Uncategorized

লিঙ্গ নির্ধারণ নীতি, সেক্স লিংকড ডিস অর্ডার, ABO ও Rh ফ্যাক্টর

লিঙ্গ নির্ধারণ নীতি


মোটামুটি যখন থেকে আমরা ক্রোমোজোম সম্পর্কে ধারণা পেয়েছি তখন থেকে আমরা জানি, আমাদের প্রত্যেকটা কোষে ২৩ জোড়া বা ৪৬টা ক্রোমোজোম থাকে। এই ক্রোমোজোমগুলোকে আবার ২ ভাগে ভাগ করা হয়েছে, প্রথম ভাগটা হচ্ছে অটোজোম আর দ্বিতীয়টা সেক্স ক্রোমোজোম। এই সেক্স ক্রোমোজোমগুলোই নির্ধারণ করে একটা জীব ছেলে হবে নাকি মেয়ে।

ড্রপ ডাউনগুলোতে ক্লিক করে জেনে নাও বিস্তারিত


XX-XY পদ্ধতি


(+) চিহ্নিত স্থানে ক্লিক করে জেনে নাও বিস্তারিত


হাইলাইট করা শব্দগুলোর উপর মাউসের কার্সর ধরতে হবে। মোবাইল ব্যবহারকারীরা শব্দগুলোর উপর স্পর্শ করো।

XX-XY পদ্ধতিতে যেই জীবগুলোর লিঙ্গ নির্ধারণ করা হয় তারা হলো:
১। মানুষ (Homo sapiens)
২। ড্রসোফিলা (Drosophila melanogaster)
৩। বিভিন্ন ধরনের পতঙ্গ
৪। বিভিন্ন ধরনের উদ্ভিদ


সঠিক উত্তরে ক্লিক করো


XX-XO পদ্ধতি


এই পদ্ধতি অনুযায়ী, স্ত্রী হোমোগ্যামেটিক কিন্তু পুরুষকে হোমোগ্যামেটও বলা যায়না আবার হেটেরোগ্যামেটও বলা যায়না কেননা, পুরুষ সেক্স ক্রোমোজোমে একটা ক্রোমোজোম থাকে। বেজোড় পুরুষ ক্রোমোজোমে শুধুমাত্র “X” ক্রোমোজোম বিদ্যমান। Y ক্রোমোজোম না থাকায় “X” এর পাশে একটি “O” লেখা হয়।

(+) চিহ্নিত স্থানে ক্লিক করে জেনে নাও বিস্তারিত

XX-XO পদ্ধতি কাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য:

১। ফড়িং ( Schistocerca americana )
২। ছারপোকা (Cimex lectularius)
৩। অর্থোপ্টেরা শ্রেণি
৪। হেটেরোপ্টেরা শ্রেণি


সঠিক উত্তরে ক্লিক করো


সেক্স লিঙ্কড ডিসঅর্ডার


আমরা সকলেই জানি, সকল প্রাণির মধ্যে যত প্রকাশিত এবং অপ্রকাশিত বৈশিষ্ট্য আছে সেগুলো জিন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত এবং এই জিনগুলোর বেশিরভাগই অটোসোমে অবস্থিত। কিন্তু কিছু বৈশিষ্ট্য আছে যেগুলো সেক্স ক্রোমোজোমে অবস্থিত জিন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয় আর এই ধরনের বৈশিষ্ট্যকে বলা হয় সেক্স লিঙ্কড বৈশিষ্ট্য। অন্যান্য বৈশিষ্ট্যের মতো এই সেক্স লিঙ্কড বৈশিষ্ট্যগুলো বংশানুক্রমে এক জীব থেকে আরেক জীবে পরিবাহিত হয়। মানুষের সেক্স ক্রোমোজোমে ৬০ ধরনের জিন পাওয়া গেছে এবং অনেক ক্ষেত্রে এই জিনগুলো কিছু রোগ বা ডিসঅর্ডারের জন্য দায়ী এবং বৈশিষ্ট্যের মত এই রোগগুলো বংশানুক্রমে এক জীব থেকে আরেক জীবে অতিবাহিত হয়। এই ধরনের রোগ প্রবাহকে বলা হয় সেক্স লিঙ্কড ডিসঅর্ডার।
নিচে মানুষের মধ্যে বিদ্যমান কিছু সেক্স লিঙ্কড ডিসঅর্ডার নিয়ে আলোচনা করা হলো-

