প্রশাসনিক শাসন ব্যবস্থা

(স্মার্টবুকে উল্লিখিত সকল তথ্য এপ্রিল, ২০২০ সাল পর্যন্ত বিবেচনা করে লেখা হয়েছে)
বাংলাদেশ সরকারের ৩ টি বিভাগ:
-আইন বিভাগ
-বিচার বিভাগ
-নির্বাহী বা শাসন বিভাগ

আইন বিভাগ

আইন বিভাগের প্রধান কাজ হচ্ছে দেশের জন্য নতুন আইন প্রণয়ন ও পুরোনো আইন পরিবর্তন,পরিবর্ধন ও সংশোধন করা । আইন বিভাগের প্রধান অংশ হচ্ছে আইনসভা । বাংলাদেশের আইনসভার নাম ‘জাতীয় সংসদ’ ।
গঠন
-সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী অনু্যায়ী জাতীয় সংসদ মোট ৩৫০ আসন নিয়ে গঠিত
-৩০০ জন প্রত্যক্ষ ভোটে এবং ৫০ জন মহিলা সংরক্ষিত আসনে নির্বাচিত হবেন
-সংসদ সদস্যদের মধ্যে ভোটে একজন স্পিকার এবং একজন ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হবেন
-সংসদের মেয়াদ ৫ বছর

কার্যাবলি

-আইন প্রণয়ন, সংশোধন,পরিবর্তন
-সংসদীয় ব্যবস্থায় শাসন বিভাগ তার কাজের জন্য আইন সভার নিকট দায়ী থাকে
-বার্ষিক বাজেট পেশসহ যাবতীয় নিতী নির্ধারণ
-সংবিধান প্রস্তুত, সংশোধন, সংযুক্তি ও বিয়োজন ক্ষমতা
-আন্তর্জাতিক চুক্তি অনুমোদন

শাসন বিভাগ

প্রচলিত আইন অনুসারে শাসন কার্য পরিচালনা করা শাসন বা নির্বাহী বিভাগের প্রধান কাজ। এক কথায় রাষ্ট্রপতির সকল কাজই শাসন বিভাগের অন্তর্ভূক্ত। বৃহৎ অর্থে রাষ্ট্রপ্রধান থেকে শুরু করে মন্ত্রীসভা, আমলা, নিরাপত্তা ও আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী, কূটনীতিক, দাপ্তরিক কর্মকর্তা এমনকি গ্রাম্য চৌকিদারসহ সকল প্রশাসনিক কর্মকর্তা কর্মচারী নিয়ে নির্বাহী বা শাসন বিভাগ গঠিত
রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের নিয়মতান্ত্রিক প্রধান এবং পদমর্যাদায় সবচেয়ে উপরে
-সংসদ নির্বাচুনের পর রাষ্ট্রপতি সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতাকে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন করেন
-প্রধানমন্ত্রী সরকার প্রধান এবং প্রধান নির্বাহি কর্মকর্তা, মন্ত্রীসভার প্রধান, তিনিই সকল মন্ত্রী পছন্দ করে মন্ত্রীসভা গঠন করেন
-প্রধানমন্ত্রীকে কেন্দ্র করেই শাসন ব্যবস্থা পরিচালিত হয়

কাজ
-প্রচলিত আইন অনুসারে শাসনকার্য পরিচালনা করা
– সংসদীয় সরকার ব্যবস্থায় শাসন ব্যবস্থায় শাসন বিভাগের সদস্যরা(মন্ত্রী) আইন সভায় বিচারপতিদের নিয়োগ করে
– রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব রক্ষা, পররাষ্ট্র সংক্রান্ত কার্যাবলি সম্পাদন
– ‘কর’ ধার্য ও আদায়ের ব্যবস্থা গ্রহণ
– রাষ্ট্রপতির সকল কাজই শাসন বিভাগের আওতাধীন

