বিলুপ্ত প্রায় জীব

হাইলাইট করা শব্দগুলোর উপর মাউসের কার্সর ধরতে হবে। মোবাইল ব্যবহারকারীরা শব্দগুলোর উপর স্পর্শ করো।

নিশা IUCN এ চাকুরি করে। এই প্রতিষ্ঠানে কাজ করতে নিশার খুব ভাল, কারণ এখানকার কাজ বেশ আলাদা। এই প্রতিষ্ঠানে কাজ করা হয় বিশ্বের বিভিন্ন বিলুপ্ত প্রায় প্রাণীদের নিয়ে। প্রথমত, এখানে সারা বিশ্বের বাস্তুতান্ত্রিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে বিভিন্ন বিলুপ্ত প্রায় প্রাণীদের তালিকা করে, RED LIST আকারে প্রকাশ করা হয়। এই Red LIST দেখে নিশার মাঝে মাঝে খুবই মন খারাপ হয়, কারণ এত এত প্রাণী বিলুপ্ত হয়ে গেল পৃথিবী থেকে, তাদেরকে বর্তমান পৃথিবীর মানুষেরা দেখতেই পেল না। তবে, সবচেয়ে চিন্তা হয় নিশার বর্তমান অবস্থা দেখে। কেননা, আগের প্রাণী গুলোকে না হয় আমরা কেউ দেখি নাই, তবে যাদের দেখেছি অর্থাৎ, আমাদের চেনা পরিচিত অনেক প্রাণীই এখন বিলুপ্তির পথে। নিশা জানে এই নেপথ্য বিলুপ্তি থেকেই আস্তে আস্তে গণবিলুপ্তি শুরু হয়। যা এখন পর্যন্ত হয়েছে ৫ বার। এই বিলুপ্তি সম্পর্কে কিছু তথ্য রয়েছে IUCN এর আওতায়। নিশা ৫ বারের গণবিলুপ্তি নিয়ে একটি প্রতিবেদন তৈরি করবে।

বন্ধুরা চল ৫ বারের গণবিলুপ্তি নিয়ে নিশার বানানো প্রতিবেদন আমরা একবার দেখে আসি।



নিশা কয়েকদিনের জন্য তার গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে গেল। সেখানে গিয়ে সে দেখলো, গ্রামের পরিবেশ একদম আগের মত নেই। কেমন জানি একটা শহর শহর ভাব। অনেক গাছগাছালি ছিল আগে, কিন্তু এখন গাছ অনেক কমে গেছে। বেশ কিছু প্রজাতির গাছ ছিল গ্রামে , যাদের এখন আর দেখা যায় না। এই সব দেখে শুনে নিশার মন খুব খারাপ হল। সে ভাবলো, আমাদের প্রজন্মেই এত বিলুপ্তি হচ্ছে জীবের, আমাদের পরের প্রজন্ম তো জানবেই না যা এমন কোন জীবও ছিল এক সময়। এই সময়, নিশার মাথায় এক বুদ্ধি খেলে গেল। সে প্রথমে ভাবলো তার গ্রামের যত জীব ছিল, যাদের এখন আর দেখা যায় না, তাদের একটা তালিকা করবে। পরে ঠিক করলো, শুধু নিজের গ্রাম না পুরো বাংলাদেশের যে সকল প্রাণীর অস্তিত্ব এখন আর নেই, তাদের একটা তালিকা করবে। এই তালিকা করায় নিজের প্রতিষ্ঠানের সাহায্য নিবে সে। কারণ, পুরো বাংলাদেশের বিলুপ্ত প্রায় প্রাণীর তালিকা তার একার পক্ষে করা সম্ভব হয়।

চল বন্ধুরা আমরাও দেখে নিই, নিশা্র তৈরি করা তালিকায় কোন কোন জীব ছিল।

প্রথমে এক নজরে দেখে নেয়া যাক বিলুপ্ত উদ্ভিদ সম্পর্কে কিছু তথ্য-

বৈজ্ঞানিক নাম

সাধারণ নাম

প্রকৃতি

প্রাপ্তিস্থান

RED LIST এর যে ভাগে আছে

Corypha taliera তালিপাম আবৃতবীজীঢাকা

বন্য পরিবেশে বিলুপ্ত

Aldrovanda vesiculosa

মল্লিকা ঝাঁঝি আবৃতবীজীরাজশাহী, পাবনা অতি বিপন্ন
Knema bengalensisক্ষুদে বড়লা আবৃতবীজীকক্সবাজার

শংকাগ্রস্থ

Licuala peltata

কোরুদ আবৃতবীজীচট্টগ্রাম, রাঙ্গামাটি ও সিলেটশংকাগ্রস্থ
Rotala simpliciusculaরোট্যালা আবৃতবীজীচট্টগ্রাম

অতি বিপন্ন


মল্লিকা ঝাঁঝির পোকা খাওয়ার দৃশ্যটি দেখতে অনেকটা এই রকম-

এখন তাহলে, আমরা এই উদ্ভিদ গুলো সম্পর্কে বিস্তারিত ভাবে জেনে নিই।




চল বন্ধুরা আমরা আরো কিছু বিলুপ্ত প্রায় উদ্ভিদ সম্পর্কে কিছু তথ্য জেনে নিই।


নিচের ছবিতে কোনটি কোন উদ্ভিদ, নিচ থেকে নাম টেনে বসিয়ে চিহ্নিত করো-


উদ্ভিদের পর নিশা এবার বিলুপ্ত প্রায় প্রাণী সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ শুরু করলো।

চল বন্ধুরা এক নজরে দেখে নিই, সেই প্রাণী গুলো সম্পর্কে কিছু তথ্য-

বৈজ্ঞানিক নাম

সাধারণ নাম

শ্রেণী

প্রাপ্তিস্থান

RED LIST এর যে ভাগে আছে

Gavialis gangeticusঘড়িয়ালReptilia পদ্মা ও ব্রহ্মপুত্র

অতি বিপন্ন

Crocodylus palustris

মিঠা পানির কুমিরReptilia সুন্দর বনশংকাগ্রস্থ
Sarcogyps calvusরাজ শকুনAvesসিলেট ও রাজশাহী

অতি বিপন্ন

Boselaphus tragocamelus

নীল গাইMammaliaবিলুপ্তঅতি বিপন্ন
Orcaella brevirostrisশুশুকMammaliaপদ্মা ও ব্রহ্মপুত্র

বিপন্ন


চল বন্ধুরা, এখন বিস্তারিত ভাবে জেনে নিই, এই প্রাণী গুলো সম্পর্কে।



সত্য-মিথ্যা নির্ণয় করো






ডানে-বামে Swap করে জেনে নাও বিস্তারিত-


বলতে পারবে কি…



আশা করি, এই স্মার্ট বুকটি থেকে তোমরা বিলুপ্ত প্রায় জীব সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পেয়েছো। 10 Minute School এর পক্ষ থেকে তোমাদের জন্য শুভকামনা রইলো।