নিষেকক্রিয়া ও নিষেকের পরিণতি

হাইলাইট করা শব্দগুলোর উপর মাউসের কার্সর ধরতে হবে। মোবাইল ব্যবহারকারীরা শব্দগুলোর উপর স্পর্শ করো-

গ্রামের ছেলে মানিক, খুব দুষ্টু। সারা দিন গাছে উঠা, নদীতে সাঁতার, মাঠে ঘাটে দৌড়াদৌড়ি করে। একদিন বাড়ির উঠোনে খেলার সময় হঠাৎ মানিক খেয়াল করলো, ছোট একটা আম গাছের চারা হয়েছে বাড়ির উঠোনের পাশে। তার মাথায় প্রশ্ন আসলো এই চারা আসলো কোথা থেকে? মা অথবা বাবা কী এনে পুঁতে রেখেছে? সে দৌড়ে গিয়ে জিজ্ঞেস করলো মা কে, মা বললেন, “কয়েকদিন আগে আমি আমের আঁটি পুঁতে ছিলাম ওই জায়গায়, তাই বোধ হয় এখন চারা হয়েছে।” মানিক ভাবল, “আঁটি থেকে চারা হয় নাকি! কী আছে এই আটির ভিতরে।”
পরের দিন স্কুলে গিয়ে সে তার স্যার জিজ্ঞেস করলো, “স্যার আমের আঁটির মধ্যে কী থাকে, যা থেকে আমের চারা হয়?” তখন স্যার বললেন, “ আমের আঁটি হল তার বীজ, এই আঁটির ভিতরে থাকে ভ্রূণ, যেটা পরে চারা গাছে পরিনত হয়।”
মানিক ভাবল,” চারা হল কীভাবে না হয় বুঝলাম, আঁটিটা আসলো কীভাবে? এইটা ভাইয়াকে জিজ্ঞেস করা লাগবে।” বাড়ি ফিরে ভাইয়া কে জিজ্ঞেস করাতে ভাইয়া বলল,” নিষেকের মাধ্যমে বীজ বা আঁটির সৃষ্টি হয়।” সে আবার জিজ্ঞেস করল,” ভাইয়া নিষেক কীভাবে হয়?”
তখন ভাইয়া বলল,” শোন তাহলে।”

মোবাইল স্ক্রিনের ডানে ও বামে swipe করে ব্যবহার করো এই স্মার্টবুকটি। পুরো স্ক্রিন জুড়ে দেখার জন্য স্লাইডের নিচে পাবে আলাদা একটি বাটন।

মানিক ভাইয়াকে জিজ্ঞেস করল, “ভাইয়া শুধু কী ডিম্বকরন্ধ্র দিয়েই পরাগনালী প্রবেশ করতে পারবে ডিম্বকে, অন্য কোন জায়গা দিয়ে পারবে না?” তখন ভাইয়া বললেন, পরাগনালিকা সাধারণত ডিম্বকরন্ধ্র দিয়ে ডিম্বকের ভিতর প্রবেশ করে, তবে কিছু উদ্ভিদে ডিম্বকমূল দিয়ে ডিম্বকে প্রবেশ করে থাকে, এই প্রক্রিয়াকে Chalazogamy বলে। যেমন: ঝাউ গাছে। আবার লাউ বা কুমড়া জাতীয় গাছে পরাগনালী ডিম্বকত্বক ভেদ করে ডিম্বকে প্রবেশ করে, এই ধরণের প্রক্রিয়াকে Mesogamy বলে। ডিম্বকরন্ধ্র দিয়ে প্রবেশ করলে, বলা হয় Porogamy


এ পর্যন্ত কেমন শিখলে, যাচাই করে নাও-


“কী অদ্ভুত! দুইটা নিষেক এক সাথে হয়।” মানিক বলল। “তার মানে একটা ডিম্বক থেকে দুইটা ভ্রূণ পাওয়া যাবে।” তখন ভাইয়া বললেন, “ধুর বোকা, এদের মধ্যে যেখানে ত্রিমিলন হচ্ছে সেটা হবে সস্য। আর, এই যে দুই নিষেক এক সাথে হচ্ছে, একে দ্বিনিষেক বলে। এখন জিজ্ঞেস করবি তো এই দ্বিনিষেক আর ত্রিমিলন কী?”


উপরের টপিক থেকে কেমন শিখলে, যাচাই করে নাও-

সঠিক উত্তরে ক্লিক করো


ভাইয়া আরো বললেন, “ এই নিষেক প্রক্রিয়া তো আমরা চোখে দেখতে পারি না, কিন্তু এই নিষেকের জন্য ফুলের গর্ভাশয়ে কত কাহিনী ঘটে যাচ্ছে, তা ভাবাও যায় না। আরো বড় হ তখন জানতে পারবি।” মানিক তখন ভাইয়াকে চেপে ধরলো কী কী ঘটে নিষেকের পর তা বলার জন্য। ভাইয়া তখন বললেন, “ নিজেই তো বললি ভ্রূণের কথা, এই ভ্রূণ সৃষ্টি হয়, বীজ সৃষ্টি হয়, ফল সৃষ্টি হয়। এই সবের কারণেই গাছ নিজের অস্তিত্ব বজায় রাখতে পারে।”

চলো এখন আমরা বিস্তারিত ভাবে জেনে নিই নিষেকের পরিনতি সম্পর্কে।


উপরের টপিক থেকে কেমন শিখলে, যাচাই করে নাও-

সঠিক উত্তরে ক্লিক করো


নিষেকের আগে নিষেকের পরে
গর্ভাশয় গর্ভাশয় প্রাচীর ফলত্বক ফল
ডিম্বক এক্সাইন বীজ
ইন্টাইন ডিম্বাণু বীজ বহিঃত্বক বীজ অন্তঃত্বক
সেকেন্ডারি নিউক্লিয়াস নিউসেলাস, সহকারী কোষ, অ্যান্টিপোডাল ভ্রূণ সস্য

এবার একটা ছোট পরীক্ষা দিয়েই দেখো এ বিষয়ে কি অবস্থা তোমার-


আমরা আশা করছি, এই স্মার্টবুকটি পড়ার মাধ্যমে তোমার নিষেকক্রিয়া ও নিষেকের পরিণতি ব্যাপারে ধারণা বেশ স্পষ্ট হবে। অবশ্যই বিষয়টি নিয়মিত চর্চার মাঝে রাখবে। এর পাশাপাশি আমাদের অন্যান্য স্মার্টবুকগুলো পড়তে ভুলো না কিন্তু! আর মনের মাঝে সব সময় গেঁথে রাখবে এই বাক্যটি-