভাজন।

সংজ্ঞাটির পরবর্তী শব্দটা কী?

একদম ঠিক, বংশবৃদ্ধি।

এই বংশবৃদ্ধি শব্দটার ব্যবহার এককোষী আর বহুকোষী জীবের ক্ষেত্রে ভিন্ন।

এককোষী জীবের দেহের সকল কাজ একটি কোষের মাধ্যমে হয়। সুতরাং কোষের সংখ্যাবৃদ্ধি মানেই জীবের বংশবৃদ্ধি!

বহুকোষী জীবের ক্ষেত্রে বংশবৃদ্ধির বিষয়টি আজকের আলোচনার মূল বিষয়ের অন্তর্গত – “মিয়োসিস কোষ বিভাজন”।


কোষ বিভাজনের প্রকারভেদ


হাইলাইট করা শব্দগুলোর উপর মাউসের কার্সর ধরতে হবে। মোবাইল ব্যবহারকারীরা শব্দগুলোর উপর স্পর্শ করো।

“কোষ বিভাজন মূলত তিন প্রকার –

১) অ্যামাইটোসিস: প্রাককেন্দ্রিক কোষে ঘটে। একটি কোষ বিভক্ত হয়ে দুটি কোষে পরিণত হয়।

২) মাইটোসিস: উন্নত জীবের দেহ কোষ, যা জীবের বৃদ্ধিতে সাহায্য করে, সেই কোষের সংখ্যা বৃদ্ধি ঘটে মাইটোসিস কোষ বিভাজন।

মাইটোসিস শব্দটা নেওয়া হয়েছে গ্রীক mitos থেকে, যার অর্থ পাক খোলা।

কার পাক খোলে??

ক্রোমোসোমের।

ক্রোমোসোম ঘন অবস্থা পানি শোষণের মাধ্যমে থেকে সুতার মত আকার নেয় বলে এই পদ্ধতির নাম মাইটোসিস।

গ্রীক শব্দে “অ্যা” বা ‘a’ দ্বারা বুঝানো হয় মূলত না বোধক কিছু।

সুতরাং ‘অ্যামাইটোসিস’ মানে হচ্ছে ‘নয় মাইটোসিস’।

কেন নয় মাইটোসিস?? এখানেও তো মাইটোসিসের মত একটি থেকে দুইটি কোষ উৎপন্ন হচ্ছে!
এর কারণ হচ্ছে মাইটোসিস একটি সুশৃঙ্খল কোষ বিভাজন পদ্ধতি যেখানে একটি কোষ পাঁচটি ধাপে খুব সুন্দরভাবে দুটি কোষে পরিণত হয়।

সাইটোকাইনেসিস: এই ধাপে সাইটোপ্লাজম এর বিভাজন ঘটে কোষ দুটো আলাদা হয়ে যায়।”

অ্যামাইটোসিস এত নিয়ম কানুন মানে না।

যেহেতু প্রাককেন্দ্রিক কোষে নিউক্লিওলাস নিউক্লিয়ার মেমব্রেন কিছুই নেই, তাই এত নিয়ম কানুন মানার দরকারই পড়ে না। প্রথমে নিউক্লিয়াস (আসলে নিউক্লিয়ার বস্তু) এবং পরে সাইটোপ্লাজম দুই ভাগ হয়ে দুটি কোষে পরিণত হয়।
মাইটোসিস এবং অ্যামাইটোসিস দুটি পদ্ধতিতেই মাতৃকোষের ক্রোমোসোম সংখ্যা বিভক্ত হওয়া নতুন কোষ (একে অপত্য কোষও বলা হয়) গুলোতে সমান হয়।

কিন্তু মিয়োসিস কোষ বিভাজনে তা হয় না।

অপত্য কোষে ক্রোমোসোম সংখ্যা মাতৃকোষের ক্রোমোসোম সংখ্যার অর্ধেক হয়।

যেহেতু এখানে ক্রোমোসোমের সংখ্যা হ্রাস পাচ্ছে বা কমে যাচ্ছে, এজন্য মিয়োসিস কোষ বিভাজনের আরেক নাম ‘হ্রাসমূলক কোষ বিভাজন’।

সুতরাং মাইটোসিস এবং মিয়োসিস দুটিই কোষ বিভাজন হলেও ফলাফল আলাদা।


ড্রপ ডাউনগুলোতে ক্লিক করে জেনে নাও বিস্তারিত

মিয়োসিস -১ এর ধাপ চারটি:

→ প্রোফেজ – ১
→ মেটাফেজ – ১
→ এনাফেজ – ১
→ টেলোফেজ – ১

ইন্টারকাইনেসিস: মিয়োসিস কোষ বিভাজন প্রক্রিয়ায় নিউক্লিয়াসের প্রথম ও দ্বিতীয় বিভক্তির মধ্যবর্তী সময়কে (মিয়োসিস – ১ ও ২ এর মাঝখানের সময়কে) ইন্টারকাইনেসিস বলে। এসময় প্রয়োজনীয় DNA, প্রোটিন এগুলো তৈরি হয়। তবে DNA এর অনুলিপন বা রেপ্লিকেশন হয় না।

