বায়োম ও প্রাণী ভৌগোলিক অঞ্চল

হাইলাইট করা শব্দগুলোর উপর মাউসের কার্সর ধরতে হবে। মোবাইল ব্যবহারকারীরা শব্দগুলোর উপর স্পর্শ করো।

বিশ্বকাপ ফুটবল ২০১৮ সরাসরি দেখতে রিতা রাশিয়া গিয়েছে তার মা বাবার সাথে। প্রথম দিন এয়ারপোর্টে নেমেই সে বুঝলো বাংলাদেশ থেকে রাশিয়ার আবহাওয়ার অনেক পার্থক্য। বছরের জুন- জুলাই মাসে বাংলাদেশে প্রচণ্ড গরম। অন্যদিকে, রাশিয়ায় তাপমাত্রা বেশ ঠান্ডা। রিতার খুব ইচ্ছে হল বরফ পরা দেখার। সে তার বাবাকে জিজ্ঞেস করলো, “ বাবা রাশিয়ায় বরফ পরে?” বাবা বললেন, “ হ্যাঁ, কিন্তু সারা বছর না। তবে রাশিয়ার উত্তর দিকের তুন্দ্রা অঞ্চল সারা বছর বরফে ঢাকা থাকে।” রিতা বলল, “ বিশ্বকাপ শেষে আমরা ঘুরে আসবো সেই জায়গাটা বাবা।” মেয়ের আবদারে বাবাও রাজি হলেন। প্রথম দিনের খেলা হল রাশিয়া আর সৌদি আরবের মধ্যে। রিতার মাথায় প্রশ্ন এলো, “ এত ভিন্ন কীভাবে এই দেশ দুটো। এক দেশের উত্তর দিক সারা বছর বরফে ঢাকা, অন্য দেশ মরুভূমির মধ্যে। এই পার্থক্যের কারণ কী?” খেলা শেষে হোটেলে ফিরে রিতা গুগলে সার্চ করলো এই পার্থক্যের কারণ, উত্তর পেল এই দেশ দুটো ভিন্ন বায়োমে অবস্থিত। রিতা জানলো সারা বিশ্বে বায়োম রয়েছে অনেক ধরণের। রিতার মাথায় নতুন বুদ্ধি এলো। রিতা ঠিক করলো, যে যে দেশের খেলা দেখবে সেই দেশ গুলো কোন বায়োমে পড়েছে, সে গুলো ও সেই বায়োম গুলোর বিশেষ বৈশিষ্ট্য গুলো জেনে নিবে।

রিতা ভাবলো প্রথম দিনের খেলা ছিল রাশিয়া ও সৌদি আরবের। এরা যথাক্রমে তুন্দ্রা ও মরুভূমির বায়োমে পরে। তাহলে দেখে নিই, কী কী আছে এই বায়োম গুলোর মধ্যে।

তুন্দ্রা বায়োম: স্থল ভাগে যত ধরণের বায়োম রয়েছে, এদের মধ্যে সবচেয়ে বড় বায়োম হম এই তুন্দ্রা বায়োম। উত্তরের সুমেরু, মহাসাগর ও মেরুর বরফে ঢাকা অঞ্চল এই বায়োমের অন্তর্গত। প্রচণ্ড ঠাণ্ডা এই অঞ্চলের প্রধান বৈশিষ্ট্য। সারা বছরে বৃষ্টিপাত হয় মাত্র ১৫ সেমি বা তারও কম। বছরে ৮ থেকে ১০ সপ্তাহ থাকে গ্রীষ্মকাল। এই সময় কিছু কিছু বরফ গলে যায়। এই অঞ্চলের প্রধান উদ্ভিদ হল মস ও লাইকেন, এখানে বৃক্ষ প্রজাতির উদ্ভিদ খুব কম জন্মায়।

তুন্দ্রা বায়োম তিন ধরণের হয়। চল বন্ধুরা দেখে নেয়া যাক, কী রকম সেগুলো।

ড্রপ ডাউনগুলোতে ক্লিক করে জেনে নাও বিস্তারিত



উপরের টপিক থেকে কেমন শিখলে, যাচাই করে নাও-


রিতা ভাবলো এইতো গেলো রাশিয়া যে বায়োমের মধ্যে পরেছে তার বৈশিষ্ট্য। এখন দেখা যাক সৌদি আরব যে বায়মের মধ্যে আছে তার বৈশিষ্ট্য।

পৃথিবীর স্থল ভাগের ১/৭ অংশ জুড়ে এই বায়োম অবস্থিত। কর্কটক্রান্তি ও মকরক্রান্তি রেখার মধ্যবর্তী অংশে এই বায়োমের অবস্থান মূলত। এই বায়োমে সারা বছর গড়ে  ২৫সেমি বৃষ্টিপাত হয়। দিনে প্রচন্ড গরম ও রাতে তীব্র ঠান্ডা এই অঞ্চলের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। দিন ও রাতের তাপমাত্রার পার্থক্য ৩০ ডিগ্রী পর্যন্ত হতে পারে। ঘূর্ণিঝড় এই এলাকার নিত্য ঘটনা। এই বায়োমে যে উদ্ভিদ জন্মায় তাদের বলা হয়, জেরোফাইট। ক্যাকটাস, বাবলা, খেজুর, ইত্যাদি এই অঞ্চলের প্রধান উদ্ভিদ। এই বায়োমের প্রাণীরা প্রধানত রাতে চলাচল করে।

