পুং গ্যামেটোফাইট ও স্ত্রী গ্যামেটোফাইটের পরিস্ফুটন

শিমুলের ফুল ভীষণ প্রিয়। আজকে সকালে সে দেখেছে তার বাগানের পেয়ারা গাছে ছোট ছোট পেয়ারা ধরেছে, কিন্তু তার মনে আছে কয়েক দিন আগেই সেখানে সুন্দর সুন্দর ফুল ছিল। শিমুল হঠাৎ ভাবল আচ্ছা কীভাবে ফুল থেকে ফল হয় সেটা দেখি গুগল থেকে। কিন্তু প্রথমেই শিমুল দেখলো, ফুল থেকে ফল হবার জন্য ফুলের যে সকল অংশ দরকার অর্থাৎ পরাগরেণু, ডিম্বানু সেগুলো সম্পর্কেই তার ভাল জানা নেই। শিমুল আরো দেখলো ডিম্বানু নাকি ভ্রূণথলি নামের একটা ব্যাগের মধ্যে থাকে। শিমুল ঠিক করলো আগে, এই গুলো সম্পর্কে একটু জেনে নিলে ভাল হয়, তাহলে ফুল থেকে কীভাবে ফল হয় এটা বুঝতে সুবিধা হবে। তবে, চলো বন্ধুরা শিমুলের সাথে সাথে
আমরাও জানার চেষ্টা করি।


শিমুল সহজভাবে মনে রাখার জন্য ছক আকারে লিখে রাখলো কোথায় কী থাকে। ঠিক এই ভাবে-

পরাগরেণু

ভ্রূণথলি

বাহিরের আবরণ বা এক্সাইন

সেকেন্ডারী নিউক্লিয়াস

ভিতরের আবরণ বা ইন্টাইন

ডিম্বানু

নালী বা টিউব নিউক্লিয়াস

অ্যান্টিপোডাল বা প্রতিপাদ কোষ

জেনারেটিভ বা জনন নিউক্লিয়াস

সিনারজিড বা সাহায্যকারী কোষ


প্রাথমিক জনন কোষ বেশ কয়েকবার মাইটোসিস প্রক্রিয়ায় বিভাজিত হয়ে অনেক গুলো পরাগমাতৃ কোষ হিসেবে কাজ করতে পারে বা নিজে একাই একটি পরাগমাতৃ কোষ হিসেবে কাজ করে। এরপর পরাগমাতৃ কোষ মিয়োসিস প্রক্রিয়ায় বিভাজিত হয়ে চারটি হ্যাপ্লয়েড পরাগরেণুর সৃষ্টি করে। পরাগরেণু বিভিন্ন রঙের হতে পারে। তবে, সাধারণত হলুদ রঙের হয়ে থাকে। এই সকল নতুন সৃষ্ট পরাগরেণু ট্যাপেটাম থেকে পুষ্টি গ্রহণ করে। পরাগমাতৃ কোষ থেকে সৃষ্ট চারটি পরাগরেণু গুলো এক এক প্রজাতির উদ্ভিদে এক এক ভাবে সাজানো থাকতে পারে। তবে যদি অনেক গুলো পরাগরেণু এক সাথে থাকে, তখন তা দেখতে এক বিশেষ আকার ধারণ করে, একে পলিনিয়াম বলে।

চিত্র: পরাগরেণু

আরো সহজভাবে বুঝে নেয়ার জন্য চলো আমরা নিচের ভিডিও টি দেখে নিই একবার:

উপরের টপিক থেকে কেমন শিখলে, যাচাই করে নাও-



শিমুল এখন চিন্তা করলো, “এখন তো জানতে পারলাম পরাগরেণু আর ভ্রূণথলি নিজেরাই তো ফল তৈরি করে না। ফল তৈরির জন্য পুং গ্যামেটোফাইট ও স্ত্রী গ্যামেটোফাইটের মিলন দরকার। তাহলে, পুং গ্যামেটোফাইট ও স্ত্রী গ্যামেটোফাইটের মিলন বা নিষেক কীভাবে হয় জানার আগে একবার দেখে নিই পরাগরেণু আর ভ্রূণথলির মধ্যে কীভাবে পুং গ্যামেটোফাইট ও স্ত্রী গ্যামেটোফাইট সৃষ্টি হয়।”

আমরাও শিমুলের সাথে প্রথমে কীভাবে পুং গ্যামেটোফাইট সৃষ্টি হয় সেটা দেখি।

মোবাইল স্ক্রিনের ডানে ও বামে swipe করে ব্যবহার করো এই স্মার্টবুকটি। পুরো স্ক্রিন জুড়ে দেখার জন্য স্লাইডের নিচে পাবে আলাদা একটি বাটন।

আরো ভালভাবে বোঝার জন্য চলো দেখি নিই নিচের ভিডিওটি:

উপরের টপিক থেকে কেমন শিখলে, যাচাই করে নাও-


সত্য-মিথ্যা নির্ণয় করো:






এখন দেখে নেয়া যাক, কিভাবে স্ত্রী গ্যামেটোফাইট বা ডিম্বাণু সৃষ্টি হয়।
স্ত্রীগ্যামিটোফাইট বা ডিম্বাণু তৈরি হয় ভ্রূণথলিতে। ভ্রূণথলি এমব্রিয়োস্যাক নামেও পরিচিত। গঠনের উপর ভিত্তি করে ভ্রূণথলি কে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যেমন, মনোস্পোরিক, বাইস্পোরিক, টেট্রাস্পোরিক। ৭৫% উদ্ভিদের ভ্রূণথলিই মনোস্পোরিক ধরণের হয়ে থাকে।
আর্কিস্পোরিয়াল কোষ গুলো মাইটোসিস প্রক্রিয়ায় বিভাজিত হয়ে প্রথমে স্ত্রীরেণু গঠন করে। এই স্ত্রীরেণু থেকেই ভ্রূণথলি আর পরবর্তীতে ডিম্বাণু তৈরি হয়।

মোবাইল স্ক্রিনের ডানে ও বামে swipe করে ব্যবহার করো এই স্মার্টবুকটি। পুরো স্ক্রিন জুড়ে দেখার জন্য স্লাইডের নিচে পাবে আলাদা একটি বাটন।

আরো সহজ ভাবে বোঝার জন্য নিচের ভিডিওটি দেখে নেয়া যাক:

এবার একটা ছোট পরীক্ষা দিয়েই দেখো এ বিষয়ে কি অবস্থা তোমার-

সঠিক উত্তরে ক্লিক করো


তাহলে বন্ধুরা, আশা করি শিমুলের সাথে সাথে তোমারও ফুল থেকে ফল তৈরি হবার জন্য যে পুং গ্যামেটোফাইট আর স্ত্রী গ্যামেটোফাইট প্রয়োজন হয় তাদের সম্পর্কে ও কীভাবে তারা তৈরি হয় সেটা জানতে পেরেছো।
10 Minute School এর পক্ষ থেকে তোমাদের সকলকে ধন্যবাদ।

ফেসবুকে 10 Minute School এর যেকোনো বিষয়ের আপডেট পেতে Join করো10 MINUTE SCHOOL LIVE! ফেসবুক Group এ