মিয়োসিস – ২ এর চারটি ধাপ:

→ প্রোফেজ – ২
→ মেটাফেজ – ২
→ এনাফেজ – ২
→ টেলোফেজ – ২

মিয়োসিস – ২ এর শেষের ধাপ হলো সাইটোকাইনেসিস বা সাইটোপ্লাজমের বিভাজন।
কোনো কোনো জীবে মিয়োসিস – ১ এর পরই সাইটোপ্লাজম দুই ভাগ হয়ে দুটি কোষের সৃষ্টি করে অথবা সাইটোকাইনেসিস তখন না হয়ে একবারে মিয়োসিস – ২ এর পর সাইটোপ্লাজমের বিভাজন ঘটে। তখন একবারে ৪টি কোষ তৈরি হয়।


মিয়োসিস – ১ এর ধাপ


মিয়োসিস – ১ এর ধাপগুলো নিম্নরূপ:

প্রোফেজ – ১:

→ সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী ধাপ

→ পাঁচটি ধাপে (লেপ্টোটিন, জাইগোটিন, প্যাকাইটিন, ডিপ্লোটিন, ডায়াকাইনেসিস) সংঘটিত হয়।

→ হোমোলোগাস ক্রোমোসোম জোড়া ডিএনএ এর অংশবিশেষ বিনিময় করে। একে ক্রসিং ওভার বলে।

→ যেহেতু ডিএনএ এর বিনিময় হয়, সুতরাং জিনেরও বিনিময় হয়। অর্থাৎ জেনেটিক বৈশিষ্ট্য বিনিময় হয়। সুতরাং বৈচিত্র্য পাওয়া সম্ভব হয়।

→ নন সিস্টার ক্রোমাটিড কায়াজমাটা (greek chiasma = cross piece) নামক স্থানে একে অপরের সাথে যুক্ত হয়।

লেপ্টোটিন:

→ অপর নাম লেপ্টোনেমা।

→ দুটি ধাপ- প্রোলেপ্টোটিন/প্রোলেপ্টোনেমা এবং লেপ্টোটিন/লেপ্টোনেমা।

→ ক্রোমোসোম সরু, প্যাঁচহীন ও সুতার ন্যায় হয়।

→ সেন্ট্রিওল বিভক্ত হয় এবং দুইটি সেন্ট্রিওল কোষের দুইদিকে সরে যায়।

→ ক্রোমোসোম গুলো বিশেষ গঠন তৈরি করে যেখানে একে দেখতে একটি ফুলের তোড়া বা বুকেট মনে হয়। একারণে লেপ্টোটিনকে “bouquet stage”ও বলা হয়।

জাইগোটিন:

→ greek ‘zygon’ = যুক্ত হওয়া

→ হোমোলোগাস ক্রোমোসোমগুলো একে অপরের সাথে জুটিবদ্ধ হয়।

→ এই জুটিবদ্ধ হওয়ার প্রক্রিয়াকে বলা হয় সিন্যাপসিস (greek synapsis = union, একত্রিত হওয়া)

→ সিন্যাপসিস এক বা একের অধিক স্থানে শুরু হতে পারে।

→ তিন প্রকার সিন্যাপসিস হতে পারে।

→ হোমোলোগাস ক্রোমোসোমগুলো সিন্যাপটোনোমাল কমপ্লেক্স দ্বারা পরস্পরের সাথে যুক্ত থাকবে।

প্যাকাইটিন:

→ ক্রোমোসোমগুলো একে অপরের সাথে প্যাঁচানোভাবে যুক্ত থাকে, একারণে এদের আলাদা করা যায় না। (মনে রাখা যেতে পারে এভাবে, ”প্যাকাইটিনে প্যাঁচানো”)

→ এই ধাপের ক্রোমোসোমগুলো ক্রোমাটিডে পরিণত হয়।

→ এই ধাপে ক্রসিং ওভার সংঘটিত হয়।

→ প্যাকাইটিন ও জাইগোটিন ধাপে কিছু ক্ষুদ্র ডিএনএও তৈরি হয়, যা ক্ষতিগ্রস্ত ডিএনএ এর মেরামত করতে ব্যবহার করা হয়।

ডিপ্লোটিন:

→ একে ডিপ্লোনেমাও বলা হয়।

→ হোমোলোগাস ক্রোমোসোমের জোড়া ভাঙতে শুরু করে। একে ডিসিন্যাপসিস ও বলা হয়। ক্রোমাটিড গুলো দৃশ্যমান হয়।