রাষ্ট্রপতি

-পদমর্যাদায় রাষ্ট্রপতি সবার উপরে
-সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নিযুক্ত হন
– রাষ্ট্রপতি প্রার্থীর সর্বনিম্ন বয়স ৩৫ বছর
-সংবিধানের ৫০(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি ২ মেয়াদের অধিক প্রার্থী হতে পারবেন না
– রাষ্ট্রপতির উপর আদালতের কোনো এখতিয়ার নেই
– রাষ্ট্রপতি শপথবাক্য পাঠ করেন স্পিকারের নিকট ও সংবিধানের ৫০ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী পদত্যাগ করবেন স্পিকারের নিকট
-সাধারণ বিলে রাষ্ট্রপতি সাক্ষর করবেন ১৫ দিনের মধ্যে, সংবিধান সংশোধনের বিলে ৭ দিনের মধ্যে
– রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসন করা যায় সংবিধান লংঘন ও মানসিক অসামর্থ্যের জন্য
– রাষ্ট্রপতির বাসভবনের নাম বঙ্গভবন
কাজ
-প্রধানমন্ত্রীকে নিয়োগ করেন
-সংসদের অধিবেশন আহব্বান করেন ও নতুন সংসদের প্রথম ও বছরের প্রথম অধিবেশনের সূচনায় ভাষণ দান করেন
-প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শক্রমে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপ মন্ত্রীদের নিয়োগ ও দপ্তর বন্টন করেন
-এটর্নি জেনারেল, প্রধান নির্বাচন কমিশনার, মহাহিসাব রক্ষক ও নিয়ন্ত্রক, পাবলিক সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান ও সদস্যবৃন্দ, রাষ্ট্রদূত, হাই কমিশনারদের নিয়োগ দান করেন
-সংসদ ভেঙ্গে গেলে বা অধিবেশন না থাকলে অধ্যাদেশ (৯৩ নং অনুচ্ছেদ অনুসারে) জারি করতে পারেন যা আইনের মতো ক্ষমতাসম্পন্ন
-কারো পরামর্শ ব্যাতিত প্রধান বিচারপতি ও সুপ্রিম কোর্টের অন্যান্য বিচারপতি নিযুক্ত করতে পারেন
-দন্ড মওকুফ, স্থগিত বা হ্রাস করবার ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির রয়েছে
– রাষ্ট্রপতি প্রতিরক্ষা বিভাগসমূহের সর্বাধিনায়ক ও বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের চ্যান্সেলর
-প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতা পরিচালিত হয় রাষ্ট্রপতির নামে

প্রধানমন্ত্রী

-প্রধানমন্ত্রী সরকার প্রধান এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা
-প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রী পরিষদের প্রধান
-প্রধানমন্ত্রী হতে হলে কমপক্ষে ২৫ বছর বয়স হতে হয়
– রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীকে সংবিধানের ৫৬(২) নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নিযুক্ত করেন
-প্রেসিডেন্সিয়াল পদ্বতিতে প্রধানমন্ত্রীর পদমর্যাদার স্থান দ্বিতীয়
-তাজউদ্দীন আহমেদ বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী
কাজ
-সকল গুরুত্বপূর্ণ নির্বাহী সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রী গ্রহন করেন
-জাতীয় সংসদ এ সরকারি বিলে পৃষ্ঠপোষকতা করেন
– রাষ্ট্রীয় কাজের সমন্বয় করেন
জাতির মুখপাত্র হিসেবে বিশ্ব দরবারে প্রতিনিধিত্ব করেন

বিচার বিভাগ

সরকারের যে বিভাগ আইন অনুযায়ী বিচার কাজ পরিচালনা করে থাকে তাকে বিচার বিভাগ বলে
গঠন
– রাষ্ট্রের সকল আদালত এবং বিচারক নিয়ে বিচার বিভাগ গঠিত
-বিচার বিভাগের প্রধান প্রধান বিচারপতি
– প্রধান বিচারপতির পরামর্শে রাষ্ট্রপতি বিচারপতিদের নিয়োগ করেন
– হাইকোর্টের বেঞ্চ গঠন করেন প্রধান বিচারপতি
– জেলা আদালতের প্রধান বিচারক জেলা জজ
– গ্রামীণ আদালতের প্রধানের নাম ইউপি চেয়ারম্যান
– রাষ্ট্রের প্রধান আইনজীবিকে বলা হয় ড.অ্যাটর্নি জেনারেল
-আটর্নি জেনারেলকে এড হক ভিত্তিতে নিয়োগ দেন রাষ্ট্রপতি সংবিধানের ৬৮ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী
কাজ
– আইন অনুযায়ী মামলার বিচার কাজ করা
– আইনের ব্যাখ্যা , সংবিধানের ব্যাখ্যা প্রদান
– সংবিধানের রক্ষক ও অভিভাবক
– জনগণের মৌলিক অধিকার রক্ষা
– বিদেশী নাগরিকদের নাগরিকত্ব প্রদান
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
-সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিপারপতি অবসর গ্রহণ করেন ৬৭ বছর বয়সে
– আপিল বিভাগের বেঞ্চের সংখ্যা ৩ টি
– বিচার বিভাগ পৃথক করার দাবিতে উচ্চ আদালতে মামলা করেন সাব জজ মাজদা হোসেন ও ৪৪০ জন বিচারক ১৯ নভেম্বর ১৯৯৫ সালে
– গ্রাম সরকারের অধীনে গ্রাম্য আদালত চালু হয় ১৯৭৫ সালে
– বিচার বিভাগে প্রশাসনিক ট্রাইবুন্যাল ২ টি
– সুপ্রিম কোর্টকে বলা হয় কোর্ট অব রেকর্ড
– বাংলাদেশের আপিল বিভাগের প্রথম মহিলা বিচারপতি ড.নাজমুন আরা সুলতানা


সরকার কাঠামো বিন্যাস