লাল সবুজ বর্ণান্ধতা (Red Green Color Blindness)


মানুষের চোখের রেটিনায় কিছু কোষ থাকে যেগুলোকে বলা হয় কোণ কোষ (Cone Cell)। এই কোষগুলো বিভিন্ন ধরনের রঙের প্রতি সংবেদনশীল। এই কোণ কোষগুলো উৎপাদনের জন্য দায়ী জিন সেক্স ক্রোমোজোম “X” এ বিদ্যমান। কোণ কোষ উৎপাদনের জন্য জিনগুলোর প্রকট হওয়া প্রয়োজন কিন্তু অনেক সময় এই জিনগুলো প্রচ্ছন্ন অবস্থায় থাকে আর তাই সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ পায় না। এমন অবস্থায় একজন মানুষ স্বাভাবিক মানুষের মতো বিভিন্ন ধরনের রঙের তারতম্য বুঝতে পারেনা আর এই অবস্থাকেই বলা হয় লাল সবুজ বর্ণান্ধতা (Red Green Color Blindness)।

লাল-সবুজ বর্ণান্ধতার কেস স্টাডি


ধরে নেওয়া যাক Xᶜ জিন লাল-সবুজ বর্ণান্ধতার জন্য দায়ী। তাহলে, একজন বর্ণান্ধ স্ত্রীর জন্য জিনোটাইপ হবে Xᶜ Xᶜ এবং একজন পুরুষের ক্ষেত্রে সেটা হবে XᶜY। যদি স্ত্রী শুধু বর্ণান্ধবাহক হয়, তার ক্ষেত্রে জিনোটাইপ হবে XᶜX।

কেস-১: বর্ণান্ধবাহক স্ত্রীর সাথে স্বাভাবিক পুরুষের ক্রস:

(+) চিহ্নিত স্থানে ক্লিক করে জেনে নাও বিস্তারিত

F1 জনুর বৈশিষ্ট্য সংখ্যা
বর্ণান্ধবাহক কন্যা ২৫
বর্ণান্ধ পুত্র ২৫
স্বাভাবিক কন্যা ২৫
স্বাভাবিক পুত্র ২৫

কেস-২:- বর্ণান্ধবাহক স্ত্রীর সাথে বর্ণান্ধ পুরুষের ক্রস:

(+) চিহ্নিত স্থানে ক্লিক করে জেনে নাও বিস্তারিত

F1 জনুর বৈশিষ্ট্য সংখ্যা
বর্ণান্ধ কন্যা ২৫
বর্ণান্ধ পুত্র ২৫
বর্ণান্ধবাহক কন্যা ২৫
স্বাভাবিক পুত্র ২৫

নিচের ছবিগুলোর সাথে সঠিক সংখ্যাগুলো মিলিয়ে নাও এবং যাচাই করে ফেলো তুমি স্বাভাবিক দৃষ্টিসম্পন্ন নাকি কালার ব্লাইন্ড!



হিমোফিলিয়া


তোমরা সবাই নিশ্চয়ই খেয়াল করেছো, আমাদের শরীরে কোথাও কোনো ক্ষত সৃষ্টি হলে অথবা সহজ বাংলায় বলতে গেলে শরীরের যেকোনো অংশে কোনো দুর্ঘটনার কারণে কেটে গেলে বা ফেটে গেলে রক্তপাত হয় এবং একটা নির্দিষ্ট সময় রক্তপাত বন্ধ হয়ে যায়। এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় রক্ত তঞ্চন।

রক্ত তঞ্চন ঘটার জন্য কিছু প্রয়োজনীয় উপাদান বা প্রায়ই ১২ ধরনের ফ্যাক্টর আমাদের রক্তে স্বাভাবিকভাবেই উপস্থিত থাকে। কিন্তু কিছু অসাধারণ মানুষের রক্তে এই ১২ ধরনের ফ্যাক্টরের কিছু ফ্যাক্টর অনুপস্থিত থাকে যার ফলে রক্ত তঞ্চনের ব্যাঘাত ঘটে। এটাও এক ধরনের সেক্স লিঙ্কড ডিসঅর্ডার এবং এই ডিসঅর্ডারের নাম হিমোফিলিয়া।



হিমোফিলিয়া কে “Royal Disease” কেনো বলা হয়?