→ সিন্যাপটোনেমাল কমপ্লেক্স দ্রবীভূত হতে থাকে। ক্রোমোসোমগুলো কায়াজমাটা দ্বারা যুক্ত থাকে।

ডায়াকাইনেসিস:

→ ক্রোমোসোমগুলো ঘনীভূত হয়।

→ নিউক্লিওলাস অদৃশ্য হয়ে যায়।

→ নিউক্লিয়ার মেমব্রেন ভেঙে যায়।

→ কায়াজমা ক্রোমোসোমের প্রান্তের দিকে এগিয়ে আসতে থাকে। একে প্রান্তীয়করণ বলে।

মেটাফেজ -১:

→ ক্রোমোসোমগুলো স্পিন্ডল তন্তুর সাথে সেন্ট্রোমিয়ার দ্বারা যুক্ত হয়।

→ হোমোলোগাস ক্রোমোসোমের মাঝে বিকর্ষণ সৃষ্টি হয় এবং তারা আলাদা হতে শুরু করে।

→ সেন্ট্রোমিয়ার ক্রোমোসোমকে স্পিন্ডল যন্ত্রের মেরুর দিকে নিয়ে যেতে শুরু করে।

এনাফেজ – ১:

→ মাইক্রোটিউবিউল বা ক্রোমোসোমাল তন্তুগুলো মেরুর দিকে আকর্ষিত হয় এবং ছোট হতে থাকে। ফলে ক্রোমাটিডগুলো মেরুর দিকে যেতে থাকে।
ক্রোমাটিডগুলো মেরুতে পৌঁছলে এনাফেজ-১ ধাপ শেষ হয়।

টেলোফেজ – ১:

→ এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম নিউক্লিয়ার মেমব্রেন তৈরি করে।

→ ক্রোমোসোম পুনরায় সুতার মত আকৃতি লাভ করে।

→ নিউক্লিওলাস দৃশ্যমান হয়। এই পুরো প্রক্রিয়াকে নিউক্লিয়াস পুনর্গঠন বা ক্যারিওকাইনেসিস বলে।

→ ক্যারিওকাইনেসিস এর পর সাইটোকাইনেসিস হয় এবং দুটি হ্যাপ্লয়েড কোষ তৈরি হয়।

→ এখানে একটি ছোট ধাপ আছে, যাকে ইন্টারফেজ বলে। এই ধাপে ক্রোমোসোমগুলো বিশ্রামে থাকে।



মিয়োসিস – ২:

মিয়োসিস – ২ প্রক্রিয়াটি মাইটোসিস এর মতোই। মাইটোসিস প্রক্রিয়ায় যেমন একটি কোষ থেকে দুটি কোষ তৈরি হয়, তেমনি মিয়োসিস – ২ তেও হয়। তবে কোষ সংখ্যা দুটি বলে পরে চারটি কোষ পাওয়া যায়।

প্রোফেজ – ২:

→ সেন্ট্রিওল দুই ভাগে ভাগ হয় এবং দুই বিপরীত মেরুতে চলে যায়।

→ মাইক্রোটিউবিউলগুলো স্পিন্ডল তন্তু তৈরি করে।

→ নিউক্লিয়ার মেমব্রেন ও নিউক্লিওলাস অদৃশ্য হয়।

→ ক্রোমোসোম খাটো এবং মোটা হয়।

মেটাফেজ – ২:

→ ক্রোমোসোমগুলো স্পিন্ডল যন্ত্রের বিষুবীয় অঞ্চলে আসে।

→ সেন্ট্রোমিয়ার দুই ভাগে ভাগ হয় এবং দুইটি ক্রোমোসোম তৈরি করে।

→ সেন্ট্রোমিয়ার স্পিন্ডল তন্তুর সাথে যুক্ত হয়।

এনাফেজ – ২:

→ স্পিন্ডল তন্তু মেরুর দিকে সংকুচিত হয় এবং ক্রোমাটিডগুলো মেরুর দিকে অগ্রসর হয়।

→ ক্রোমাটিডগুলো মেরুতে পৌঁছলে এই ধাপের শেষ হয়।

টেলোফেজ -২:

→ ক্রোমোসোমগুলো মেরুতে পৌঁছায়। এই পর্যায়ে এদের ক্রোমোসোম বলা যায়।

→ এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম নিউক্লিয়ার মেমব্রেন তৈরি করে।

