অজৈব যৌগের নামকরণ

হাইলাইট করা শব্দগুলোর উপর মাউসের কার্সর ধরতে হবে। মোবাইল ব্যবহারকারীরা শব্দগুলোর উপর স্পর্শ করো।

অজৈব যৌগের নামকরণ সম্পর্কে বলার আগে কিছু মজাদার ও ঐতিহাসিক ঘটনা বলি,

ঘটনা ১ঃ খেতে খেতে আম্মুর সাথে কথা হচ্ছে,
-আম্মু, খাবারে সোডিয়াম ক্লোরাইড কম হইছে।
চোখ কপালে তুলে আম্মুর উত্তর,
-কম হবে কোত্থেকে! এটাতো খাবার এ দিই ই নাই আমি।

ঘটনা ২ঃ সাল ১৯৯৭। স্কুলের সায়েন্স প্রজেক্টে ১৪ বছর বয়সের এক

 

থানের দাবী, সে এমন এক স্বাদ, বর্ণ, গন্ধহীণ বিষাক্ত পদার্থের সন্ধান পেয়েছে, যার কারণে প্রত্যেক বছর হাজার হাজার মানুষ মারা যায়, যাদের বেশীরভাগ দূর্ঘটনাক্রমে এই পদার্থ নিঃশ্বাস এর সাথে গ্রহণ করেছে। সংক্ষেপে DHMO (Dihydrogen monoxide) বলা এই পদার্থ এসিড বৃষ্টি সৃষ্টিতেও মূখ্য ভূমিকা পালন করে। এই DHMO অনেকের সাথে বিক্রিয়ায় বিস্ফোরণ ঘটায়, ভূমির ক্ষয় করে, ইলেকট্রিক যন্ত্রপাতি নষ্ট করে, টিউমার কোষেও এদের উপস্থিতি আশংকাজনকভাবে বেশী। বালকের দাবী, এই ক্ষতিকর DHMO এর ব্যবহার নিষিদ্ব করতে হবে।
আচ্ছা, এই DHMO আসলে কি?DHMO আসলে আর কিছুই না, পানির রাসায়নিক নাম। প্রত্যেক বস্তুর জন্যই আমাদের প্রচলিত নাম যেমন থাকে, আবার তাদের সিস্টেমিক বা পদ্ধতি  নামও থাকে। প্রচলিতভাবে লবণ বা পানিকে যথাক্রমে সোডিয়াম ক্লোরাইড বা ডাইহাইড্রোজেন মনোক্সাইড বললে যেমন বেশ বিড়ম্বনা পোহাতে হবে, তেমনি রসায়নশাস্ত্রে লবণ মানেই কিন্তু শুধুমাত্র সোডিয়াম ক্লোরাইড না। রসায়ন অধ্যয়নের সময় কোন বস্তুর প্রচলিত নামের চেয়ে পদ্ধতিগত নাম ব্যবহার করলে ঐ যৌগ সম্পর্কে খুব ভাল ধারণা পাওয়া যায়, যেমন, যৌগটি কোন কোন অণু দ্বারা, কোন বন্ধনের মাধ্যমে, কোন অনুপাতে গঠিত।
IUPAC nomenclature of inorganic chemistry – এই মেথড ব্যবহার করে অজৈব যৌগের নামকরণ করা হয়। এই পদ্বতি বিশদভাবে বর্ণনা করা আছে Nomenclature of Inorganic Chemistry এই বইয়ে, যাকে আবার সবাই আদর করে লাল বই (Red Book) ডাকে। আজকে আমরা দেখব কিভাবে অজৈব যৌগের নামকরণ করা হয়। তার আগে বলে রাখি, নাথানের প্রায় সব বন্ধুই নাথানের দাবী মেনে নিয়েছিল, শুধুমাত্র একজন বুঝতে পেরেছিল যে DHMO আসলে পানি।
* এই DHMO অনেক যৌগের সাথে বিক্রিয়ায় বিস্ফোরণ ঘটায়।


অজৈব নামকরণ

আমরা জানি, জগতে জৈব যৌগের সংখ্যা অনেক। তার তুলনায় অজৈব যৌগের কম। তাই, এর নামকরণের জন্য সমস্যায় তেমন পড়তে হয় নাই।কিন্তু, যত দিন যাচ্ছে অজৈব যৌগের সংখ্যাও বাড়ছে এবং এদের নামকরণে তাই কিছু সমস্যা দেখা দেয়। কিছু কিছু যৌগের নাম তার যৌগতে উপস্থিত মৌলের নাম অনুসারে হয় একধরণের আর শিল্পক্ষেত্রে তার নাম ভিন্ন থাকে।আবার, অজৈব যৌগের গঠন ভৌত অবস্থার উপরে নির্ভর করে বলে নামকরণে অনেক ধরণের সমস্যা দেখা দেয়। এরকম নানান সমস্যা সমধানের জন্য IUPAC অজৈব যৌগের নামকরণের কিছু নিয়ম তৈরি করে। কিন্তু এসমস্ত নিয়ম সকলের কাছে গ্রহনযোগ্য ছিল না বিধায় সেসকল নিয়মকে নামকরণের শ্রেনীবিভাগ হিসেবে বিবেচিত করা হয়।
যেমন – নামের পূর্বে প্রতিস্থাপকের সংখ্যা , একইরকম লিগ্যান্ডের সংখ্যা, ঘনীভূত এসিডে একই রকম পরমাণু, অণু গঠনে একই রকম পরমাণু সংখ্যা ইত্যাদি প্রকাশে নামের পূর্বে mono,di,tri,tetra,penta ইত্যাদি ব্যবহৄত হয়।


নামকরণ

ড্রপডাউন গুলোতে ক্লিক করে জেনে নাও বিস্তারিত


এ পর্যন্ত কেমন শিখলে, যাচাই করে নাও-


সত্য-মিথ্যা নির্ণয় করো:







সঠিক উত্তরে ক্লিক করো-


অক্সি-এসিডের নামকরণ 


অক্সি-এসিডের সংকেত

এসিডের পূর্ণ নাম

HClO

হাইপো- ক্লোরাস এসিড/ক্লোরিক (I) এসিড

HClO

ক্লোরাস এসিড/ক্লোরিক (III) এসিড
HClO

ক্লোরিক এসিড/ক্লোরিক (V) এসিড

HClO

পারক্লোরিক এসিড/ক্লোরিক (VII) এসিড
HPO

মেটা ফসফরিক এসিড

HPO

পাইরো ফসফরিক এসিড
H₃PO

অর্থো ফসফরিক এসিড

HSO

সালফিউরাস এসিড
HSO

সালফিউরিক এসিড

HSO₃

থায়ো সালফিউরিক এসিড


এ পর্যন্ত কেমন শিখলে, যাচাই করে নাও-


 জটিল  যৌগের নামকরণ


অনেক তো শেখা হল… এবার একটা ছোট পরীক্ষা দিয়েই দেখো এ বিষয়ে কি অবস্থা তোমার-


সঠিক উত্তরে ক্লিক করো-


তো, কি মনে হচ্ছে? পারবে তো? মনে রাখবে, কোনো কিছু একবার না পারলেই হতাশ হওয়া যাবে না। লেগে থাকো, সফল তুমি হবেই, দ্রুতবেগে এগিয়ে যাবে সামনের দিকে!