রিতা দেখলো শুধু সৌদি আরবই নয়, তার পছন্দের আর্জেন্টিনার কিছু অংশও এই ধরণের বায়োমের মধ্যে পরে। কিন্তু ব্যাপারটা তার কাছে পরিষ্কার হল না। কারণ, কোথায় সৌদি আরব আর কোথায় আর্জেন্টিনা। কীভাবে একই বায়োমের মধ্যে পড়লো এরা? এরপর সে জানতে পারলো, মরুভূমির বায়োমেরও কিছু প্রকারভেদ আছে।
চল বন্ধুরা, আমরাও জেনে নিই কী সেগুলোঃ

মরুভূমি বায়োমের ধরণ যে সকল অঞ্চল নিয়ে গঠিত
কম বৃষ্টিপাত বিশিষ্ট মরুভূমি দক্ষিণ আমেরিকার আতাকামা ও আর্জেন্টিনা
উত্তপ্ত মরুভূমি সাহারা, গোবী, আরব, রাজস্থান
বরফ মরুভূমি আলপস, স্ক্যান্ডিনেভিয়ান পর্বত, হিমালয়ের লাদাখ
উঁচু লবনাক্ত মরুভূমি চিলি, অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আমেরিকার কিছু অঞ্চল

এ পর্যন্ত কেমন শিখলে, যাচাই করে নাও-

সঠিক উত্তরে ক্লিক করো


বিশ্বকাপের দ্বিতীয় খেলা ছিল মিশর ও উরুগুয়ের। রিতা খেলা দেখে হোটেলে ফিরে দেখলো মিশর মরুভূমি বায়োমে হলেও উরুগুয়ে হল তৃণভূমির বায়োম বা গ্রাসল্যান্ড বায়োমের মধ্যে পরে।
চল বন্ধুরা আমরাও তৃণভূমির বায়োম সম্পর্কে কিছু তথ্য জেনে নিই:

এই অঞ্চলে সারা বছরে বৃষ্টিপাত হয় ২৫ থেকে ৭৫ সেমি। এত কম বৃষ্টিপাতের কারণে এই অঞ্চলে বনভূমির জন্মাতে পারে না আবার মরুভূমিও সৃষ্টি হতে পারে না। কানাডার মধ্য ভাগ, দক্ষিণ আফ্রিকা, দক্ষিণ আমেরিকার আর্জেন্টিনা ও আস্ট্রলিয়ার কিছু অংশও এই বায়োমের মধ্যে পরে। এই বায়োমে তাপমাত্রা খুব বেশী, মাটি বালুকাময়।

রিতা দেখলো, মরুভূমির বায়োমের মত তৃণভূমির বায়োমেও বেশ কিছু প্রকারভেদ রয়েছে।
চল বন্ধুরা আমরাও দেখে নিই কী সেগুলো।

তৃণভূমি বায়োমের ধরণ কোন কোন অঞ্চল নিয়ে অবস্থিত কিছু বিশেষ বৈশিষ্ট্য
সাভানা দক্ষিণ আমেরিকা, পূর্ব আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া, ভারতের কিছু অংশ ১. সারা বছরে গড় বৃষ্টিপাত ৪০ ইঞ্চি থেকে ৬০ ইঞ্চি।
২. প্রচন্ড শুষ্ক আবহাওয়া।
উদ্ভিদ: বাবলা, তাল জাতীয় উদ্ভিদ।
প্রাণী: জেব্রা, জিরাফ, সিংহ, ইত্যাদি
প্রেইরি মধ্য আমেরিকা, আর্জেন্টিনা, উরুগুয়ে, ইউরোপের পূর্বের অংশ। ১. বৃষ্টিপাত খুব সামান্য।
২. গড় তাপমাত্রা ওঠা নামা খুব বেশী।
স্টেপি উত্তর আমেরিকার পূর্বাংশ, মধ্য ও পশ্চিম এশিয়া ১. প্রচন্ড শুষ্ক।
বাইসন, এন্টিলোপ, গ্রোফার্স, জ্যাক, খরগোশ ইত্যাদি

উপরের টপিক থেকে কেমন শিখলে, যাচাই করে নাও-

সত্য-মিথ্যা নির্ণয় করো:







রিতা ভাবলও, “বাহ, পৃথিবীর প্রায় সব দেশ কোন কোন বায়োমের মধ্যে অবস্থিত তা তো জেনেই ফেললাম।” একদিন খেলা দেখে মাঠ থেকে ফিরার পথে রিতা দেখলো হঠাৎ খুব বৃষ্টি শুরুর হয়েছে রাশিয়ার মস্কোতে। তখন তাঁরা একটা খাবার দোকানে ঢুকলো। খেতে খেতে এই সকল বায়োমের কথা রিতা তার মা বাবা কে শোনালো। তখন মা জিজ্ঞেস করলেন, “আচ্ছা, তুমি তো বেশ ভালো তথ্যই পেয়েছো বায়োম সম্পর্কে। কিন্তু, আমাদের বাংলাদেশ কোন বায়োমের মধ্যে পরে, সেটা জেনেছো?” রিতা বুঝলো সে একটা ভুল করে ফেলেছে। আগে নিজের দেশ সম্পর্কে তার জানা উচিত ছিল। পরে সে জানতে পেরেছিলো, বাংলাদেশ বনভূমির বায়োমের মধ্যে পরেছে। তবে, সব বনভূমির বায়োম এক ধরণের না। কিছু ভিন্নতা এদের মধ্যে দেখা যার বলে এদের মধ্যেও ভাগাভাগি করা হয়েছে।
চল বন্ধুরা, আমরাও জেনে নিই বনভূমির বায়োম সম্পর্কে কিছু তথ্য।


বন্ধুরা আরেক ধরণের বনভূমির বায়োম রয়েছে। যাদের ডেসিডুয়াস ফরেস্ট বলে। এই অঞ্চলের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হল এখানকার সকল গাছের পাতা শীতকালে ঝরে যায়।