→ নিউক্লিওলাস দৃশ্যমান হয়।

→ পুনরায় সাইটোকাইনেসিস হয় এবং এ পর্যায়ে ৪টি কোষ তৈরি হয়।


সঠিক উত্তরে ক্লিক করো


মিয়োসিস ১ ও মিয়োসিস ২ এর পার্থক্য

মিয়োসিস -১ মিয়োসিস -২
১. হ্রাসমূলক বিভাজন। ১. ইকােয়েশনাল বিভাজন।
২. ক্রোমোসোম সংখ্যা ডিপ্লয়েড থেকে হ্যাপ্লয়েড হয়। ২. বিভাজনে ক্রোমোসোম সংখ্যা হ্যাপ্লয়েড ই থাকে।
৩. ক্রসিং ওভার ঘটে। ৩. ক্রসিং ওভার ঘটে না।
৪. হোমোলোগাস ক্রোমোসোম জোড়া আলাদা। ৪. সিস্টার ক্রোমাটিড আলাদা।
৫. বিভাজন প্রক্রিয়া জটিল। ৫. বিভাজন প্রক্রিয়া সরল।
৬. বিভাজন ব্যাপ্তিকাল দীর্ঘ। ৬. বিভাজন ব্যাপ্তিকাল অল্প।
৭. প্রোফেজ পর্যায়ে সিস্টার ক্রোমাটিড এ একমুখী বাহু থাকে। ৭. প্রোফেজ পর্যায়ে সিস্টার ক্রেমাটিড এ বিপরীত মুখী বাহু থাকে।
৮. প্রোফেজকে ৫ টি উপপর্যায়ে ভাগ করা যায়। ৮. প্রোফেজের কোন উপপর্যায় নেই।
৯. দুটি অপত্য কোষ সৃষ্টি করার মাধ্যমে শেষ হয়। ৯. ৪ টি অপত্য কোষ সৃষ্টি করে।

ড্রপ ডাউনটিতে ক্লিক করে জেনে নাও বিস্তারিত


মাইটোসিস ও মিয়োসিস কোষ বিভাজনের মধ্যে পার্থক্য

মাইটোসিস মিয়োসিস
১. জীবের দেহকোষে সংঘটিত হয়। ১. জীবের জননকোষে সংঘটিত হয়।
২. বিভাজন দেহকোষে সংঘটিত হয় বলে দেহের বৃদ্ধি ঘটে। ২. বিভাজন জীবের জনন মাতৃকোষে সংঘটিত হয় বলে গ্যামেট তৈরি হয়।
৩. কোষ একবারই বিভাজিত হয়। ৩. কোষ দুইবার বিভাজিত হয়।মিয়োটিক -১ ও মিয়োটিক -২ বিভাজন।
৪. প্রতিটি বিভাজনের শুরুতেই ইন্টারফেজ সংঘটিত হয়। ৪. শুধুমাত্র মিয়োসিস -১ এ ইন্টারফেজ সংঘটিতো হয়।
৫. ডিএনএ প্রতিলিপি ইন্টারফেজ -১ এ ঘটে। ৫. ডিএনএ প্রতিলিপি ইন্টারফেজ -১ ঘটে কিন্তুু ইন্টারফেজ -২ এ হয় না।
৬. একবার কোষ বিভাজনে একবার একবার ডিএনএ প্রতিলিপিত হয়। ৬. দুইবার কোষ বিভাজনে একবার ডিএনএ প্রতিলিপিত হয়।
৭. প্রোফেজ পর্যায়ের পর্যায়কাল অল্প।সাধারনত কয়েক ঘন্টা। ৭. প্রোফেজ সংঘটিত হতে তুলোনামূলকভাবে বেশিসময় নেয় এমনকি কয়েকদিন পর্যন্ত।
৮. কোষ ও ক্রোমোসেম একবার করে বিভাজিত হয়। ৮. কোষ দুইবার কিন্তুু ক্রোমোসোম একবার বিভাজিত হয়।
৯. কোন সিন্যাপসিস নেই। ৯. প্রোফেজ পর্যায়ে সিন্যাপসিস ঘটে।
১০. ক্রসিং ওভার হয় না। ১০. প্যাকাইটিন পর্যায়ে ক্রসিং ওভার হয়।
১১. একটি ক্রমোসোমের দুইটি ক্রোমাটিড জীনগতভাবে একই। ১১. ক্রসিং ওভারের জন্য একটি ক্রোমোসোমের দুইটি ক্রোমাটিড আালাদা হয়।
১২. সেন্টেমেয়ারের বিভাজন অ্যানাফেজ পর্যায়ে হয়। ১২. শুধুমাত্র অ্যনাফেজ -২ তে সেন্ট্রেমিয়ার বিভাজিত হয়।
১৩. স্পিন্ডল ফাইবার পুরোপুরি অদৃশ্য হয় টেলোফেজ পর্যায়ে। ১৩. টেলোফেজ -১ এ স্পিন্ডল ফাইবার পুরেপুরি বিলুপ্ত হয় না।


আশা করি, এই স্মার্ট বুকটি থেকে তোমরা মিয়োসিস কোষ বিভাজন সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পেয়েছো। 10 Minute School এর পক্ষ থেকে তোমাদের জন্য শুভকামনা রইলো।