আমি শুরুতেই বলেছিলাম হিমোফিলিয়া কিছু অসাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে দেখা যায়। কথাটা কিন্তু মোটেও ঠাট্টা করে বলিনি। হিমোফিলিয়া রোগটি সর্বপ্রথম মহামান্য রানী ভিক্টোরিয়ার মধ্যে প্রকাশ পায় এবং বংশানুক্রমে রাজ পরিবারের সদস্যদের মধ্যে দেখা দিতে থাকে (সদস্য= F1, F2 ইত্যাদি জনু)। সেই জন্য হিমোফিলিয়াকে “Royal Disease” হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়।


হিমোফিলিয়ার ধরন


হিমোফিলিয়া ২ ধরনের হয়ে থাকে:


হিমোফিলিয়ার জিনগত ব্যাখ্যা


কেস ১:- স্বাভাবিক পুরুষ এর সাথে স্বাভাবিক কিন্তু বাহক মহিলার ক্রস

কেস-২:- হিমোফিলিক পুরুষের সাথে স্বাভাবিক মহিলার ক্রস


নিচের ছবিটার মধ্যে ফাঁকা স্থানগুলো পূরণ করে ফেলো এবং যাচাই করে ফেলো হিমোফিলিয়া সম্পর্কে তুমি কতটুক বুঝেছো।


ABO ব্লাড গ্রুপ


তোমার ব্লাড গ্রুপ কী? এই প্রশ্নটার সাথে আমরা সকলেই কমবেশী পরিচিত। এখন কথা হচ্ছে কার ব্লাড গ্রুপ কী এটা কিভাবে নির্ধারণ করা হয়?
বিজ্ঞানী কার্ল ল্যান্ডস্টেইনার লক্ষ করেন লোহিত রক্ত কণিকায় কিছু অ্যান্টিজেন থাকে এবং রক্তরসে কিছু অ্যান্টিবডি থাকে। এই অ্যান্টিজেন এবং অ্যান্টিবডির উপর ভিত্তি করে তিনি রক্তের শ্রেনীবিন্যাস করেন। এই শ্রেনীবিন্যাস ব্লাড গ্রুপ নামে পরিচিত।
মানুষের মধ্যে সাধারণত যেসব ব্লাডগ্রুপ দেখা যায় তার শ্রেণিবিন্যাস নিচে দেওয়া হলো-


সত্য মিথ্যা যাচাই করো






Blood Donation:- কেনো রক্তদানের আগে রক্ত পরীক্ষা বা ব্লাডগ্রুপিং করা হয়?


ধরে নেওয়া যাক তোমার ব্লাডগ্রুপ A এবং তুমি তোমার একজন বন্ধুকে রক্তদান করতে চাও যার ব্লাডগ্রুপ B। উপরের ছবিটাতে খেয়াল করো, ব্লাডগ্রুপ A-এর ক্ষেত্রে অ্যান্টিজেন হচ্ছে A এবং অ্যান্টিবডি হচ্ছে b আর B ব্লাডগ্রুপের ক্ষেত্রে অ্যান্টিজেন হচ্ছে B এবং অ্যান্টিবডি হচ্ছে a।

প্রত্যেকটা ব্লাডগ্রুপের অ্যান্টিবডি তার বিপরীত ব্লাডগ্রুপের অ্যান্টিজেনের বিরুদ্ধে কাজ করে। তার মানে, A ব্লাডগ্রুপের অ্যান্টিবডি B ব্লাডগ্রুপের অ্যান্টিজেনের বিরুদ্ধে কাজ করে।
এবারে আসা যাক তোমার আর তোমার বন্ধুর কাছে। যেহেতু তোমার ব্লাডগ্রুপের অ্যান্টিজেনের বিরুদ্ধে তোমার বন্ধুর রক্তরসে অ্যান্টিবডি আছে, তাহলে তোমার রক্ত যখন তার শরীরে প্রবেশ করানো হবে, অ্যান্টিবডি এবং অ্যান্টিজেনের প্রতিক্রিয়ার ফলে রক্ত জমাট বেঁধে যায় যার ফলে ব্লাড ট্রান্সফিউশনে ব্যাঘাত ঘটে।

