হারমোনিক ও স্বরগ্রাম

হারমোনিক ও স্বরগ্রাম

আজকে ঘুম থেকে উঠেই জানতে পারলে প্রিয় ব্যান্ড আর্টসেলের কনসার্ট হবে বিকেলে। দল বেঁধে চলে গেলে শুনতে। সেখানে দেখা পেয়ে গেলে এই পাগলাটে মিউজিশিয়ানের। তিনি যে তাঁর গিটার বাজানো খুব উপভোগ করছেন তা তো আমরা দেখতেই পাচ্ছি। কিন্তু যেমন তেমন করে তারগুলোতে টুং টাং করলেই কিন্তু তা শ্রুতিমধুর হবে বিষয়টা এমন নয়। তুমি যখন তারগুলোতে আঙ্গুল নিয়ে গিয়ে টুং টাং শব্দ করছ তখন তারগুলোতে কম্পনের সৃষ্টি হয়।

সুর যেহেতু শব্দ বা শব্দের সমষ্টি, কাজেই সুরের উচ্চ ও নিম্ন কম্পাঙ্ক থাকে। সবচেয়ে কম কম্পাঙ্কের সুর হল সূচনা সুর বা মূল সুর বা টোনিক (Fundamental Tone)। এর চেয়ে বড় কম্পাঙ্কগুলোর মান হয় সূচনা সুরের সাথে নির্দিষ্ট অনুপাত বজায় রেখে। সূচনা সুর 200 Hz হলে অন্যান্য কম্পাঙ্ক হবে 300 Hz, 350 Hz এভাবে। এইসব কম্পাঙ্ক পরপর ধ্বনিত হলেই শ্রুতিমধুর শব্দ উৎপন্ন হবে। এই সাজানো সুরগুলোকে আমরা স্বরগ্রাম (Musical Scale) বলব তখন। অনুপাত বজায় না থাকলে তা বিচ্ছিরি শোনাবে।

আমরা যারা গিটার বাজাই, কর্ড শব্দটা খুব পরিচিত আমাদের কাছে। খেয়াল করে দেখেছ? একজন মিউজিশিয়ান যখন গিটার বাজান, এক হাত দিয়ে কালো অংশে তারের উপর দু তিন জায়গায় চেপে ধরেন। অন্যদিকে গোল করা ফাঁকা অংশের উপরে আরেক হাত দিয়ে তারে টুং টাং শব্দ করেন। এই যে, দু তিনটি আঙ্গুল দিয়ে তার চেপে রাখছ, তাদের প্রতিটি হচ্ছে একেকটা নোট। আর এই চেপে ধরা নোটগুলো মিলেই একটা কর্ড তৈরি হয়। শুধু গিটার নয়, হারমোনিয়াম, বেহালা, পিয়ানো প্রভৃতিতেও স্বরগ্রাম মেইনটেইন করা হয়।


সাধারণত সূচনা সুরের কম্পাঙ্ক 256 Hz এবং সর্বোচ্চ কম্পাঙ্ক 512 Hz । তোমরা যারা গান শিখ, তারা শুরুতেই সা রে গা মা পা ধা নি সা শিখ। এই আটটি সুরকে আমরা স্বরগ্রাম বলতে পারি। এদের কম্পাঙ্ক নির্দিষ্ট অনুপাতে থাকে।

নিচের অডিওটিতে তোমরা আটটি স্বরগ্রাম শুনতে পারবে।


হারমোনিকস বা সমমেল (Harmonics)


হাইলাইট করা শব্দগুলোর উপর মাউসের কার্সর ধরতে হবে। মোবাইল ব্যবহারকারীরা শব্দগুলোর উপর স্পর্শ করো।

কয়েকটি কম্পাঙ্কের সুর বিবেচনা করি।
256, 268, 502, 512, 620, 768, 1020 Hz
এখানে, 256 Hz হল মূল সুর। এর চেয়ে বড় কম্পাঙ্কের সুরগুলো হচ্ছে উপসুর বলে। উপসুরগুলোর কম্পাঙ্ক মূলসুরের কম্পাঙ্কের সরল গুণিতক হলে সেইসব উপসুর হল হারমোনিক বা সমমেল। 502 Hz কিন্তু হারমোনিক নয়। কারণ তা 256 Hz এর সরল গুণিতক না। 512 Hz মূলসুরের কম্পাঙ্কের দ্বিগুণ বলে এটি মূলসুরের অষ্টক বা দ্বিতীয় হারমোনিক। 768 Hz মূলসুরের তিনগুণ বলে এটি তৃতীয় হারমোনিক।

 

সকল সমমেল উপসুর কিন্তু সকল উপসুর সমমেল নয়

একাধিক কম্পাঙ্কবিশিষ্ট সুরের সমন্বয়ে স্বর সৃষ্টি হয়। আমরা বলেছি উপসুরগুলোর মাঝে যাদের কম্পাঙ্ক মূলসুরের কম্পাঙ্কের সরল গুণিতক তারা সমমেল। কাজেই সমমেল গুলো উপসুরেরই অংশ। কিন্তু সবগুলো উপসুর তো মূলসুরের কম্পাঙ্কের সরল গুণিতক নয়। কাজেই আমরা বলতে পারি, সকল সমমেল উপসুর কিন্তু সকল উপসুর সমমেল নয়।

ড্রপডাউনগুলোতে ক্লিক করে দেখে নাও সমমেল ও স্বরগ্রাম সংক্রান্ত কিছু সংজ্ঞা:


নিচে সলো এবং অর্কেস্ট্রা বুঝতে এই GIF দুটি দেখতে পারো:

orchestra
Orchestra
Solo
Solo

সঠিক উত্তরটি ক্লিক করো-


গিটার, বেহালা, পিয়ানো কিংবা আমাদের নিজস্ব কন্ঠ- কম্পাঙ্কের মাঝে যদি সামঞ্জস্য না থাকে, তবে কিন্তু তা শ্রুতিমধুর হবেনা। কোন স্কেলের সাথে কোন স্কেল বাজানো হয়, কোন স্কেলের সাথে কোন স্কেল বাজালে খারাপ শোনাবে এসব মাথায় রেখেই কিন্তু মিউজিশিয়ানরা ইন্সট্রুমেন্ট বাজান। তোমাদের যদি কৌতূহল এবং শেখার আগ্রহ দুটোই থাকে, তবে শিখে নিতে পার সংগীতের যেকোনো শাখা। সংগীত সবসময়ই মনকে সতেজ ও উৎফুল্ল করে। আজ এ পর্যন্তই! আর হ্যাঁ!