তার মানে ব্লাড ডোনেশনের ক্ষেত্রে একই ব্লাডগ্রুপের মধ্যেই শুধুমাত্র রক্ত আদান-প্রদান করা সম্ভব। এবার ব্লাডগ্রুপ O এবং AB-র দিকে একটু খেয়াল করো। ব্লাডগ্রুপ O এর কোনো প্রকারের অ্যান্টিজেন নেই, তাই এই ব্লাডগ্রুপধারী ব্যক্তি সকলকে রক্তদান করতে পারবে। AB ব্লাডগ্রুপের কোনো অ্যান্টিবডি নেই তাই তারা সকলের থেকে রক্ত গ্রহণ করতে পারবে।


Rh ফ্যাক্টর


কার্ল ল্যান্ডস্টেইনার এবং উইনার রেসাস প্রজাতির একটি বানরের রক্ত খরগোসের শরীরে প্রবেশ করানোর পর খেয়াল করলেন, খরগোসের রক্ত একটি বিশেষ ধরনের অ্যান্টিবডি উৎপন্ন করছে। এই পরীক্ষার ফলাফল স্বরূপ তাঁরা বলেন, রেসাস বানরের লোহিত রক্ত কণিকায় সাধারণ অ্যান্টিজেন ছাড়াও একটি বিশেষ ধরনের অ্যান্টিজেন বিদ্যমান। এই অ্যান্টিজেনগুলো মানুষের ক্ষেত্রেও লক্ষ্য করা যায় আর তাঁরা এই অ্যান্টিজেনের নাম দেন Rh ফ্যাক্টর।
Rh অ্যান্টিজেন যেসকল ব্লাডগ্রুপে পাওয়া যায় তাদেরকে বলা হয় Rh+(পজিটিভ) এবং বিপরীত পরিস্থিতির ব্লাডগ্রুপকে বলা হয় Rh-(নেগেটিভ)।
বিজ্ঞানী Fisher মতবাদ দেন যে Rh ফ্যাক্টরের ক্ষেত্রে C, D, E মেন্ডেলীয় প্রকট ফ্যাক্টর আর যাদের ক্ষেত্রে এই ফ্যাক্টরগুলো দেখা যায় তারা Rh+। অন্যদিকে c, d, e মেন্ডেলীয় প্রচ্ছন্ন এবং যাদের ক্ষেত্রে এই ফ্যাক্টরগুলো দেখা যায় তারা Rh-।


Rh ফ্যাক্টরের কারণে সৃষ্ট সমস্যা


১। রক্ত সঞ্চালনে জটিলতা (Complexity in Blood Transfusion):-
Rh- এবং Rh+ রক্তবিশিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে যদি রক্ত আদান প্রদান ঘটে অ্যান্টিজেন এবং অ্যান্টিবডির প্রতিক্রিয়ার ফলে এই ক্ষেত্রেও রক্ত জমাট বেঁধে পিন্ড তৈরি করবে এবং রক্ত সঞ্চালনে ব্যাঘাত ঘটাবে।

২। গর্ভধারণজনিত জটিলতা (Complexity in Pregnancy):-
গর্ভধারনের ক্ষেত্রে Rh ফ্যাক্টর খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। যদি একজন Rh+ পুরুষের সাথে একজন Rh+ মহিলার বিয়ে হয়, সেই ক্ষেত্রে কোনো প্রকারের জটিলতা দেখা যায়না কিন্তু বিপরীত ক্ষেত্রে মারাত্মক জটিলতা দেখা দিতে পারে।

নিচে এই ধরনের জটিলতার একটি উদাহরণ দেওয়া হলো:-

(+) চিহ্নিত স্থানে ক্লিক করে জেনে নাও বিস্তারিত


আশা করি, এই স্মার্ট বুকটি থেকে তোমরা লিঙ্গ নির্ধারণ নীতি, সেক্স লিংকড ডিস অর্ডার, ABO ও Rh ফ্যাক্টর সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পেয়েছো। 10 Minute School এর পক্ষ থেকে তোমাদের জন্য শুভকামনা রইলো।